আমরা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সেবার গ্রীষ্মকালের শেষদিকে দিন চারেক ইনফ্লুয়েঞ্জাতে ভুগে উঠলেন আমার স্বামী। এমনিতেই তিনি একটু রোগা ধরনের মানুষ, ইনফ্লুয়েঞ্জার পর তাঁর চেহারাটা আরও খারাপ হয়ে গেল। দেখতাম তাঁর হনুর হাড় দুটো গালের চামড়া কুঁড়ে বেরিয়ে আছে, গাল বসা, চোখের নীচে কালি, আর তিনি মাঝে-মাঝে শুকনো মুখে ঢোক গিলছেন–কণ্ঠাস্থিটা ঘনঘন ওঠা–নামা করছে। তাঁকে খুব অন্যমনস্ক, কাহিল আর কেমন… Continue reading আমরা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভদ্রলোক – তারাপদ রায়

আসল ভদ্রতা হল মুখ না খুলে হাই তুলতে পারা। এত দামি কথা, সবাই বুঝতে পারছেন, মোটেই আমার নয়। এক ফাজিল মনীষী এই উক্তি করেছিলেন। কিন্তু ব্যাপারটা অসম্ভব। মুখ না খুলে হাই তোলা যায় না। কেউ পারবে না। তবু চূড়ান্ত এটিকেটের সেটাই নাকি নিদর্শন। অবশ্য এটিকেট ঠিক ভদ্রতা নয়। সেটা একটা অন্য জিনিস, পুরোপুরি বিলিতি ব্যাপার।… Continue reading ভদ্রলোক – তারাপদ রায়

সংলাপ -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পেটে গ্যাস হয়, বুঝলেন! খুব গ্যাস হয়। সেটা খুব টের পাচ্ছি। গত পঁয়তাল্লিশ মিনিটে শ দেড়েক ঢেকুর তুললেন। দেড়শো! না মশাই, দুশোর বেশি। কী থেকে যে গ্যাস শালা জন্মায় সেটাই ধরতে পারছি না। সেই দুপুরে পাবদা মাছের ঝোল দিয়ে চাট্টি ভাত খেয়েছি সেটাও গিয়ে পেটের মধ্যে গ্যাস সিলিণ্ডার হয়ে গেড়ে বসে আছে। আজ পাবদা কিনেছিলেন… Continue reading সংলাপ -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

গেঞ্জি-তারাপদ রায়

আমার ছেলে কিছুতেই বাঁচামাছ খেতে চায় না। যাঁরা খান, জানেন বাঁচামাছ জাবদা বা ট্যাংরার। মতোই কিংবা তার চেয়েও সুস্বাদু জাতের মাছ। এবার কয়েকদিন পরপর বাজারে বাঁচামাছ উঠল, দামও খুব চড়া নয়। আমি নিজেই বাজার করি, ইচ্ছে করে এবং ছেলেকে জোর করে বাঁচামাছের স্বাদ গ্রহণ করানোর জন্যে পরপর তিনদিন বাঁচামাছ কিনে আনলাম বাজার থেকে। হয়তো এর… Continue reading গেঞ্জি-তারাপদ রায়

মার্জার পুরাণ-তারাপদ রায়

০১. ভাঙা কাঁসর-ঘণ্টা ছুটি হয় সেই সাড়ে পাঁচটায়। আজ বড়বাবুকে বলে আধঘণ্টা আগে অফিস থেকে বেরিয়েছে প্রতিভাময়। মিশন রো-র পাশের একটা গলিতে আধা-সরকারি অফিস, যাকে বলা হয় সরকারি সংস্থা বা আন্ডারটেকিং। বউবাজার-শিয়ালদা পুরনো মোড়ে, ফ্লাইওভারের নীচ ধরে দক্ষিণ বরাবর পিতল-কাঁসার থালাবাসনের দোকান আছে। মানে ছিল। এখনও আছে কিনা বলা কঠিন। ফ্লাইওভার তৈরি হওয়ার পর থেকে… Continue reading মার্জার পুরাণ-তারাপদ রায়

