হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-১০

একদিন সাজ্জাদ গেল সেখানে। এবং আশ্চর্য লোকগুলো খুবই যত্ন করলো তাকে। বারিন বাবু বলে এক ভদ্রলোক বললেন–তুমি চিন্তা করবে না। এই কারখানাতেই তোমার একটা ব্যবস্থা করব। পড়াশোনা যা করছিলে তাই করবে, অবসর সময়ে কাজ শিখবে। ফেরার সময় বারিন বাবু বললেন—“তােমার দুলাভাইয়ের কাছ থেকে একবার পঞ্চাশ টাকা ধার করেছিলাম, সেটা ফেরত দেয়া হয়নি তোমার কাছে দিয়ে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-১০

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৯

 ই। বাবা স্যার রেখে দিয়েছেন। স্কুল তাে এখন বন্ধ, কাজেই ঘরে বসে যতটুকু পারা যায়। তোদের ভয়াল ছয়ের কি অবস্থা?   ভালই।  ও ভাল আর কোথায়, সব তো চলেই গেছে। তুই আর সাজ্জাদ এই দু’জন ছাড়া তাে এখন আর কেউ নেই।   ওরা আবার আসবে, তখন হবে। এসব জিনিস একবার ভেঙে গেলে আর হয় না।  তোকে বলেছে।  খোকনের… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৯

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৮

 বড়চাচা রাত দশটা পর্যন্ত নানান জায়গায় ঘােরাঘুরি করলেন। কোনােই খবর পাওয়া গেল না। তিনি রাগী গলায় বললেন––একটা লােক আপনা আপনি নিখোঁজ হয়ে যাবে ? এটা একটা কথা হলো? বড়চাচার কপালে ভাঁজ পড়লো। সাজ্জাদ ক্রমাগত চোখ মুছছে। তিনি এক সময় বললেন-“পুরুষ মানুষদের কাঁদতে নেই। কান্না বন্ধ কর। আমি তোমার দুলাভাইকে খুজে বের করব। এখানকার ডিসিএমএলএ আমার… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৮

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৭

এদের বাড়িটি বেশ বড়। অনেকগুলো কামরা নীলুর দখলে। একটিতে নীলর লাইব্রেরি। সেই লাইব্রেরি দেখে সাজ্জাদ ও বটুর আকেল গুড়ুম। একটা পুচকে মেয়ের এত বই! নীলু বললো, “সব আমার দাদুমণি কিনে দিয়েছেন।’  তুমি পড়েছ সবগুলো?পড়ব না কেন? বটু বললাে-নীল আতংক পড়েছ, দারুণ বই। না পড়ি নি। আমি নিয়ে আসব তোমার জন্যে।  ঘণ্টাখানেকের মধ্যে নীলু তার সমস্ত… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৭

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৬

 আমিন সাহেব প্রিসিলাকে কোলে নিয়ে বসলেন। প্রিসিলা রিন রিনে গলায় ইংরেজিতে বললো, ‘গণ্ডগােল হচ্ছে কেন?’   ঃ গণ্ডগােল হচ্ছে, কারণ আমরা বাঙালিরা বলছি—আমরা মানুষের মত বাঁচতে চাই। পাকিস্তানীরা মানছে না। ওদের ধারণা আমরা মানুষ না।   রহেলা বিরক্ত মুখে বললেন, “থাক, রাজনৈতিক বক্ততা মেয়েকে না শোনালেও হবে।‘ | না শোনালে হবে না। এরা আন্দোলনের মধ্যে বড় হবে।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৬

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৫

 তোর বই অমরা চাই না।  তারা চুপ করে গেল। মুনির চলে যাচ্ছে না, দাঁড়িয়েই আছে। বন্টু বললো, “তুই চলে যা। দাঁড়িয়ে আছিস কেন?  ঃ আমি যাই করি তাতে তাের কি ?    তােদের বলি নি এখন চারদিকে ঝামেলা হচ্ছে, এখন ঘরে বসে থাকবি? পাঠ্য বই পড়বি। ট্রানশ্লেসন করবি।   জি স্যার বলেছেন।   দু’বছর পর এস.এস.সি পরীক্ষা।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৫

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৪

 অমরা ছয় জন বন্ধু মিলে একটা দল করেছি। দলের নাম ভয়াল-হয়। বল কি ? খুব ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। দলের কাজ কি? ও অমিরা ভূ-পর্যটন করব।ভূ-পর্যটন করবে?   হ্যা। প্রথমে যাব আফ্রিকা।বাহ বেশ মজার তো!  বাবা এবার আর অবাক হলেন না। হাসতে লাগলেন। হাসতে হাসতে বলেন, ছোটবেলায় আমিও একটা দল করেছিলাম। আমাদের দলের কাজ ছিল গুপ্তধন খুজে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৪

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৩

সাজ্জাদ এক সঙ্গে দুটো সন্দেশ মুখে পুড়ে দিল। মিষ্টির ভেতরও যে এমন সুন্দর গন্ধ থাকতে পারে তা তার জানাছিল না। এ মিষ্টিগুলো কি বাড়িতেই তৈরি হয়? সাজ্জাদের হঠাৎ করে বড়লোক হবার ইচ্ছে হলো। খোকনদের মত বড়লোক। বড়চাচা বললেন, “আচ্ছা তাহলে তোমরা যাও। খোদা হাফেজ।  বটুর ইচ্ছে হলো এগিয়ে গিয়ে পা ছুয়ে সালাম করে ফেলে। মুরব্বীদের… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-৩

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-২

খোকন খাওয়া শেষ করে যখন হাত মুখ ধুচ্ছে তখন বড়চাচা বেরুলেন তার ঘর থেকে। খোকনের সামনে দাড়িয়ে শান্ত স্বরে বল লেন—সাতটা বাজার দশ মিনিট আগে আমি তোমাকে এ বাড়িতে দেখিনি, কোথায় ছিলে? খোকন বলতে চেষ্টা করলোবাথরুমে ছিলো। বলতে পারলো না। কথা গলা পর্যন্ত এসে অলিজিভে ধাককা খেয়ে থেমে গেলো। বড়চাচা দাড়িতে হাত বোলাতেবোলাতে বললেন চারদিকে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-২

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে খন্ড-১

উস মৃত্যুর কাছাকাছি যাবার মতাে ঘটনা আমার জীবনে কয়েকবারই ঘটেছে। একবারের কথা বলি। আমায় হার্ট অ্যাটাক হয়েছে আমাকে নেয়া হয়েছে হায়ােগ ইনস্টিটিউটে। আমি চলে গিয়েছি প্রবল ঘােরের মধ্যে, চারপাশের পৃথিবী হয়েছে অস্পষ্ট। এর মধ্যেও মনে হয়ে হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক যুবক আমার পাশে বসে। কে সে? হিমু না-কি? আমি বললাম, কে? যুবক কালো কাদো গলায়… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে খন্ড-১