স্বামী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সৌদামিনী নামটা আমার বাবার দেওয়া। আমি প্রায়ই ভাবি, আমাকে এক বছরের বেশি ত তিনি চোখে দেখে যেতে পাননি, তবে এমন করে আমার ভিতরে বাহিরে মিলিয়ে নাম রেখে গিয়েছিলেন কি করে? বীজমন্ত্রের মত এই একটি কথায় আমার সমস্ত ভবিষ্যৎ-জীবনের ইতিহাসটাই যেন বাবা ব্যক্ত করে গেছেন। রূপ? তা আছে মানি; কিন্তু না গো না, এ আমার দেমাক… Continue reading স্বামী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিন্দুর ছেলে-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

এক যাদব মুখুয্যে ও মাধব মুখুয্যে যে সহোদর ছিলেন না, সে কথা নিজেরা ত ভুলিয়াই ছিলেন, বাহিরের লোকও ভুলিয়াছিল। দরিদ্র যাদব অনেক কষ্টে ছোটভাই মাধবকে আইন পাশ করাইয়াছিলেন এবং বহু চেষ্টায় ধনাঢ্য জমিদারের একমাএ সন্তান বিন্দুবাসিনীকে ভ্রাতৃবধূরূপে ঘরে আনিতে সক্ষম হইয়াছিলেন। বিন্দুবাসিনী অসামান্যা রূপসী। প্রথম যেদিন সে এই অতুল রূপ ও দশ সহস্র টাকার কাগজ… Continue reading বিন্দুর ছেলে-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বাল্য-স্মৃতি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পুরাতন কথার আলোচনা-শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হইয়াছে। ইহাতে আমার সম্বন্ধে কিছু কিছু আলোচনা আছে, কিন্তু আছে বলিয়াই যে সে আলোচনায় আমিও যোগ দিই এ আমার স্বভাব নয়। তাহার প্রধান কারণ, আমি অত্যন্ত অলস লোক—সহজে লেখালিখির মধ্যে ঘেঁষি না; দ্বিতীয় কারণ, আমার বিগত জীবনের ইতিবৃত্ত সম্বন্ধে আমি অত্যন্ত উদাসীন। জানি, এ লইয়া বহুবিধ জল্পনা-কল্পনা ও নানাবিধ… Continue reading বাল্য-স্মৃতি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ফিরে আসা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পাশের তিন-চার খানা ফ্ল্যাটে খোঁজ করা হল, পাথরের থালা আছে কি না। নেই। সকলেরই স্বামী-স্ত্রী আর একটা-দুটো বাচ্চার ছিমছাম সংসার। ঠাকুমা-দিদিমাদের অস্তিত্ব নেই, সুতরাং পাথরের থালায় আর কে খাবে এখন। তা ছাড়া, আজকাল বয়স্কা বিধবারাও স্টেইনলেস স্টিলের থালায় ভাত খান! পাথরের থালা পাওয়া গেল না বলে বাজার থেকে কিনে আনা হল কলাপাতা। তাতে খাবার দেওয়া… Continue reading ফিরে আসা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বহুলাড়া-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

জায়গাটির নাম ওন্দা। রিনির মতে, খুব মিষ্টি নাম। যে-সব শব্দের কোনও মানে বোঝা যায় না, সেইসব শব্দ রিনির খুব পছন্দ। কোথায় ওই ওন্দা? যদি জানা যায় যে বাঁকুড়া জেলার মধ্যেই, তাহলে খুঁজে পাওয়া মোটেই শক্ত নয়। বাঁকুড়া শহর আর বিষ্ণুপুরের মধ্যে কোনও এক জায়গায়। বাস যায়, রেল স্টেশন আছে। রিনি আর প্রতুল ভিড়ের বাসে চেপেই… Continue reading বহুলাড়া-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রীতিমত নভেল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ ‘আলা হো আকবর’ শব্দে রণভূমি প্রতিধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছে। এক দিকে তিন লক্ষ যবনসেনা, অন্য দিকে তিন সহস্র আর্যসৈন্য। বন্যার মধ্যে একাকী অশ্বত্থবৃক্ষের মতো হিন্দুবীরগণ সমস্ত রাত্রি এবং সমস্ত দিন যুদ্ধ করিয়া অটল দাঁড়াইয়া ছিল, কিন্তু এইবার ভাঙিয়া পড়িবে তাহার লক্ষণ দেখা যাইতেছে। এবং সেইসঙ্গে ভারতের জয়ধ্বজা ভূমিসাৎ হইবে এবং আজিকার এই অস্তাচলবর্তী সহস্ররশ্মির… Continue reading রীতিমত নভেল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অমলা-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

অমলাকে আজ দেখতে আসবে। পাত্রের নাম অরুণ। নাম শুনেই অমলার বুকটিতে যেন অরুণ আভা ছড়িয়ে গেল। কল্পনায় সে কত ছবিই না আঁকলে। সুন্দর, সুশ্রী, যুবা–বলিষ্ঠা, মাথায় টেরি, গায়ে পাঞ্জাবি–সুন্দর সুপুরুষ। অরুণের ভাই বরুণ তাকে দেখতে এল। সে তাকে আড়াল থেকে দেখে ভাব্‌লে–‘আমার ঠাকুরপো!’ মেয়ে দেখা হয়ে গেল। মেয়ে পছন্দ হয়েছে। একথা শুনে অমলার আর আনন্দের… Continue reading অমলা-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

পাত্র ও পাত্রী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ইতিপূর্বে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপদ্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে, কাঁচা ঘুমে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘুম আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধুবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয় এমন-কি, তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কৌমার্যের লাস্ট বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা… Continue reading পাত্র ও পাত্রী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রাগৈতিহাসিক-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সমস্ত বর্ষাকালটা ভিখু ভয়ানক কষ্ট পাইয়াছে। আষাঢ় মাসের প্রথমে বসন্তপুরের বৈকুণ্ঠ সাহার গদিতে ডাকাতি করিতে গিয়া তাহাদের দলকে-দল ধরা পড়িয়া যায়। এগারজনের মধ্যে কেবল ভিখুই কাঁধে একটা বর্শার খোঁচা খাইয়া পলাইতে পারিয়াছিল। রাতারাতি দশ মাইল দূরের মাথা-ভাঙা পুলটার নিচে পৌঁছিয়া অর্ধেকটা শরীর কাদায় ডুবাইয়া শরবনের মধ্যে দিনের বেলাটা লুকাইয়া ছিল। রাত্রে আরো ন ক্রোশ পথ… Continue reading প্রাগৈতিহাসিক-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মৌরীফুল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্ধকার তখনও ঠিক হয় নাই। মুখুয্যে-বাড়ির পিছনে বাঁশবাগানের জোনাকির দল সাঁজ জ্বালিবার উপক্রম করিতেছিল। তালপুকুরের পাড়ে গাছের মাথায় বাদুড়ের দল কালো হইয়া ঝুলিতেছে—মাঠের ধারে বাঁশবাগানের পিছনটা সূর্যাস্তের শেষ আলোয় উজ্জ্বল। চারিদিক বেশ কবিত্বপূর্ণ হইয়া আসিতেছে, এমন সময় মুখুয্যেদের অন্দর-বাড়ি হইতে এক তুমুল কলরব আর হইচই উঠিল। বৃদ্ধ রামতনু মুখুয্যে শিবকৃষ্ণ পরমহংসের শিষ্য। তিনি রোজ সন্ধ্যাবেলায়… Continue reading মৌরীফুল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়