মন্টু কদিন থেকেই শুনেছে তার মা-বাবার মধ্যে কথা হচ্ছে দাদুকে নিয়ে। মন্টুর ছোটদাদু, মা-র ছোটমামা।দাদুর চিঠিটা যখন আসে তখন মন্টু বাড়ি ছিল। মা চিঠি পড়ে প্রথমে আপন মনে বললেন, বোঝে ব্যাপার। তারপর বাবাকে ডেকে বললেন, ওগো শুনছ? বাবা বারান্দায় বসে মুচির জুতো মেরামত করা দেখছিলেন। মুখ না তুলেই বললেন, বলো।মা চিঠি হাতে বেরিয়ে এসে বললেন,… Continue reading অতিথি – সত্যজিৎ রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
পাকা ফলার – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
পাড়াগাঁয়ে এক ফলারে বামুন ছিল। তাহাকে যাহারা নিমন্ত্রণ করিত, তাহারা সকলেই খুব গরিব, দৈ-চিঁড়ের বেশি কিছু দিবার ক্ষমতা তাহাদের ছিল না।ব্রাহ্মণ শুনিয়াছিল, দৈ-চিঁড়ের ফলারের চাইতে পাকা ফলারটা ঢের ভাল। সুতরাং এরপর যে ফলারের নিমন্ত্রণ করিতে আসিল, তাহাকে সে বলিল, ‘পাকা ফলার খাওয়াতে হবে।’ সে বেচারা গরিব লোক, পাকা ফলার সে কোথা হইতে দিবে? তাই সে… Continue reading পাকা ফলার – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
হাসি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
স্টেশনের ওয়েটিং রুমের ভেতরে-বাইরে কোথাও অন্য লোক ছিল না, বেহারাটাকেও ডেকে ডেকে পাওয়া গেল না। অগত্যা চায়ের আশায় জলঞ্জলি দিয়ে আমরা কয় বন্ধুতে বেশ করে ‘রাগ’ টেনে নিয়ে ইজিচেয়ারে শুয়ে পড়লাম।মাঘের শেষ যদিও, শীত কিন্তু বাংলাদেশের পৌষ মাসের চেয়েও বেশি। রমেন বললে— ওহে, তোমরা যা বোঝো করো, আমি কিন্তু চা নইলে রাত কাটাতে পারব না।… Continue reading হাসি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শনি সন্ধ্যার পঞ্চভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
আমরা উত্তর কলকাতার কজন বন্ধু মিলে একটা ক্লাব করেছিলুম। উদ্দেশ্য ছিল প্রতি শনিবার সন্ধ্যাবেলায় চুটিয়ে আড্ডা দেব। তাস, দাবা আর ক্যারাম খেলব। সেই সঙ্গে ফিস্টিরও আয়োজন থাকবে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল ক্লাবের নাম হবে স্যাটারডে ইভনিং ক্লাব। কিন্তু তারাপদর মধ্যে বাঙালি-বাঙালি ভাব বড় বেশি। তার মতে, স্বাধীন দেশে ইংরেজিপ্রীতি দাস মনোভাবের প্রতীক। সেই কবে ইংরেজ এ… Continue reading শনি সন্ধ্যার পঞ্চভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
গাধা ও মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প
মোল্লা নাসিরুদ্দিন একবার নিজের পোষা গাধাটিকে বাড়ির ছাদে নিয়ে গেলেন। কিন্তু গাধা ছাদে উঠে ,আর নামতে চাইছে না। বহু চেষ্টা বিফলে গেলো। গাধা মোটেও নামতে চাইছে না। বাধ্য হয়ে মোল্লা নিচে নেমে এসে, গাধার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। আধ ঘন্টা, এক ঘন্টা, এভাবে ঘন্টা দুয়েক পার হয়ে গেলো, তবুও গাধা নামছে না। মোল্লা নাসিরুদ্দিন অনুভব… Continue reading গাধা ও মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প
সহযাত্রী – সত্যজিৎ রায়
