বুধোর মায়ের মৃত্যু-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বুধো মণ্ডলের মায়ের হাতে টাকা আছে সবাই বলে। বুধো মণ্ডলের অবস্থা ভালো, ধানের গোলা দু-তিনটে। এত বড়ো যে দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ গেল গত বছর, কত লোক না-খেয়ে মারা গেল, বুধো মণ্ডলের গায়ে এতটুকু আঁচ লাগেনি। বরং ধানের গোলা থেকে অনেককে ধান কর্জ দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল। সবাই বলে, বুধোর টাকা বা ধান সবই ওই মায়ের। বুধোর নিজের… Continue reading বুধোর মায়ের মৃত্যু-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধেবেলার মানুষ-সমরেশ মজুমদার

পরদা উঠলে দেখা গেল মঞ্চ অন্ধকার। কয়েক মুহূর্ত যেতেই আমরা বুঝতে পারলাম এমনটা নাটকে ছিল না। উইংস-এর ওপাশে যাঁরা ছিলেন তাঁরা ব্যস্ত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করলেন। কথাবার্তা যা ভেসে এল তাতে বুঝলাম বৈদ্যুতিক বিভ্রাট ঘটে গেছে। আমরা উশখুশ করতেই একটা মোমবাতি দেখা গেল। ছোট্ট আলো সামলে যিনি মঞ্চে এলেন তাঁর বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। মুখেই… Continue reading সন্ধেবেলার মানুষ-সমরেশ মজুমদার

মাছ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সুরমা বারান্দায় এলেন কাক তাড়াতে। দুটো কাক অনেকক্ষণ থেকে বিশ্রী। সুরে ডেকেই চলেছে। সুরমা এর আগে দু-তিনবার এসে তাড়িয়ে দিয়ে গেছেন, তবু ওরা ফিরে আসে। ওদের কি আর কোনও জায়গা নেই? এই বারান্দায় এসেই ডাকতে হবে? ওরা কী চায়? তারের জাল দিয়ে বারান্দাটা ঢেকে দিতে হয়, কিন্তু বাড়িওয়ালা দেবে না, নিজেদের খরচ… Continue reading মাছ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নাপিত পন্ডিত-সুকুমার রায়

বাগদাদ শহরে এক ধনীর ছেলে প্রতিজ্ঞা করিয়া বসিল— সে কাজীর মেয়েকে বিবাহ করিবে। কিন্তু প্রতিজ্ঞা করা যত সহজ, কাজটা তত সহজ নয়— সুতরাং কিছুদিন চেষ্টা করিয়াই সে বেচারা একেবারে হতাশ হইয়া পড়িল। দিনে আহার নাই, রাত্রে নিদ্রা নাই— তার কেবলই ঐ এক চিন্তা— কী করিয়া কাজীর মেয়েকে বিবাহ করা যায়। বিবাহের সব চাইতে বড় বাধা… Continue reading নাপিত পন্ডিত-সুকুমার রায়

হয়তো পরের পূর্ণিমায়-সমরেশ মজুমদার

আকাশের দিকে মুখ তুলে দেখছিল সে। রাগি মোষের মতো তেড়ে আসছে মেঘগুলো। অতবড় আকাশটার দখল নিতে তীব্রগতিতে ছুটে যাচ্ছে চারপাশে। বড় মেঘের সঙ্গে ছোট মেঘগুলো জুড়ে যাচ্ছে চটপট। মোষের কথা মনে হলেও মেঘগুলো যেন মোষের চেয়েও কালো এবং ভয়ঙ্কর। অথচ দেখতে-দেখতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিল সে। তার কেবলই মনে হচ্ছিল সে যদি ওই মেঘেদের শক্তি পেত!… Continue reading হয়তো পরের পূর্ণিমায়-সমরেশ মজুমদার

