সিগারেটের তামাক সরু তার দিয়ে পটু হাতে বের করে চেটোয় রাখল নীতা, তারপর কাগজের পুরিয়া খুলে বস্তুটি মেশাল সেই তামাকে। পুনরায় ফাঁকা সিগারেটটা নব্য মশলা দিয়ে টাইট হয়ে যেতেই একটা অপার্থিব আনন্দ ফুটল নীতার মুখে। অদ্ভুত উচ্চারণে ইংরেজি বলল সে, কে প্রথম ভালোবাসবে? তিনটি হাত উঠল। জিনা বলল, হাই, আমি ভালোবাসার জন্যে মরে যাচ্ছি! সীতা… Continue reading দেশলাইয়ের বাক্স এবং নির্বারুদ কাঠি-সমরেশ মজুমদার
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
জননী-সমরেশ মজুমদার
তিন-তিনটে শকুন মাথার ওপর পাক খেয়ে গেল। খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল ওরা, ডানায় শব্দ তুলে ওপরে উঠে গেল, অনেকটা ওপরে। জলে পা ডুবিয়ে ভেজা বালিতে আধা শোয়া বিন্দু দেখল ডানা টানটান করে মুখ ঝুঁকিয়ে ওরা ওকে লক্ষ করছে। আকাশটা আজ সকাল থেকেই এইরকম। আধপোড়া কাঠের মতো চেহারা। নামছে না একটা ফোঁটাও অথচ আলো বলতে যেটুকু… Continue reading জননী-সমরেশ মজুমদার
সম্পাদক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার স্ত্রী-বর্তমানে প্রভা সম্বন্ধে আমার কোনো চিন্তা ছিল না। তখন প্রভা অপেক্ষা প্রভার মাতাকে লইয়া কিছু অধিক ব্যস্ত ছিলাম। তখন কেবল প্রভার খেলাটুকু হাসিটুকু দেখিয়া, তাহার আধো আধো কথা শুনিয়া, এবং আদরটুকু লইয়াই তৃপ্ত থাকিতাম; যতণ ভালো লাগিত নাড়াচাড়া করিতাম, কান্না আরম্ভ করিলেই তাহার মার কোলে সমর্পণ করিয়া সত্বর অব্যাহতি লইতাম। তাহাকে যে বহু চিন্তা… Continue reading সম্পাদক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঝড়-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
একটা মেয়ে হাসি-হাসি মুখ করে একটা বিস্কুট খাচ্ছে–এই হল বিজ্ঞাপন। তা বদরী অনেকক্ষণ খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনটা দেখল। খবরের কাগজ তার নয়, পাশে বসা পুলিনবিহারীর। পুলিন খুব খবরের কাগজ পড়ে। কেন পড়ে কে জানে! বদরী বিজ্ঞাপনটা দেখে ভাবল, তাকেও ওই বিস্কুট খেতে বলা হচ্ছে। বিজ্ঞাপন তো তাই বলে। এই মেয়েটা যখন বিস্কুটটা খাচ্ছে, তখন তোমারও বাপু… Continue reading ঝড়-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ভগীরথ-সমরেশ মজুমদার
চিৎ হয়ে শুয়েছিল শিবনাথ। পা থেকে চাদরটা কপাল অবধি টানটান করে টানা, একটা গর্তের মধ্যে লুকিয়ে থাকার আরামটা পাওয়া যায়। একটু আগে ঘুম ভেঙেছে কেলে পঞ্চাননের চিঙ্কারে। পাশে হরেকেষ্টর চায়ের দোকানে চা খেতে এসে এমনভাবে দাঁড়-কাকিয়ে ডাকে যে। শান্তিতে ঘুমোবে তার জো নেই। আর হরেদারও হয়েছে এক ঢং, চারটে বাজতে-না-বাজতে দোকান খুলে বসে থাকে ঝিগুলোর… Continue reading ভগীরথ-সমরেশ মজুমদার
