কিছু না–কিছু না।‘ বলে মামা বিব্রত ভঙ্গিতে চলে গেলেন। বসে রইলেন বাইরের ঘরে একা একা। আবার হয়তাে এলেন কিছুক্ষণের জন্যে, আবার বাইরে গিয়ে বসে থাকা। নানিজান এক দিন বললেন, ‘বাদশা, কী হয়েছে রে? বাদশা মামা কিছু বললেন না। ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে রইলেন। সবাই অবাক হল, যেদিন বাদশা মামা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে… Continue reading অচিনপুর পর্ব (৬)- হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
বীর্যশুল্কা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজকুমারী সুমিত্রার আর কিছুতেই বর পছন্দ হয় না। দেশ-দেশান্তর থেকে রাজারা লিপি পাঠান–রাজকন্যার পাণিপ্রার্থনা জানিয়ে কিন্তু লিপি গ্রাহ্য হয় না। রাজদূত নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।..সুন্দরকান্তি রাজপুত্রেরা আসেন রাজকন্যার প্রাসাদের সুমুখে ঘোড়ায় চড়ে ঘোরাঘুরি করেন। তাঁদের কোমরে রত্নখচিত অসি ঝলমল করে, কিরীটের হীরা সূর্যকিরণে ঝকমক করে। কিন্তু কুমারী সুমিত্রার মন টলে না। তিনি সখীদের ডেকে বাতায়ন… Continue reading বীর্যশুল্কা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
অচিনপুর পর্ব (৫)- হুমায়ূন আহমেদ
সে রাতে নাটক দেখে সবাই বাদশা মামার উপর মহা প্রসন্ন ছিলেন। বাড়ি এসে দেখেন, ফুলের মতাে একটি মেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাদশার সঙ্গে এর বিয়ে হলে কেমন হয়? এই ভাবনা চকিতে খেলে গেল সবার মনে। এলাচি স্থায়ীভাবে নানাজানের বাড়িতে উঠে এলেন। নাম হয়ে গেল লালবউ, আমি ডাকতাম লাল মামী, নবু মামা ডাকত লাল ভাবী। টকটকে বর্ণ,… Continue reading অচিনপুর পর্ব (৫)- হুমায়ূন আহমেদ
কাক ও কাঠগোলাপ – হুমায়ূন আহমেদ
তুহিনদের বাড়ির সামনে একটা প্রকাণ্ড কাঠগোলাপের গাছ। কাঠগোলাপের গাছ সাধারণত এত বড় হয় না। এই গাছটা হুলস্থুল বড়। ফুল যখন ফোটে তখন গন্ধে চারদিক ম ম করে। তুহিনদের বাড়ির সামনে দিয়ে যারা যেত তারা অবশ্যই কিছুক্ষণের জন্যে থমকে দাঁড়াত। গাছের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ গলায় বলত, বাহ্! এক বৈশাখ মাসে তুহিনের বাবা নাসের সাহেব নাস্তার টেবিলে… Continue reading কাক ও কাঠগোলাপ – হুমায়ূন আহমেদ
নুহাশ এবং সে – হুমায়ূন আহমেদ
মাঝে মাঝে খুব সাধারণ কিছু দৃশ্য আমাকে অভিভূত করে। দারুণ মন খারাপ করিয়ে দেয়। বরিশাল থেকে লঞ্চে করে ঢাকায় আসছি। সাধারণত ঢাকা-বরিশাল লঞ্চগুলি রাতে চলাচল করে। এক সময় দিনেও লঞ্চ ছিল। আমি নদীর দু’পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে আসব ভেবে দিনের লঞ্চ নিয়েছি। বসেছি ছাদে। প্রচুর বাতাস, প্রচুর রোদ গায়ে মাখছি, চমৎকার লাগছে। হাওয়া এবং রোদ… Continue reading নুহাশ এবং সে – হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (৪)- হুমায়ূন আহমেদ
হাতি আনতে লােক গেল হালুয়াঘাট। সেখানে কালুশেখের দু‘টি মা এত আছে। বন থেকে কাঠের বােঝা টেনে নামায়। বিয়ের আগের রাতে মাহুতকে ঘাড়ে করে মাতু এসে দাঁড়াল। উৎসাহী ছেলেমেয়েরা কলাগাছের পাহাড় বানিয়ে ফেল উঠোনে। মাহুতের সঙ্গে দু’দণ্ড কথা বলার জন্যে কী আগ্রহ সবার। মাহুত সাহেবের কি একটু তামাক ইচ্ছে করবেন? হাতির পিঠে চড়ে বর এসে নামল।… Continue reading অচিনপুর পর্ব (৪)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (৩)- হুমায়ূন আহমেদ
সে যে আমার বড়াে বােন এবং নানাজানের এই প্রকাণ্ড বাড়িতে আমিই যে তার সবচেয়ে নিকটতম জন, তা জানাতে তার ভারি আগ্রহ ছিল। শাড়ি–পরা হালকা–পাতলা শরীর কোনাে ফাঁকে আমার নজরে পড়ে গেলেই মন খারাপ হয়ে যেত। অবধারিতভাবে সে হাত ইশারা করে আমায় ডাকবে। ফিসফিস করে বলবে, ‘কাল সবাই দু‘খান করে মাছ ভাজা খেয়েছে, আর তুই যে… Continue reading অচিনপুর পর্ব (৩)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (২)- হুমায়ূন আহমেদ
রাতে কখন যে ফিরতেন, তা কোনাে দিনই জানি নি। ঘুম ভাঙার আগে আগেই চলে গেছেন। কোনাে কোনাে রাতে ঘুম ভেঙে গেলে দেখেছি, গুনগুন করে কী পড়ছেন। যেদিন মেজাজ ভালাে থাকত, সেদিন খুশিখুশি গলায় বলতেন, ‘রজু, শােন তাে দেখি, কেমন হচ্ছে বলবি।” আমি হঠাৎ ঘুমভাঙা অবস্থায় কী হচ্ছে ঠিক বুঝতে পারছি না। মামা দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে… Continue reading অচিনপুর পর্ব (২)- হুমায়ূন আহমেদ
অপেক্ষা পর্ব (শেষ)- হুমায়ূন আহমেদ
‘বললেইতাে লিখে ফেলা যায় না, চিন্তা ভাবনা করে লিখতে হবে। রাতে লিখব। শুরুটা হবে কিভাবে জানিস -ওগাে আমার প্রাণপাখি বুলবুলি। সুপ্রভা আবারাে খিল খিল করে হেসে উঠল । মিতু বিরক্ত গলায় বলল, বললাম না হায়নার মত হাসবি না। ‘হাসি আসলে কি করব ? ‘হাসি আসলে হাসি চেপে রাখবি। হাসলে মেয়েদের যত সুন্দর লাগে হাসি চেপে… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (শেষ)- হুমায়ূন আহমেদ
অপেক্ষা পর্ব (১৪)- হুমায়ূন আহমেদ
সুরাইয়া আয়নার সামনে বসে আছে। তার চোখে মুখে হতভম্ব ভাব। আয়নায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সিঁথির কাছের কিছু চুল তামাটে হয়ে আছে। কি ভয়ংকর কথা! চুল পেকে যাচ্ছে ? না-কি হলুদ-টলুদ জাতীয় কোন রঙ লেগেছে ? হলুদ রঙ লাগবে কিভাবে ? কত বছর হল সে রান্না ঘরে যায় না। সুরাইয়া তীক্ষ্ণ গলায় ডাকলেন- সুপ্রভা! সুপ্রভা দরজা… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (১৪)- হুমায়ূন আহমেদ