ডিটেকটিভ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি পুলিসের ডিটেকটিভ কর্মচারী । আমার জীবনের দুটিমাত্র লক্ষ্য ছিল — আমার স্ত্রী এবং আমার ব্যবসায় । পূর্বে একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে ছিলাম , সেখানে আমার স্ত্রীর প্রতি সমাদরের অভাব হওয়াতেই আমি দাদার সঙ্গে ঝগড়া করিয়া বাহির হইয়া আসি । দাদাই উপার্জন করিয়া আমাকে পালন করিতেছিলেন , অতএব সহসা সস্ত্রীক তাঁহার আশ্রয় ত্যাগ করিয়া আসা আমার… Continue reading ডিটেকটিভ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অঙ্ক স্যার, গোলাপীবাবু আর টিপু – সত্যজিৎ রায়

টিপু ভূগোলের বইটা বন্ধ করে ঘড়ির দিকে দেখল। সাতচল্লিশ মিনিট পড়া হয়ে গেছে একটানা। এখন তিনটে বেজে তেরো মিনিট। এবার যদি ও একটু ঘুরে আসে তা হলে ক্ষতি কী? ঠিক এমনি সময় তো সেদিন লোকটা এসেছিল। সে তো বলেছিল টিপুর দুঃখের কারণ হলে তবে আবার আসবে। তা হলে? কারণ তো হয়েছে। বেশ ভাল রকমই হয়েছে।… Continue reading অঙ্ক স্যার, গোলাপীবাবু আর টিপু – সত্যজিৎ রায়

শিল্পী – সত্যজিৎ রায়

অবনীশ ছবিটার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। অয়েল পেন্টিং। একজন মাঝবয়সি সুপুরুষ ভদ্রলোকের পোর্ট্রেট। অবনীশের স্টুডিওর এক কোনায় আরও আট-দশটা ছবির পিছনে দাঁড় করানো ছিল। অবনীশের আঁকা প্রথম অয়েল পোর্ট্রেট। গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে সে দু বছর হল পাশ করে বেরিয়েছে। ছাত্র অবস্থায় অবিশ্যি সে আরও পোর্ট্রেট করেছে। এবং তাতে বেশ নামও হয়েছিল। অবনীশের ইচ্ছা সে… Continue reading শিল্পী – সত্যজিৎ রায়

বহুরূপী – সত্যজিৎ রায়

নিউ মহামায়া কেবিনের একটি চেয়ার দখল করে হাফ কাপ চা আর আলুর চপ অর্ডার দিয়ে নিকুঞ্জ সাহা একবার চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিল। তার চেনা-পরিচিতের কেউ এসেছে কি? হ্যাঁ, এসেছে বইকী! ওই তো রসিকবাবু, আর ওই যে শ্রীধর। পঞ্চানন এখনও আসেনি, তবে মিনিট দশেকের মধ্যে এসে যাবে নিশ্চয়ই। যত বেশি চেনা লোক আসে ততই ভাল। চেনা… Continue reading বহুরূপী – সত্যজিৎ রায়

ভক্ত – সত্যজিৎ রায়

অরূপবাবু–অরূপরতন সরকার–পুরী এসেছেন এগারো বছর পরে। শহরে কিছু কিছু পরিবর্তন চোখে পড়েছে–কিছু নতুন বাড়ি, নতুন করে বাঁধানো কয়েকটা রাস্তা, দু-চারটে ছোট-বড় নতুন হোটেল–কিন্তু সমুদ্রের ধারটায় এসে বুঝতে পারলেন এ জিনিস বদলাবার নয়। তিনি যেখানে এসে উঠেছেন, সেই সাগরিকা হোটেল থেকে সমুদ্র দেখা না গেলেও, রাত্তিরে বাসিন্দাদের কলরব বন্ধ হয়ে গেলে দিব্যি ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়।… Continue reading ভক্ত – সত্যজিৎ রায়

