হরীতকী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আজ এই পূর্ণিমা রাতে টিউশনি সেরে ফেরার পথে গিরিজা টের পেলেন, তাঁকে কানাওয়ালা ধরেছে।…….বাঘা যতীন পার্কের পাশ দিয়ে গুটিগুটি হেঁটে জ্যোৎস্না দেখতে-দেখতে দিব্যি আসছিলেন। শরৎকালের ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে, শীত-শীত লাগছিল। কোনও বাড়ির বাগান থেকে শিউলি ফুলের গন্ধও ভেসে আসে, সেইসঙ্গে একটা ডাল ফোড়নের গন্ধওয়ালা জায়গাও পার হয়ে এলেন। খিদেটা চাগাড় দিয়ে উঠল। আবুর মা ওবেলা… Continue reading হরীতকী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মশা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

রক্ত খেয়ে মশাটা টুপটুপে হয়ে আছে। ধামা পেটটা নিয়ে মশারির দেওয়ালে বসে আছে ওই। এইবেলা টিপে দিলে ফাঁক করে খানিক কাঁচা রক্ত ছিটকে গলে যাবে শালা।…….নফরচন্দ্র জীবনে মশা মেরেছে অনেক, আর মানুষ মেরেছে একটা। মানুষটার কথা এখন আর মনে পড়ে না। অল্প বয়স ছিল তখন। সময়ের তফাতে ভুল পড়ে গেছে। তবে মশাদের কথা যদি কেউ… Continue reading মশা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সেকালিনী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

হলুদপুরের কবিরাজ শ্রীহরিহর শর্মার কন্যা শৈল আমাদের কাহিনীর নায়িকা। কিন্তু আজকাল গল্পের নায়িকাদের যেসব অসমসাহসিক প্রগতিপূর্ণ কার্য করিতে দেখা যায় তাহার কিছুই সে পারিবে বলিয়া বোধ হয় না। শৈল নিতান্ত সোলিনী। হলুদপুর স্থানটির এক পা শহরে এক পা গ্রামে। তবে সামনের পা শহরের দিকে। গত কয়েক বছরে সে বেশ লম্বা লম্বা পা ফেলিয়া নাগরিক সভ্যতার… Continue reading সেকালিনী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চিড়িয়াখানায় – তারাপদ রায়

আমার এই অতি হাস্যকর লেখক-জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ঘটেছিল চিড়িয়াখানায়। ঘটনাটা অনেক সময় হাসতে হাসতে অনেককে বলেছি, তবে কখনও লিখিনি। এখনও লিখতে একটু সংকোচ হচ্ছে, একটু আত্মপ্রচারের মতো হয়ে যাচ্ছে। তবু লিখছি, বুদ্ধিমান পাঠক ও বুদ্ধিমতী পাঠিকা দয়া করে লক্ষ করবেন নেহাত মজার গল্পের খাতিরেই ঘটনাটা লিখছি, আর কোনও উদ্দেশ্য নেই। যোলো-সতেরো বছর আগেকার কথা।… Continue reading চিড়িয়াখানায় – তারাপদ রায়

জটিল ব্যাপার – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

একটা জটা জুটিয়াছিল।…পরচুলার ব্যবসা করি না; সখের থিয়েটার করাও অনেকদিন ছাড়িয়া দিয়াছি। তাই, আচম্বিতে যখন একটি পিঙ্গলবর্ণ জটার স্বত্বাধিকারী হইয়া পড়িলাম তখন ভাবনা হইল, এ অমূল্য নিধি লইয়া কি করিব। কিন্তু কি করিয়া জটা লাভ করিলাম সে বিবরণ পাঠকের গোচর করা প্রয়োজন; নহিলে বলা কথা নাই হঠাৎ জটা বাহির করিয়া বসিলে পাঠক স্বভাবতই আমাকে বাজীকর… Continue reading জটিল ব্যাপার – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আধি ভৌতিক – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

