সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পায়ের শব্দেই মানুষ চেনা যায়। বাবা ফিরছেন অফিস থেকে। অভির বাবা বেশ লম্বা-চওড়া মানুষ, তিনি কাজ করেন টেলিফোন অফিসে। অফিস থেকে ফেরেন অনেক দেরি করে। আবার বাড়িতে ফিরেও মেতে থাকেন কাজ নিয়ে।..তবে, বাবা প্রায় রোজই কিছু না কিছু জিনিস নিয়ে ফেরেন। কোনওদিন গরম সিঙাড়া, কোনওদিন আইসক্রিম, কোনওদিন সবেদা বা কমলালেবু।… Continue reading খেলার সঙ্গী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
শেষের সেদিন – তারাপদ রায়
কোথায়, কোন দেশে নাকি তাঁর ল্যাবরেটরিতে এক খামখেয়ালি জীববিজ্ঞানী একটি হাস্যবান হায়েনার সঙ্গে এক সদাবাত্ময়ী কাকাতুয়ার পরিণয় দিয়েছিলেন।…..জীববিজ্ঞানীর উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল, এই পরিণয়জাত সংকর সন্তানটি পশু না পাখি বোঝা যায়নি, কিন্তু সে বাবার কাছ থেকে হা হা হাসি এবং মায়ের কাছ থেকে চমকপ্রদ কথা বলা এই দুটি জন্মসূত্রে অর্জন করে। ফলে এই বিচিত্র জীবটি শুধু… Continue reading শেষের সেদিন – তারাপদ রায়
আমার আপন আঁধার – হুমায়ূন আহমেদ
তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভাঙল। মনে হল সারা গায়ে কাঁটা ফুটে গেছে। নির্ঘাত কোন দুঃস্বপ্ন। ইদানীং ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন দেখছি। আমি চোখ মেলে দেখি–দুঃস্বপ্ন নয়, আসলেই কাঁটা ফুটেছে। বিছানাময় গোলাপ ফুল। পাশ ফিরতেই গায়ে গোলাপের কাটা বিঁধল। ব্যাপার বুঝতে বেশি সময় লাগল না। আজ আমার জন্মদিন। আমার কন্যারা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করে বিছানাময় কাটাসুদ্ধ গোলাপ… Continue reading আমার আপন আঁধার – হুমায়ূন আহমেদ
সংসারত্যাগী মানুষ – হুমায়ূন আহমেদ
সংসারত্যাগী মানুষদের প্রতি আমি এক ধরনের মুগ্ধতা বোধ করি। এই মুগ্ধতার কারণ সম্ভবত জীবনানন্দ দাসের কবিতা– অর্থ নয় কীর্তি নয় সচ্ছলতা নয় আরো এক বিপন্ন বিস্ময় কোন্ বিপন্ন বিস্ময়ের কারণে এই সব মানুষ সংসার ত্যাগ করে তা জানতে ইচ্ছে করে। অবশ্যি এক অর্থে এরা আবার পলাতক মানুষ। সংসার থেকে পলাতক, জীবন থেকে পলাতক। দায়িত্ব থেকেও… Continue reading সংসারত্যাগী মানুষ – হুমায়ূন আহমেদ
লোকটা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সোমনাথবাবু সকালবেলায় তাঁর একতলার বারান্দায় বসে কাগজ পড়ছেন। সামনেই মস্ত বাগান, সেখানে খেলা করছে তাঁর সাতটা ভয়ংকর কুকুর। কুকুরদের মধ্যে দুটো বকসার বুলডগ, দুটো ডবারম্যান, দুটো অ্যালসেশিয়ান, একটা চিশি সড়ালে। এদের দাপটে কেউ বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পারে না, তার ওপর গেটে বাহাদুর নামের নেপালি দারোয়ান আছে। তার কোমরে কুকরি, হাতে লাঠি। সদাসতর্ক, সদাতৎপর। সোমনাথবাবু এরকম… Continue reading লোকটা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ভাইরাস – হুমায়ূন আহমেদ
