ঘোড়ার পিঠে চেপে তারা আসে, শেষ রাত্তিরের দিকে। কোথা থেকে আসে আবার কোথায় চলে যায়, কেউ জানে না! ঘোড়াগুলো ছোট হলেও দারুণ তেজী, চৈত্র মাসের ঝড়ের মতন হঠাৎ শোনা যায় তাদের আগমন-শব্দ। কিছুই সামাল দেওয়ার সময় পাওয়া যায় না, আবার উধাও হয়ে যায় চোখের নিমেষে। সংখ্যায় তারা জনাছয়েকের বেশি নয়, যদিও বাড়ি ঘেরাও করার পর… Continue reading চূড়ামণি উপাখ্যান-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
চেতন মিস্তিরির গল্প -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
চেতন মিস্তিরির বাড়ি ছিল সিউরির অদূরে লাখেরাজপুর গ্রামে। মাটির দেওয়াল ঘেরা বাড়ি, ভেতরে দু-খানি ঘর ও একটি রান্নাঘর। একটা গোয়ালঘরও ছিল এক কালে, একবার ঝড়ে তার চালা উড়ে যায়, নতুন করে আর ছাউনি দেওয়া হয়নি, কারণ গোয়ালে আর গরু নেই। চেতন মিস্তিরির বুড়ি মা এখনও বেঁচে আছে, চোখে দেখতে পায় না। কানে শুনতে পায় না।… Continue reading চেতন মিস্তিরির গল্প -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
হাওয়া বদলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বুধুয়াকে তোমার মনে আছে কিনা জানি না। মনে না থাকার কথা নয়, বছরখানেক আগে সে আমাদের কলকাতার বাসায় চাকরি করত। গোলগাল গাল, গোপাল গোপাল চেহারা, মাত্র দু মাস চাকরি করেছিল আমাদের বাসায়, শেষে, মায়ের জন্য মন কেমন করছে বলে কেঁদে–কেটে চলে গেল। যে দু-মাস ছিল তাইতেই বড় ভালো লেগেছিল বুধুয়াকে, তুমি ওকে অকর্মা মনে করতে… Continue reading হাওয়া বদলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রবাসী- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ট্যাক্সিতে হেলান দিয়ে বসে সুরঞ্জন একটা বই পড়ছিল। বইটা এতই আকর্ষণীয় যে সারাদিন সে সেটাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছে, একটু সময় পেলেই পড়ে নিচ্ছে কয়েক পাতা। এবং পড়তে শুরু করলেই গভীর মনোযোগ এসে যায়। এখনও সে বেশ মনোযোগ দিয়েই পড়ছিল, তবু যে কেন হঠাৎ চোখ তুলে জানলার বাইরে তাকাল—সে নিজেই জানে না। সম্ভবত পুলিশের হাতের সামনে… Continue reading প্রবাসী- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রথম মানবী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভোরবেলা সেই নারী প্রবেশ করল আদিম উদ্যানে। তখন পৃথিবীর সৃষ্টিরও ঊষাকাল। কোথাও কোনও শব্দ নেই। যত দূর দৃষ্টি যায় মনুষ্য আকারের আর কোনও প্রাণী নেই। লতা গুল্মে, ক্ষুদ্র-বৃহৎ তরু-বৃক্ষে ফুটে আছে বিভিন্ন বর্ণের ফুল, সেগুলিরও নাম নেই। কোথাও ফুল থেকে ফল ফলেছে, কোনও-কোনও গাছের শাখা ফলভারে নুয়ে পড়েছে, সেইসব ফলও নামহীন। এখানে ফুলের সৌরভে আর… Continue reading প্রথম মানবী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পুরোনো স্পর্শ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রথম দর্শনে বুকটা খুব দমে যায়। মনে হয় যেন সম্পূর্ণ একটা অচেনা বাড়ি! লোহার গেটের দু পাশে দোকান ঘর, তারপর সরু এক চিলতে বাগান, তাতে কিছু চন্দ্রমল্লিকা নেতিয়ে আছে। একজন ছুতোর মিস্ত্রি চেয়ার সারাচ্ছে এক পাশে বসে। বাড়ির ভেতর থেকে একটি চোদ্দো পনেরো বছরের ছেলে বেরিয়ে এসে প্রায় ছুটতে-ছুটতে চলে গেল গেটের বাইরে। ভদ্রলোকটি বললেন,… Continue reading পুরোনো স্পর্শ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মাঝি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
জয়চাঁদ বিকেলের দিকে খবর পেল, তার মেয়ে কমলির বড়ো অসুখ, সে যেন আজই একবার গাঁয়ের বাড়িতে যায়। খবরটা এনেছিল দিনু মন্ডল, তার গাঁয়েরই লোক। জয়চাঁদ তাড়াতাড়ি বড়োসাহেবকে বলে ছুটি নিয়ে নিল। বুকটা বড়ো দুরদুর করছে। তার ওই একটিই মেয়ে, বড্ড আদরের। মাত্র পাঁচ বছর বয়স। অসুখ হলে তাদের গাঁয়ে বড়ো বিপদের কথা। সেখানে ডাক্তার-বদ্যি নেই,… Continue reading মাঝি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
গল্প-সল্প – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
(১) যদু যেমন ষণ্ডা ছিল, সে খেতেও পারত তেমনি। যখন সে খুব ছোট ছিল, একদিন সে গেল এক বড়লোকের বাড়ি নিমন্ত্রণ খেতে। ভারি ভারি খাইয়ে সব সেখানে খেতে বসেছে, লুচি কোরমার ধুম লেগে গেছে। খাইয়েরা খুব খেতে পারাটাকে বড়ই বাহাদুরি মনে করে। তাই খাওয়া শেষে যাবার সময় তারা বললে, ‘আচ্ছা, আজ কে সকলের চেয়ে বেশি… Continue reading গল্প-সল্প – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
গয়া-গঙ্গা ভ্যারাইটি-তারাপদ রায়
বন্ধুতে বন্ধুতে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে নানা রকমের যৌথ কারবার হয়। রাস্তাঘাটে, খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনে হামেশাই দেখতে পাওয়া যায় চক্রবর্তী অ্যান্ড চ্যাটার্জি কোম্পানি কিংবা জি.সি. দত্ত অ্যান্ড সনস। অবশ্য শুধুমাত্র সনসেই ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ নয়। এ পাড়াতেই মোড়ের মাথায় আছে, কে. কে. মিটার অ্যান্ড গ্র্যান্ডসনসের ঘড়ির দোকান। তার থেকে কিছুটা এগিয়েই ঘোষ ব্রাদার্সের মিষ্টির দোকান। সনস এবং ব্রাদার্সের… Continue reading গয়া-গঙ্গা ভ্যারাইটি-তারাপদ রায়
মণিহারা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে। বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া… Continue reading মণিহারা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর