জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২৪ হুমায়ূন আহমেদ

মাওলানা সাহেব শুনেন, পাঁচটা সম্পর্ক হচ্ছে শাসকের সঙ্গে প্রজার সম্পর্ক। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। পিতা-পুত্র সম্পর্ক। বড়ভাই-ছোটভাই সম্পর্ক এবং বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্ক। বুঝতে পেরেছেন? জি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু হঠাৎ করে সম্পর্কের ব্যাপারটা আমাকে কেন বললেন, সেটা বুঝলাম না। আপনাকে বললাম। কারণ পাঁচটা সম্পর্কের কোনোটাই আমার সঙ্গে সম্পর্কিত না। পাকিস্তানি শাসকের সঙ্গে প্ৰজা হিসাবে আমার কোনো সম্পর্ক… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২৪ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২৩ হুমায়ূন আহমেদ

মানুষের জীবন এমন যে একবার জট পাকিয়ে গেলে জট বাড়তেই থাকে। রাত জেগে আসমানী বেশ কয়েকটা চিঠি লিখল। শাহেদকে, তার মাকে, নীলগঞ্জে শাহেদের বড়ভাইকে, চিটাগাং-এর ছোটমামাকে। চিঠিতে নিজের ঠিকানা জানাল। কীভাবে মুন্সিগঞ্জের অজপাড়াগায়ে চলে এসেছে তা লিখল। ডাক বিভাগ কোনো দিন চালু হবে কি-না তা সে জানে না। যদি কখনো চালু হয়, তাহলে যেন আসমানীর… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২৩ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২২ হুমায়ূন আহমেদ

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জামশেদ তার বয়স্যদের কাছে জাশ নামে পরিচিত। গোয়েন্দা বিভাগের এই অফিসার বড় মজাদার মানুষ। কথায় কথায় রসিকতা করেন। এমন রসিকতা যে নিতান্তই অরসিক মানুষও হো হো করে হেসে উঠবে। রসিকতা ছাড়াও তিনি আর যে বিদ্যা জানেন তার একটি হচ্ছে ম্যাজিক। এক প্যাকেট তাস পেলে সেই এক প্যাকেট তাস দিয়ে তিনি আধঘণ্টা দর্শকদের মন্ত্ৰমুগ্ধ… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২২ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২১ হুমায়ূন আহমেদ

সে ভয়ে ভয়ে বলল, ঠেলামালিক ইদ্রিসারে খুঁজি। টিনের ঘর ছিল। ঘরের সামনে দুইটা আম গাছ। কোমর সমান উচা।দাড়িওয়ালা বলল, টিনের ঘর ছনের ঘর সব শেষ। আম গাছ জাম গাছও শেষ। ঘরের বাসিন্দারাও শেষ; বাড়িতে যান। আল্লাখোদার নাম নেন।সেই দুঃসময়েও আসাগরের মনে হলো, আল্লা যা করেন মঙ্গলের জন্যে করেন। এইরকম ভয়ঙ্কর ঘটনার মধ্যেও কিছু মঙ্গল আল্লাপাক… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২১ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২০ হুমায়ূন আহমেদ

সাফিয়া দরজা খুললেন। শাহ কলিম নামের লোকটাকে ঘরে ঢুকতে দিলেন। শাহ কলিম বলল, আপনার বাড়ি খুঁজে বের করতে বিরাট পরিশ্রম হয়েছে। ঠিকানা ছিল ভুল। দুপুর একটা থেকে হাঁটাহাঁটি করছি, এখন খুব সম্ভব চারটা বাজে। এক গ্রাস পানি খাওয়াবার ব্যবস্থা করেন। বাড়িতে কি আপনি একা? হ্যাঁ, আমি একা।আপনি তো একা না, এই বাচ্চাটা ছাড়াও আপনার তিনটা… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ২০ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৯ হুমায়ূন আহমেদ

সঙ্গে সঙ্গে কবিতা লেখা বন্ধ করে উঠে চলে গেলে মনে হবে সেও মিলিটারির ভয়ে আধমরা। এটা করা যাবে না। কলিমউল্লাহ হাতের ইশারা করল। যাতে মনে হয় সে বলছে, এখন লেখালেখি করছি। এই সময় বিরক্ত করা যাবে না। পরে আসুন।ইশারার পরেও হেলাল সাহেব। আবারো বললেন, স্যার আপনাকে ডাকেন।কলিমউল্লাহ এমন ভাব করে উঠল যেন সে খুবই বিরক্ত… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৯ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৮ হুমায়ূন আহমেদ

আজ তার জন্মদিন। জনদিন উপলক্ষে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে দুটি কেক আনা হয়েছে। দুটি কেকের উপর উর্দুতে লেখা জিন্দা পাকিস্তান। অর্ডার দিয়ে বানানো এই দুটা কেক আজ রাতে দুই দফায় কাটা হবে। প্রথম দফায় কাটবেন ঢাকা শহরের কিছু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আছেন, কবি-সাহিত্যিক আছেন, শিল্পী আছেন, ফিল্ম লাইনের কিছু লোকজন আছেন। তাদের… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৮ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৭ হুমায়ূন আহমেদ

সিরাজ সাহেব অতি ভদ্রলোক, অতি সরল। তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করলেই এই ধরনের ভরসা পাওয়া যায়। মনে হয় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবার মতো কিছু ঘটে নি। ভদ্রলোকের শরীর যেমন ভারী গলার স্বরও ভারী। তিনি কথা বলেন গলা নামিয়ে। প্রতিটি শব্দ এমনভাবে উচ্চারণ করেন যে মনে গেথে যায়। এসডিপিও সাহেব শোনেন, আপনি আমি অর্থাৎ আমরা যারা পিরোজপুরে মোটামুটি… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৭ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৬ হুমায়ূন আহমেদ

মিরপুর দশ নম্বরের মাথায় তারা রিকশা ছেড়ে দিল। বাড়ি খুঁজতে শুরু করতে হবে এখান থেকেই। শাহেদের অস্পষ্টভাবে মনে আছে, বাড়ির সামনের গেটের কাছে একটা জবা গাছ আছে! বাড়ির একটা ইংরেজি নামও আছে। নামটা মনে পড়ছে না। তবে শুরুটা ‘S’ দিয়ে।গৌরাঙ্গ চাপা গলায় বলল, মিতা মিলিটারি। ডানদিকে চায়ের দোকানের সামনে মিলিটারি। মিতা, আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৬ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৫ হুমায়ূন আহমেদ

সামরিক নির্দেশাবলির পর প্রচারিত হলো যন্ত্রসঙ্গীত। যন্ত্রসঙ্গীতের পর স্বাস্থ্যবিষয়ক কথিকা। বিষয় জলবসন্ত। সোবাহান সাহেব জলবসন্ত বিষয়ক কথিকাও অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে শুনলেন। জলবসন্তে এন্টিবায়োটিক কোনো কাজে আসে না–এই তথ্য তাঁর কাছে হঠাৎ করেই খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো। এখন তাঁকে দেখে গত রাতের সোবাহান সাহেব বলে মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে মোটামুটিভাবে আনন্দে আছেন এমন একজন মানুষ।… Continue reading জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ১৫ হুমায়ূন আহমেদ