Categories
Uncategorized শিল্প-ও-সাহিত্য

হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩

সাইফ খাঁ বললেন, সম্রাট তো একা না । তাঁর পরামর্শদাতারা আছেন । আমীররা আছেন, অতি বিচক্ষণ সেনাপতি বৈরাম খাঁ আছেন । এঁদের সবার চোখ আমরা কীভাবে এড়াব ?

শের খাঁ অসহিষ্ণু গলায় বললেন, সম্রাট চোখ বুজলে তাঁর অনুসারীদেরও চোখ বুজতে হয় এটাই নিয়ম । সম্রাট এবং তাঁর অনুসারীদের বিভ্রান্ত করার জন্যে আমি কিছু কূটকৌশলের ব্যবস্থাও করেছি ।

কী রকম ?

আমি অতি দূর্বল একদল যোদ্ধাকে পাঠাব সম্রাটকে আক্রমণ করার জন্যে । তারা পরাজিত হবে । সম্রাটের ধারণা হবে শের খাঁ’র বাহিনী দুর্বল ।

শের খাঁ’র প্রধান সেনাপতি ওসমান বললেন, কৌশলটা ভালো । সম্রাটের কাছে আমি একটা পত্র পাঠাচ্ছি । এই পত্রেও আমার দুর্বলতা প্রকাশ পাবে ।

জালাল খাঁ বললেন, কী পত্র পাঠাচ্ছেন আমরা কি শুনতে পারি ?

হ্যাঁ । পত্র আমি পড়ে শোনাচ্ছি ।

হিন্দুস্থানের মালিক,

মহাপরাক্রমশালী সিংহহৃদয় জ্ঞানতাপস মহান

মোঘল সম্রাট বাদশাহ নামদার হুমায়ূন ।

অধীন শের খাঁ’র বিনম্র সালাম গ্রহণ করুন । আসসালামু আলায়কুম ।

নিবেদন এই যে, বাদশাহর সম্মানে আমি দু’টি

সামান্য উপহার পাঠালাম ।

দুই শুঁড়বিশিষ্ট একটি হস্তীশাবক, নাম

হরিমতি । এইসঙ্গে জাদুবিদ্যার একটি প্রাচীন অপ্রচলিত ভাষায় রচিত গ্রন্থ । জাদুবিদ্যার প্রতি আপনার আগ্রহের কথা জেনেই এমন ক্ষুদ্র উপহার ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩

পাঠানোর সাহস করছি ।

এখন আপনার প্রতি আমার সামান্য নিবেদন ।

অধীনের এই নিবেদন আপনি গুরুত্বের সঙ্গে

বিবেচনা করবেন কি না তা আপনার বিবেচনা ।

মাঝে মাঝে বৃহৎবপু হস্তীকেও সামান্য মুষিকের

কথা শ্রবণ করা জরুরি হয়ে পড়ে ।

চুনার দুর্গের পতনের পর আমার দুই বীরপুত্র

জালাল খাঁ এবং সাইফ খাঁ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ।

তারা প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর । যে-কোনোদিন

আমার এই দুই পুত্র আপনার সেনাবাহিনীর উপর

ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে । এর ফলাফল শুভ না হওয়ার

কথা । আমার এই দুই পুত্র অসীম সাহসী ।

প্রতিশোধ গ্রহণের উত্তেজনায় এই সাহস বহুগুণে

বর্ধিত হয়েছে ।

আমার পুত্রদের কাছে মোঘল বাহিনীর পরাজয়

হলে হিন্দুস্থানের মালিক সম্রাট হুমায়ূনের জন্যে তা

বিরাট কলঙ্ক । আমি সম্রাটকে এই কলঙ্কের বোঝা

নিয়ে দিল্লী প্রস্থানের কথা চিন্তাও করি না । সম্রাটের

কলঙ্ক তাঁর দীন সেবক শের খাঁ’র কলঙ্ক ।

এখন আমার অনুরোধ (এবং উপদেশ),

আপনি অতি দ্রুত দিল্লীর দিকে যাত্রা করুন । আমি

আমার ধৃষ্টতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ।

আপনাকে বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি, পুত্রদের উপর

আমার তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই । আপনি নিজে একজন

মহাবীর, আপনি ভালোই জানেন বীররা নিয়ন্ত্রণ

পছন্দ করে না ।

বিনীত

সম্রাটের পদধূলিসম

শের খাঁ

শের খাঁ পত্র পাঠ শেষ করে দুই পুত্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কিছু বলার আছে ?

জালাল খাঁ বললেন, আমরা দুই ভাইয়ের যে-কোনো একজন মোঘলদের সঙ্গে নকল যুদ্ধ করতে যাব এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পরাজিত হব ?

হ্যাঁ ।

স্বেচ্ছা-পরাজয়ের ফলাফল হলো মোঘলদের হাতে বন্দি হওয়া । সে সম্ভাবনা অবশ্যই আছে ।

মোঘলদের হতে বন্দি হওয়া মানে হাতির পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে মৃত্যূবরণ ।

এই কথাও ঠিক । বড় মঙ্গলের স্বার্থে ক্ষুদ্র অমঙ্গল গ্রহণ করতে হয় ।

সাইফ খাঁ বললেন, কবে যুদ্ধে যাব ?

সম্রাট যেদিন এই পত্র পাবেন তার সাত দিন পর ।

প্রধান সেনাপতি ওসমান বললেন, আপনার দুই পুত্রের কাউকেই পাঠানোর প্রয়োজন নেই ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩

আপনার সেনাপতিদের একজন যাবে । শের খাঁ বললেন, তাতে আমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে না । তবে সাইফ খাঁ’র ভয়ের কোনো কারণ নেই । সে যদি ধরাও পড়ে তার পরিচয় পাওয়ার পর হুমায়ূন তাকে আমার কাছে সসম্মানে ফেরত পাঠাবেন । সম্রাট হুমায়ূনের চরিত্রের সবচেয়ে দুর্বল ‍দিক হচ্ছে তাঁর করুণা এবং ক্ষমা । আমরা তাঁর এই দুর্বলতা ব্যবহার করব ।

শের খাঁ’র উপহার পেয়ে সম্রাট হুমায়ূন উত্তেজিত । জাদুর প্রাচীন বইটিকে স্বর্ণখনি বলে মনে হচ্ছে । তিনি ভাষা পড়তে পারছেন না, তবে বইয়ে অনেক ছবি । ছবিগুলি বইটির বিশেষত্ব বলে দিচ্ছে । একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা মানুষের মুণ্ডু ধড় থেকে আলাদা করা । তার পরের ছবিতে মুণ্ডু শরীরের সঙ্গে লাগানো । একটা ছবিতে মানুষের শরীরের সঙ্গে বিড়ালের মাথা লাগানো ।

সম্রাট হিন্দুস্থানের বিভিন্ন ভাষার পণ্ডিতদের জড়ো করার নির্দেশ জারি করেছেন । তাদের কেউ-না কেউ গ্রন্থের পাঠোদ্ধার করতে পারবে ।

দুই শুঁড়ের হস্তীশাবক দেখেও তিনি উত্তেজিত । প্রকৃতির বিশেষ খেয়ালে এরকম একটি হস্তীশাবকের জন্ম হয়েছে, নাকি এটি বিশেষ কোনো প্রজাতির ? বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন ।

হরিমতি এখন আছে আকিকা বেগমের তত্ত্বাবধানে । আকিকা বেগম এবং তার বান্ধবী অম্বা হরিমতিকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। আকিকা বেগম হস্তীশাবকের হিন্দু নাম বদলে মুসলমান নাম রাখতে চাচ্ছে । অনেকগুলি নাম সে তাঁর কোরানপাঠ শিক্ষক ওস্তাদের সাহায্যে আলাদা করেছে ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩

কোনোটিই পছন্দ হচ্ছে না । যেমন-

নাম           অর্থ

শাহানা          রানী

লাবীবা            জ্ঞানী

আনিসা            কুমারী

সাইয়ারা            রাজকুমারী

সাইয়ারা নাম তার কিছুটা পছন্দ হচ্ছে । কিন্তু সে চাচ্ছে তার নামের প্রথম অক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখতে । আনিসা নাম সেই অর্থে ঠিক আছে । ‘আ’ দিয়ে শুরু । কিন্তু । নামের অর্থ (কুমারী) পছন্দ হচ্ছে না । হরিমতি নিশ্চয়ই সারা জীবন কুমারী থাকবে না।

হরিমতিকে নিয়ে সম্রাটের অন্য পরিকল্পনা আছে । তিনি এই অদ্ভুত হস্তীশাবক পারস্য-সম্রাট শাহ তামাস্পকে উপহার হিসেবে দিতে চান । পারস্য-সম্রাটের জীবজন্তুর প্রতি প্রবল আগ্রহ । তাঁর চিড়িয়াখানা সারা পৃথিবী থেকে খুঁজে আনা জীবজন্তুতে পরিপূর্ণ। শাহ এই অদ্ভুত উপহার পেয়ে অবশ্যই আনন্দে আত্মহারা হবেন । পারস্যের সঙ্গে তখন সুসম্পর্ক হবে । এর ফলাফল হবে শুভ।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ করে সম্রাট বিশ্রামে গেছেন । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তিনি দুপুরের খাবার খাবেন । ঘুমে সম্রাটের চোখ লেগে আসছে, তখনই তাঁকে ডেকে তোলা হলো । তাঁকে দুঃসংবাদ দেওয়া হলো । শের খাঁ’র পুত্র সাইফ খাঁ প্রায় এক হাজার অশ্বারোহী নিয়ে মোঘল শিবির আক্রমণ করেছে । যুদ্ধের জন্যে মোঘলদের প্রস্তুতি ছিল না বলে অল্পকিছু মোঘল সৈন্য নিহত হয়েছে । সাইফ খাঁ সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়েছে । তাকে বন্দি করা হয়েছে । সাইফ খাঁ’র সঙ্গের সৈন্যদের প্রায় সবাই নিহত হয়েছে ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩

সাইফ খাঁ-কে সম্রাটের সামনে আনা হলো । সম্রাট দেখলেন নিতান্তই অল্পবয়সী অতি সুপুরুষ এক যুবক ।

সম্রাট বললেন, অতি অল্পকিছু সৈন্য নিয়ে তুমি বিশার মোঘলবাহিনীকে আক্রমণ করেছে । এটা কি তোমার নির্বুদ্ধিতা নাকি কোনো কৌশল ?

সাইফ খাঁ মাটির দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি বিশাল বাহিনী নিয়েই এসেছিলাম । বেশিরভাগই ছিল ভাড়াটে সৈন্য । যুদ্ধ শুরু হওয়ামাত্র তারা পালিয়ে গেছে ।

বন্দি শক্রকে হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট করে মারার রেওয়াজ মোঘলদের আছে, এই তথ্য তুমি জানো ?

জানি ।

তুমি কি আমার কাছে প্রাণভিক্ষা চাও ?

সাইফ খাঁ বললেন, আপনার করুণা এবং দয়ার কথা আমি জানি ।

আপনি যে আমার প্রাণ ভিক্ষা দেবেন সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত ।

আমি এখন দুপুরের খাবার খাব । তুমি আমার সঙ্গে খেতে বসো । খাওয়ার পর তোমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব । আচ্ছা তুমি যেন শান্তিমতো খেতে পার আমি সেই ব্যবস্থা করছি । তোমাকে ক্ষমা করা হলো । তুমি শের খাঁ’র কাছে ফিরে যাবে এবং তাঁকে বলবে তাঁর পাঠানো উপহার আমার পছন্দ হয়েছে ।

আমি বাবাকে এই সংবাদ দেব ।

সম্রাট বললেন, আমি তোমার পিতার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে দিল্লী ফিরে যাব । এই খবরও বাবাকে জানাব । তিনি খুশি হবেন ।

সম্রাট হুমায়ূন সাইফ খাঁ-কে ডানপাশে বসালেন । অতি সম্মানিতজনকেই এমন সম্মান দেখানো হয় ।

জায়গাটার নাম চৌসা । গঙ্গা এবং কীর্তিনাশা নদীর সঙ্গমস্থলে ছোট একটা গ্রাম । চৌসার দক্ষিণে হুমায়ূনের বিশাল বাহিনী আস্তানা গেড়েছে । নদীর একদিকে মোঘল বাহিনী, অন্যদিকে শের খাঁ’র আফগান বাহিনী । মাঝখানে খরস্রোতা কীর্তিনাশা নদী । আফগান বাহিনী নদী পার হয়ে মোঘল বাহিনীকে আক্রমণ করবে সেই সম্ভাবনা শূন্য । নদীতে নড়বড়ে কাঠের পুল আছে । সেই পুলে বিশাল বাহিনী পার হতে পারবে না । পুলের উপর কামান গাড়ি তোলার প্রশ্নই আসে না ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩

হুমায়ূনের গুপ্তচর খবর এনেছে শের খাঁ পর্যুদস্ত অবস্থায় আছেন । ঝাড়খণ্ডের চেরুহ দলপতির বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন । তার দেখা না পেয়ে ফিরে আসেন । শের খাঁ যে সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন তাতে বিশাল মোঘল বাহিনীর উপর আক্রমণ চালানোর প্রশ্নই ওঠে না । শের খাঁ চাইবেন যে-কোনো মূল্যে মোঘলদের সঙ্গে সন্ধি ।

মোঘল সম্রাট নিশ্চিত মনে সময় কাটাচ্ছেন । জাদুবিদ্যার বইটির পাঠোদ্ধারের ব্যবস্থা হয়েছে । বইটি প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় লেখা। সেই ভাষার একজন পণ্ডিত বইটি ফার্সি ভাষায় অনুবাদ শুরু করে দিয়েছেন । পণ্ডিত হিন্দু ব্রাক্ষণ, নাম আচার্য হরিশঙ্কর বিদ্যাবাচম্পতি । তিনি প্রতি পৃষ্ঠা অনুবাদ করার জন্যে পাচ্ছেন একটি করে রৌপ্যমুদ্রা ।

সম্রাট নতুন এক খেয়ালেও কিছু সময় দিচ্ছেন । তিনি হিন্দুস্থানি রান্নার একটি কোষগ্রন্থ তৈরি করতে চাচ্ছেন। বিশাল হিন্দুস্থানের নানান অঞ্চলে কত ধরনের রান্নাই-না হয় । সব একত্রিত থাকলে গবেষকদের জন্যে সুবিধা । হিন্দু বিধবারা (যারা নানান কারণে সতীদাহরে হাত থেকে বেঁচে গেছে) মাছ-মাংস খেতে পারে না । তাদের জন্যে বিচিত্র সব নিরামিষ রান্না হয় । বিচিত্র নিরামিষের একটি খেয়ে সম্রাট আনন্দ পেয়েছেন । কাঁঠাল নামের একটি কাঁচা ফল থেকে এই নিরামিষ তৈরি হয় । খেতে মাংসের মতো লাগে। সম্রাট শুরুতে ধরতেই পারেন নি তিনি নিরামিষ খাচ্ছেন, মাংস না । হিন্দুস্থানি রান্নার আকরগ্রন্থ তৈরির বাসনার মূলে আছে কাঁঠালের নিরামিষ ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩

সম্রাট ঠিক করেছেন, জাদুবিদ্যার বইটির অনুবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি চৌসাতে থাকবেন । শের খাঁ’র সঙ্গে সন্ধি করে দিল্লী ফিরে যাবেন । পেছনে শক্র রাখা কোনো কাজের কথা না ।

সন্ধির শর্ত নিয়ে আলোচনার জন্যে সম্রাটের দূত শায়েখ খলিলকে শের খাঁ’র কাছে পাঠানো হলো । শর্তগুলো নিম্নরুপ-

প্রথম শর্ত

শের খাঁতার অবস্থান থেকে পেছনে সরে যাবেন,

যাতে ইচ্ছা করলেই মোঘল বাহিনী কীর্তিনাশা নদী

পার হতে পারে ।

দ্বিতীয় শর্ত

শের খাঁ তার পুরোনো জায়গির বাংলা ও বিহার

ফিরে পাবেন ঠিকই, তবে তাঁকে নিয়মিত কর

পরিশোধ করতে হবে । তিনি খুৎবা পড়বেন সম্রাট

হুমায়ূনের নামে । টাঁকশালের মুদ্রাও মোঘল

সম্রাটের সম্রাটের নামে তৈরি হবে ।

তৃতীয় শর্ত

শের খাঁ’র এক পুত্রকে (সম্রাটের পছন্দ সাইফ খাঁ)

থাকতে হবে দিল্লী দরবারে, সম্রাটের নজরদারিতে ।

চতুর্থ শর্ত

শের খাঁ স্বয়ং হুমায়ূনের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর

কর্মকাণ্ডের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন । তিনি

আফগান এবং মোঘল সুসম্পর্কের জন্যে ভূমিকা

রাখবেন ।

শের খাঁ প্রতিটি শর্ত মেনে নিলেন । নিজের অবস্থান থেকে কুড়ি মাইল পেছনে সরে গেলেন । হুমায়ূনের কীর্তিনাশা নদী অতিক্রমে কোনো বাধা রইল না ।

সম্রাট তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে নদী অতিক্রম করলেন না, তবে তিনি সপ্তাহে একদিন নদীর তীরে স্বয়ং উপস্থিত হতে লাগলেন । ওই বিশেষ দিনে দুই শুঁড়ের হস্তীশাবককে গোসল করানো হয় । গোসলের সময় সে তার দুই শুঁড় দিয়ে একসঙ্গে আকাশে পানি ছুঁড়ে মারে । সেই পানি বৃষ্টির মতো তার গায়ে নেমে আসে । অদ্ভুত দৃশ্য ।

সঙ্গলবার ‍দ্বিপ্রহর । সম্রাট কীর্তিনাশা নদীর তীরে হস্তীশাবকের স্নানদৃশ্য দেখছেন । সম্রাটের সঙ্গে আছেন বৈরাম খাঁ । বৈরাম খাঁকে চিন্তিত এবং বিষণ্ন দেখাচ্ছে । হস্তীশাবকের জলকেলি দেখে তিনি তেমন আনন্দ পাচ্ছেন না । সম্রাট বললেন, বৈরাম খাঁ, আপনাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন ?

বৈরাম খাঁ বললেন, আমি চিন্তিত বলেই মনে হয় চিন্তিত দেখাচ্ছে ।

চিন্তিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা কি ঘটেছে ?

আমি শের খাঁকে নিয়ে চিন্তিত । সে সাপের মতো ধূর্ত ।

সম্রাট হাসতে হাসতে বললেন, সাপ ধূর্ত না, ভীতু প্রাণী

 

Read more

হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা বাদশাহ নামদার পর্ব –১৪

Categories
Uncategorized

দর্শনীয় স্থানসমূহ জেনে নিন

দর্শনীয় স্থানসমূহ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার শহর থেকে বন্দর মোকাম পর্যন্ত প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র-সৈকত কক্সবাজারের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুবই ছোট মনে হলেও সাগরের বিশালতা দেখে মনটা বিশাল হয়ে যাবে।

বিশাল সাগরের বুকে দৃষ্টি দিলে চোখে পড়বে শুধু পানি আর পানি। আছড়ে পড়া ঢেউ, সমুদ্রের গর্জন আর নীল জলরাশি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। দূরে ভাসমান জেলে নৌকা, সকাল বিকেলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার এ এক অন্যরকম মজা। অন্যরকম শিহরণ ! হরেক রকম বিনোদন ও ভ্রমণ আয়োজন যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

প্রবাল, শামুক, ঝিনুক আর এসব সামুদ্রিক পণ্যের তৈরি নানা সামগ্রী পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা। কম মূল্যে শামুক ও ঝিনুকের মালা, বার্মিজ ও বাংলাদেশী পণ্য, আচার আর হরেক রকম বিদেশী পণ্যের জন্য বিখ্যাত এই শহর। সামুদ্রিক মাছ ও মাছের মজাদার রেসিপি যেকোন পর্যটককে রসনা-তৃপ্তি দেবে।

চান্দের গাড়িতে ঘোরার পাশাপাশি চাদের আলোয় বালুকা বেলায় ঘোরার জন্য কক্সবাজারই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। এসবের পাশাপাশি বৌদ্ধ বিহার ও উপজাতীয় মানুষের জীবনাচার দেখা, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ ও জেলেদের সঙ্গে সময় কাটানো, বাখাইনদের হাতে তৈরি পণ্য কেনা, স্পিডবোটে জার্নি কিংবা মহেশখালীর পাহাড়ের উপরে ৬০০ বছরের বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির দর্শন, মহেশখালীর মজাদার পানের স্বাদ গ্রহণ-সবই সম্ভব একমাত্র কক্সবাজারে। এছাড়া কুতুবদিয়া ও সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ, পাহাড়, সমুদ্র, বন ও লেকের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের ‍সুযোগ শুধু কক্সবাজারেই আছে। এবার জেনে নিন তার কিছু তথ্য।

হিমছড়ি

 কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশের পিচঢালা মনোরম পথ ধরে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে প্রকৃতির এক বিচিত্র সৗন্দর্যে ভরপুর হিমছড়ি। সমুদ্রের পাড় ঘেঁষে নয়নাভিরাম ঝর্নাধারা আর পাহাড় ও সাগরের মিতালি দেখতে হলে আপনাকে হিমছড়ি আসতেই হবে।

বর্তমানে এখানে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। সুউচ্চ পাহাড় দেখে যাদের উপরে ওঠার সাধ তাদের জন্য রয়েছে বিশাল সিঁড়িপথ।

উপরে বিশ্রামাগার। এখানে প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ৪০ টাকা হিসেবে টিকেট কাটতে হয়। শীত মৌসুমে ৬০০-১২০০ টাকায় প্রতিদিন কক্সবাজার থেকে অসংখ্য চাঁদের গাড়ি কিংবা সিএনজি, অটোরিকশায় যাওয়া যায়। অফিসজনে ভাড়া পড়ে রিজার্ভ সিএনজি ৪০০-৬০০ টাকায়। একক বা রিজার্ভ করেও যাওয়া যায়।

তবে দল বেধেঁ গেলে খরচ কম পড়ে। হিমছড়িতে দাঁড়িয়ে দিগন্ত বিস্তৃত নীল সাগরের ঢেউ, পাহাড়ের ধার ঘেঁষে সারি সারি ঝাউবন আর নৈসর্গিক দৃশ্য দেখার জন্য হিমছড়ি আপনাকে সারা বছর স্বাগত জানাবে।

ইনানি বিচ

কক্সবাজারের অন্যতম সুন্দর সমুদ্র-সৈকত ইনানি। শহর থেকে ৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণ উখিয়া থানায় এবং হিমছড়ি থেকে প্রাং ২০-২১ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। যারা হিমছড়ি দেখতে যেতে চান তারা একই সঙ্গে ইনানির নৈসর্গিক দৃশ্যাবলীয়ও উপভোগ করতে পারেন।

বর্তমান এখানে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিংয়ের জন্যও নির্দিষ্ট ভাড়া প্রদান করতে হয়। এখানে থাকার জন্য রয়েছে দুটি ভালো মানের হোটেল। ইনানি সৈকতের পশ্চিমে মূল সমুদ্র-সৈকত। পূর্বদিকে সুউচ্চ পাহাড় ও সমতলভূমি। বিস্তৃত সৈকত অসংখ্য প্রবাল পাথরের সমারোহ।

