কপালকুণ্ডলা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

প্রথম পরিচ্ছেদ : সাগর সঙ্গমে “Floating Straight Obedient To The Stream.” Comedy Of Errors প্রায় দুই শত পঞ্চাশ বৎসর পূর্ব্বে এক দিন মাঘ মাসের রাত্রিশেষে একখানি যাত্রীর নৌকা গঙ্গাসাগর হইতে প্রত্যাগমন করিতেছিল। পর্ত্তুগিস্‌ ও অন্যান্য নাবিকদস্যুদিগের ভয়ে যাত্রীর নৌকা দলবদ্ধ হইয়া যাতায়াত করাই তৎকালের প্রথা ছিল; কিন্তু এই নৌকাবিহারীরা সঙ্গিহীন। তাহার কারণ এই যে, রাত্রিশেষে… Continue reading কপালকুণ্ডলা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

অতিথি – হুমায়ূন আহমেদ

তিন বছর পর সফুরা দেশে যাচ্ছে। ঢাকা শহরে সে যে একনাগাড়ে এতদিন পার করে দিয়েছে তা সে নিজেও বুঝতে পারে নি। এই তাে মনে হয় সেদিন মাত্র এসেছে। এক শীতে এসেছিল, মাঝখানে দুটা শীত গিয়ে এখন আবার শীতকাল। প্রথম দিন ভীতমুখে বারান্দায় বসে ছিল। বেগম সাহেব তাকে দেখেও না দেখার ভান করলেন। দুটা সুন্দর-সুন্দর বাচ্চা—… Continue reading অতিথি – হুমায়ূন আহমেদ

ঠাট্টার গাট্টা – আহসান হাবীব

আজ রূপনগর প্রাইমারি স্কুলের হেডস্যারের জুতা চুরি গেছে। ঢাকা থেকে নতুন কেনা চামড়ার পাম্প শু টাইপের এক জোড়া জুতা। হেডস্যার কম্পিউটার রুমের বাইরে জুতা জোড়া রেখে ভেতরে ঢুকেছিলেন, প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট ঠিকমতো বেরোচ্ছে কি না, ব্যাপারটা বোঝার জন্য। বাইরে এসে দেখেন, জুতা নেই। নেই তো নেই, একেবারেই নেই। কম্পিউটারটাও স্কুলে নতুন এসেছে। একটাই কম্পিউটার, হেডস্যারের… Continue reading ঠাট্টার গাট্টা – আহসান হাবীব

তিন নম্বর চোখ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এবার পুজোর ছুটিতে সুজয় তার বাড়ির সকলের সঙ্গে জলগাঁও বেড়াতে গিয়েছিল। জলগাঁও-তে ওর মামা চাকরি করেন। স্টেশনের কাছেই তার বাড়ি, খুব সুন্দর বাড়িটা। সব দেওয়ালের রং সাদা, আর দরজা-জানলাগুলোর রং ফিকে নীল,বাড়ির সামনে বাগান। গেটের দু-পাশে ঠিক দারোয়ানের মতো দুটো বড়-বড় গুলমোহর গাছ। সোনালি রঙের অজস্র ফুল ফুটে থাকে তাতে। সুজয় প্রত্যেক বছর পুজোর ছুটিতেই… Continue reading তিন নম্বর চোখ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ওইজা বোর্ড – হুমায়ূন আহমেদ

প্রায় আট বছর পর নাসরিনের বড় ভাই আলাউদ্দিন দেশে ফিরল। সঙ্গে বিদেশি বউ। বউয়ের নাম ক্লারা। বউয়ের চুল সোনালি, চোখ ঘন নীল, মুখটাও মায়া-মায়া। তবু মেয়েটাকে কারোই পছন্দ হলো না। যে-পরিমাণ আগ্রহ নিয়ে নাসরিন বড় ভাইয়ের জন্যে অপেক্ষা করছিল, ভাইকে দেখে সে ঠিক ততখানি নিরাশ হলো। আট বছর আগে নাসরিনের বয়স ছিল নয়, এখন সতেরো।… Continue reading ওইজা বোর্ড – হুমায়ূন আহমেদ

