কামিনী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

স্টেশনে ট্রেন থামিতেই হ্যাট-কোট পরা সুরনাথবাবু নামিয়া পড়িলেন। স্টেশনটি ছোট, তাহার সংলগ্ন জনপদটিও বিস্তীর্ণ নয়। ট্রেন দুমিনিট থামিয়া চলিয়া গেল।………………..সুরনাথ ঘোষ একজন পোস্টাল ইন্সপেক্টর। সম্প্রতি এদিকটার গ্রামাঞ্চলে কয়েকটি নূতন পোস্ট অফিস খুলিয়াছে, সুরনাথবাবু সেগুলি পরিদর্শন করিতে আসিয়াছেন। ইতিপূর্বে তিনি এদিকে কখনো আসেন নাই। ছোট সুটকেসটির হাতে লইয়া তিনি স্টেশন হইতে বাহির হইলেন। সঙ্গে অন্য কোনও… Continue reading কামিনী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

জাপানী কৈমাছ – হুমায়ূন আহমেদ

বৎসরের শুরুতে পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধনবান ব্যক্তিদের একটা তালিকা প্রস্তুত হয়। সংবাদ সংস্থাগুলি সেই তালিকার খবর দিকে দিকে পাঠিয়ে দেয়। খবরের কাগজগুলি আগ্রহ করে সেই খবর ছাপায়। আমরা মুগ্ধবিস্ময় নিয়ে সেই খবর পড়ি। অন্যদের পড়ে শোনাই। পৃথিবীর সেরা ধনীদের খবর জানতে আমাদের ভাল লাগে। আমাদের ঈর্ষাবোধ হয় না। বাড়ির কাছে মোটামুটি ধনীদের আমরা ঈর্ষা করি,… Continue reading জাপানী কৈমাছ – হুমায়ূন আহমেদ

সাধুর ঘর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পাকুড় গাছের তলায় সাধুর ঘরে কে যেন আগুন দিয়েছে। উত্তরে বাতাস বইছে হুহু। দুপুরের রোদে আগুনের তেমন জলুস খোলে না। তবু সাধুর ঝোঁপড়াটা রোদ খেয়ে টনটনে হয়ে ছিল বলে আগুনটা ধরেছে ভালো। কয়েকটা হালকা পাকুড় গাছটার নীচু ডালপালা ধরে ফেলল, কয়েকটা লাফ দিয়ে গিয়ে ধরল নুলো সাতকড়ির চায়ের দোকানটা। দুপুরের খর রোদেও আগুনটার লাল হলুদ… Continue reading সাধুর ঘর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

চৌকাঠে পা – সমরেশ মজুমদার

সুড়ঙ্গ দিয়ে ওপরে উঠে এল ওরা। ট্রাম থেকে নেমে হওড়া স্টেশনের ভেতরে ঢোকার রাস্তাটা জানত বনি। ওপাশ থেকে হুড়মুড়িয়ে লোক নামছে। নীপার বুকের ভেতরে এখন দমকলের ঘণ্টা। বাস থেকে নামার পরই এটা শুরু হয়ে গেছে। বনি বলল, তুই ওইরকম মুখ করেছিস কেন? যে দেখবে সেই বুঝবে। নীপা চেষ্টা করল অন্যরকম মুখ করতে। কিন্তু কীভাবে করতে… Continue reading চৌকাঠে পা – সমরেশ মজুমদার

আজব বাতি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

দেবনাথ ডেক ধরে হেঁটে যাচ্ছিল। প্রবল ঝোড়ো হাওয়া সমুদ্রে। টলতে টলতে সে হেঁটে যাচ্ছিল। তার কেন জানি, এ সময় ফের লাইটার জ্বেলে সিগারেট ধরাবার ইচ্ছে হল। ফোকসালে সে ইচ্ছে করলে সিগারেট ধরাতে পারত। কিন্তু সবাই যা করছে। বন্ধু, প্রেমা, রাজু সবাই যেন টের পেয়ে গেছে ব্যাটা কিছু লুকাচ্ছে। এমনকি তাকে গোপনে অনুসরণ পর্যন্ত করতে পারে!… Continue reading আজব বাতি – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

