গাঁয়ের পাঠশালার বুড়ো পণ্ডিতমশাই হাই তুললেই তুড়ি দিয়ে করুণ কণ্ঠে বলতেন, ‘রাধে গো, ব্রজসুন্দরী, পার করে, পার করো।’ বড় হয়ে মেলা হিন্দী উর্দু পড়েছি, নানা দেশের নানা লোকের সঙ্গে আলাপচারি হয়েছে কিন্তু পার করো, পার করো বলে ঠাকুরদেবতাকে স্মরণ করতে কাউকে শুনিনি। শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা, বিতস্তা পার হয়ে এতদিন বাদে তত্ত্বটা বুঝতে পারলুম। নামগুলো… Continue reading গাঁয়ের পাঠশালার বুড়ো পণ্ডিতমশাই – সৈয়দ মুজতবা আলী
Author: Admin
পদ্মপাতার জল – হুমায়ূন আহমেদ
আমাদের পাশের বাসায় থাকত নাদু দিলুরা। তারাও আমাদেরই মতোই অল্পআয়ের বাবা-মার পুত্রকন্যা। সবাই একসঙ্গে ধুলোমাটিতে গড়াগড়ি করে বড় হচ্ছি। ওমা একদিন শুনি, ওরা বড়লোক হয়ে। গেছে। দেখতে দেখতে ওদের কাপড়চোপড় পালটে গেল। কথাবার্তার ধরন ধারণও বদলে গেল। এখন আর ওরা দাঁড়িয়াবান্দা কিংবা চি-বুড়ি খেলার জন্যে আমাদের কাছে আসে না। ঈদ উপলক্ষে ওরা নতুন কাপড় তো… Continue reading পদ্মপাতার জল – হুমায়ূন আহমেদ
অশরীরী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
নানারকম অদ্ভুত গল্প হচ্ছিল সেদিন আমাদের লিচুতলার আড্ডায়। কিন্তু সে সব নিতান্ত পানlসে গোছের ভুতের গল্প। পাড়াগাঁয়ের বাঁশবাগানের আমবাগানের গেঁয়ো ভুত। সাদা কাপড় পরে রাত্রে দাঁড়িয়ে থাকে‚ ওসব অনেক শোনা আছে। ওর বেশি আর কেউ কিছু বলতে পারলে না। এমন সময় শরৎ চক্রবর্তী আড্ডায় ঢুকলেন। তিনি আবগারী বিভাগে বহুদিন কাজ করে অবসর গ্রহণ করেছেন। ষাটের… Continue reading অশরীরী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বেয়ারিং চিঠি – হুমায়ূন আহমেদ
জমির সাহেব অফিস থেকে ফেরামাত্রই তাঁর বড় মেয়ে মিতু বলল, বাবা আজ তোমার একটা চিঠি এসেছে। বলেই সে মুখের হাসি গোপন করার জন্যে অন্যদিকে তাকাল। মিতুর বয়স একুশ। এই বয়সের মেয়েদের মুখে অকারণে হাসি আসে। হাসি তামাশা জমির সাহেবের একেবারেই পছন্দ নয়, বিশেষ করে মা-বাবাকে নিয়ে হাসাহাসি। আজকাল অনেক পরিবারেই তিনি এই ব্যাপার দেখেন। মেয়ে… Continue reading বেয়ারিং চিঠি – হুমায়ূন আহমেদ
ছায়াসঙ্গী – হুমায়ূন আহমেদ
প্রতি বছর শীতের ছুটির সময় ভাবি কিছুদিন গ্রামে কাটিয়ে আসব। দলবল নিয়ে যাব- হৈচৈ করা যাবে। আমার বাচ্চারা কখনও গ্রাম দেখেনি- তারা খুশি হবে। পুকুরে ঝাঁপাঝাঁপি করতে পারবে। শাপলা ফুল শুধু যে মতিঝিলের সামনেই ফোটে না, অন্যান্য জায়গাতেও ফোটে তাও স্বচক্ষে দেখবে। আমার বেশির ভাগ পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগাতে পারি না। এটা কেমন করে… Continue reading ছায়াসঙ্গী – হুমায়ূন আহমেদ
মা – হুমায়ূন আহমেদ
আমেরিকানরা রসিকতা করতে পছন্দ করে। তাদের রসিকতার বিষয় শাশুড়ি, মা না। আমাদের দেশে ব্যক্তি নিয়ে রসিকতা শালা-দুলাভাই, দাদা-নাতিতে সীমাবদ্ধ। মা শাশুড়ি কিংবা বাবা-শ্বশুর কখনো না। আমার মা রসিক মানুষ। তিনি তার ছেলেমেয়েকে নিয়ে রসিকতা করেন। কাজেই তাঁকে নিয়ে তার ছেলেমেয়েরও রসিকতা করার অধিকার আছে। মা’র রসিকতার নমুনা দেই। একবার এক অপরিচিত মহিলা মা’কে জিজ্ঞেস করলেন,… Continue reading মা – হুমায়ূন আহমেদ
প্রতিষেধক – আবু ইসহাক
কিতাব্বে কথা বলতে বলতে নানি লক্ষ্য করেন–নাতনি অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘কিরে আতিয়া’ তুই কিছু শুনছিস না?…হ্যাঁ শুনছি, তুমি বলে যাও। চমক ভেঙে আতিয়া বেগম বলেন। হ্যাঁ, মন দিয়ে শোন। শুনলি তো? ঐ মেয়েলোকগুলোও তোর মতো প্রশ্ন করেছিল। নানি তার কাহিনীর জের টেনে চলেন : পরের দিন মেয়েলোকগুলো তার কাছে এল। তিনি বললেন, তোমাদের… Continue reading প্রতিষেধক – আবু ইসহাক
কল্যানীয়াসু – হুমায়ূন আহমেদ
ট্রেটয়াকভ আর্ট গ্যালারিতে ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। পুরনাে দিনের মহান সব শিল্পীদের আঁকা ছবি। দেখতে-দেখতে এগুচ্ছি। হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে হল। সঙ্গের রাশিয়ান গাইড বলল, কী হয়েছে? আমি হাত উঁচিয়ে একটি পেইনটিং দেখালাম। প্রিন্সেস তারাকনােভার পেইনটিং। অপূর্ব ছবি! জরী, ছবিটি দেখে তােমার কথা মনে পড়ল। গাইড বলল, সেন্ট পিটার্সবার্গ জেলে প্রিন্সেসের শেষ দিনগুলি কেটেছে। ঐ দেখ সেল-এর… Continue reading কল্যানীয়াসু – হুমায়ূন আহমেদ
কীট – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
একদিন নীলা চলে গেল। একদিন না একদিন চলে যাওয়ার কথাই ছিল নীলার। তাই না যাওয়া এবং যাওয়ার মধ্যে খুব একটা তফাৎ হল না। সুবোধ নিজেই গিয়েছিল হাওড়া স্টেশনে নীলাকে গাড়িতে তুলে দিতে। বিদায়-মুহূর্তে স্বামী-স্ত্রীর যেমন কথা হয় তেমন কিছুই হল না। রুমাল উড়ল না, চোখের জল পড়ল না, এমন কি গাড়ি যখন ছেড়ে যাচ্ছে তখন… Continue reading কীট – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ভণ্ডুলমামার বাড়ি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাড়াগাঁয়ের মাইনার স্কুল। মাঝে মাঝে ভিজিট করতে আসি, আর কোথাও থাকবার জায়গা নেই, হেডমাস্টার অবিনাশবাবুর ওখানেই উঠতে হয়। অবিনাশবাবুকে লাগেও ভালো, বছর বিয়াল্লিশ বয়স, একহারা চেহারা, বেশ ভাবুক লোক। বেশি গোলমাল ঝঞ্ঝাট পছন্দ করেন না, কাজেই জীবনের পথে বাধা ঠেলে অগ্রসর না-হতে পেরে দেবলহাটি মাইনার স্কুলের প্রধান শিক্ষকরূপে পনেরো বছর কাটিয়ে দিলেন এবং বাকি পনেরোটা… Continue reading ভণ্ডুলমামার বাড়ি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়