সই – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দুপুরে বাসায় শুইয়া আছি, এমন সময়ে উচ্ছলিত খুশি ও প্রচুর তরল হাস্যমিশ্রিত তরুণ কণ্ঠস্বরে শুনিতে পাইলাম, ও সই, সই লো-ও-ও, ক্যামন আছ, ও সই? পাশের ঘর হইতে আমার ভগ্নী (বিধবা, বয়স ত্রিশের বেশি) হাসির সুরেই বলিল, এসো সই, এসো। বোসো, কী ভাগ্যি যে এ পথে এলে? -এই তোমার সয়া হাট কত্তি এল। নতুন গুড়ের পাটালি… Continue reading সই – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ইচ্ছে বাড়ি – সমরেশ মজুমদার

পঞ্চাশে পা দেওয়ার আগে অন্তত পঁচিশবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছে অরবিন্দ কিন্তু কখনও দু রাতের বেশি থাকেনি। বন্ধুবান্ধবদের বাড়ি ছড়িয়ে আছে পূর্বপল্লি এবং রতনপল্লিতে। ষাট-সত্তর বছরের বাড়ি সব। বিরাট বাগান, অনেক ঘর। সঞ্চয়িতা এবং গীতবিতান হেঁকে নামকরণ করা হয়েছিল তাদের। সেইসব বাড়ির মালিকদের অনেকেই রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য ছিলেন। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথকে অবলম্বন করে বিখ্যাত হয়েছেন এমন কয়েকজন বন্ধুর পিতাকে… Continue reading ইচ্ছে বাড়ি – সমরেশ মজুমদার

টুনটুনি আর নাপিতের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

টুনটুনি গিয়েছিল বেগুন পাতায় বসে নাচতে। নাচতে-নাচতে খেল বেগুন কাঁটায় খোঁচা। তাই থেকে তার হল মস্ত বড় ফোঁড়া।……ও মা, কি হবে? এত বড় ফোঁড়া কি করে সারবে?….টুনটুনি একে জিগগেস করে, তাকে জিগগেস করে। সবাই বলরে, ‘ওটা নাপিত দিয়ে কাটিয়ে ফেল।’ তাই টুনটুনি নাপিতের কাছে গিয়ে বললে, নাপিতদাদা, নাপিতদাদা, আমার ফোঁড়াটা কেটে দাও না!’…….নাপিত তার কথা… Continue reading টুনটুনি আর নাপিতের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

উদ্যম ও পরিশ্রম-মোহাম্মদ লুৎফর রহমান

লেখক পরিচিতি : মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে মাগুরা জেলার পারনান্দুয়ালী গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস যশোর জেলার হাজীগ্রামে। লুৎফর রহমান এফ.এ. পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। তিনি প্রথমে শিক্ষক এবং পরে হোমিওপ্যাথ ডাক্তার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। নারী সমাজের উন্নতির জন্য ‘নারীতীর্থ’ নামে সেবা প্রতিষ্ঠান গঠন এবং ‘নারীশক্তি’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি… Continue reading উদ্যম ও পরিশ্রম-মোহাম্মদ লুৎফর রহমান

চিঠি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভূতটাকে আমি দেখেছিলাম পুরোনো পোস্ট–অফিসের বাড়িতে। সেই থেকে ভূতের গল্পটা সবাইকে বলে আসছি, কেউ-কেউ বিশ্বাস করছে, কেউ কেউ করছে না।…নদীর একটা দিক ভাঙতে ভাঙতে শহরের উত্তর দিকটা অনেকখানি গিলে ফেলল। পুরোনো পোস্ট–অফিসের বাড়িটা থেকে যখন আর মাত্র বিশ গজ দূরে জল, তখনই প্রমাদ বুঝে সরকার। তরফ অফিসটা শহরের মাঝখানে তুলে আনেন। পুরোনো বাড়িটা নদীগর্ভে যাওয়ার… Continue reading চিঠি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ছোট ভাই – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

