পিকুর ডায়রি – সত্যজিৎ রায়

আমি ডাইরি লিখছি। আমি আমার নীল নতুন নীল খাতায় ডাইরি লিখছি। আমি আমার বিছানার উপর বসে লিখছি। দাদুও ডাইরি রোজ লেখে কিন্তু এখন না এখন অসুক করেছিল তাই। সেই অসুকটার নাম আমি জানি আর নামটা করোনানি থমবোসি। বাবা ডাইরি লেখে না। মাও ডাইরি লেখে না দাদাও না খালি আমি আর দাদু। দাদুর খাতারচে আমার খাতা… Continue reading পিকুর ডায়রি – সত্যজিৎ রায়

চিলেকোঠা – সত্যজিৎ রায়

ন্যাশনাল হাইওয়ে নাম্বার ফর্টি থেকে ডাইনে রাস্তা ধরে দশ কিলোমিটার গেলেই ব্রহ্মপুর। মোড়টা আসার কিছু আগেই আদিত্যকে জিজ্ঞেস করলাম, কী রে, তোর জন্মস্থানটা একবার চুঁ মেরে যাবি নাকি? সেই যে ছেড়েচিস, তারপর তো আর আসিসনি। তা আসিনি, বলল আদিত্য, উনত্রিশ বছর। অবিশ্যি আমাদের বাড়িটা নির্ঘাত এখন ধ্বংসস্তূপ। যখন ছাড়ি তখনই বয়স ছিল প্রায় দুশো বছর।… Continue reading চিলেকোঠা – সত্যজিৎ রায়

বহুরূপী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

গোয়েন্দা বরদাচরণ যদিও খুবই বুদ্ধিমান লোক, তবু তার আচার-আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক। সাধারণ মানুষ যা করে তিনি-তা কখনো করেন না। কারো বাড়িতে ঢুকবার সময় তিনি সদর দরজা দিয়ে ঢোকেন খুবই কম। তিনি ঢোকেন পিছনের পাঁচিল ডিঙিয়ে, পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে বা ওই রকম বিচিত্র পদ্ধতিতে তিনি হয়তো মগরা যাবেন, কিন্তু উঠবেন মেইল ট্রেনে। মেইল ট্রেন মগরায়… Continue reading বহুরূপী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লাখ টাকার পাথর – সমরেশ মজুমদার

এই শহরের বিখ্যাত শিল্পপতি অমলেন্দু রায় পরলোকগমন করেছেন। খবরটা শুনে শহরের মানুষ খুবই দুঃখিত হয়েছিল। অমলেন্দুবাবুকে সবাই খুব ভালবাসত। নিজের বিশাল ব্যবসায় তরুণদের চাকরি দেওয়া ছাড়াও জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগীতার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ফুটবল তার প্রিয় খেলা ছিল। শহরের সবচেয়ে নামী ক্লাবের তিনি আজীবন সভাপতি ছিলেন। খবরটা অর্জুন পেয়েছিল কদমতলায় চায়ের দোকানে… Continue reading লাখ টাকার পাথর – সমরেশ মজুমদার

ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য (২য় পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

রণজয়বাবু হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। কর্নেল বললেন- আপাতত এই পর্যন্ত। তবে আশাকরি, আপনাদের বংশের ঐতিহাসিক হিরে উদ্ধার করে দিতে পারব। …………….পিশাচ দর্শন……….রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বললাম-তা হলে কলকাতায় বসে ঠিকই রহস্যের জট ছাড়াতে পেরেছিলেন। কিন্তু পিশাচ ব্যাপারটা বোঝা যাচ্ছে না। বোঝা যাবে। আগে সেই রামবাবু ফোটোগ্রাফারের দোকানে যেতে হবে।…– বলে কর্নেল রাস্তায় একটা সাইকেল-রিকশা ডাকলেন।……..বাজার… Continue reading ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য (২য় পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

চিড়িকদাস – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পুণায় বন্যার সময় যে কাঠবেড়ালিটা আমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল সেটা ধাড়ি কাঠবেড়ালি নয়, বাচ্চা। শেষ পর্যন্ত সে আমার বাড়িতেই রয়ে গেল। তার নাম রেখেছি চিড়িকদাস। গৃহিণী তার প্রতি বিশেষ অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন; নাতি তাকে পকেটে নিয়ে বেড়ায়; আমার কুকুর কালীচরণ তার প্রতি খুব প্রসন্ন না হলেও তাকে অবজ্ঞাভরে সহ্য করে। চিড়িকদাস সারাদিন চিড়িক চিড়িক শব্দ… Continue reading চিড়িকদাস – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ঝানু চোর চানু – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

ছেলেবেলা থেকেই চানু শয়তানের একশেষ, আশেপাশের লোকজন তার জ্বালায় অস্থির। চানুর বাবা বড় গরিব ছিল, চানু ভাবল-বিদেশে গিয়ে টাকা পয়সা রোজগার করে আনবে। যেমন ভাবা তেমনি কাজ, একদিন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। খানিক দূরে গিয়েই বনের ভিতর দিয়ে একটা নির্জন রাস্তা-চানু সেই রাস্তা ধরে চলল। সমস্ত দিন বৃষ্টিতে ভিজে শ্রান্ত-কান্ত হয়ে স্যার সময় পথের… Continue reading ঝানু চোর চানু – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

প্রাইভেট ডিটেকটিভ কে কে হালদার খবরের কাগজ পড়ছিলেন। হাতে নস্যির কৌটো। হঠাৎ বলে উঠলেন, –অ্যাঃ! পিচাশ!…….হাসি চেপে বললাম, –কথাটা পিশাচ হালদারমশাই! উত্তেজিত হলেই ঢ্যাঙা গড়নের এই গোয়েন্দা ভদ্রলোক আরও ঢ্যাঙা হয়ে ওঠেন যেন। গোঁফের ডগা তিরতির করে কাঁপে। বললেন, –মশায়! চৌতিরিশ বৎসর পুলিশে সার্ভিস করছি। অন্ধকারে বনবাদাড়ে শ্মশানেমশানে ঘুরছি। কখনও পিচাশ দেখি নাই। কর্নেলস্যার, দেখছেন… Continue reading ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সুকুমার রায়ের গল্প – আশ্চর্য কবিতা

চণ্ডীপুরের ইংরাজি স্কুলে আমাদের ক্লাশে একটি নূতন ছাত্র আসিয়াছে। তার বয়স বারো-চোদ্দোর বেশি নয়। সে স্কুলে আসিয়া প্রথম দিনই সকলকে জানাইল, “আমি পোইট্রি লিখতে পারি!” এ কথা শুনিয়া ক্লাশসুদ্ধ সকলে অবাক হইয়া গেল; কেবল দু-একজন হিংসা করিয়া বলিল, “আমরাও ছেলেবেলায় ঢের ঢের কবিতা লিখেছি। ” নূতন ছাত্রটি বোধ হয় ভাবিয়াছিল, সে কবিতা লিখিতে পারে, শুনিয়া… Continue reading সুকুমার রায়ের গল্প – আশ্চর্য কবিতা

আশ্চর্য প্রদীপ (২য় পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রায় আধঘণ্টা গেল ধস্তাধস্তিতে। অনিকেত মেয়েটাকে কিছুতেই বাগে আনতে পারে না। মেয়েটার দু-খানা লম্বা হাত, হাতে নখ, দু-খানা পায়ে হরিণের গতি, অসম্ভব দম—এসবই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বারদুই ধরতে পেরেছিল সে মেয়েটিকে, কিন্তু কিছু করার আগেই ছিটকে বেরিয়ে গেল মেয়েটি। অনিকেত তীব্র পিপাসায় ছটফট করে। এমন তীব্র নারীদেহের তৃষ্ণা সে আগে কখনও টের পায়নি। কিন্তু তার… Continue reading আশ্চর্য প্রদীপ (২য় পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়