আপনা মাংসে হরিণা বৈরী -সমরেশ মজুমদার

আজ সকালে যখন বেলটা বেজেছিল তখন সুচরিতার ঘুম সদ্য ভেঙেছে। এসময় অনেকেই আসে। দুধওয়ালা, কাগজওয়ালা। কিন্তু এত জোরে ওরা বেল বাজায় না। আজকাল শব্দের বাড়াবাড়ি খুব খারাপ লাগে তাঁর। বিছানা থেকে নামার আগেই দরজায় যমুনা। সুচরিতাকে বসে থাকতে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। সেই চিৎকার জড়ানো কান্না থেকে আবিষ্কার করা গেল ওর ভাই এসেছে মায়ের… Continue reading আপনা মাংসে হরিণা বৈরী -সমরেশ মজুমদার

সম্পর্ক-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লাচ্চু আমেরিকায় গিয়েছিল জাহাজে। তখন তার কুড়ি বছর বয়স। ডাকাবুকো, উচ্ছৃঙ্খল এবং বন্ধনহীন। বাপের সঙ্গে বনিবনা ছিল না, কারণ তার বাবা ননীগোপাল রাগি মানুষ। ছেলেকে শাসন করাকে অত্যধিক গুরুত্ব দিতেন। লাচ্চুকে মাঝে-মাঝে বদমায়েশির জন্য এমন মার দিতেন যে পরে ডাক্তার ডাকতে হত। কতবার যে বাবার মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে লাচ্চু তার হিসেব নেই। বিশ… Continue reading সম্পর্ক-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সে এবং জীবনানন্দ দাশ-সমরেশ মজুমদার

এখানে হাওয়ারা হাওয়াদের মতো বয়ে যায়। ভোর হব-হব রাতে তার শরীরে জড়িয়ে থাকে শিশিরের ঘ্রাণ, খানিক রোদ্দুর জমলে তাতে মেশে ঘাসের গন্ধ যার আস্বাদ বুক ভরে নেয় এক বিরহী ডাহুক। বিরহী, কারণ ওকে কখনও দোকা দ্যাখেনি এই প্রান্তর। বিরহী, কিন্তু আদৌ দুঃখিত দেখায় না ওকে যতক্ষণ না বিকেলের শেষ আলো নিভে আসা মোমের আলোর মতো… Continue reading সে এবং জীবনানন্দ দাশ-সমরেশ মজুমদার

গিল্‌ফয় সাহেবের অদ্ভুত সমুদ্র-যাত্রা-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

তোমরা ‘ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌স’ কোথায় জান? পৃথিবীর মানচিত্রের বাঁ ধারে গোলাকাটির নাম নূতন মহাদ্বীপ। নূতন মহাদ্বীপের বড় দেশটা আমেরিকা। আমেরিকার মাঝখানটা খুব সরু, দেখিতে দুটি দেশের মত দেখায়। এই দুইটির উপরেরটির নাম উত্তর আমেরিকা আর নীচেরটির নাম দক্ষিণ আমেরিকা। উত্তর আমেরিকার যত দেশ, ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌স তাহার মধ্যে সকলের বড়। ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌সে গিলফয় সাহেবের বাড়ি। গিলফয় সাহেব… Continue reading গিল্‌ফয় সাহেবের অদ্ভুত সমুদ্র-যাত্রা-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

তৃতীয় নয়ন-সমরেশ মজুমদার

পলাশপুরে আমার বাবা কাজ করতেন। ও-অঞ্চলের সমস্ত চা-বাগানগুলোর মধ্যে পলাশপুরের বেশ নামডাক ছিল তখন। উৎপাদন ও আয়তনের প্রখ্যাতি ছাড়াও পলাশপুর চা-বাগানের বাবুদের কোয়ার্টারেই প্রথম বিজালিবাতি জ্বলেছিল। ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঙরাভাসা ঝরনার তীব্র স্রোতে হুইল বসিয়ে ডায়নামো চালিয়ে অ্যাটকিন্স সাহেব এই বিজালিবাতি জ্বালাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। একটা পাঁশুটে আলো জ্বলত কোয়ার্টারগুলোতে। রাত দশটা বাজার সঙ্গে-সঙ্গে… Continue reading তৃতীয় নয়ন-সমরেশ মজুমদার