সাতটি ভাই ছিল, তাদের সকলের ছোটটির নাম ছিল রুরু। দেশের মধ্যে তারা সাতটি ভাই দেখতে আর সকল ছেলের চেয়ে সুন্দর ছিল। তাদের মধ্যে আবার রুরু ছিল সকলের চেয়ে সুন্দর। রুরুকে সকলেই কেন এত সুন্দর বলে আর তাদের ব’লে না, এই জন্য রুরুর বড় ভাইয়েরা তাকে বড্ড হিংসা করত। ভাল ভাল কাপড়গুলো সব তারা ছ’জনায় পরে… Continue reading ছোট ভাই – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

টুনটুনি আর রাজার কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

রাজার বাগানের কোণে টুনটুনির বাসা ছিল। রাজার সিন্দুকের টাকা রোদে শুকুতে দিয়েছিল, সন্ধ্যার সময় তার লোকেরা তার একটি টাকা ঘরে তুলতে ভুলে গেল।টুনটুনি সেই চকচকে টাকাটি দেখতে পেয়ে তার বাসায় এনে রেখে দিলে, আর ভাবলে, ‘ঈস! আমি কত বড়লোক হয়ে গেছি। রাজার ঘরে যে ধন আছে, আমার ঘরে সে ধন আছে!’ তারপর থেকে সে খালি… Continue reading টুনটুনি আর রাজার কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

স্ত্রী-ভাগ্য – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ধীরাজের বিবাহ ও দাম্পত্যজীবন একটা হাসির ব্যাপার হইয়া দাঁড়াইয়াছিল।…..ধীরাজ আমার ছেলেবেলার বন্ধু; তারপর বড় হইয়া কলিকাতার একই মেসে একই ঘরে বাস করিয়াছি, এবং একই শেয়ার-দালালের অফিসে কেরানীগিরি করিয়াছি। সুতরাং তাহার হৃদয়-মনের একটা স্পষ্ট চিত্র আমার মনে থাকা উচিত। কিন্তু এখন মনে হয় তাহার হৃদয়ের মধ্যে একটা গোপন চোর কুঠুরি ছিল; সেখানে সে কী রাখিত আমি… Continue reading স্ত্রী-ভাগ্য – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

রেইন –উইলিয়াম সমারসেট ম’ম

পাগো-পাগোতে (Pago-Pago) জাহাজ ভিড়ল।। জাহাজটা আসছে সানফ্রানসিস্কো থেকে, যাবে সিডনি পর্যন্ত। এপিয়ার (Apia) যাত্রীদের এখানেই নামতে হবে। তাদের নিয়ে যাবার জন্য স্টিমার একখানা কালই এসে রয়েছে বন্দরে। অনেক যাত্রীই নামল। এই সামোয়া-অঞ্চলের বাসিন্দাই বেশীর ভাগ, এপিয়ার কয়েকজন মাত্র। অবশ্য এই অল্প কয়েকজন এপিয়ারযাত্রীরই কাহিনী এটা। পাদরী ডেভিডসন (Davidsons), তাঁর স্ত্রী, ডাক্তার ম্যাকফেইল (Macphails), তাঁর স্ত্রী… Continue reading রেইন –উইলিয়াম সমারসেট ম’ম

দাদু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঠাকুরদাদা আমার শৈশবের অনেকখানি জুড়ে আছেন। সমস্ত শৈশব-দিগন্তটা জুড়ে আছেন। ছেলেবেলায় জ্ঞান হয়েই দেখেছি আমাদের বাড়িতে তিনি আছেন।…….তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় একশো। জ্ঞান হয়ে পর্যন্ত দেখেছি তিনি আমাদের পশ্চিমের ঘরের রোয়াকে সকাল থেকে বসে থাকতেন। একটা বড়ো গামলায় গরমজল করে দিদি তাঁকে নাইয়ে দিত। ঠাকুরদাদা চোখে ভালো দেখতে পেতেন না। তাঁকে সকালে হাত ধরে রোয়াকে… Continue reading দাদু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়