মাত্র আধখানা শতাব্দী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মাদুর পেতে বসে আছে তিন অকাল-বুড়ি। পা ছড়িয়ে, সামনে পানের বাটা। একজনের মাথার চুল কদমছাঁট। এক ভাসুর-ঝি নিয়মিত এর চুল ঘেঁটে দেয়। বিধবাদের চুল রাখতে নেই। এই প্রথা বন্ধ হওয়ার ঠিক পরের দশকটা ইনি দেখে যেতে পারেননি। এই রমণীর চুল ছিল মেঘের মতন, নিতম্ব ছোঁয়া। স্বামীর মরদেহযখন শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন এক দাই বড়… Continue reading মাত্র আধখানা শতাব্দী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমি সুমন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমি জানি ভিনি আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসে বলেই তিনি বারবার আমার কাছে ধরা পড়ে যায়; নাকি ইচ্ছে করেই ধরা দেয় কে জানে। তার সঙ্গে প্রথম দ্যাখা সেই শিশুবয়সে। তখন ও ফ্রক পরে, লালচে আভার এক ঢল চুল আর ঠোঁটের ওপরে বাঁ-ধারে একটা আঁচিল, খুব ফরসারং –ব্যস, আর কিছু মনে নেই। প্রথম দিন, পনেরো–ষোলো বছর পর প্রথম… Continue reading আমি সুমন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভূমি ও আকাশ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রথমেই গণ্ডগোল লাগল ফাগুলালের সঙ্গে। প্রতিবছরই এরকম হয়। লোকটা যেমন বেপরোয়া, তেমনি ঠ্যাটা। সব গ্রামেই সাধারণত এক ধরনের মানুষ থাকে, বাপ-ঠাকুরদারা যা বলে গেছেন, তা মেনে চলে, গণ্ডির বাইরে যেত চায় না, সরপঞ্চ বা গুনিনদের নির্দেশ অমান্য করতে সাহস পায় না। আবার প্রত্যেক গ্রামেই থাকে একজন নিরেট বোকা। সে সব কথায় হে-হে করে হাসে, যেমন… Continue reading ভূমি ও আকাশ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

জীবন যখন উদাস-সমরেশ মজুমদার

অস্বস্তি শুরু হয়েছিল দিন পাঁচেক আগে। তখন কলকাতা শহর রাত জাগছে। বিশ্বকাপের খেলা শুরু হয় মাঝরাতে, শেষ হবে আড়াইটে। বাসুদেব রাত জাগতে পারে না। ফলে এগারোটার মধ্যেই টিভি বন্ধ করে শুয়ে পড়ে সে। সি আই টি রোডের দোতলায় দু-ঘরের ফ্ল্যাটের কোথাও এক ফোঁটা ধুলো নেই, সবকিছুর মধ্যে যত্নের ছাপ স্পষ্ট। সকালে মতির মা এসে যাবতীয়… Continue reading জীবন যখন উদাস-সমরেশ মজুমদার

সহাবস্থান-সমরেশ মজুমদার

এখন বিকেল। ব্যালকনিতে চেয়ার পেতে বসেছিলেন দিব্যজ্যোতি। সামনে চোখ মেললেই চোখের শান্তি হয়। কোথাও কোনও বাধার প্রাচীর নেই। দক্ষিণ দিক, বোধহয় বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একদম খোলা। নিবারণ ঢোল ঠিকই বলে। এত মিষ্টি হাওয়া তিনি কোনওদিন গায়ে মাখেননি। শরীরটা জুত নেই। আজকাল নিয়মের ব্যতিক্রম হলেই এমন হয়। ঠিক সময়ে খাওয়া, শোওয়া, ঘুমাবার চেষ্টা চালিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকা… Continue reading সহাবস্থান-সমরেশ মজুমদার

পটললাল ও মধুবালা-তারাপদ রায়

০১. মধুবালা কুলবালা গো কুলবালা। রাখো তোমার কুসুমমালা। তুমি নওগো মধুবালা। . কড়েয়া রোড, পার্ক সার্কাসের হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার নকুল শুকুল ওরফে সহদেব শুক আজ সকাল থেকে স্মৃতিমধুরসে নিমজ্জিত হয়ে আছেন। পাঠক-পাঠিকাদের স্মরণ থাকতে পারে যে, ডাঃ সহদেব শুক শুধু চিকিৎসক নন, তিনি ঝানু গোয়েন্দা ও সংগীতবিদ। গোয়েন্দাগিরির সময় তিনি তার নাম ও পদবির ইংরেজি আদ্যক্ষর… Continue reading পটললাল ও মধুবালা-তারাপদ রায়

বিরলে নিরালায়-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

দাড়ি কামাতে-কামাতে ব্যথাটা শুরু হল। শূন্য থেকে হঠাৎ উঠে আসা উল্কার মতন। খড়ের ঘরে দপ করে আগুন জ্বলে ওঠার মতন। এ ব্যথা চিনতে কখনও ভুল হয় না। এক্ষুনি শুয়ে পড়া নিয়ম। এক পা-ও না হেঁটে, এই বাথরুমের মেঝেতেই। কিন্তু কতকগুলো। জিনিস করা যায় না। কিছুতেই যায় না। যতক্ষণ জ্ঞান থাকে। মুখের আধখানায় সাবান মাখানেনা, হাতে… Continue reading বিরলে নিরালায়-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সংবাদ : ১৯৭৬-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বিশ্ব সেবার কুলু মানালিতে বেড়াচ্ছে যাচ্ছে। দুর্গাপুরে ভালো চাকরি করে, যা মাইনে পায় তার সবটুকুই নিজের পিছনে খরচ করতে পারে। সবসময়ে ঝকঝকে তার জামা কাপড়। নিত্য নতুন। দেখা হল কল্যাণের অফিসঘরে, যেমন প্রায়ই হত। সে টেবিলের ওপর ঝুঁকে অনায়াস দক্ষতায় কোনও তরুণ কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদ আঁকছিল। মাথা নীচু থাকায় তার বিরল কেশ তালু দেখা… Continue reading সংবাদ : ১৯৭৬-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

স্বপ্ন নম্বর একশো বাইশ-সমরেশ মজুমদার

প্রায় আঠারো বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজ শেষ রাত্রে সাফল্য অর্জন করলেন বিকাশকলি। ঘুমের মধ্যেই তিনি আনন্দে এমন লাফিয়ে উঠলেন যে খাটের বাজুতে গোঁড়ালি আছড়ে পড়ল। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠে বসলেন তিনি। গোঁড়ালি চেপে ধরে কয়েক মিনিট স্থির হয়ে থাকার চেষ্টা করলেন। কিছুক্ষণ বাদে নড়ার চেষ্টা করলেন খাট থেকে। গোঁড়ালি চিনচিন করে উঠল ‘যা… Continue reading স্বপ্ন নম্বর একশো বাইশ-সমরেশ মজুমদার

কাঁকলাস-সমরেশ মজুমদার

বিলিতি মদ দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে পায়ের শুকনো চামড়া নরম হয়ে যায়। তারপর একটু একটু করে উঠতে উঠতে সাফসুতরো–এই পরামর্শ দিয়েছিল গদাধর। টায়ারের জুতো পরে-পরে চামড়াটা মোষের ঘাড়ের মতো হয়ে গেছে। ব্যথা নেই, রস গড়ায় না কিন্তু চোখ পড়লেই বিশ্রী হয়ে যায় মনটা। তার এখন যে বয়স তাতে শরীরের খোলতাই কেউ আশা করে না। হাজামের কাছে… Continue reading কাঁকলাস-সমরেশ মজুমদার