অমলা-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

অমলাকে আজ দেখতে আসবে। পাত্রের নাম অরুণ। নাম শুনেই অমলার বুকটিতে যেন অরুণ আভা ছড়িয়ে গেল। কল্পনায় সে কত ছবিই না আঁকলে। সুন্দর, সুশ্রী, যুবা–বলিষ্ঠা, মাথায় টেরি, গায়ে পাঞ্জাবি–সুন্দর সুপুরুষ। অরুণের ভাই বরুণ তাকে দেখতে এল। সে তাকে আড়াল থেকে দেখে ভাব্‌লে–‘আমার ঠাকুরপো!’ মেয়ে দেখা হয়ে গেল। মেয়ে পছন্দ হয়েছে। একথা শুনে অমলার আর আনন্দের… Continue reading অমলা-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

পাত্র ও পাত্রী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ইতিপূর্বে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপদ্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে, কাঁচা ঘুমে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘুম আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধুবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয় এমন-কি, তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কৌমার্যের লাস্ট বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা… Continue reading পাত্র ও পাত্রী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রাগৈতিহাসিক-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সমস্ত বর্ষাকালটা ভিখু ভয়ানক কষ্ট পাইয়াছে। আষাঢ় মাসের প্রথমে বসন্তপুরের বৈকুণ্ঠ সাহার গদিতে ডাকাতি করিতে গিয়া তাহাদের দলকে-দল ধরা পড়িয়া যায়। এগারজনের মধ্যে কেবল ভিখুই কাঁধে একটা বর্শার খোঁচা খাইয়া পলাইতে পারিয়াছিল। রাতারাতি দশ মাইল দূরের মাথা-ভাঙা পুলটার নিচে পৌঁছিয়া অর্ধেকটা শরীর কাদায় ডুবাইয়া শরবনের মধ্যে দিনের বেলাটা লুকাইয়া ছিল। রাত্রে আরো ন ক্রোশ পথ… Continue reading প্রাগৈতিহাসিক-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মৌরীফুল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্ধকার তখনও ঠিক হয় নাই। মুখুয্যে-বাড়ির পিছনে বাঁশবাগানের জোনাকির দল সাঁজ জ্বালিবার উপক্রম করিতেছিল। তালপুকুরের পাড়ে গাছের মাথায় বাদুড়ের দল কালো হইয়া ঝুলিতেছে—মাঠের ধারে বাঁশবাগানের পিছনটা সূর্যাস্তের শেষ আলোয় উজ্জ্বল। চারিদিক বেশ কবিত্বপূর্ণ হইয়া আসিতেছে, এমন সময় মুখুয্যেদের অন্দর-বাড়ি হইতে এক তুমুল কলরব আর হইচই উঠিল। বৃদ্ধ রামতনু মুখুয্যে শিবকৃষ্ণ পরমহংসের শিষ্য। তিনি রোজ সন্ধ্যাবেলায়… Continue reading মৌরীফুল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

চিকিৎসা-তারাপদ রায়

একটা দশহাজারি বড় গল্পের বায়না পেয়েছিলাম। চমৎকার প্লট ফেঁদে বসেছিলাম, একাধিক চনমনে রমণী, উপযুক্ত লম্পট নায়ক, হাতুড়ে ডাক্তার-কাম-গোয়েন্দা, এমনকী একজন বিনোদন দালাল সমেত বিদেশি কুকুর রীতিমতো জমজমাট কাহিনি। কিন্তু, সত্যি বলছি, একদিন রাত বারোটায় তিন হাজার শব্দের মাথায় ফ্যাসাদে পড়ে গেলাম। ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা কেমন বেঁকে গেল, তর্জনী চিনচিন করতে লাগল। শুধু তাই নয়,… Continue reading চিকিৎসা-তারাপদ রায়

চেয়ার-তারাপদ রায়

মন্ত্রিমহোদয়ের ফোনটা এল পাঁচটা পঁচিশে। নিয়মমতো অফিস ছুটি হতে তখন আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। বিশেষ জরুরি কিছু না থাকলে মন্ত্রী সাধারণত ঠিক সাড়ে পাঁচটাতেই বেরিয়ে যান। সাত্যকির পক্ষে অবশ্য সেটা কোনও দিনই সম্ভব হয় না, দিনের কাজ শেষ করে বেরোতে বেরোতে তার প্রায় সাড়ে সাতটা-আটটা হয়ে যায়, কোনও কোনও দিন তার থেকেও দেরি হয়।… Continue reading চেয়ার-তারাপদ রায়

বইমেলায় পটলবাবু- তারাপদ রায়

পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে এমন কেউ কি এখনও আছেন, যাঁর কাছে পটললালের পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন? পটললাল অবশ্যই কোনও বিখ্যাত লোক নন। তবে অসংখ্য লোকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় আছে। তাঁরা তাকে নানা কারণে চেনেন। তারাপদ রায়ের মতো ঘরকুনো, অলস লেখক পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে নয় নয় করে অন্তত আট-নয়টি গল্প লিখে ফেলেছেন। পটললাল। শ্ৰীযুক্ত পটললাল পাল। অনেকেই তাঁকে পটলবাবু… Continue reading বইমেলায় পটলবাবু- তারাপদ রায়

বইমেলা -তারাপদ রায়

নরোত্তমবাবু সমস্ত জীবন ধরে বই লিখেছেন, শুধু বই আর বই। তবে বই লেখার জন্য নরোত্তম দত্তগুপ্ত যে রকম পরিশ্রম করেছেন সেই পরিমাণ খ্যাতি অর্জন করতে পারেননি। তার একটা কারণ অবশ্য যে নরোত্তমবাবুর অধিকাংশ বইই পাণ্ডুলিপির পর্যায়ে আছে, মুদ্রিত বা প্রকাশিত হয়নি। নরোত্তম দত্তগুপ্ত রচিত বইগুলির প্রকাশকের বড়ই অভাব। নরোত্তমবাবু যে ধরনের বিষয়ে লেখেন সেই সব… Continue reading বইমেলা -তারাপদ রায়

সেই বাড়িটা- রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

গত শতকের মোটামুটি ছ’য়ের দশক পযর্ন্ত‍্য মধ‍্যবিত্ত পরিবারের হাতে একটু পয়সাকড়ি জমলে তারা এখনকার মতো ব‍্যাঙ্কে FD কিনতে দৌড়ত না। এরা সাধারণত একজন রাজমিস্ত্রী ধরে এনে একটা বাড়তি ঘর বানিয়ে নিত অথবা টালির ছাদটা পাল্টে চূণ-সুড়কির ঢালাই ছাদ করিয়ে নিত; কিছু না হোক অন্তত পুকুরঘাটটা বাঁধিয়ে নিত; ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি। যাদের হাতে বেশ অনেকটা পয়সা জমত,… Continue reading সেই বাড়িটা- রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

ম্যাঁও-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

দিনকয়েক আগে, অনেক রাত্তিরের দিকে গুটিগুটি এসে ম্যাঁও বসেছিলো, চুপচাপ, আমাদের গেটের ঠিক ভেতরে, এক দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে। ভোরের দিকে গেট খুলতে গিয়ে গার্ড দেখে ম্যাঁও মরে গেছে, ঐখানেই বসে বসে, গেটের রেলিংএ মাথা রেখে। গতবছর জানুয়ারির কোন এক সকালে নিজেদের শারীরিক রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদে রোজকার মত হাঁটতে বের হচ্ছিলাম। লিফ্ট থেকে বেরিয়ে মেন গেটের… Continue reading ম্যাঁও-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়