হার্টের অসুখ, দিনাজপুরে বসে আছেন কেন? আমি উনাকে ঢাকায় আনার জন্যে যাচ্ছি। বাবা কি করেন? বাবা বেঁচে নেই। যখন বেঁচে ছিলেন তখন কি করতেন? ব্যাংকে চাকরি করতেন। মা বেঁচে আছেন? জি না। সাজেদা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। মেয়েটার এখনাে বিয়ে হয়নি কেন তা পরিস্কার হয়েছে। এই মেয়ে কঠিন এতিম। বাবা মা দুজনই নেই। কার দায় পড়েছে… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৫)
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৪)
অচেনা পুরুষদের সঙ্গে হড়বড় করে কথা লিলি বলতে পারে। সে পারে না। সে খানিকটা আড়ষ্ট বােধ করে। তার জায়গায় লিলি থাকলে বলতাে-অবশ্যই বসতে পারেন। হঠাৎ আমার সামনে বসতে চাচ্ছেন কেন? নিশ্চয়ই কোনাে কারণ আছে। কারণটা ব্যাখ্যা করুন। প্রথমবারেই সুন্দর করে ব্যাখ্যা করবেন যাতে আমাকে দ্বিতীয় বার কোনাে প্রশ্ন না করতে হয়, সহজ বাংলায় ঝেড়ে কাশুন।… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৪)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
অভিভাকের মতাে গলা, যেন কৈফিয়ত তলব করছে । চিত্রার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবে । বুড়াের কৈফিয়ত তলবের কিছু নেই । চিত্রা, তুমি উপরের সিটে থাকবে । আমার পক্ষে উপরে উঠা সম্ভব না। তাছাড়া আমাকে ঘন ঘন সিগারেট খেতে হবে। চিত্রা জবাব দিল না। জবাব দেবার কিছু নেই। বুড়াের সঙ্গে খেজুরে আলাপেরও কিছু নেই। বুড়াে সিগারেটে… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২)
ভালাে সমস্যা হল । আমি সিগারেটে টান না দিয়ে থাকতে পারি না। করিডােরে গিয়ে খাবেন। বুড়াে বলল, আমার শরীর ভালাে না। আর্থরাইটিসের ব্যথা। হাঁটাহাঁটি করতে পারি না। প্রতিবার সিগারেটের জন্যে করিডােরে যাওয়া আমার জন্যে সমস্যা। যাই হােক তােমার নাম কি? চিত্রা। চিত্রা নামের অর্থ কি? জানি না । (চিত্রা তার নামের অর্থ জানে। বুড়ােটাকে অর্থ… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১)
ভূ মি কা ট্রেন দেখলেই আমার ট্রেনে চড়তে ইচ্ছা করে। ঢাকা শহরে অনেকগুলি রেল ক্রসিং। গাড়ি নিয়ে প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন যায় আর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভাবি ট্রেনের যাত্রীরা কি সুখেই না আছে। আমার এই উপন্যাসটা ট্রেনের কামরায় শুরু, সেখানেই শেষ। কাহিনী শেষ হয়ে গেছে-ট্রেন চলছেই। মনে হচ্ছে এই ট্রেনের শেষ… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(শেষ-পর্ব)
আমি কি ভয় পাচ্ছি ? মনে হয় পাচ্ছি। সারাক্ষণ কেমন এক নতুন ধরনের শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করেছি। যেন সবকিছুই আছে, তবুও কিছুই নেই। স্বপ্ন দেখার মতাে ব্যাপার। সবকিছুই ঘটছে। অথচ কিছুই ঘটছে না। মনের ভেতর কোথায় যেন চাপা একটি উত্তেজনাও অনুভব করছি। সেই উত্তেজনাটি কী কারণে তাও স্পষ্ট নয়। গত রাতে অনেকক্ষণ জেগে থেকে… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(শেষ-পর্ব)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৯)
টগর আবার কীরকম নাম ? ফুলের নাম । ফুলের নাম তাে হয় মেয়েদের। বকুল, কদম, পারুল। ফুলের নামে ছেলেদের নাম হওয়া উচিত না। ছেলেদের নাম হওয়া উচিত ফলের নামে, যেমন— আপেল, কলা। হা-হা-হা ।। টগর খুব হাসল । এই ছেলেটিও জুবায়ের সাহেবের মতাে। হাসে না। কথা বলে না। সব সময় মুখ কালাে করে বসে থাকে।… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৯)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৮)
বাবা চার-পাঁচবার চিঠিটা পড়লেন। এখনাে বােধহয় ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেন না। আমি বললাম, রাজার হালে থাকবেন, এখন চিন্তা নেই কিছু। বাড়ি বানাতে চাইলে বানাতে পারেন। কিংবা টাকাটা ব্যাংকে রেখে তার ইন্টারেস্ট দিয়ে চলতে পারেন। যেটা ভালাে মনে করেন । বাড়ি বানানােই ভালাে। একটা স্থায়ী ঠিকানা দরকার। বাবুলও তাে দেশে বেড়াতে-টেড়াতে আসবে। উঠবে কোথায় ? ওঠার… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৮)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৭)
এখনাে কিছু হয় নি। সে কী! আমি মাত্র গতকাল এসেছি। তাতে কী, চব্বিশ ঘণ্টা তাে পার হলাে। এই যে ইয়ং ডক্টরস, তােমরা করছ কী ? ইন্টার্নি ডাক্তাররা নার্ভাস ভঙ্গিতে মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগল। ডাক্তার সাহেব এগিয়ে এলেন আমার ব্লমেটের দিকে। জুবায়ের সাহেব, আছেন কেমন ? ভালাে। কী পড়ছেন ? থ্রিলার। ইন্টারেস্টিং নাকি ? আছে… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৭)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৬)
, চা খাই না। গ্যাস্ট্রিকের প্রবলেম আছে। দুলাভাই খুব সাবধানে শার্টের ভেতরের পকেট থেকে একটা মুখবন্ধ খাম বের করে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলেন। কী রাখলেন ? তেমন কিছু না। এটা দুলাভাইয়ের আজ নতুন কিছু না। আগেও অনেকবার এরকম হয়েছে। হঠাৎ একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে হয়তাে মেসে এসেছেন। চুপচাপ বসে থেকেছেন কিছুক্ষণ। যাবার সময় লজ্জিত ভঙ্গিতে একটা… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৬)