নিরুদ্দেশ জানলা-তারাপদ রায়

নটবর মামা একদিন এসে বললেন, কুকুর পুষেছিস কখনও? তখন আমার একটা কাজের খুব দরকার। আত্মীয়-বন্ধু, জানা-চেনা সবাইকে অনুরোধ করে ক্লান্ত হয়ে গেছি। চ্যারিটেবল ডিসপেনসারির কম্পাউন্ডার থেকে রেলের টিকেট কালেক্টর প্রত্যেক দিন ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছি। এমন সময় নটবর মামাই আনলেন এই কাজের খবরটা। একটা কুকুরের দেখাশোনা করতে হবে, পুকুরপাঁতিয়ার মহারাজকুমারী বিরাটেশ্বরী দেবী নাকি এমন একজন লোকের… Continue reading নিরুদ্দেশ জানলা-তারাপদ রায়

নীল আলো-তারাপদ রায়

নিলামে একটা রঙিন টিভি কিনেছিলেন প্রেমতোষ। নতুনের দামের প্রায় অর্ধেক দামে। অনেকদিনই একটা রঙিন সেটের শখ ছিল প্রেমতোষের। খোঁজ নিয়ে দেখেছিলেন পাঁচ অঙ্কের টাকা একটা নতুন সেটের দাম। টাকার পরিমাণ দেখে দমে গিয়েছিলেন প্রেমতোষ। প্রেমতোষের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ তা বলা যাবে না। ফল সংরক্ষণের একটি কেন্দ্রীয় সরকারি আন্ডারটেকিংয়ে ফিনান্স অফিসারের চাকরি করেন তিনি। তার… Continue reading নীল আলো-তারাপদ রায়

জ্বর-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রথমটা অসিত বুঝতে পারেনি, শুধু সমস্ত শরীরে কীরকম একটা অস্বস্তি লাগছিল। কন্ডাক্টরকে পয়সা দিতে গিয়ে বুঝতে পারল, তার জ্বর এসেছে। একটা পাঁচ টাকা তুলে বলল ভবানীপুর! দু-চারটে কৌতূহলী চোখ তার দিকে তাকাল। কন্ডাক্টর দার্শনিকের মতো নির্লিপ্ত গলায় বললে, ভবানীপুর যাবে না, এ-ট্রাম আলিপুর যাচ্ছে! আশ্চর্য! অসিত জানলা দিয়ে তাকাল। ময়দানের মধ্য দিয়ে ট্রাম মেল-ট্রেনের মতো… Continue reading জ্বর-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

জেটিঘাট -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তিনখানা খড়ের নৌকো লিজ নিয়েছে দানসা, আর ফেরিঘাটের টিকিট কাটে ওমর। দুজনে এক ছাউনির নীচে বসে। দানসার খাটুনি বেশি, কারণ কারবারটা তার নিজের। এক সিজনের জন্য নৌকোগুলো সে লিজ নিয়েছে, এবার থেকে ওপারে খড় বোঝাই করে চালান দেয়। কখনও ইট কিংবা আলুর বস্তাও। যায়। পাঁচজন মজুর খাটাতে হয়। নৌকোগুলোতে খড় কিংবা অন্য মাল বোঝাই করার… Continue reading জেটিঘাট -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বোষ্টমী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি লিখিয়া থাকি অথচ লোকরঞ্জন আমার কলমের ধর্ম নয়, এইজন্য লোকেও আমাকে সদাসর্বদা যে রঙে রঞ্জিত করিয়া থাকে তাহাতে কালির ভাগই বেশি। আমার সম্বন্ধে অনেক কথাই শুনিতে হয়; কপালক্রমে সেগুলি হিতকথা নয়, মনোহারী তো নহেই। শরীরে যেখানটায় ঘা পড়িতে থাকে সে জায়গাটা যত তুচ্ছই হোক সমস্ত দেহটাকে বেদনার জোরে সেই ছাড়াইয়া যায়। যে লোক গালি… Continue reading বোষ্টমী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর