আদিম নৃত্য – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পুরুষ-মাকড়সা প্রেমে পড়িলে প্রেয়সীর সম্মুখে নানাবিধ অঙ্গ-ভঙ্গি সহকারে নৃত্য করিয়া থাকে। কিন্তু মিলন ঘটিবার পর নৃত্য করিবার মতো মনোভাব আর তাহার থাকে না। প্রেমমুগ্ধা স্ত্রী-মাকড়সা তাহাকে গ্রাস করিয়া উদরসাৎ করিয়া ফেলে।…যাহার আটটা পা এবং ষোলটা হাঁটু আছে, সে যে সুযোগ পাইলেই নৃত্য করিবে তাহাতে বিস্ময়কর কিছু নাই। পরন্তু অতগুলা পা ও হাঁটু থাকা সত্ত্বেও মানুষ… Continue reading আদিম নৃত্য – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

যতীনবাবুর চাকর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

যতীনবাবু পানুকে খুব ভালো করে চেনেন না, একথা ঠিক। যতীনবাবুর দোষ নেই, তাঁর মেলা লোকলশকর, মেলাই মুনিষ, দারোয়ান, চাকরবাকর। এর মধ্যে পানু কোনজন তা তাঁর না জানার হক আছে। তবে কিনা যতীনবাবুর দুটো কুকুর, সাতটা গাই, গোটা সাতেক ছাগল, পঞ্চান্নটা হাঁস, সত্তরটা মুরগি, সতেরোটা খরগোশ, সাতটা পোষা পাখি আর যতীনবাবুর প্রায় একশো বছর বয়েসি দিদিমা… Continue reading যতীনবাবুর চাকর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রিয় মধুবন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মাথা অনেক শূন্য লাগছে আজকাল। অনেক বেশি শূন্য। যেন একখানা খোলামেলা ফাঁকা ঘর। মাঝে-মাঝে শুধু একটি কি দুটি শালিক কি চড়ুইয়ের আনাগোনা। এরকম ভালো। এরকম থাকা ভালো। আমি জানি। কালকেও আমার কাছে একখানা বেনামি চিঠি এসেছে। তাতে লেখা ‘বিপ্লবের পথ কেবলই গার্হস্থ্যের দিকে বেঁকে যায়! বনের সন্ন্যাসী ফিরে আসে ঘরে!’ লাল কালিতে লেখা চিঠি। নাম… Continue reading প্রিয় মধুবন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বন্দুকবাজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পল্টনের একটাই গুণ ছিল। সে খুব ভালো বন্দুকবাজ। বন্দুক বলতে আসল জিনিস নয় হাওয়া বন্দুক। চিড়িয়া, বাঘ এমনকী ইঁদুর মারার যন্ত্রও সেটা নয়। তবে অল্প পাল্লায় চাঁদমারি করা যায় বেশ, আর পল্টনের হাওয়া-বন্দুকটা ছিল ভালো। তার জমিদার দাদু জার্মানি থেকে আনিয়ে দিয়েছিলেন। জীবনটাকে প্রথম খাট্টা বানিয়ে ছাড়ল ইস্কুলের মাস্টাররা, আর বাবা। দিনরাত কেবল পড় পড়।… Continue reading বন্দুকবাজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ – সত্যজিৎ রায়

কোনও মানুষই তার নিজের অবস্থা সম্পর্কে ষোলো আনা সন্তুষ্ট বোধ করে না। কোনওনা-কোনও ব্যাপারে একটা খুঁতখুঁতেমির ভাব প্রায় সবার মধ্যেই থাকে। রাম ভাবে তার শরীরে আরও মাংস হল না কেন–হাড়গুলো বড্ড বেশি বেরিয়ে থাকে; শ্যাম ভাবে–আমার কেন গলায় সুর নেই, পাশের বাড়ির ছোঁকরা তো দিব্যি হারমোনিয়াম বাজিয়ে গলা সাধে; যদু বলে–আহা, যদি খেলোয়াড় হতে পারতাম!–গাভাসকার… Continue reading নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ – সত্যজিৎ রায়

খানাতল্লাশ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আসুন ইনস্পেকটর, আসুন!…….বলতে কী, একটা জীবন আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করেছি। আপনি আসবেন, খানাতল্লাশিতে লন্ডভন্ড করে দিয়ে যাবেন আমার সযত্নে সাজানো সংসার, আপনি এবং আপনার সেপাইদের বুটের আওয়াজে চমকে উঠবে আমার শিশু ছেলের ঘুম, আমার বউ আর বোন কোণে লুকিয়ে কাঁপবে থরথর করে, আমার বুড়ো মা বাপ ইষ্টনাম জপ করবে, আমার ভাই অকারণ গ্রেফতারের ভয়ে… Continue reading খানাতল্লাশ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

শুক্লপক্ষ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

রাজা চলেছেন ভিখারির ছদ্মবেশে। ভিখারির চীরবাস পরনে, গায়ে মাখা ভুসোকালি, সর্বাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন, একটি চোখ কানা, একটি পা খোঁড়া। তাঁর ছদ্মবেশে কোনও ত্রুটি নেই। হাতে ভিক্ষাপাত্র, শুধু তাঁর চীরবাসের অন্তরালে একটি গোপন কোমরবন্ধে লুক্কায়িত রয়েছে একটি চর্মপেটিকা। তাতে মহামূল্যবান মণিমাণিক্য, স্বর্ণখচিত রাজকীয় পাঞ্জা, এ সম্পদ যে লাভ করবে সে একদিনেই রাজ্যের শ্রেষ্ঠ ধনীদের অন্যতম হয়ে যাবে।… Continue reading শুক্লপক্ষ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

একজন সুখী মানুষ – হুমায়ূন আহমেদ

মানুষ যেমন পোশাক বদলায়, আব্দুল কুদ্দুস বদলায় নাম। রাগ করে যে বদলায় তা না, বিপদে পড়ে বদলায়। দীর্ঘদিন এক নামে চলাফেরা করা তার জন্যে বিপদজনক। গত এক মাস ধরে আব্দুল কুদ্দুসের নাম আলফ্রেড গোমেজ। এই প্রথম সে খ্রিস্টান নাম নিয়েছে। নামের সঙ্গে লেবাসে কিঞ্চিৎ পরিবর্তন ঘটিয়েছে। কালো সুতোয় বাঁধা রূপার একটা ক্রশ গলায় ঝুলিয়েছে। কোটের… Continue reading একজন সুখী মানুষ – হুমায়ূন আহমেদ

লক্ষ্মীপ্যাঁচা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ওঃ, এ যে, একেবারে হরিপদ জিনিস রে!………….আজ্ঞে, ভালো জিনিস বলেই তো আপনার কাছে আসা। এসব জিনিসের কদর ক-জন করতে পারে বলুন? আর দামই বা দিতে পারে ক-জন?……..তা আনলি কোথা থেকে? বাজারি জিনিস নয় তো! তোকে বাপু বিশ্বাস নেই। কী যে, বলেন। কবে নেমকহারামি করেছি বলতে পারেন? দ্বিজপদ আর যাই হোক বিশ্বাসঘাতক নয়। সত্যি কথাই বলছি,… Continue reading লক্ষ্মীপ্যাঁচা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কালকূট – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ওই যে উনিশ-কুড়ি বছরের মেয়েটি তোমাদের হাসি-গল্পের আসর ছাড়িয়া হঠাৎ আড়ষ্টভাবে উঠিয়া বাড়ি চলিয়া গেল, শ্রীমতী পাঠিকা, তোমরা উহাকে চেন কি? কেন চিনিবে না? ও তো প্রফেসার হীরেন বাগচির স্ত্রী। গত পাঁচ বছর ধরিয়া তোমরা নিত্য উহার সঙ্গে মেলামেশা করিতেছ। ওর নাম কমলা, ওর একটি চার বছরের মেয়ে আছে, ওর বাপের বাড়ি চন্দননগরে, সবইতো তোমরা… Continue reading কালকূট – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়