বাসায় ফিরে দেখি বাবা এসে গেছেন। ওভারশীয়ার কাকুর বউ এসেছেন, ধাই সুহাসিনীও এসেছে। রান্নাঘরে বাতি জ্বলছে। রাবেয়া ব্যস্ত হয়ে এঘর–ওঘর করছে। বাবা ভেতরের বারান্দায় ইজিচেয়ারে শুয়ে ঘন ঘন সিগারেট খাচ্ছেন। আমাকে দেখে যেন একটু জোর পেলেন। তাের ছােটখালাকে খবর দিয়েছিস খােকা? ‘জ্বি দিয়েছি। আপনি কখন এসেছেন? ‘আমার একটু দেরি হয়ে গেল। তাের আজিজ খাকে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৩
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২
এখান থেকে মায়ের অস্পষ্ট কান্না শােনা যাচ্ছে। কিছু কিছু কান্না আছে, যা শুনলেই কষ্টটা সম্বন্ধে শুধু যে একটা ধারণাই হয় তাই নয়, ঠিক সেই পরিমাণ কষ্ট নিজেরও হতে থাকে। আমার সেই ধরনের কষ্ট হতে থাকল। রাবেয়া এসে রুনুর ঘরের তালা খুলে দিল। রাবেয়া বেচারি ভীষণ ভয় পেয়েছে। ‘তুই এত দেরি করলি খােকা, এখন কী… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১
বাস থেকে নেমে হকচকিয়ে গেলাম। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সব। রাস্তায় পানির ধারাস্রোত। লােকজন চলাচল করছে না, লাইটপােস্টের বাতি নিভে আছে। অথচ দশ মিনিট আগেও যেখানে ছিলাম, সেখানে বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। শুকনাে খটখট করছে চারদিক। কেমন অবাক লাগে ভাবতে, বৃষ্টি এসেছে, ঝুপ ঝুপ করে একটা ছােট্ট জায়গা ভিজিয়ে চলে গেছে। আর এতেই আশৈশব পরিচিত এ অঞ্চল… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র শেষ খণ্ড
সেই বছর হঠাৎ আমাদের গ্রামে শুধু নয়, এলাকা জুড়ে সিঁদ কেটে চুরি শুরু হল। দাদুর মতে, এ কক্ষনও পাঁচুর কাজ নয়। পাঁচু যা ভিতু সিঁদকাঠি দিয়ে ঘরের দেয়াল ফুটো করতে গেলে যেটুকু শব্দ হবে, তাতেই সে ভয়ে দিশেহারা হয়ে পালিয়ে যাবে। পাঁচু রাতবিরেতে এতটুকু শব্দ হলেই ভয় পায়। একদিন বাবা বাইরে থেকে এসে বললেন,-সিঁদেল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র শেষ খণ্ড
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৬
পুজোর ছুটিতে স্কুল বন্ধ। প্রতি বছর পুজোর সময় বড়মামা আমাদের বাড়িতে আসতেন। সেদিনই বিকেলে তিনি এসেছেন। বড়মামা ছিলেন ভবঘুরে ধরনের মানুষ। দেশবিদেশে ঘুরে বেড়ানাের বাতিক ছিল তার। পুজোর সময় এসে ভাগনে-ভাগনিদের সেই ভ্রমণ-বৃত্তান্ত শােনাতেন। তা যেমন অদ্ভুত, তেমনই রােমাঞ্চকর। এসেই তিনি ঘােষণা করতেন কোন-কোন দেশে গিয়েছিলেন। তারপর সন্ধেবেলায় তার গল্পের আসর বসত। এবার এসে বড়মামা… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৬
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৫
আমরা তিনজনে দৌড়চ্ছি। পেছনে কবির করুণ আর্তনাদ কানে আসছে, অত ভালাে পদ্যখানা শুনে গেল না! আমার যে আবার মরতে ইচ্ছে করছে গাে! ও হাে হাে হাে… ছােটমামা রাস্তার কাছে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,—ওহে রিকশওয়ালা। ওরা সব নেই তাে? রিকশওয়ালা হাসল। নাহ! ঘুমিয়ে পড়েছে। ভেস-ভেঁস করে ঘুমােচ্ছে। শুনতে পাচ্ছেন না? ছােটমামা কান ধরে শুনে বললে,… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৫
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৪
ছােটমামা খাপ্পা হয়ে বললেন, না। জানি না। আমরা মানুষ। আমরা তােমার মতাে রাত-বিরেতে গাছে কাটাই না। -হি হি হি! প্রথম-প্রথম এই ভুলটা হয়। —কী ভুল হয়? মানুষ-মানুষ ভুল। -কী অদ্ভুত। —অদ্ভুত তাে বটেই। অদটুকু বাদ যেতে কয়েকটা দিন দেরি, এই যা। তা তােমরা কি ডেরা খুঁজে বেড়াচ্ছ? বােকা আর কাকে বলে? ভুতাের রিকশতে চেপে হি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৪
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৩
গাছের ভেতর থেকে খ্যানখেনে গলায় কেউ বলল,—ঘুমােব কী রে বাবা! পেট আইঢাই। এত দেরি করলি কেনরে? —প্যাসেঞ্জার পেলে তাে আসব। এই নিন হজমিগুলি। —এনেছিস? কই দে-দে। শিগগিরি দে। রিকশওয়ালা তাকে হজমিগুলি দিয়ে এসে সিটে উঠল। প্যাডেলে চাপ দিল। রিকশর চাকা গড়াল। ছােটমামা বললে,—ব্যাপার কী হে রিকশওয়ালা? তােমার চক্কোত্তিমশাই কি গাছে থাকেন নাকি? রাতের মানুষ … Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৩
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩২
পেতনি আছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। ডন যথারীতি বালিশের পাশে শিশি রেখে ঘুমােচ্ছিল। শিশিটা চুপিচুপি তুলে নিয়ে জানালার গ্রিলের ফঁাকে রেখে ছিপি খুলে দিলুম। তারপর যা দেখলুম, ভয়ে বুকটা ধড়াস করে উঠল। জ্যোৎস্নায় একটা সাদা কাপড়পরা মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। সাহস করে টর্চ বের করলুম। টর্চ জ্বালাতেই মূর্তিটা আর দেখতে পেলুম না। চুপিচুপি দরজা খুলে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩২
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩১
সেই সময় দেখলুম, একটু দূরে বাঁশবনের ভেতর গুড়ি মেরে মােনা বাঘের মতাে চুপিচুপি হাঁটছে। তারপর সে লাফ দিয়ে যেন কিছু ধরল। তারপর চেঁচিয়ে উঠল,এবার? এবার বাছাধন যাবে কোথায়? খােকাবাবু! ছােটবাবু! চলে আসুন। সাড়া দিয়ে বললুম,—এই যে এখানে আছি। মােনা আমাকে দেখতে পেয়ে অদ্ভুত শব্দে হাসতে-হাসতে চলে এল। ছিপি আঁটা শিশিটা আমাকে দিয়ে বলল,-এবার কিন্তু… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩১