জাপানি ইঞ্জিনিয়ার আমাদের দিকে এলেন না। তিনি বাজারের দিকে চলে গেলেন। ভাইয়া পানি নিয়ে এসেছে। সাথে রহমান চাচাকে নিয়ে এসেছে। বাবাকে যদি ধরাধরি করে বাসায় নিতে হয়। সে একা পারবে না।পানি খেয়ে বাবার পেটের ব্যথা মনে হয় কিছু কমেছে। তিনি নিজে নিজেই উঠে দাঁড়ালেন। ইষ্টিশনের দিকে হাঁটতে শুরু করলেন। কেমন এলোমেলো ভঙ্গিতে পা ফেলছেন। মনে… Continue reading ইস্টিশন শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
ইস্টিশন পর্ব-১০ হুমায়ূন আহমেদ
মাকে বিদায় দিতে আমরা সবাই ইস্টিশনে এসেছি। বাবা দাঁড়িয়ে আছেন কুঁজো হয়ে। দুপুরের পর থেকে তাঁর পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে। আজকের ব্যথাটা মনে হয় তীব্র। কারণ তাঁর মুখ কালো হয়ে গেছে। তিনি একটু পর পর হাতঘড়িতে সময় দেখছেন। ব্যথা উঠলেই তিনি ঘড়ি দেখেন। বাবার পাশে রহমান চাচা দাঁড়িয়ে আছেন। রহমান চাচা বাবার কানে-কানে কি যেন… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-১০ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০৯ হুমায়ূন আহমেদ
চল চা খাবার ব্যবস্থা করি তারপর আমি আমার ছোট মামার গল্পটা বলব। দারুণ ইন্টারেস্টিং কুসুম শুনতে চাইলে সেও শুনবে। সে ভয় টয় পাবে বলে। মনে হয় না। মেয়েটার মারাত্মক সাহস। মেয়েদের এত সাহসও অবিশ্যি ভালো না। সে যে কীভাবে ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে পানিতে পড়ল এখনো মনে হলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এই ঘটনা যদি… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৯ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০৮ হুমায়ূন আহমেদ
জাপানি ইঞ্জিনিয়ার চোখ মুখ কুঁচকে বললেন, বিরাট ঝামেলা হয়ে গেছে। বড় সাহেব চলে যাবার পরই জমশেদ বলল, সে চাকরি করবে না। ব্যাগ গুছিয়ে রওয়ানা। তার অপমানের বিচার যদি হয় তাহলেই সে চাকরিতে জয়েন করবে। বিচার না হলে–না। এরা হল লিডার টাইপ লোক। তার দেখাদেখি ফোরম্যান ব্যাগ গুছিয়ে ফেলল। ফোরম্যানের সঙ্গে তিন এসিস্টেন্ট। কাজেই আমি কাজ… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৮ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০৭ হুমায়ূন আহমেদ
শেষের দিকে হুজুরে কেবলা আমাকে কি যে পেয়ার করতেন। কোনো মানুষের তাঁর শরীরে হাত দেয়ার নিয়ম ছিল না। শুধু আমি দিতাম। তাঁর ঘুমাবার আগে পিঠ মালিস করতাম। তারও অনেক কায়দা—শুধু আঙুল দিয়ে টিপতে হত। বেশি জোরেও না। আবার বেশি আস্তেও না। উনার পা টিপার অনুমতি পেয়েছিলাম শুধু আমি আর উনার বড় ছেলের ঘরের নাতনী। সালমা।… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৭ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০৬ হুমায়ূন আহমেদ
আমি কুসুম আপুর কপালে হাত রাখলাম। জ্বর কমে নি, বরং অনেক বেড়েছে। শরীর দিয়ে ভাপ বেরুচ্ছে। অথচ কুসুম আপু কত স্বাভাবিক ভাবেই না কথা বলছে। আমার ধারণা ইচ্ছে করলে এই জ্বর নিয়েও কুসুম আপু জাপানি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সঙ্গে সারারাত গল্প করতে পারবে। হাসাহাসি করতে পারবে। কুসুম আপুর জ্বর, তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন আসতে পারবেন না… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৬ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০৫ হুমায়ূন আহমেদ
জাপানি ইঞ্জিনিয়ার ভাত খেতে খেতেই ফণা নামিয়ে ফণাবিহীন সাধারণ সাপ হয়ে গেলেন, তার চেহারার মধ্যে গদগদ ভাব চলে এল। মুখের চামড়া হঠাৎ তেলতেলে হয়ে গেল। তিনি হড়বড় করে কুসুম আপুর সঙ্গে অনর্গল কথা বলতে লাগলেন। একটা কথার সঙ্গে অন্য একটা কথার কোনো মিল নেই। তিনি কী বলছেন নিজেও বোধ হয় জানেন না। কুসুম তুমি কি… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৫ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০৪ হুমায়ূন আহমেদ
আমি কুসুম আপুর চোখের দিকে তাকিয়ে না বলতে যাব তার আগেই রহিমা ফুপুর কাশির শব্দ শোনা গেল। এই কাশির অর্থ তিনি জেগে আছেন। মেয়ে কোথায় যাচ্ছে কী করছে খেয়াল রাখছেন। কেশে কেশে তিনি মেয়েকে অনুসরণ করেন।কুসুম আপু দরজার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, কাশছ কেন মা? ফুপু ক্ষীণ গলায় বললেন, কাশ হয়েছে। কুসুম আপু বলল,… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৪ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০৩ হুমায়ূন আহমেদ
অনেক লাফ ঝাঁপ দিলেও সন্ধ্যার আগে আগে রহমান চাচা গামবুট পরে রেলের লণ্ঠন নিয়ে রওনা হলেন। গামবুট জোড়া বাবার। গত বর্ষায় কিনেছিলেন। বাবার ধারণা কেনার পরপরই এক সাইজ ছোট হয়ে গেছে। পরার পর আঙুল বেঁকে থাকে। গামবুট জোড়া তিনি রহমান চাচাকে দিয়ে দিয়েছেন। রহমান চাচার পায়ের পাতা বাবার পায়ের পাতার চেয়েও লম্বা। গামবুট পরার পর… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৩ হুমায়ূন আহমেদ
ইস্টিশন পর্ব-০২ হুমায়ূন আহমেদ
তিনি পকেট থেকে একটা এক টাকার নোট বের করে বললেন, যা বাদাম কিনে খা। আর শোন বাড়িতে গিয়ে বাবা মা সবাইকে কদমবুসি করে দোয়া নিবি। মুরুব্বিদের দোয়া হল লাইফ জ্যাকেটের মতো। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সমুদ্র পার হওয়া যায় না। দুনিয়াটা হল সমুদ্র। আমি তোর অংক খাতা দেখে খুবই খুশি হয়েছি। আজকে আছরের নামাজের সময় তোর… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০২ হুমায়ূন আহমেদ