মনসুর নিচু গলায় বলল, কেকের অর্ডার দিয়েছিলাম, সেটা আনতে গিয়েই দেরি হলাে। কেকের উপর লেখা থাকবে– রীনার জন্যে। শালা শুয়ােরের বাচ্চারা লিখেছে— “মীনার জন্য। যে লেখে সেই ব্যাটার জন্য অপেক্ষা করতে করতে দেরি হলাে। শালা আর এলােই না। কাণ্ড দেখ। কেকটা আবার কেন ? রীনার ইচ্ছা খাওয়াদাওয়ার পর কেক কাটবে। বয়স তাে বেশি না, ছেলেমানুষ এখনাে… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৫)
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৪)
বড় আপা মাকে ডেকে আনল এবং দুপুররাতে মা আমার পেটে তেল মালিশ করতে লাগলেন। কৈশােরের সেই বিরহ দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। আমি যথারীতি পরীক্ষা দিই এবং সবাইকে অবাক করে একটি লেটার নিয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাস করে আনন্দমােহন কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ি। এই আচার-খাওয়া মেয়েটির সঙ্গে খুব সম্ভব নীলিমার কোনাে মিল নেই, তবু মাঝে মাঝে এই… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৪)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
মনসুর চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, ফাইন চা। চা তেমন কিছু ফাইন নয়। কিন্তু মনসুর আজ সবকিছুতেই ফাইন বলবে। আলগী একটা ফুর্তির ভাব মুখের উপর ঝুলিয়ে রাখবে। খুব সম্ভব ওর ধারণা হয়েছে, হাসপাতাল থেকে আমি আর ফিরব না। ডাক্তাররা ওকে কিছু হয়তাে বলেছে। মনসুর আবার বলল, ফাসক্লাস চা হয়েছে রে। আরেক কাপ খাবি ? না। আমি… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২)
ঠিক আছে। আর কী কী লাগবে বল, লিস্টি করে ফেলা যাক। হাসপাতালে যেতে হলে কী কী নিতে হয় কে জানে! টুথপেস্ট এবং টুথব্রাশ এই দুটি জিনিস নিশ্চয়ই লাগে। টুথপেস্ট আছে। এ মাসের দু’তারিখেই কেনা হয়েছে। চিরুনি নিতে হয় নিশ্চয়ই। নাকি চিরুনি দিয়ে মাথা কেউ আঁচড়ায় না ? রােগীদের এসব করতে নেই। হাসপাতাল সম্পর্কে আমার তেমন… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২)
প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১)
মামার বয়স প্রায় বত্রিশ। প্রায় বললাম এইজন্যে যে, মাসের হিসেবে একটু গণ্ডগােল আছে। আমার লণর খাতাপত্রে লেখা আমার জন্ম ডিসেম্বর মাসের তিন তারিখ । আমার মা নিজেও বলেন ডিসেম্বর। মা-বাবার কথাই এসব ক্ষেত্রে সঠিক বলে ধরে নেয়া । কিন্তু আমার যেখানে জন্ম সেই নানার বাড়িতে সবাই জানে আমার জন্ম হয়েছে জানুয়ারির তিন তারিখ । পুরাে একটা… Continue reading প্রথম প্রহর-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১)
হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী (শেষ-পর্ব)
‘এত জোরে চিৎকার করো না মা ভােকাল কর্ড নষ্ট হয়ে যাবে। বাকি জীবন হাঁসের মত ফ্যাস ফ্যাস করতে হবে। তুই এতক্ষণ ধরে মুখ ধুচ্ছিস কেন?‘ আমি হাসলাম । বেসিনের উপরে পারা নষ্ট হয়ে যাওয়া আয়না বসানাে। সেই আয়নায় সব কিছুই ঢেউ খেলানাে দেখায়। আমি আয়নায় দেখলাম একটা মেয়ে ঢেউ খেলানাে হাসি হাসছে। আয়নাতেই দেখা যাচ্ছে… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী (শেষ-পর্ব)
হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২৫)
‘জ্বে ভইনডি মানে। খুব ছােটবেলায় বকের বাসা থাইক্যা ধইরা আনতে হয়। চউখ ফুটনের আগেই ধইরা আনতে হয়। চউখ ফুইট্যা হে দেখে মানুষ । তহন হে মানুষরেই জানে তার বাপ-মা।‘ ‘এই বক কে ধরে এনেছে, আপনি ?‘ জুে না। মায়ের বুক খালি কইরা বকের বাচ্চা আনা মেয়েছেলের কাম না। ভইনড়ি। ‘বক যে পােষ মানে মানুষের সঙ্গে… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২৫)
হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২৪)
তাহলে আসুন আমরা একটা কাজ করি – বাংলাদেশের গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে একটা করে কৃষ্ণচূড়া গাছ আর একটা করে জারুল গাছ লাগিয়ে দি। পাঁচ ছ‘ বছর পর গাছগুলি যখন বড় হবে তখন একটা ভয়ংকর কান্ড ঘটে যাবে । সেলিম ভাই কিছু বলছেন না। অদ্ভুত চোখে তাকাচ্ছেন। মনে মনে হয়ত ভাবছেন– আচ্ছা এক পাগলী মেয়ের হাতে পড়লাম। … Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২৪)
হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২৩)
এই কারণে আরাে দু’বার আমাকে পানিতে ডুবতে হল, প্রতিবারই জীবন সংশয়ের মত অবস্থা। আমাকে সাঁতার সেখানাের জন্যে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমি সাঁতার শিখলাম না। কারণ আমার মনে হল–— সাঁতার শিখে ফেললেই আমার আর পানি ভাল লাগবে না। শান্ত সুন্দর কোন দিঘি দেখলে তার কাছে যেতে ইচ্ছা করবে না। কেন এই আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২৩)
হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২২)
আমি বললাম, এই গ্রামে একটা বে আছে। সেও না-কি ভবিষ্যৎ বলতে পারে। তিনি হালকা গলায় বললেন, ও আচ্ছা জাহেদা। তার কথা শুনেছি। একদিন। যাব, দেখে আসব । অবশ্যি পীর-ফকির, ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার খুব আগ্রহ নেই। তুমি ঘুরে বেড়াও আমি যাচ্ছি। ‘এখন ঘুমুতে যাবেন ? আপনার মেয়েকে সবুজ বলপয়েন্টে একটা চিঠি লিখবেন বলে ঠিক করেছিলেন, সেই… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-২২)