ঝিলের ধারে বাড়ি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

১. সদাশিববাবু সকাল বেলায় সদাশিববাবু সকাল বেলায় তাঁর পুব দিকের বারান্দায় শীতের রোদে বসে পাঁচ রকম তেতো পাতার এক কাপ রস আস্তে-আস্তে তারিয়ে-তারিয়ে খাচ্ছিলেন। এ-হল পঞ্চতিক্ত। ভারী উপকারী। সামনে বেতের টেবিলে গত কালকের তিনখানা খবরের কাগজ, একখানা পঞ্জিকা, ডায়েরি আর কলম। আজ বন্দুক পরিষ্কার করার দিন। তাই বচন পাশে আর-একটা কাঠের টেবিলে তিনখানা ভারী বন্দুক,… Continue reading ঝিলের ধারে বাড়ি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লাবাম্বা – হুমায়ূন আহমেদ

মিতুর ঘর থেকে তীক্ষ্ণ চিৎকার–মা, আমার টাকা? মিতুর মা আফরোজার অফিসের গাড়ি চলে এসেছে, নিচ থেকে হর্ণ দিচ্ছে। তার দাঁড়াবার সময় নেই। তিনি বিরক্ত গলায় বললেন, কি হল? আমার টাকা কোথায় গেল মা? আমি কি জানি কোথায় গেল। টেবিলের উপর রেখে বাথরুমে মুখ ধুতে গেছি…. কত টাকা? পাঁচশ টাকার একটা নোট। আজ আমি বন্ধুদের চটপটি… Continue reading লাবাম্বা – হুমায়ূন আহমেদ

সাতশ পাহাড়ের দেশে  (২)-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

সাতশ পাহাড়ের দেশে  (২)   রজত বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০১২৪   সেদিন সকাল সকাল অফিসে গিয়েছিলাম। কাগজপত্র সব গুছিয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাবার কথা। গন্তব্য শ’দেড়েক কিলোমিটার দূরে, পাহাড় আর শালের ঘন জঙ্গলে ভরপুর, প্রায় চার হাজার ফিট ওপরে সারাণ্ডার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়চূড়ো, কিরিবুরু।   রাস্তা বলতে একে তো সিঙ্গল রোড, তাতে আবার পুরোটাই ভাঙাচোরা। আমরা অফিসের কলিগরা… Continue reading সাতশ পাহাড়ের দেশে  (২)-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

রেলগাড়ি ঝমাঝম – হুমায়ূন আহমেদ

আমার শিশুবেলার প্রধান খেলা ছিল ‘রেলগাড়ি খেলা’। বাসার কাঠের চেয়ারগুলোকে একটির পেছনে আরেকটি সাজাতাম। প্রথম চেয়ারটায় আমি গম্ভীর মুখে বসে ট্রেনের চাকার শব্দের অনুকরণে ‘ঝিকঝিক ঝিকঝিক’ করতাম। শৈশবের অতি আনন্দময় সময় আলাদা করতে বললে আমি সঙ্গে সঙ্গে বলব–ট্রেনে করে দাদার বাড়ি, নানার বাড়ি যাওয়া। তখনকার ট্রেনের ইঞ্জিন ছিল কয়লার। জানালার পাশে বসে মাথা বের করলে… Continue reading রেলগাড়ি ঝমাঝম – হুমায়ূন আহমেদ

দুধসায়রের দ্বীপ (অদ্ভুতুড়ে সিরিজ) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

১. পুকুরটার নাম দুধের সর পুটু বলল, “আচ্ছা, এই পুকুরটার নামই কি দুধের সর?” খাসনবিশ চোখ কপালে তুলে বলল, “পুকুর! এই সমুদুরের মতো বিরাট জিনিসকে তোমার পুকুর বলে মনে হচ্ছে? শহুরে ছেলেদের দোষ কী জানো তো! তারা সব জিনিসকে ছোট করে দেখে। তারা পাহাড়কে বলে ঢিবি, বোয়ালমাছকে বলে মাগুরমাছ, বুড়োমানুষকে ভাবে খোকা। ওই হল তোমাদের… Continue reading দুধসায়রের দ্বীপ (অদ্ভুতুড়ে সিরিজ) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়