শেষ ঘণ্টা বেজে গেল-সমরেশ মজুমদার

যিনি বলেছিলেন লাবণ্য না থাকলে সৌন্দর্য পূর্ণতা পায় না, তিনি একটু কম জানতেন। কুন্তী সুন্দরী একথা ওঁর কুকুর মদনও জানে। কুন্তী যে লাবণ্যবতী তা আয়নাগুলো সোচ্চারে জানিয়ে দেয়। আর এরকম সুন্দরী লাবণ্যবতী এই শহরে অন্তত আট হাজার একুশজন আছেন অথবা থাকতে পারেন। তবে কিনা ওইসব রূপসীদের অধিকাংশই বোকা-বোকা অথবা স্বার্থপর। আর সেই স্বার্থপরতা আড়াল করার… Continue reading শেষ ঘণ্টা বেজে গেল-সমরেশ মজুমদার

প্রাকৃতিক -সমরেশ মজুমদার

পঁচাত্তরে পড়তে আর তিনমাস; কিন্তু স্বপ্নেন্দুর মাথার একটি চুলও সাদা হয়নি। দাড়ি কামাবার সময় আয়নার সামনে বসে নিজেকে লক্ষ্য করেন তিনি। দুদিন দাড়ি না কামালে (সেটা খুব কম হয়) গালে সাদা ছোপ লাগে। কিন্তু না জুলপি, না কানের ওপাশে একটি রুপোলি চুল দেখতে পান না। একদা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে ঠেস দেওয়া প্রশ্ন শোনেন, ‘কি… Continue reading প্রাকৃতিক -সমরেশ মজুমদার

ভাগের অংশ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ছাইদানিতে একটা বিড়ির টুকরো দেখে দীপ্তিময় তার বউ রমাকে ডেকে জিগ্যেস করল–‘কে এসেছিল বলো তো! বিড়ি খায় এমন লোক কে!’ রমা বলল , ‘তোমার ফুলকাকা। তুমি অফিসে যাওয়ার একটু পরেই এসেছিল, বলে গেছে আবার আসবে কয়েকদিন পর।’ ‘ফুলকাকা!’ ভ্রূ কুঁচকে ফুলপ্যান্টের বোতাম খুলতে–খুলতে দীপ্তিময় বলল , ‘কই, ফুলকাকা বলে কেউ ছিল এমন তো মনে পড়ছে… Continue reading ভাগের অংশ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বন্ধুর অসুখ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অনিন্দ্যর অসুখ করেছে শুনে দেখতে গিয়েছিলাম। এই প্রথম ওর বাড়িতে যাওয়া। কোনও নিমন্ত্রণ ছিল না। আমরা কেবল খবর পেয়েছিলাম যে, ওর অসুখ। অনিন্দ্য রোগা টিঙটিঙে, এক মাথা চুল, খুব সিগারেট খায়, আর খলবল করে কথা বলে। অফিসের আমরা সবাই অনিন্দ্যকে মোটামুটি পছন্দ করি, কারণ অনিন্দ্য ঝগড়া করেই ভাব করতে পারে, সকলের সঙ্গেই তার ভাব আর… Continue reading বন্ধুর অসুখ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অসুখ – হুমায়ূন আহমেদ

ছোটখাটো অসুখ আমার কখনো হয় না। সর্দিকাশি-জ্বর কখনো না। পচা, বাসি খাবার খেয়েও আমার পেট নামে না। ব্যাকপেইনে কাতর হয়ে বিছানায় পড়ে থাকি না। আধকপালি, সম্পূর্ণ কপালি কোনো কপালি মাথাব্যথা নেই। মুড়িমুড়কির মতো প্যারাসিটামল আমাকে খেতে হয় না। এক বিকেলে দুটা Ace নামের প্যারাসিটামল খেয়ে ফেললাম। শাওন বিস্মিত হয়ে বলল, মাথাব্যথা? আমি বললাম, না। এক… Continue reading অসুখ – হুমায়ূন আহমেদ

তালভঙ্গ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

একদল ভক্ত পৌঁছে দিল হোটেলের দরজা পর্যন্ত। রাত প্রায় একটা, তবু তারা যেতে চায় না, এখনও তারা গল্প করতে চায়। হোটেলের দারোয়ানটি লবির একটি সোফায় শুয়েছিল, সে ধড়মড় করে উঠে অবাক ভাবে চেয়ে রইল। সবার সঙ্গে হেসে-হেসে কথা বলতে-বলতে প্রায় চোয়াল ব্যথা হয়ে যাচ্ছে দিবাকরের। পাশে মণিকা, তারও ঠোঁটে হাসি আঁকা। মণিকা কোনও কথা বলে… Continue reading তালভঙ্গ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

গোরুর গল্প-তারাপদ রায়

দীনদয়ালবাবুর মনে বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে তিনি মানুষ নন গোরু। নানা ব্যাপারে ঠকে অনেকে। নিজেকেই গোরু ভাবে, কেউ কেউ অতিবুদ্ধিমান অন্যদের গোরু ভাবে, কিন্তু দীনদয়ালবাবুর ব্যাপারটা এত সামান্য বা সাধারণ নয়। যদিও তার লেজ নেই, তিনি দুধ দিতে পারেন না বা মাঠে হালচাষ করতে পারেন না, দীনদয়ালবাবুর দৃঢ় বিশ্বাস গোরু হিসাবে তার এই সব অযোগ্যতার জন্যে… Continue reading গোরুর গল্প-তারাপদ রায়

ভেজাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পেছনের গাড়িটার খুব বেশি দোষ ছিল না। বেশ কয়েকবার হেডলাইট জ্বালিয়ে নিবিয়ে সিগন্যাল দিয়েছে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তবু সামনের ফিয়াট গাড়িটা হেলতে-দুলতে চলেছে রাস্তার মাঝখান দিয়ে। যেন ওদের পেরিয়ে আর কোনও গাড়ির যাওয়ার অধিকার নেই। আলো ফেললে দেখা যাচ্ছে, ফিয়াট গাড়িটায় রয়েছে দুজন। এক পুরুষ ও এক মহিলা, দুজনেই মাথা ঝাঁকাচ্ছে মাঝে-মাঝে, যেন খুব… Continue reading ভেজাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রিয় পশু – হুমায়ূন আহমেদ

আপনার রাশি কি? আপনার প্রিয় রঙ কি? আপনার প্রিয় ফুল কি? এ জাতীয় প্রশ্নের জবাব আমাকে প্রায়ই দিতে হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেনি–আপনার প্রিয় পশু কি? সম্ভবত প্রশ্নকর্তাদের মনে। কখনো আসেনি যে পশুরাও প্রিয় হতে পারে। গালি দেয়ার জন্যে পশু ব্যবহার করা হয়—পশু প্রিয় হবে কিভাবে! মানুষ ভয়ংকর কোন কাণ্ড করলে আমরা… Continue reading প্রিয় পশু – হুমায়ূন আহমেদ

বয়স-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তখন দিন শুরু হত স্মৃতিশূন্যভাবে। অতীত বা ভবিষ্যৎ কোনোটারই কোনো ভার ছিল না। দিনটা নতুন তামার পয়সার মতোই আদরের ছিল, প্রতিটা দিন ছিল উৎসবের মতো। কয়লার ধোঁয়ার গন্ধে ঘুম ভাঙত। দাঁত মাজতে কী যে আলিস্যি। উঠে এক দৌড়ে ঘরের বাইরে গিয়ে পড়লেই পৃথিবীর আদিমতম গন্ধটি পাওয়া যেত তখন। ঘাস, গাছপালা আর মাটির ভিজে সোঁদা গন্ধ।… Continue reading বয়স-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়