এটা কি আগে এখানে ছিল, না ছিল না? একটা বেঁটে মতো গম্বুজ, তার সবদিকই নানারকম পোস্টারে মোড়া, একটা বড় ফিল্মের পোস্টারে এক যুবতী দু’চোখ দিয়ে হাসছে। এক পাশে ছিল ধানক্ষেত আর জলা, রাস্তার অন্যপাশে দোকানপাট। হ্যাঁ, স্পষ্ট মনে আছে অতনুর, ধানক্ষেতের পাশে যে অগভীর জলাভূমি, সেখানে গামছা দিয়ে মাছ ধরত কয়েকটি কিশোর, মাছ বিশেষ পাওয়া… Continue reading অতনু ফিরে যাবে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
শালিক ও শ্যালিকা-তারাপদ রায়
০১. সম্রাট শালিবাহন.. শিবরাম চক্রবর্তী শিবরাম চক্রবর্তীকে মনে আছে? সেই যে মহর্ষি শিবরাম চক্রবর্তী। অনেকদিন আগের কথা, সে আমাদের হারিয়ে যাওয়া অমল কৈশোরের কথা। সত্যযুগ না হলেও, সে প্রায় ক্রেতা-দ্বাপরের কথা। তখন টাকায় চার-পাঁচ সের চাল পাওয়া যেত, তিন-চার সের দুধ। কলকাতা থেকে নৈহাটি রেলভাড়া আট আনা। ঢাকা বরিশাল যেতে দলিল-দস্তাবেজ লাগে না তখনও বঙ্গজননীর… Continue reading শালিক ও শ্যালিকা-তারাপদ রায়
হঠাৎ হয়ে যায় -সমরেশ মজুমদার
দক্ষিণের বারান্দায় বেতের চেয়ারে শরীরটাকে ছেড়ে দিয়ে রবিবারের সকালটা কাটিয়ে দেওয়ার বিকল্প আর কিছু নেই ইন্দ্রজিতের কাছে। সারা সপ্তাহের পরিশ্রমের পর এই সময়টা তার নিজস্ব, আরাম করার সময়। যোধপুর পার্কের এই বিরাট ফ্ল্যাটটার বাসিন্দা ছয়জন। ওরা তিনজন আর কার্মচারী তিনজন। কর্মজীবনের প্রথম দিকে এটা মেনে নিতে পারত না ইন্দ্রজিৎ, এখন এটাকেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়।… Continue reading হঠাৎ হয়ে যায় -সমরেশ মজুমদার
রাজার মতো যাওয়া-সমরেশ মজুমদার
আজকাল রাত না ফুরোতেই ঘুম ভেঙে যায়। আসলে ঘুম বলা ঠিক উচিত নয়, ঘুমের একটা ঘোর গোছের ব্যাপার শুরু হয় একটা নাগাদ। তারই চটকা ভেঙে যায় অন্ধকার কাটতে-না কাটতেই। তারপর বিছানায় শুয়ে ছটফট করা আর জানলা দিয়ে আকাশ দেখা। ভোরের আকাশ দেখা একটা দারুণ ব্যাপার। এটা এক ধরনের নেশা হয়ে গেছে অবনীর। নীল বেনারসি শাড়ির… Continue reading রাজার মতো যাওয়া-সমরেশ মজুমদার
টাটকা বরফের মাছ-সমরেশ মজুমদার
ঠিক তিনদিনে মুকুন্দর গায়ের চামড়া মোটা হয়ে গেল। এত মোটা যে হাঁটু গেড়ে বসতে কষ্ট হয়, কনুই ভাঁজ করা মুশকিল। সারাক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, চেয়ারে বসতেও কেমন অস্বস্তি হয়, টান ধরে। এছাড়া আর কোনও অসুবিধে নেই, জ্বরজারি, যন্ত্রণা অথবা কোনওরকম শারীরিক কষ্ট হচ্ছে না। তিনদিন আগে ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হয়েছিল… Continue reading টাটকা বরফের মাছ-সমরেশ মজুমদার
অন্য আয়না-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যারাকপুরে এক বন্ধুর বাড়িতে আমার নেমন্তন্ন ছিল, সেখান থেকে রাত্তিরে আর বাড়ি ফেরা হয়নি। পরদিন সকালে ফিরতে-ফিরতে সাড়ে আটটা বেজে গেল। দরজা খুলেই বউদি বললেন, একজন ভদ্রমহিলা তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, প্রায় আধঘণ্টা ধরে বসে আছেন। অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা হয়েছে, ভালো করে ঘুম হয়নি। তা ছাড়া অফিসে দরকারি কাজ আছে, ছুটি নেওয়ারও উপায়… Continue reading অন্য আয়না-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শিল্পী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া হয়েছে প্রচুর, তারপর একটু ঘুম দিলে মন্দ হয় না। কিন্তু তার উপায় নেই। বাইরে কোথাও বেড়াতে এলে সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত পিকনিকের মেজাজ, এর মধ্যে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। স্থান মধ্যপ্রদেশ, চতুর্দিকে জঙ্গল ও ছোট-ছোট পাহাড়, তার মাঝখানে এই সুদৃশ্য অতিথিভবন, অনেকগুলি ঘর। সামনে অনেকখানি ফুলের বাগান আর প্রকৃতির সুষমা… Continue reading শিল্পী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সেই গাছটির নীচে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আমার বন্ধু তপন প্রথম আমাকে নিয়ে গিয়েছিল সেই ক্লাবে। ক্লাবের নামটি বিচিত্র, সুখী পরিবার, বিশেষ কেউ এর নাম শোনেনি। যে-কেউ এ-ক্লাবের সদস্য হতে পারে না। এখানে ভরতি হওয়ার শর্ত হল, অন্য সদস্যদের সঙ্গে কিছু-না-কিছু একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ সবাই এক পরিবারের মানুষ। আসলে কিন্তু তা নয়। বকুলবাগানে গগন ভদ্রের একটা ছিমছাম দোতলা বাড়িতে… Continue reading সেই গাছটির নীচে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সাঁকো-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ওরা আমার হাত দুটো পেছনদিকে মুড়ে বাঁধল নাইলনের দড়ি দিয়ে। চোখে বেঁধে দিল নিরেট কালো কাপড়। মুখের মধ্যে একটা বেশ বড় তুলোর গোল্লা ভরে দিয়ে ঠোঁটে আটকে দিল স্টিকিং প্লাস্টার। তারপর বুঝতে পারলুম, দু-তিনজন লোক আমাকে উঁচু করে তুলে বেশ খানিকটা বয়ে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল একটা কাঠের তক্তার ওপরে। একজন খুব ঝকঝকে পালিশ… Continue reading সাঁকো-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভিত মজবুত-সমরেশ মজুমদার
এখনও এই পরিবারের সদস্যসংখ্যা আঠারো। কাজের লোকদের ধরলে রোজ বিয়াল্লিশজন দুবেলা ভাত-তরকারি মাছের ঝোল খায়। সপ্তাহে একদিন, রবিবার সকালে, প্রত্যেকের জন্য লুচি বেগুনভাজা এবং তরকারি বরাদ্দ থাকে। অন্যদিন যে যার ঘরে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে নেয়। এই ঝামেলা থাকলে অফিসের ভাত ঠিক সময়ে নামবে না, পাড়ার লোক তো বটেই, তিনটি টিভি চ্যানেল এসেছিল অবাক হয়ে। এখনও এই… Continue reading ভিত মজবুত-সমরেশ মজুমদার