গয়া-গঙ্গা ভ্যারাইটি-তারাপদ রায়

বন্ধুতে বন্ধুতে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে নানা রকমের যৌথ কারবার হয়। রাস্তাঘাটে, খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনে হামেশাই দেখতে পাওয়া যায় চক্রবর্তী অ্যান্ড চ্যাটার্জি কোম্পানি কিংবা জি.সি. দত্ত অ্যান্ড সনস। অবশ্য শুধুমাত্র সনসেই ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ নয়। এ পাড়াতেই মোড়ের মাথায় আছে, কে. কে. মিটার অ্যান্ড গ্র্যান্ডসনসের ঘড়ির দোকান। তার থেকে কিছুটা এগিয়েই ঘোষ ব্রাদার্সের মিষ্টির দোকান। সনস এবং ব্রাদার্সের… Continue reading গয়া-গঙ্গা ভ্যারাইটি-তারাপদ রায়

মণিহারা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে। বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া… Continue reading মণিহারা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হৃদয় ঘটিত- তারাপদ রায়

রাত দুটো নাগাদ সোমনাথ স্পষ্ট বুঝতে পারলেন যে তার হার্টঅ্যাটাক হয়েছে। সাড়ে দশটায় ভাত খেয়ে এগারোটার সময় শুয়েছিলেন। তখন থেকেই মনটা কেমন যেন খুঁতখুঁত করছিল, শরীরেও অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। দুটো ঘুমের বড়ি খেয়ে তবুও ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। মিনিট পনেরো হল সোমনাথবাবুর ঘুম ভেঙে গেছে। ঘটনার শুরু অবশ্য সন্ধ্যাবেলায়। রিটায়ার্ড মানুষ সোমনাথবাবু প্রতিদিন বাড়ির পাশের পার্কটায় গিয়ে… Continue reading হৃদয় ঘটিত- তারাপদ রায়

সূত্রসন্ধান-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ছেলেবেলা থেকেই–অর্থাৎ যখন আমার বয়স ছয় কি সাত-তখন থেকেই আমার ভিতরে একরকমের অদ্ভুত অনুভূতি মাঝে-মাঝে দেখা দিত। এই অনুভূতি কীরকম তা স্পষ্ট করে বোঝানো খুব শক্ত। তবে একথা বলা যায় যে, অনুভূতিটা এক ধরনের অবাস্তবতার। একা-একা থাকলে হঠাৎ কখনও চারদিকে চেয়ে মনে হত–আমার চারদিকে যা রয়েছে–গাছপালা কিংবা ঘরের দেওয়াল, আসবাব, কিংবা মানুষ–এরা সবাই অবাস্তব, মিথ্যে।… Continue reading সূত্রসন্ধান-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

স্বপ্ন-বাসুদেব-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের কথা। আজ থেকে প্রায় বাইশশো বছর আগের তক্ষশিলা। নগরীর রাজপথ কোলাহলমুখর! নবারুণোদয় নিজ মহিমায় ধীরে ধীরে উচ্চ চূড়ায় ও স্তম্ভে নবপ্রভাতের বাণী ঘোষণা করচে। তক্ষশিলায় সম্প্রতি দেবী মিনার্ভার এক মন্দির তৈরি হচ্ছে, পার্থেননের স্থাপত্যের অনুকরণে—গম্বুজ বা ডোম কোথাও নেই—ছাদ সমতল, অগণিত সুসমঞ্জস বিরাট স্তম্ভশ্রেণী। গ্রিক স্থাপত্য গম্বুজের খিলান গড়তে অভ্যস্ত ছিল না।… Continue reading স্বপ্ন-বাসুদেব-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছত্র বর্ধন-তারাপদ রায়

জ্ঞান বর্ধন এ গল্প পাঠ করে নায়কের নাম কেউ যদি দেন ছত্র বর্ধন, আপত্তি করা যাবে না। জ্ঞান বর্ধন তাঁর আসল নাম, এরকম একটা নাম অবশ্য সচরাচর দেখা যায় না। ভদ্রলোকের নামের প্রথমাংশের পুরোটা যে কী জ্ঞানব্রত না জ্ঞানেন্দ্রনাথ, নাকি অন্য কিছু, সে বিষয়ে কোনও খোঁজখবর নিইনি। কারণ এখন তাকে ছত্র বর্ধন বলাই উচিত। সে… Continue reading ছত্র বর্ধন-তারাপদ রায়

সাপলুডোর সিঁড়ি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এটা কি আগে এখানে ছিল, না ছিল না? একটা বেঁটে মতন গম্বুজ, তার সব দিকই নানারকম পোস্টারে মোড়া, একটা বড় ফিল্মের পোস্টারে এক যুবতি দু-চোখ দিয়ে হাসছে। এক পাশে ছিল ধানখেত, আর জলা, রাস্তার অন্যপাশে দোকানপাট। হ্যাঁ, স্পষ্ট মনে আছে। অতনুর, ধানখেতের পাশে যে-অগভীর জলাভূমি, সেখানে গামছা দিয়ে মাছ ধরত কয়েকটি কিশোর, মাছ বিশেষ পাওয়া… Continue reading সাপলুডোর সিঁড়ি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তৃতীয় পক্ষ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

একদম আনকোরা, টাটকা, নতুন বউকে নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছিল কনিষ্ক গুপ্ত। বউয়ের নাম শম্পা। শম্পার সঙ্গে বিয়ের আগে কখনও দেখা হয়নি গুপ্তর। প্রেম-ট্রেমের প্রশ্নই ওঠে না, এমনকী বিয়ের আগে শম্পাকে চোখেও দেখেনি। একটা ফটোগ্রাফ অবশ্য পাঠিয়েছিল ওরা কিন্তু সেটাও স্পর্শ করেনি। বিয়ের আগে গুপ্তর একটা প্রেম কেঁচে যায়। সে বিয়ে করতে চেয়েছিল মলি নামে এক স্কুল… Continue reading তৃতীয় পক্ষ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রতীক্ষার ঘর-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

টিকটিকিরা জল খায় না। বলে নতুন লোকটা খুব গম্ভীর চিন্তায় ডুবে গেল। আমরা ক’জন দেশলাই কাঠি দিয়ে জুয়ো খেলছিলাম। তাসটা খুব পুরোনো হয়ে গেছে। চলে। ইস্কাপনের টেক্কা কি হরতনের গোলাম সবই ঘেঁড়ার দাগ দেখে পিছন থেকেই চেনা যায়, টেক্কাটা ছিঁড়েছে পাশ থেকে মাঝখান অবধি, গোলামটার দুটো কোণা নেই, এরকম সব তাসই একটু খেয়াল করলেই চেনা… Continue reading প্রতীক্ষার ঘর-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মেয়েদের ভয় -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ই নিয়ে চার বার দেখা হল স্নিগ্ধার সঙ্গে ওর বিয়ের পর। প্রথম বার লছমনঝোলায়। দিল্লি থেকে দু-দিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলুম হরিদ্বারে। লছমনঝোলায় ব্রিজ পেরিয়ে এসে এপারের সিঁড়ি দিয়ে নামছি, নীচে অনেক নারী-পুরুষ মাছগুলোকে ময়দা খাওয়াচ্ছে, সেখানে একটি মহিলার পিঠ দেখেই মনে হয়েছিল চেনা-চেনা। ব্রিজ দিয়ে হেঁটে আসার সময়ই, যখন নীচের মানুষগুলিকে বেশ ছোট-ছোট দেখায় তখনও… Continue reading মেয়েদের ভয় -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়