০১. স্থায়ী বঙ্গীয় কুলীন কায়স্থ বংশে, একটি প্রাচীন রক্ষণশীল পরিবারে শ্রীযুক্ত সনাতন মিত্রের জন্ম। কিন্তু নিতান্ত দুঃখের বিষয় এই যে সনাতনবাবু মানুষটি যাকে ধার্মিক বা ধর্মপরায়ণ লোক বলে ঠিক সেই ধরনের নন। পুজো-আর্চায় তাঁর মোটেই মন নেই। দেবদ্বিজে বিগ্রহে-প্রতিমায় তাঁর ভক্তি অচলা নয়। তবে এসবের জন্যে একটা বয়েস লাগে। সে বয়েসে পৌঁছাতে এখনও সনাতনবাবুর ঢের… Continue reading আবগারীশ্বরী-তারাপদ রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
মার্জার পুরাণ-তারাপদ রায়
০১. ভাঙা কাঁসর-ঘণ্টা ছুটি হয় সেই সাড়ে পাঁচটায়। আজ বড়বাবুকে বলে আধঘণ্টা আগে অফিস থেকে বেরিয়েছে প্রতিভাময়। মিশন রো-র পাশের একটা গলিতে আধা-সরকারি অফিস, যাকে বলা হয় সরকারি সংস্থা বা আন্ডারটেকিং। বউবাজার-শিয়ালদা পুরনো মোড়ে, ফ্লাইওভারের নীচ ধরে দক্ষিণ বরাবর পিতল-কাঁসার থালাবাসনের দোকান আছে। মানে ছিল। এখনও আছে কিনা বলা কঠিন। ফ্লাইওভার তৈরি হওয়ার পর থেকে… Continue reading মার্জার পুরাণ-তারাপদ রায়
২৫০%-তারাপদ রায়
আমাদের এই রাজ্যেরই কোনও এক জেলায় পাশাপাশি দুটি অঞ্চলে, দক্ষিণ রামপুর এবং উত্তর রামপুর। নামেই মালুম দক্ষিণ রামপুরের লোকেরা খুবই প্রতিক্রিয়াশীল, ফ্যাসিবাদী, মৌলবাদী ইত্যাদি, ইত্যাদি। উত্তর রামপুরের লোকেরা, স্বভাবতই, প্রগতিশীল, সাম্রাজ্যবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী। দক্ষিণ রামপুরের অঞ্চলপ্রধান হলেন, কান্তচন্দ্র রায়। আর উত্তর রামপুরের অঞ্চলপ্রধান হলেন চন্দ্রকান্ত রায়। কান্তচন্দ্রের আর চন্দ্ৰকান্তের লোকেরা পরস্পর শত্রু। তারা দুটি… Continue reading ২৫০%-তারাপদ রায়
জতুগৃহ-তারাপদ রায়
০১. অবতরণিকা নিবারণবাবু লোকটাকে প্রথম প্রথম আমি যতটা বোকা ভেবেছিলাম, তিনি বোধ হয় তা নন। ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার আজ প্রায় বছর দেড়েক আলাপ। দিল্লি না বোম্বাই, কোথায় যেন বড় চাকরি করতেন, সেখান থেকে অবসর নিয়ে আমাদের গলির মোড়ের এক মালটিস্টোরিড বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট কিনে ডেরা বেঁধেছেন। আমাদের রাস্তাটা সরাসরি ময়দানের দক্ষিণ মুখে গিয়ে পড়েছে। মোড় পেরোলেই… Continue reading জতুগৃহ-তারাপদ রায়
সাপ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বাপ্পা তার বাবার সঙ্গে এই বাগানে এল। সে, তার বাবা আর রেনি। শরৎকাল এখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বাগানের ফুল, ঘাসের রং আর রোদের তাপ থেকে তার আন্দাজ পাওয়া যায়। যে ঘাসগুলো বর্ষার জলে ঘন সবুজ হয়ে উঠেছিল তা এখন নিষ্প্রভ। এই রোদ, ঘাস আর ফুলের রং–সব কিছুই যেন স্তিমিত, নিঃশেষপ্রায়। আর এখন না-দুপুর না… Continue reading সাপ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
হুইসেল-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
-কটা বাজে এখন ? -দুটো পনেরো। -রাত দুটো পনেরো! -না’তো কি দুপুর হবে ? -তা না, আমি জিজ্ঞেস করছি মানে তুমি কি এখন বেরোবে ? -সেই জন্যেই তো জামাকাপড় পরলাম। -তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি, প্রতিরাতে এমনি ভাবে বেরিয়ে যাচ্ছ ? -পাগলের মত কথা বোলো না। প্রতিরাতে আমি বেরিয়ে নিষিদ্ধপল্লি যাচ্ছি না। -বাজে… Continue reading হুইসেল-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
ইঁদুরের কল-সমরেশ মজুমদার
নিরাপদ একজন বাঙালি প্রৌঢ়ের নাম, যার কোনও উজ্জ্বল অতীত নেই। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার আছে বলে সে মনে করে না। বর্তমানে সে সদাগরি অফিসে চাকরি করে, যা বেতন পায় তাতে তিন বেলা খাওয়া, ইলেকট্রিক বিল মেটানো, ঠিকে ঝি-এর মাইনে, কেবল এর পাওনা মিটিয়ে মন্দ থাকে না। তবে প্রত্যেক শনিবার সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতেই অনেকটা… Continue reading ইঁদুরের কল-সমরেশ মজুমদার
ফেল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার-বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না। নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও… Continue reading ফেল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পঞ্চমশক্তি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বিকেলবেলাটা যে এমন সুন্দর ঝকঝকে হয়ে উঠবে, আশাই করিনি। সকাল থেকে ছিল একঘেয়ে বৃষ্টি আর কুয়াশা। আর সে কী ঘন কুয়াশা! আমাদের দেশে এমন কুয়াশা কখনও দেখিনি। চার-পাঁচ হাত দূর থেকে একটা গাড়ি চলে গেলেও বোঝা যায় না। ছুটির দিন। ভাস্কর আমাকে এক জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাবে বলেছিল। কিন্তু সকাল বেলা ওইরকম আবহাওয়া দেখে মনে… Continue reading পঞ্চমশক্তি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বিশ্বমামা ও অহি-নকুল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মামাদের সুন্দরকাকা থাকেন সুন্দরবনে। সুন্দরকাকার আসল নাম কিন্তু সুন্দর নয়, প্রিয়নাথ। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তাকে আমরা সুন্দরকাকা বলে ডাকি। সুন্দরবনটাও কিন্তু মোটেই সুন্দর নয়, বরং ভয়ংকর বলা যেতে পারে। সেখানে জলে বাঘ আর ডাঙায় কুমির। না, না। উলটো হবে, তাই না? জলে কুমির ডাঙায় বাঘ। অবশ্য, আগেরটাও খুব একটা ভুল নয়। কুমির তো ডাঙায় উঠে… Continue reading বিশ্বমামা ও অহি-নকুল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়