লখনৌর ডুয়েল – সত্যজিৎ রায়

ডুয়েল মানে জানিস? জিজ্ঞেস করলেন তারিণীখুড়ো। বাঃ, ডুয়েল মানে জানব না? বলল ন্যাপলা। ডুয়েল রোল, মানে দ্বৈত ভূমিকা। সন্তোষ দত্ত গুপী গাইনে ডুয়েল রোল করেছিলেন–হাল্লার রাজা, শুণ্ডীর রাজা। সে ডুয়েলের কথা বলছি না, হেসে বললেন তারিণীখুড়ো। ডি-ইউ-এ-এল নয়, ডি-ইউ-ই-এল। ডুয়েল। অর্থাৎ দুজনের মধ্যে লড়াই। হ্যাঁ হ্যাঁ, জানি জানি! আমরা সকলে একসঙ্গে বলে উঠলাম। এই ডুয়েল… Continue reading লখনৌর ডুয়েল – সত্যজিৎ রায়

ছাত্র বনাম পুলিশ – সৈয়দ মুজতবা আলী

‘দেখি! বের কর অভিজ্ঞান-পত্র- আইডেনটিফিকেশন কার্ড!’ কী আর করে বেচারি– দেখাতে হল কার্ডখানা। নামধাম ঠিকানা তো রয়েইছে, তদুপরি রয়েছে বেচারির ফোটোগ্রাফ, তার নিচে ছোকরার দস্তখত, এবং দুটোর দু কোণ জুড়ে য়ুনিভার্সিটির ট্যাম্প। হোমিওপ্যাথিক পাসপোর্ট আর কী! হায় বেচারা! যখন য়ুনিভার্সিটিতে প্রবেশ করার ওক্তে সগর্বে কর্তৃপক্ষের সম্মুখে ফোটোগ্রাফের নিচে দস্তখত করেছিলে তখন কি জানত এটা ‘দস্তখত’… Continue reading ছাত্র বনাম পুলিশ – সৈয়দ মুজতবা আলী

ভৌতিক পালঙ্ক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অনেকদিন পর সতীশের সঙ্গে দেখা। বেচারা হন্তদন্ত হয়ে ভিড় ঠেলে বিকাল বেলা বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের বাঁ-দিকের ফুটপাথ দিয়ে উত্তর মুখে চলেছিল। সমস্ত আপিসের সবেমাত্র ছুটি হয়েছে। শীতকাল। আধো-অন্ধকার আধো-আলোয় পথ ছেয়ে ছিল। ক্লান্ত দেহে ছ্যাকরা গাড়ির মতো ধীরে ধীরে পথ ভেদ করে চলেছিলাম। সহসা সতীশকে দেখে ওর জামাটা চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলাম— আরে সতীশ যে!… Continue reading ভৌতিক পালঙ্ক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

হলুদ পোড়া – মানিক বন্দোপাধ্যায়

সে বছর কার্তিক মাসের মাঝামাঝি তিন দিন আগে-পরে গাঁয়ে দু-দুটো খুন হয়ে গেল। একজন মাঝবয়সী জোয়ান মদ্দ পুরুষ এবং ষোল-সতের বছরের একটি রোগা ভীরু মেয়ে। গাঁয়ের দক্ষিণে ঘোষেদের মজা-পুকুরের ধারে একটা মরা গজারি গাছ বহুকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানটি ফাঁকা, বনজঙ্গলের আবরু নেই। কাছাকাছি শুধু কয়েকটা কলাগাছ। ওই গজারি গাছটার নিচে একদিন বলাই চক্রবর্তীকে মরে… Continue reading হলুদ পোড়া – মানিক বন্দোপাধ্যায়

আগে পাঁচ ডলারে, এখন? – তারাপদ রায়

এক খদ্দের রেস্তোরাঁয় এসেছেন, এসে এক কাপ চায়ের অর্ডার দিয়েছেন। একটু পরে চা এল। কিন্তু এ কী? চায়ের মধ্যে কী একটা পোকা ভাসছে। খদ্দের বেয়ারাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এটা কী?”।   বেয়ারা ভাল করে পেয়ালার মধ্যে দেখে নিয়ে বললেন, “ঠিক বলতে পারছি না। আমি আবার পোকামাকড় ভাল চিনি না। দেখি, ম্যানেজারবাবুকে ডেকে দিচ্ছি, তিনি হয়তো বলতে… Continue reading আগে পাঁচ ডলারে, এখন? – তারাপদ রায়