নাপিত পন্ডিত-সুকুমার রায়

বাগদাদ শহরে এক ধনীর ছেলে প্রতিজ্ঞা করিয়া বসিল— সে কাজীর মেয়েকে বিবাহ করিবে। কিন্তু প্রতিজ্ঞা করা যত সহজ, কাজটা তত সহজ নয়— সুতরাং কিছুদিন চেষ্টা করিয়াই সে বেচারা একেবারে হতাশ হইয়া পড়িল। দিনে আহার নাই, রাত্রে নিদ্রা নাই— তার কেবলই ঐ এক চিন্তা— কী করিয়া কাজীর মেয়েকে বিবাহ করা যায়। বিবাহের সব চাইতে বড় বাধা… Continue reading নাপিত পন্ডিত-সুকুমার রায়

হয়তো পরের পূর্ণিমায়-সমরেশ মজুমদার

আকাশের দিকে মুখ তুলে দেখছিল সে। রাগি মোষের মতো তেড়ে আসছে মেঘগুলো। অতবড় আকাশটার দখল নিতে তীব্রগতিতে ছুটে যাচ্ছে চারপাশে। বড় মেঘের সঙ্গে ছোট মেঘগুলো জুড়ে যাচ্ছে চটপট। মোষের কথা মনে হলেও মেঘগুলো যেন মোষের চেয়েও কালো এবং ভয়ঙ্কর। অথচ দেখতে-দেখতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিল সে। তার কেবলই মনে হচ্ছিল সে যদি ওই মেঘেদের শক্তি পেত!… Continue reading হয়তো পরের পূর্ণিমায়-সমরেশ মজুমদার

আপনা মাংসে হরিণা বৈরী -সমরেশ মজুমদার

আজ সকালে যখন বেলটা বেজেছিল তখন সুচরিতার ঘুম সদ্য ভেঙেছে। এসময় অনেকেই আসে। দুধওয়ালা, কাগজওয়ালা। কিন্তু এত জোরে ওরা বেল বাজায় না। আজকাল শব্দের বাড়াবাড়ি খুব খারাপ লাগে তাঁর। বিছানা থেকে নামার আগেই দরজায় যমুনা। সুচরিতাকে বসে থাকতে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। সেই চিৎকার জড়ানো কান্না থেকে আবিষ্কার করা গেল ওর ভাই এসেছে মায়ের… Continue reading আপনা মাংসে হরিণা বৈরী -সমরেশ মজুমদার

সম্পর্ক-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লাচ্চু আমেরিকায় গিয়েছিল জাহাজে। তখন তার কুড়ি বছর বয়স। ডাকাবুকো, উচ্ছৃঙ্খল এবং বন্ধনহীন। বাপের সঙ্গে বনিবনা ছিল না, কারণ তার বাবা ননীগোপাল রাগি মানুষ। ছেলেকে শাসন করাকে অত্যধিক গুরুত্ব দিতেন। লাচ্চুকে মাঝে-মাঝে বদমায়েশির জন্য এমন মার দিতেন যে পরে ডাক্তার ডাকতে হত। কতবার যে বাবার মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে লাচ্চু তার হিসেব নেই। বিশ… Continue reading সম্পর্ক-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সে এবং জীবনানন্দ দাশ-সমরেশ মজুমদার

এখানে হাওয়ারা হাওয়াদের মতো বয়ে যায়। ভোর হব-হব রাতে তার শরীরে জড়িয়ে থাকে শিশিরের ঘ্রাণ, খানিক রোদ্দুর জমলে তাতে মেশে ঘাসের গন্ধ যার আস্বাদ বুক ভরে নেয় এক বিরহী ডাহুক। বিরহী, কারণ ওকে কখনও দোকা দ্যাখেনি এই প্রান্তর। বিরহী, কিন্তু আদৌ দুঃখিত দেখায় না ওকে যতক্ষণ না বিকেলের শেষ আলো নিভে আসা মোমের আলোর মতো… Continue reading সে এবং জীবনানন্দ দাশ-সমরেশ মজুমদার

গিল্‌ফয় সাহেবের অদ্ভুত সমুদ্র-যাত্রা-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

