চোর বনাম ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আগের দিনে চোরেরা ছিল বেজায় ভিতু। যেমন আমাদের গ্রামের পাঁচু-চোর। সে নাকি চুরি করতে গিয়ে নিজের পায়ের শব্দে নিজেই ভয় পেয়ে দিশেহারা হয়ে পালাত। দাদুর কাছে শুনেছি, একবার সে আমাদের বাড়ি চুরি করতে এসেছিল। পাঁচিল ডিঙিয়ে উঠোনে নামবার সময় হঠাৎ তার পা পিছলে যায়। তারপর সে ধপাস করে পড়েছে এবং তাতেই যা একটু শব্দ হয়েছে।… Continue reading চোর বনাম ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ডাক্তারবাবু নমস্কার – তারাপদ রায়

ডাক্তারবাবুদের কথা বলতে গেলে সাতকাহন। ছয়কাহন আগেই বলা হয়ে গেছে, এবার শেষকাহন। এরপরেও যদি কিছু বাকি থাকে থাকবে, আমার কিছু করার নেই।…ডাক্তার নিয়ে এবারের প্রথম গল্পটা নিতান্তই গোলমেলে কিন্তু এটা যে সত্যি গল্প সেটা নিশ্চয় হলফ করে বলতে হবে না। এক রোগী গেছেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারবাবু তাঁকে খুবই যত্ন করে দেখলেন। অনেক দেখেশুনে ডাক্তারবাবুর কেমন… Continue reading ডাক্তারবাবু নমস্কার – তারাপদ রায়

দন্তরুচি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রেমের জন্য পাগল হইয়া যাইতে বড় কাহাকেও দেখা যায় না। ইতিহাসে একটিমাত্র পাকা নজির আছে : পারস্য দেশে মজনু লয়লার জন্য দেওয়ানা হইয়া গিয়াছিল। আমি আর একটি দৃষ্টান্ত জানি; তিনি বাংলাদেশের নীরদবাবু। বর্তমানে তিনি কাঁকেতে আছেন। নীরদবাবুর বয়স কত হইয়াছিল আমরা ঠিক জানি না, কিন্তু তাঁহাকে দেখিলে মনে হইত–বড় জোর চল্লিশ-বিয়াল্লিশ। বেশ মজবুত দেহ, মাথায়… Continue reading দন্তরুচি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আম কুড়োতে সাবধান – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ফুটবলম্যাচ দেখতে যাব বলে সেজেগুজে তৈরি হচ্ছিলুম। হঠাৎ কোত্থেকে এসে বাধা দিল প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি। মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝিলিক আর মেঘের গর্জন অবস্থাটা আরও সাংঘাতিক করে ফেলল। মনমরা হয়ে বসে রইলুম।….সন্ধ্যার দিকে ঝড়বৃষ্টির দাপট যখন কমে গেল, তখন দেখলুম ছোটমামা কাকভেজা হয়ে বাড়ি ফিরছেন। একটু পরে পোশাক বদলে একটা লণ্ঠন জ্বেলে ছোটমামা ঘরে ঢুকলেন। আমাকে দেখে বললেন,–এ… Continue reading আম কুড়োতে সাবধান – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