ত্রিদিববাবুর সাধারণত একটা হালকা বই পড়েই সময়টা কেটে যায়। কলকাতা থেকে দিল্লি ট্রেনে যাওয়া। কাজের জন্যই যেতে হয় দু মাসে অন্তত একবার। একটা ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিতে উচ্চপদস্থ কর্মচারী তিনি, হেড আপিস দিল্লিতে। প্লেনটা একদম পছন্দ করেন না ত্রিদিববাবু, অতীতে একবার ল্যান্ডিং-এর সময় কানে তালা লেগে গিয়েছিল, সেই তালা ছাড়াতে তাঁকে ডাক্তারের কাছে ছুটতে হয়েছিল। সেই থেকে… Continue reading সহযাত্রী – সত্যজিৎ রায়
দুধের দাম – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ট্রেন আসিয়াছিল। কয়েকটি সুবেশা, সুতন্বী, সুরূপা যুবতী স্টেশনে আসিয়াছিলেন। তাঁহাদেরই আশেপাশে জনকয়েক বাঙালী ছোকরাও, কেহ অন্যমনস্কভাবে, কেহ বা জ্ঞাতসারে ঘোরাফেরা করিতেছিল। ভিড়ের মধ্যে এক বৃদ্ধা যে একজনের হোলড-অলের স্ট্র্যাপে পা আটকাইয়া পড়িয়া গেলেন, তাহা কেহ লক্ষ্য করিল না। করিবার কথাও নয়, বিদেশাগত শিভ্যালরি জিনিসটা যুবতীদের কেন্দ্র করিয়াই বিকশিত হয়। সকলে অবশ্য যুবতীদিগকে লইয়া প্রকাশ্যে বা… Continue reading দুধের দাম – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
কাজী নজরুল ইসলাম: হক সাহেবের হাসির গল্প
বাংলার প্রধানমন্ত্রী ‘অনারেবল’ হক সাহেব যে সুন্দর গল্প বলতে পারেন, তা আগে জানতাম না। তবে তাঁর কথায় কথায় চমৎকার ব্যঙ্গ, রসিকতা ও হাস্যরসের পরিচয় পেয়েছি। সকল শ্রোতাই হাসিতে ঘর পূর্ণ করে তা উপভোগ করেছেন। হক সাহেব সর্বদাই হাসি-মুখ। ভীষণ ক্রোধের পরক্ষণেই মুখে বালকের মতো সরল হাসির ফুল ফোটে। দিন-দশেক আগে তাঁর দুটি গল্প শুনেছি। ‘নবযু্গ’-এর… Continue reading কাজী নজরুল ইসলাম: হক সাহেবের হাসির গল্প
যায়খানা – কাজী নজরুল ইসলাম
কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন বিদ্রোহী কবিই ছিলেন না। ছিলেন না কেবল রুদ্রের কণ্ঠস্বর। তিনি তাঁর কাব্যকলায় যে শিল্পীত কারুকাজ করে গেছেন শিল্পবোদ্ধা সমালোচক ও নন্দনতাত্ত্বিকদের কাছে তার মণিরত্নময় রূপ এখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। তাঁর সমকালে কেউ কেউ এমনকি রসজ্ঞ সমালোচকেরাও তাঁকে হুজুগের কবি’, কালের সাময়িক ভাষ্যকার বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। একমাত্র রবীন্দ্রনাথই খুব… Continue reading যায়খানা – কাজী নজরুল ইসলাম
জোলা আর সাত ভূত – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
এক জোলা ছিল সে পিঠে খেতে বড় ভালবাসত। একদিন সে তার মাকে বলল, ‘মা, আমার বড্ড পিঠে খেতে ইচ্ছে করছে,আমাকে পিঠে করে দাও।’সেইদিন তার মা তাকে লাল-লাল, গোল-গোল, চ্যাপটা-চ্যাপটা সাতখানি চমৎকার পিঠে করে দিল। জোলা সেই পিঠে পেয়ে ভারি খুশি হয়ে নাচতে লাগল আর বলতে লাগল,‘একটা খাব, দুটো খাব,……………………………………সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব!’ জোলার মা বলল,… Continue reading জোলা আর সাত ভূত – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী