হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৮

জলিল সাহেব চেঁচিয়ে বললেন, আরে না, ছাদে যাবে কেন? জ্বর নিয়ে ছাদে যাবার কোন দরকার নেই। গল্প–গুজব যা করার এখানে বসেই কর। স্বামী–স্ত্রীর গল্প বলার তাে কিছু নাই। হা হা হা।   কেয়া কিছুই বলল না। দরজা খুলে রওনা হল। তার গায়ে পাতলা একটা চাদর। চাদরে বােধহয় শীত মানছে না। সে অল্প অল্প কাঁপছে। সিড়ি দিয়ে উঠার সময় সে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যেতে ধরল। জাহেদ তাকে ধরে ফেলল। জাহেদ বলল, শরীর এত… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৮

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৭

মিজান সাহেব বেশ স্বাভাবিক আছেন। তিনি নাপিতের দোকান থেকে চুল কাটিয়েছেন। একেবারে কদমছাট। মাথাটা কালো রঙের কদম ফুলের মতই দেখাচ্ছে। চুল কাটার জন্যেই তাকে অন্য রকম দেখাচ্ছে। এ ছাড়া তার মধ্যে আর কোন অস্বাভাবিকতা নেই। কথাবার্তা, চালচলন খুব স্বাভাবিক। হঠাৎ হঠাৎ স্ত্রীর। দিকে তাকিয়ে দু–একটা কুৎসিত বাক্য বলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যান। যেমন, আজ দুপুরে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৭

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৬

ছ‘বছরে কি দেখলে ?”  মনিরুল ঢোঁক গিলল। সে স্পষ্টতই ভয় পেয়েছে। ইয়াজুদ্দিন সাহেব বললেন, শােন মনিরুল, আমি যখন যাত্রা শুরু করেছিলাম তখন আমার সঙ্গে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বােটানীর একটি এম.এসসি. ডিগ্রী এবং তিনশ’ টাকা। আজ আমার সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। আমার লেগেছে ত্রিশ বছর। ত্রিশ বছরে এই অবস্থায় আসতে যে জিনিস লাগে তার নাম… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৬

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৫

‘বাবা, আমি ওদের দুজনকে খুব সুন্দর একটা উপহার দিতে চাই। ‘অবশ্যই দেবে। তােমার বন্ধুরা নিশ্চয়ই তােমার কাছে দামী গিফট আশা করে। ‘আমি নতুন ধরনের কোন গিফট দেবার কথা ভাবছি। দামী কিছু না। ‘যেমন?   ‘জয়দেবপুরে আমাদের যে বাগানবাড়ি আছে আমি ভাবছি ঐ বাড়িতে তাদের আমি কয়েকদিন থাকতে বলব। ওরা খুব পছন্দ করবে, বাবা। এত সুন্দর… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৫

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৪

সালাদ খান নি। পেপের টুকরার দুখণ্ড মুখে দিয়েছেন। চায়ের মগ সামনে আছে। ঠাণ্ডা হচ্ছে, তিনি চুমুক দিচ্ছেন না। পর পর তিনটি সিগারেট খাওয়া হয়ে গেছে। তিনি প্রচণ্ড টেনশান অনুভব করছেন, যদিও আচার আচরণে তা প্রকাশ পাচ্ছে না। তাঁর সামনে এ সপ্তাহের নিউজ উইক। তিনি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর উপর একটি প্রবন্ধ পড়ছেন। মন দিয়েই পড়ছেন।  … Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৪

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৩

সিঙ্গারা খেয়ে পেপসিটা খাও। এখানকার পানি ভাল না। ‘কি জন্যে ডেকেছেন, আপা?”  ‘বাবা সম্পর্কে তােমার সঙ্গে আলাপ করবার জন্যে। তুমি তাে প্রায়ই বাবার সঙ্গে কথা বল। আজও বললে, কিছু বুঝতে পারছ? কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করেছ?  ‘জিনা। কি পরিবর্তনের কথা বলছেন?”   ‘বাবার মাথা ঠিক নেই, শুদ্র। বাসায় তালা দিয়ে আসার এও একটা কারণ। আমাদের বাড়িতে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২৩

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২২

‘অনেক দিনের ব্যাপার চাচা।  ‘হঁ্যা, অনেক দিনের ব্যাপার। ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ বিস্মৃতিপরায়ণ। ভুলে যাবার মধ্যেও সে আনন্দ পায়। কিন্তু তুমি তাে ভুল নি শুভ্র। তুমি তো ঠিকই উপস্থিত হয়েছ। হও নি? আজ কত তারিখ শুভ্র – এগারােই সেপ্টেম্বর না?”   শুভ্র খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে নরম গলায় বলল, ও আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২২

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২১

‘পারব। কবে আসব?” ‘আজই আস না। বাবার সঙ্গে কথা শেষ করে চলে এসাে। ‘আচ্ছা।  শুভ্র মাহিন সাহেবের শােবার ঘরে ঢুকল। ঠিক ঘর না, এটা এ বাড়ির স্টোর রুম। মাহিন সাহেব অসুস্থ হবার পর এই ঘর থাকার জন্যে বেছে নিয়েছেন। কোন মতে একটা খাট এঘরে পাতা হয়েছে। আর কোন আসবাব রাখার জায়গা নেই। ঘরে একটি টেবিল… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২১

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২০

শুভ্র ইতস্তত করে বলল, তাের বিয়েতে আসতে পারিনি। কিছু মনে করিসনি তাে? চশমা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বিয়ের অনুষ্ঠান কেমন হয়েছে?  ‘অনুষ্ঠান আবার কি? আমি তিনবার কবুল কবুল বললাম। কেয়া তিনবার বলল। ব্যস। মামলা ডিসমিস। চা খাবি শুভ্র ?”  ‘খাব।”   ‘বাসায় চা খাওয়ানাের কোন উপায় নেই। মামী সিরিয়াস কান্নাকাটি করছে। চল, মােড়ের দোকানটায় চা খাব। … Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-২০

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-১৯

আচ্ছা।  জাহেদ জড়সড় হয়ে বসে আছে। কেয়া হাত বাড়িয়ে জাহেদের হাত ধরল। কোন কথা বলল না। জাহেদ বলল, কেয়া, আমি খুব লজ্জিত।  কেয়া বলল, তােমার মামা কি অসুস্থ?   জাহেদ বলল, না। মামা খুবই সুস্থ। আজ এরকম কেন করলেন কিছু বুঝতে পারছি না।  ‘আমার মনে হয় তােমার মামা অসুস্থ। তাঁকে ভেতরে নিয়ে মাথায় পানি ঢালছিল। … Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-১৯