লীলাবতীর মৃত্যু – শেষ পর্ব-হুমায়ূন আহমেদ

তিনি তাদের বললেন  তার শৈশবের কথা। আমি আসরে যােগ দিতে চেয়েছিলাম। তিনি বললেন, আপনি আসবেন না। এই আসরে আপনার প্রবেশাধিকার নেই। অন্যান্য ফ্ল্যাটে খবর চলে গেছে। ছেলেমেয়েরা আসছে। তারাও গল্প শুনতে চায়। আমার স্ত্রী ব্যস্ত হয়ে পড়ল, অতি সম্মানিত এই মানুষটিকে সে কী খাওয়াবে! তিনি তাে কিছুই খেতে পারেন না।  তিনি আমার স্ত্রীকে আশ্বস্ত করলেন,… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু – শেষ পর্ব-হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৮) হুমায়ূন আহমেদ

হলের বাসার টানা বারান্দায় বসে রাত জেগে কত লেখালেখি করেছি। গুলির শব্দে মাঝে মাঝে লেখায় যেমন বাধা পড়েছে, তেমনি অন্যরকম ব্যাপারও ঘটেছে। হঠাৎ শােনা গেল—বাঁশি বাজছে।কাঁচা হাতের বাজনা, বড়ই সুন্দর হাত। লেখালেখি বন্ধ করে বাঁশি শুনেছি।  আমার হলের নিশিরাতের সেই বংশীবাদক জানে না আমি কত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম তার বাশির জন্যে। সে ভালাে থাকুক,… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৮) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৭) হুমায়ূন আহমেদ

ব্যবস্থা একটা হলাে। দেখা গেল, অসুখ তেমন জটিল নয়। খাদ্যনালির অংশবিশেষ মূত্রথলিতে নেমে গেছে। ডাক্তার খাদ্যনালিটা ওপরে তুলে দেবে। মূত্রনালির ফুটো ছােট করে দেবে। অসুখটা হলাে খারাপ ধরনের হার্নিয়া।অপারেশনের তারিখ ঠিক হলাে। আমি মহা খুশি। শুধু ছেলের বাবা কেঁদেকেটে অস্থির। তার ধারণা, ছেলে মারা যাচ্ছে। তার একটাই ছেলে। স্ত্রী মারা গেছে। ছেলেকে নিয়ে সে দেশে… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৭) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৬) হুমায়ূন আহমেদ

 চোখে-মুখে এমন একটা ভাব যেন এইমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পড়া চুকিয়ে রাস্তায় নেমেছে। বান্ধবীকে নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই কোনাে ক্যাফেতে চা খেতে যাবে কিংবা বাদাম ভাঙতে ভাঙতে হাঁটবে।এরকম একদিনের কথা। নাপিতের দোকান থেকে চুল কেটে বের হয়েছি। চুল কাটার ফলে গােড়ার সাদা চুল বের হয়ে এসেছে। বিশ্রী দেখাচ্ছে। মেজাজ খারাপ করে এক পান-সিগারেটের দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছি। সিগারেট… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৬) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৫) হুমায়ূন আহমেদ

পানি খেলেন। পান মুখে দিয়ে গােয়ালঘরে ঢুকে গেলেন দড়ির খোঁজে। এই হলাে ব্যাপার।সবই আমার শােনা কথা। আমরা বছরে একবার ছুটির সময় নানার বাড়ি বেড়াতে যেতাম। থাকতাম দশ-পনেরাে দিন। এই সময়ের মধ্যে নারিকেল মামার দড়ি নিয়ে ছােটাছুটির দৃশ্য দেখি নি। তাকে আমার মনে হয়েছে অতি ভালাে একজন মানুষ। আমাদের মনােরঞ্জনের চেষ্টায় তার কোনাে সীমা ছিল না।… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৫) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৪) হুমায়ূন আহমেদ

তারা সবাই আমার দিকে এমনভাবে তাকাল যেন আমি কিছুক্ষণ আগেই গাঁজা খেয়ে এসেছি। ওই জিনিস তখন কুঠিবাড়ির আশপাশে খাওয়া হচ্ছে। লালন শাহ র কিছু অনুসারী এসেছেন। তাঁরা গাজার ওপরই মত্ত আছেন। উৎকট গন্ধে তাঁদের কাছে যাওয়া যায় না।তাঁদের একজন আমাকে হাত ইশারা করে কাছে ডেকে বলছেন, আচ্ছা স্যার, রবিঠাকুর যে লালন শাহ্-র গানের খাতা চুরি… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৪) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৩) হুমায়ূন আহমেদ

আমি বললাম, অপারেশনের পর আমি তাে মারাও যেতে পারি। আপনি কী করেন জানতে পারি? আমি একজন লেখক। গল্প বানাই। একজন লেখকের পক্ষেই এমন উদ্ভট প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব। আচ্ছা দেখি আমি কিছু করতে পারি কি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রাজি করানাে কঠিন হবে।  আশ্চর্যের ব্যাপার, বিশেষ ব্যবস্থায় আমাকে রাত বারােটা পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হলাে। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১৩) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১২) হুমায়ূন আহমেদ

তিনি ছেলেকে কাছে  পেয়ে বরং খুশি হলেন।  নাশতা সমস্যায় এমন একটা ভালাে চাকরি ছাড়ার যুক্তি আমার কাছে কখনােই গ্রহণযােগ্য মনে হয় নি। আমার ধারণা, ঢাকায় সে বন্ধুবান্ধব ফেলে গেছে। তাদের টানেই চাকরি ছেড়ে চলে এসেছে।তার কাছে বন্ধুবান্ধব অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমি যে তাকে ডেকে কিছু উপদেশ দেব তাও সম্ভব না। কারণ উপদেশ দেওয়ার বিষয়টা আমাদের পরিবারে… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১২) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১১) হুমায়ূন আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা ব্যক্তিগত পত্রটি সংযুক্ত হলাে।  ৫ আগস্ট, ২০০৯ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা  শ্রদ্ধাভাজনেষু,  আমার বিনীত সালাম গ্রহণ করুন।  আপনি প্রচুর বইপত্র পড়েন—এই তথ্য আমার জানা আছে। নাটক-সিনেমা দেখার সুযােগ পান কি না জানি না। সুযােগ পেলে চ্যালেঞ্জার নামের একজন শক্তিমান অভিনেতার অভিনয় আপনার দেখার কথা ।অতি অল্প সময়ে সে অভিনয় দিয়ে… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১১) হুমায়ূন আহমেদ

লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১০) হুমায়ূন আহমেদ

কী-এক উৎসব উপলক্ষে আমরা অর্থাৎ ওল্ড ফুলস ক্লাবের সদস্যরা একটা হােটেলের বড় ঘরে জড়াে হয়েছি। সেখানে মধ্যবয়স্ক অচেনা এক ব্যক্তি ঢুকল। আমি ভুরু কুঁচকে তাকালাম। বৃদ্ধ বােকা সংঘের আড্ডায় কখনাে অপরিচিতজনদের আসতে দেওয়া হয় না। এ কে ? এখানে কী চায়?  পরিচয়ে জানলাম—তার একটা প্রেস আছে। সেই প্রেসে অন্যপ্রকাশ’-এর বইয়ের কভার মাঝে মাঝে ছাপা হয়।… Continue reading লীলাবতীর মৃত্যু -পর্ব-(১০) হুমায়ূন আহমেদ