নুরুজ্জামান সাহেব বর্তমানে একজন সুখী মানুষ।…বীমা কোম্পানীতে ভাল চাকরি করতেন। সাত বছর হল রিটায়ার করেছেন। রিটায়ারের সময় গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড সব মিলিয়ে হাতে একসঙ্গে বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা ব্যাংকে জমা আছে। ইন্টারেস্ট যা পান তাতেই তার মোটামুটি চলে যায়। স্বাস্থ্য ভাল, রোগ-ব্যাধি নেই। ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, হার্টের সমস্যা এই জাতীয় বৃদ্ধ বয়সের রোগের… Continue reading ভাইরাস – হুমায়ূন আহমেদ
পাগলের কাণ্ডজ্ঞান – তারাপদ রায়
এবারের কাণ্ডজ্ঞান পাগলের কাণ্ডজ্ঞান। এ বিষয়ে কারও মনে যদি কোনও সংশয় থাকে অনুগ্রহ করে এ-সপ্তাহে কাণ্ডজ্ঞান পড়বেন না।……এক পাগল ভদ্রলোক তাঁর বাড়ির রাস্তার দিকের বারান্দায় বসে একটি জলভরা গামলায় ছিপ ফেলে মাছ ধরছিলেন। পথ দিয়ে যেতে যেতে এই দৃশ্য দেখে কৌতূহলী একজন জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মশায়, ক’টা ধরা পড়ল?’ এর উত্তরে ওই পাগল ভদ্রলোক কী বলেছিলেন… Continue reading পাগলের কাণ্ডজ্ঞান – তারাপদ রায়
ভূতের কাণ্ডজ্ঞান – তারাপদ রায়
ভাগ্য এবং জীবিকাসূত্রে আজ বছরখানেক হল আমি একটি রহস্যময় বাড়িতে বসবাস করছি, বাড়ি বলে বলা উচিত প্রাসাদোপম অট্টালিকা। গভীর নিশীথে এ-বাড়ির আনাচে-কানাচে নূপুরের নিক্কণ, রূপসীর ক্রন্দনধ্বনি, বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়। কখনও বালুবেলায় উদ্দাম ঢেউয়ের মতো দূরে কোথাও থেকে উন্মাদের অট্টহাসি এ-বাড়ির দেয়ালে আছড়িয়ে পড়ে। আমার একতলায় থাকেন ডাক্তার বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রকৃতই ডাক্তার, চিকিৎসা বিদ্যার ডাক্তার,… Continue reading ভূতের কাণ্ডজ্ঞান – তারাপদ রায়
আপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সন্ধ্যার দিকে ঝড় ক্রমশ প্রবল হইতে লাগিল। বৃষ্টির ঝাপট, বজ্রের শব্দ এবং বিদ্যুতের ঝিক্মিকিতে আকাশে যেন সুরাসুরের যুদ্ধ বাধিয়া গেল। কালো কালো মেঘগুলো মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো দিগ্বিদিকে উড়িতে আরম্ভ করিল, গঙ্গার এ পারে ও পারে বিদ্রোহী ঢেউগুলো কলশব্দে নৃত্য জুড়িয়া দিল, এবং বাগানের বড়ো বড়ো গাছগুলো সমস্ত শাখা ঝট্পট্ করিয়া হাহুতাশসহকারে দক্ষিণে বামে লুটোপুটি করিতে… Continue reading আপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অলীক নগরী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শেষরাত্রি, ভোর আর সকালের মধ্যে ঠিক কতটা যে পার্থক্য তা অনুভব করেছি জীবনে কদিন? ভোর খুব সুন্দর, তার স্মৃতি আছে, কবিতায় বর্ণনা করতে পারি, কিন্তু অধিকাংশ দিনই ঘুম ভাঙে কটকটে রোদ ওঠার পর। খবরের কাগজ আসে সাতটা দশে, সেটা সকাল। তার একঘণ্টা আগে ভোর। তা বলে পৌনে পাঁচটা নিশ্চয়ই শেষরাত্রি; এইরকম ধারণা ছিল। হঠাৎ মধ্য-সেপ্টেম্বরে… Continue reading অলীক নগরী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়