পল্লী সমাজ শেষ : পর্ব শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

এবার আর একটা জিনিস রমেশের বড় দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল। বিশ্বেশ্বরীর কোন দিনই সংসারে যে বিশেষ আসক্তি ছিল না, তাহা সে পূর্ব্বেও জানিত, কিন্তু এবার ফিরিয়া আসিয়া সেই অনাসক্তিটা যেন বিতৃষ্ণায় পরিণত হইয়াছে বলিয়া তাহার মনে হইতেছিল। কারাগার হইতে অব্যাহতি লাভ করিয়া বেণীর সমভিব্যাহারে যে দিন সে গৃহে প্রবেশ করিয়াছিল, সে দিন বিশ্বেশ্বরী আনন্দ-প্রকাশ করিয়াছিলেন, সজল-কণ্ঠে… Continue reading পল্লী সমাজ শেষ : পর্ব শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:১২ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বেশ্বরী ঘরে ঢুকিয়া অশ্রুভরা রোদনের কণ্ঠে প্রশ্ন করিলেন,—“আজ কেমন আছিস্‌ মা রমা?” রমা তাঁহার মুখের পানে চাহিয়া একটুখানি হাসিয়া বলিল,—“আজ ভাল আছি জ্যাঠাইমা।” বিশ্বেশ্বরী তার শিয়রে আসিয়া বসিলেন এবং মাথায় মুখে হাত বুলাইতে লাগিলেন। আজ তিনমাসকাল রমা শয্যাগত। বুক জুড়িয়া কাসি এবং ম্যালেরিয়া বিষে সর্ব্বাঙ্গ সমাচ্ছন্ন। গ্রামের প্রাচীন কবিরাজ প্রাণপণে ইহার বৃথা চিকিৎসা করিয়া মরিতেছে।… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:১২ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:১১ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

“কিন্তু কি জানো রমা, আমি তোমাকে বিশ্বাস কর্‌তে পার্‌ব কি?” রমা অসঙ্কোচে তৎক্ষণাৎ কহিল,—“ইতরে পারে না, কিন্তু আপনি পার্‌বেন।” তাহার দৃঢ়কণ্ঠের এই অচিন্তনীয় উক্তিতে রমেশ বিস্ময়ে স্তব্ধ হইয়া গেল। কিন্তু, ক্ষণেক মৌন থাকিয়া বলিল,—“আচ্ছা, ভেবে দেখি।” রমা মাথা নাড়িয়া কহিল, “না, ভাববার সময় নেই,—আজই আপনাকে আর কোথাও যেতে হবে। না গেলে—” বলিতে বলিতেই সে স্পষ্ট… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:১১ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:১০ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

তারপর মাসখানেক গত হইয়াছে। ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে মনে মনে যুদ্ধঘোষণা করিয়া রমেশ এই একটা মাস তাহার যন্ত্রতন্ত্র লইয়া এম্‌নি উৎসাহের সহিত নানাস্থানে মাপ-জোপ করিয়া ফিরিতেছিল যে, আগামী কালই যে ভৈরবের মকর্দ্দমা, তাহা প্রায় ভুলিয়াই গিয়াছিল। আজ সন্ধ্যার প্রাক্কালে অকস্মাৎ সে কথা মনে পড়িয়া গেল, রসুনচৌকির সানাইয়ের সুরে। চাকরের কাছে সংবাদ পাইয়া রমেশ আশ্চর্য্য হইয়া গেল যে,… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:১০ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:৯ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রমা আশ্চর্য্য হইয়া কহিল, “আমি?” রমেশ বলিল, “তুমি ছাড়া এ শক্তি আর কারু ছিল না। রমা, আজ তোমাকে একটা সত্যকথা বল্‌ব! ইচ্ছে হয় বিশ্বাস কোরো, না হয় কোরো না। কিন্তু, জিনিসটা যদি না একেবারে ম’রে নিঃশেষ হয়ে যেত, হয় ত কোনদিনই এ কথা তোমাকে শোনাতে পার্‌তাম না!” বলিয়া একটুখানি চুপ করিয়া, পুনরায় কহিল,—“আজ না কি… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:৯ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:৮ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

 তখন রাত্রি বোধ করি এগারটা। বেণীর চণ্ডীমন্ডপ হইতে অনেকগুলি লোকের চাপাগলার আওয়াজ আসিতেছিল। আকাশে মেঘ কতকটা কাটিয়া গিয়া ত্রয়োদশীর অস্বচ্ছ জ্যোৎস্না বারান্দার উপরে আসিয়া পড়িয়াছিল। সেইখানে খুঁটিতে ঠেস দিয়া একজন ভীষণাকৃতি প্রৌঢ় মুসলমান চোখ বুজিয়া বসিয়া ছিল। তাহার সমস্ত মুখের উপর কাঁচা রক্ত জমাট বাঁধিয়াগিয়াছে—পরণের বস্ত্র রক্তে রাঙা; কিন্তু, সে চুপ করিয়া আছে। বেণী চাপা-গলায়… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:৮ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:৭ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মাস তিনেক পরে একদিন সকালবেলা তারকেশ্বরের যে পুষ্করিণীটিকে দুধপুকুর বলে, তাহারই সিঁড়ির উপর একটি রমণীর সহিত রমেশের একেবারে মুখোমুখি দেখা হইয়া গেল। ক্ষণকালের জন্য সে এম্‌নি অভিভূত, অভদ্রভাবে তাহার অনাবৃত মুখের পানে চাহিয়া দাঁড়াইয়া রহিল যে, তাহার তৎক্ষণাৎ পথ ছাড়িয়া সরিয়া যাইবার কথা মনেই হইল না। মেয়েটির বয়স, বোধ করি, কুড়ির অধিক নয়। স্নান করিয়া… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:৭ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:৬ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

“জ্যাঠাইমা!” “কে, রমেশ? আয় বাবা, ঘরে আয়।” বলিয়া আহ্বান করিয়া বিশ্বেশ্বরী তাড়াতাড়ি একখানি মাদুর পাতিয়া দিলেন। ঘরে পা দিয়াই রমেশ চমকিত হইয়া উঠিল। কারণ, জ্যাঠাইমার কাছে যে স্ত্রীলোকটি বসিয়াছিল, তাহার মুখ দেখিতে না পাইলেও বুঝিল—এ রমা। তাহার ভারি একটা চিত্তজ্বালার সহিত মনে হইল, ইহারা মাসীকে মাঝ্‌খানে রাখিয়া অপমান করিতেও ত্রুটি করে না, আবার নিতান্ত নির্লজ্জার… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:৬ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:৫ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বেশ্বরীর সেদিনের কথাটা সেইদিনেই দশখানা গ্রামে পরিব্যাপ্ত হইয়া গিয়াছিল। বেণী লোকটা নিজে কাহারও মুখের উপর রূঢ় কথা বলিতে পারিত না; তাই সে গিয়া রমার মাসীকে ডাকিয়া আনিয়াছিল। সেকালে নাকি তক্ষক দাঁত ফুটাইয়া এক বিরাট অশ্বত্থ গাছ জ্বালাইয়া ছাই করিয়া দিয়াছিল। এই মাসীটিও সেদিন সকালবেলায় ঘরে চড়িয়া যে বিষ উদ্গীর্ণ করিয়া গেলেন, তাহাতে বিশ্বেশ্বরীর রক্তমাংসের দেহটা,… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:৫ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লী সমাজ পর্ব:৪ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পল্লীগ্রামে সহরের কড়াপর্দ্দা নাই। তত্রাচ বিশ্বেশ্বরী বড়বাড়ীর বধূ বলিয়াই হৌক্‌, কিংবা অন্য যে-কোন কারণেই হৌক, যথেষ্ট বয়ঃপ্রাপ্তিসত্ত্বেও সাধারণতঃ কাহারো সাক্ষাতে বাহির হইতেন না। সুতরাং, সকলেই বড় বিস্মিত হইল। যাহারা শুধু শুনিয়াছিল, কিন্তু ইতিপূর্ব্বে কখনো চোখে দেখে নাই, তাহারা তাঁহার আশ্চর্য্য চোখ দুইটির পানে চাহিয়া একেবারে অবাক্‌ হইয়া গেল। বোধ করি, তিনি হঠাৎ ক্রোধবশেই বাহির হইয়া… Continue reading পল্লী সমাজ পর্ব:৪ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়