চিনেমাটির পুতুল – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষরাতে তিনি আজও কান খাড়া করে রাখলেন। কে গায়! কোনো দূরবর্তী মাঠে উদাস গলার স্বর—কাছাকাছি তো কোনো মাঠ নেই, শস্যক্ষেত্র নেই! কে গায়। আগে মনে করতেন স্বপ্ন, ভেঙে গেলে মনে হত স্বপ্ন নয়, সত্যি। নদীর ওপারে দাঁড়িয়ে কেউ তাঁকে ডাকছে। কে সে? ইদানীং ভয়ে ভয়ে আগেই ঘুম ভেঙে যায়। আজও ঘুম ভাঙলে টর্চ জ্বেলে ঘড়ি… Continue reading চিনেমাটির পুতুল – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

কেতুর পুচ্ছ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ডাক্তার অমিতাভ মিত্রের বয়স আটাশ বৎসর। মাত্র দুই বৎসর হইল সে কলেজ ছাড়িয়া ব্যবসায় আরম্ভ করিয়াছে, কিন্তু ইহারই মধ্যে শহরে বেশ পসার জমাইয়া তুলিয়াছে। শহরটি বেশ বড় এবং তাহাতে বহুমারী প্রবীণ চিকিৎসকের অভাব নাই—তবু—……ইহাকেই বলে ভাগ্য। অমিতাভ বেশ চটপটে; নাকে মুখে কথা। চেহারাও মন্দ নয়, বলিষ্ঠ দোহারা লম্বা—মাথায় কোঁকড়া চুল। ঠোঁটের গড়ন এমন যে মুহূর্তমধ্যে… Continue reading কেতুর পুচ্ছ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘড়িদাসের গুপ্তকথা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চল্লিশ বছর কাটিয়া যাইবার পর কোনও গুপ্ত কথারই আর ঝাঁঝ থাকে না, ছিপি-আটা বোতলের আরকের মতো অলক্ষিতে নিস্তেজ হইয়া পড়ে। বিশেষত গুপ্তকথার স্বত্বাধিকারী যদি সামান্য লোক। হয়। আমার তরুণ বয়সের বন্ধু ঘড়িদাস অসামান্য লোক ছিল না; তাই চল্লিশ বছর আগে তাহার গুপ্তকথায় যে বিচিত্র চমৎকারিত্বের স্বাদ পাইয়াছিলাম, তাহা হয়তো বহু পূর্বেই পানসে হইয়া গিয়াছে। সে… Continue reading ঘড়িদাসের গুপ্তকথা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চিন্ময়ের চাকরি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চিন্ময়ের মুখে মামার ভাত তিক্ত হইয়া গিয়াছিল। মামী মানুষটি ভাল তাই রক্ষা, নহিলে এতদিন সে মামার বাড়িতে টিকিতে পারিত না।আজ আট মাস হইল সে চাকরির খোঁজে কলিকাতায় আসিয়াছে এবং মামার স্কন্ধে আরোহণ করিয়াছে। সে পিতৃহীন; তাহার মা উত্তরবঙ্গে কোনও শহরের একটি হাসপাতালে নার্সের কাজ করেন। তিনি চিন্ময়কে আই. এ. পর্যন্ত পড়াইয়াছেন, কিন্তু আর অধিক পড়াইবার… Continue reading চিন্ময়ের চাকরি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

দুই ভূত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লালু আর ভুলুর কোনো কাজ নেই। তারা সারাদিন গল্প করে কাটায়। সবই নিজেদের জীবনের নানা সুখ-দুঃখের কথা। কথা বলতে-বলতে যখন আর কথা কইতে ভালো লাগে না তখন দুজনে খানিক কুস্তি লড়ে। তাদের কুস্তিও খুব একঘেয়ে–কেউ হারে না। কেউ জেতে না। কুস্তি করে তাদের ক্লান্তিও আসে না, ঘামও ঝরে না। তার কারণ লালু আর ভুলু দুজনেই… Continue reading দুই ভূত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়