বরাহমিহিরের উপাখ্যান-তারাপদ রায়
০১. বৃষ্টিটা থেমে গিয়েছিল। হঠাৎ আবার কেঁপে বৃষ্টি এল। যে দোকানের বারান্দা ছেড়ে ভরসা করে। বেরিয়েছিলাম, ছুটে সেখানেই ফিরতে হল। মধ্যে থেকে যথেষ্টই ভিজে গেলাম। হাঁটু মুড়ে উবু হয়ে বসলাম বারান্দায়, মাথাটা ভীষণ ভেজা, সর্দি হয়ে জ্বর আসতে পারে, কিন্তু আমার পকেটে রুমাল। পর্যন্ত নেই যে মুছে ফেলি। মাথার সামনেই এক ভদ্রলোকের বাগানো কোঁচা কিছুটা… Continue reading বরাহমিহিরের উপাখ্যান-তারাপদ রায়
লাথ্যৌষধি-তারাপদ রায়
ভদ্রলোককে ভোরবেলায় ময়দানে বেড়ানোর সময় কখনও কখনও দুর থেকে দেখেছি। দেখার মতো, সমীহ করার মতো চেহারা। সাড়ে ছফুটের চেয়ে কম নয় লম্বায় এবং তদনুপাতিক ছড়ানোবাড়ানো দশাসই কলেবর। অনেককেই সকালে ময়দানে দেখি। কেউই ঠিক সাধারণ পর্যায়ের লোক বোধহয় নয়। তা না হলে চমৎকার সুন্দর ভোরবেলায় বিছানার আরাম ছেড়ে মাঠে দৌড়াতে আসবে কেন? এদের মধ্যে একেকজন বেশ… Continue reading লাথ্যৌষধি-তারাপদ রায়
দিয়ে যাওয়া-সমরেশ মজুমদার
মেঝেতে পাতা বিছানায় শোয়া বিজনের একদম অভ্যেস নেই, গায়েপিঠে খুব বেদনা হয়ে যায়। অথচ এই ঘরে যে ছোট ডিভানটা রয়েছে তাতে দুজনের কুলোবে না। আর একটা খাট কিনতে হবে, বাইরের লোকজন এলে মুশকিলে পড়তে হয়। অবশ্য এর আগে এমন কেউ আসেনি যে নিজেদের শোয়ার খাট ছেড়ে দিয়ে ওদের বাইরের ঘরের মেঝেতে শুতে হয়েছে। বিজন মুখ।… Continue reading দিয়ে যাওয়া-সমরেশ মজুমদার
নিশির ডাক-সমরেশ মজুমদার
টেলিফোনটা যেন আর্তনাদ করছিল। ওটা আছে হল ঘরে। একদিকে খাওয়ার টেবিল অন্যদিকে সোফা, মাঝখানে একটা খাটো দেওয়াল। সেই দেওয়ালের ওপর। নিজের ঘর থেকে চেঁচালো সাগ্নিক, ‘মাসি, শুনতে পাচ্ছ না?’ তারপরেই খেয়াল হল, তাকে দরজা খুলে দিয়েই মাসি জিভ কেটেছিল, ‘এই যা!’ ‘কী হল? ‘তোমার রসগোল্লা আনা হয়নি!’ ‘ভালো হয়েছে। তোমাকে তো বলেছি মিষ্টি খাব না।’… Continue reading নিশির ডাক-সমরেশ মজুমদার
শিবু -রজত বন্দ্যোপাধ্যায়
বছর তিরিশ-বত্রিশ আগেকার এক সন্ধ্যেবেলা। ঘড়িতে সাড়েসাতটা কি আটটা হবে অর্থাৎ সন্ধ্যে তখন বেশ গভীর হবার মুখে। তিনতলা বাড়ির ঠিক উল্টোদিকের শিবমন্দিরে সন্ধ্যের আরতি যখন শেষ হব হব করছে, ঠিক সেইসময় দোতলায় ওর দাদার ঘরে রাখা ওর বাবার ব্যবহার করা পালঙ্কে শুয়ে শিবু মারা গেল। দুপুর গড়াতেই টানাপোড়ন্ শুরু হয়ে গিয়েছিল; ও কিছুতেই যাবে না… Continue reading শিবু -রজত বন্দ্যোপাধ্যায়