নসুমামা ও আমি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছেলেমানুষ তখন আমি। আট বছর বয়স। দিদিমা বলতেন, তোর বিয়ে দেব ওই অতুলের সঙ্গে।..মামারবাড়িতে মানুষ, বাবা ছিলেন ঘরজামাই—এসব কথা অবিশ্যি আরও বড়ো হয়ে বুঝেছিলাম।..অতুল আমার দিদিমার সইয়ের ছেলে, কোথায় পড়ে, বেশ লম্বামত আধফর্সা গোছের ছেলেটা। আমাদের রান্নাঘরে বসে দিদিমার সঙ্গে আড্ডা দিত। অতুলকে আমার পছন্দ হত না, কেমনধারা যেন কথাবার্তা। আমায় বলত—এই পাঁচী, যা—এখানে কী?… Continue reading নসুমামা ও আমি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দারোগা, ভূত ও চোর – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কৈলাসপুর থানার দারোগাবাবু ভূতনাথ পাত্রের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল নেহাত দৈবদুর্বিপাকে। পাড়াগাঁয়ের এক রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে গিয়েছিলুম। সবে উদ্বোধন সঙ্গীত শেষ হয়েছে, হইহই-রইরই করে তেড়ে এসে গেল কালবৈশাখি। যেমন ঝড়, তেমনি বৃষ্টি। সে এক ধুন্ধুমার অবস্থা। মঞ্চের তেরপল উড়ে গিয়ে কোন তেপান্তরের মাঠে পড়ল কে জানে! গাঁয়ের লোকজন আর কাচ্চাবাচ্চা যে যার বাড়ি গিয়ে… Continue reading দারোগা, ভূত ও চোর – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কেকরাডিহির দণ্ডীবাবা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কেবলরাম বলল, যখন-তখন গেলেই হল না মাঠান! বারবেলা তিথি নক্ষত্র বলে কথা আছে না? ঠিক সময় গেলে তবে দর্শন পাবেন।..রাঙা পিসিমা মুখ ভার করে বললেন,–যখনই বলি, তোর খালি ওই এক কথা। এদিকে রোগ বাড়তে বাড়তে মাথায় ঠেকেছে। কখন একটা কিছু সর্বনাশ হয়ে গেলেই হল। বাড়ির লোকের আর কী? আমার মরার পথ তাকিয়েই আছে সবাই। হাড়… Continue reading কেকরাডিহির দণ্ডীবাবা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

পি-থ্রি বুড়ো – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আমার ভাগ্নে ডন মহা ধড়িবাজ বিচ্ছু ছেলে। একেকসময় তার মাথায় একেকটা খেয়াল গজিয়ে ওঠে আর তার ধাক্কায় আমাকেই ভুগতে হয় শেষপর্যন্ত। দুদিন থেকে দেখছি, শ্রীমানের মাথায় ঘুড়ি ওড়ানোর খেয়াল চেপেছে। ভয় হল ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে দৈবাৎ কিছু বিপদ না বাধিয়ে ফেলে। কিন্তু ডনকে বারণ করা বৃথা। বারণ করলে তো আরও বেশি করেই তা করবে… Continue reading পি-থ্রি বুড়ো – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সমান-সমান – তারাপদ রায়

পৃথিবীতে কোনও দুটো জিনিস সমান-সমান নয়। হাতের দুটো আঙুল এক সমান নয়। দুটো মানুষ, এমনকী যমজ দুই ভাইও কখনও একরকম হয় না। কোথাও কিছু পার্থক্য থাকেই।….শুধু মানুষ কেন একই গাছের একই ডালের দুটি পাতা যারা একই মুহূর্তে বিকশিত হয়েছে, একই রোদে হাওয়ায় একইরকম সবুজ হয়েছে, একটু খুঁটিয়ে দেখলেই দেখা যাবে সেই পাতা দুটির মধ্যেও বিস্তর… Continue reading সমান-সমান – তারাপদ রায়

ভেজা চপ্পল – তারাপদ রায়

এই বর্ষায় সর্বানন্দ খুব সর্দিকাশিতে ভুগল। একটু জ্বর জ্বরও হয়েছিল। মুঠো মুঠো প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেয়ে, বোতলের পর বোতল ব্রান্ডি গরম জল দিয়ে পান করে কোনও উপশম হল না।..কথায় বলে সর্দি চিকিৎসা করলে, ওষুধ খেলে সাতদিনে সারে; চিকিৎসা না করলে, ওষুধ-বিষুধ না খেলে সারতে এক সপ্তাহ লাগে কিন্তু পরিতাপের বিষয় এক সপ্তাহে বা সাতদিনে সর্বানন্দের সর্দি,… Continue reading ভেজা চপ্পল – তারাপদ রায়