তোমরা ‘ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌স’ কোথায় জান? পৃথিবীর মানচিত্রের বাঁ ধারে গোলাকাটির নাম নূতন মহাদ্বীপ। নূতন মহাদ্বীপের বড় দেশটা আমেরিকা। আমেরিকার মাঝখানটা খুব সরু, দেখিতে দুটি দেশের মত দেখায়। এই দুইটির উপরেরটির নাম উত্তর আমেরিকা আর নীচেরটির নাম দক্ষিণ আমেরিকা। উত্তর আমেরিকার যত দেশ, ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌স তাহার মধ্যে সকলের বড়। ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌সে গিলফয় সাহেবের বাড়ি। গিলফয় সাহেব… Continue reading গিল্‌ফয় সাহেবের অদ্ভুত সমুদ্র-যাত্রা-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

তৃতীয় নয়ন-সমরেশ মজুমদার

পলাশপুরে আমার বাবা কাজ করতেন। ও-অঞ্চলের সমস্ত চা-বাগানগুলোর মধ্যে পলাশপুরের বেশ নামডাক ছিল তখন। উৎপাদন ও আয়তনের প্রখ্যাতি ছাড়াও পলাশপুর চা-বাগানের বাবুদের কোয়ার্টারেই প্রথম বিজালিবাতি জ্বলেছিল। ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঙরাভাসা ঝরনার তীব্র স্রোতে হুইল বসিয়ে ডায়নামো চালিয়ে অ্যাটকিন্স সাহেব এই বিজালিবাতি জ্বালাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। একটা পাঁশুটে আলো জ্বলত কোয়ার্টারগুলোতে। রাত দশটা বাজার সঙ্গে-সঙ্গে… Continue reading তৃতীয় নয়ন-সমরেশ মজুমদার

একটি ডলফিন শিশু এবং বলরামের বউ-সমরেশ মজুমদার

আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আকাশে মেঘ দেখে তথাগত ঠিক করলেন একটি লাইনও লিখবেন না। প্রত্যেকদিন লেখার টেবিলে তার সাত-আট ঘণ্টা কেটে যায়। লিখতে বসলেই লেখা হুড়মুড়িয়ে আসে না তাঁর কলমে। ভাবতে হয়, কাটাকুটি, পাতা ছিঁড়ে ফেলা এসব তো আছেই। কলকাতা থেকে প্রকাশক ফোন করেছিলেন, বইমেলার এক মাস আগে বই বাজারে ছাড়বেন। অতএব যত… Continue reading একটি ডলফিন শিশু এবং বলরামের বউ-সমরেশ মজুমদার

যুদ্ধক্ষেত্রে একজন-সমরেশ মজুমদার

ছয় ক্রোশ কাদা ভেঙে জোড়খালি গাঁয়ে বাইরের লোক বড় একটা আসে না। শীতকাল হলে তবু গরুর গাড়ি চলে, জলের সময় তো কথাই ওঠে না। তবু পার্টির বাবুরা এসে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে সবাইকে ডেকেডুকে। সমস্ত পৃথিবীটা এখন বদলে যাচ্ছে, জোড়খালির মানুষজনের পিছিয়ে থাকার কোনও মানে হয় না। লাঙল যার জমি তার। কে একজন কয়েক পুরুষ আগে… Continue reading যুদ্ধক্ষেত্রে একজন-সমরেশ মজুমদার

অদূরভাষ-তারাপদ রায়

অনেকদিন পরে দুই বাল্যবন্ধুর দেখা। অনেকদিন মানে প্রায় চল্লিশ বছর। এক ভদ্রলোক দুজনের পরিচয় করিয়ে দিলেন ইনি হচ্ছেন মি. এস চাকলাদার, বিখ্যাত সলিসিটর। আর ইনি মি. এম হালদার, হালদার এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান। এতক্ষণ দুজন দুজনকে লক্ষ করছিলেন, কেমন যেন চেনা চেনা হাজার হলেও বাল্যবন্ধু তো। এবার পরিচিত হতে দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরলেন, আরে… Continue reading অদূরভাষ-তারাপদ রায়