জগনমামা বললেন, তাহলে বাবা ঝন্টু ততক্ষণ তুমি মামিমার সঙ্গে গল্পসল্প ( করো। আমি ঝটপট বাজারটা সেরে আসি।..বলে দরজার দিকে পা বাড়িয়ে হঠাৎ ঘুরে ডাকলেন, কই গো। ছাতিটা দাও বরং! এই সাতসকালেই রোদ্দুরটা বড় চড়ে গেছে। জগনমামার মাথায় এমন প্রকাণ্ড টাক আমি আশা করিনি। এতকাল পরে ওঁকে দেখে খুব হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। চেহারায় কী দারুণ অদলবদল না… Continue reading আধি ভৌতিক – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

মনে মনে – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্বিজেনের কথা আজ অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে বড্ড দেরি হয়ে গেল।…..মীনা দেরি হওয়া ভালবাসে না—তার মুখ একটু ভার হয়, চোখে গাম্ভীর্য ঘনিয়ে ওঠে। কিন্তু মুখ ফুটে তো কিছু বলবে না—কেবল ভেতরে ভেতরে জট পাকাবে। আশ্চর্য মেয়েমানুষের স্বভাব। এই পাঁচ বছর বিয়ে হয়েছে, এর মধ্যে একদিনও মীনা ঝগড়া করলে না; রাগ হলেই মুখ টিপে থাকে, শুধু… Continue reading মনে মনে – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

যুধিষ্ঠিরের স্বর্গ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

দশ বৎসর আগে আমি যখন কটকে বাস করিতাম তখন যুধিষ্ঠির দাস আমার ভৃত্য ছিল। কুড়ি বছরের নিকষকান্তি যুবক, পান ও গুণ্ডির রসে মুখের অভ্যন্তর ঘোর রক্তবর্ণ; মাড়ির প্রান্তে ক্ষুদ্র দাঁতগুলি তণ্ডুলকণার মতো লাগিয়া আছে; মোটের উপর যুধিষ্ঠিরকে সুপুরুষ বলা চলে না। সে মাঝে মাঝে আমার জামার পকেট হইতে টাকা-পয়সা চুরি করিত; বোধ করি নবপরিণীতা বধূ… Continue reading যুধিষ্ঠিরের স্বর্গ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ভুলোমন স্বামী – তারাপদ রায়

ভুলোমন অধ্যাপক নিয়ে অনেকরকম গল্প আছে। সেই অধ্যাপকদের মধ্যে নিশ্চয়ই অনেকেই বিবাহিত এবং তাঁদের স্ত্রী বিদ্যমান।।..স্বামীদেবতা যদি ভুলোমন হন, সেটা পত্নীঠাকরানির পক্ষে সুবিধেজনক হয় না অসুবিধেজনক হয় এ রকম জটিল প্রশ্নের মধ্যে না গিয়ে প্রথমে একটি নিরতিশয় সরল প্রকৃতির ভুলোমন স্বামীর গল্প বলি। একদিন এই ভুলোমন স্বামী বাড়ি থেকে হনহন করে বেরিয়েছেন, একটা বিশেষ জরুরি… Continue reading ভুলোমন স্বামী – তারাপদ রায়

মানুষ-ভূতের গল্প – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আলোরানি হেরিকেনের দম কমিয়ে শুয়ে পড়তেই ঘুমের ফাঁদে আটকে যাচ্ছিল প্রায়, এমন সময়ে বাড়ির পেছনে খিড়কির দিকে কঁপা-কঁপা গলায় সন্দেহজনক ডাকাডাকি,–ঘনশ্যাম, ঘনশ্যাম। ঘনা রে।…এক ঝটকায় ফাঁদ ছিঁড়ে উঠে বসল আলোরানি। বাইরে বারান্দার খানিকটা দরমা ঘেরা কুঠুরি। শাশুড়ি তারাদাসীর ডেরা সেখানে। তার ভয়কাতুরে চাপা ধমক শোনা যাচ্ছিল,–যা। যা। ধুসধুস। বয়স বাড়লে ঘুম কমে। কানও খর হয়।… Continue reading মানুষ-ভূতের গল্প – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