অসংর্খ বন্যপ্রাণী ও পাখির সমারোহ রয়েছে এই এলাকাটিতে। বেশ কিছু মৎস্য হ্যাচারি আর স্থানীয় এক ধরনের ফল পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এখানের সুস্বাদু ডাব আর স্থানীয় ছুপড়ি দোকানের চা বাড়তি পাওনা।

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন

সাগর কন্যা সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের দক্ষিণের সর্বশেষ স্থলভাগ থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ প্রচুর নারিকেল গাছের বাগান আছে।

দ্বীপটির অপর নাম ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’। এর আয়তন ৩.৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই দ্বীপে নানা ধরনের পাথর পাওয়া যায়, যার মধ্যে সাদা পাথর ও কোরাল অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই দ্বীপে জীবন্ত কোরাল দেখতে পাওয়া যায়। এই দ্বীপে প্রায় ছয় হাজার মানুষের বাস। মাছ ধরা হলো এই দ্বীপের বাসিন্দাদের মূল পেশা। পর্যটকরা সাধারণত টেকনাফ থেকে লষ্ণ বা ট্রলারে করে এই দ্বীপে বেড়াতে যায়।

আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার, তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পশ এটি বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্য বর্ণনার ক্ষুদ্র প্রয়াস। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে জ্ঞান আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য অনুপম অবকাশ কেন্দ্র সেন্টমার্টিন। স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, প্রবাল বিশ্ব রহস্যের জীবন্ত পাঠশালায় পরিণত করেছে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন

কক্সবাজর জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। টেকনাফ থেকে ট্রলারে লষ্ণে কিংবা জাহাজে যেতে লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘন্টা। এর জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। নারিকেল, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো, ধান এই দ্বীপের প্রধান কৃষিজাত পণ্য।

আর অধিবাসীদের প্রায় সবারই পেশা মৎস্য শিকার। তবে ইদানীং পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে অনেকেই রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল কিংবা গ্রোসারি শপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। স্বল্প খরচে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

সেন্টমার্টিনের বিচে একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। ভাল করে জেনে নিন বিচের পানির নিচে শৈবালের পাথর আছে কি না। পা একবার কাটলে সাগরের পানিতে নামার সাধ মিটে যাবে। কারণ পা কাটলে নোনা পানির কারণে কাটা স্থানে প্রচুর জ্বালা-পোড়া করবে।

সেন্টমার্টিন

ছেঁড়া দ্বীপে যেতে চাইলে ট্রলারে যেতে হবে। যদি অতি মাত্রায় এডভেষ্ণার প্রিয় হোন তবে হেঁটে যাওয়ার দুঃসাহস করতে পারেন। ট্রলারে যেতে চাইলে ৬-৮ জনের জন্য ছোট ট্রলার ভাড়া করতে পারেন ৬০০-৮০০ টাকার মধ্যে।

ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়ার সময় অবশ্যই বার্মিজ স্যান্ডেল বা স্পন্চ স্যান্ডেল পড়ে যাবেন। না হলে ছেঁড়া দ্বীপে গিয়ে নড়তে পারবেন না। চাইলে গোসল করার প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারেন। আর বেশি সময় থাকার ইচ্ছে থাকলে বিশুদ্ধ পানির বোতল নিয়ে যেতে পারেন।

নীলগীরি

সমূদ্র সমতল থেকে ৩৪৬০ ফুট উপরে মেঘের রাজ্যে নীলগীরি-এর অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে ৪২ কিঃমিঃ দূরে নীলগীরি। চিম্বুক ছাড়িয়ে থানচী যাবার পথে পড়বে এই নীলগীরি। সকালটা বাদে সারাদিন নীলগীরি থাকে মেঘের ভিতর। এ এক আশ্চর্য অনূভুতি। আপনাকে ঘিরে ঘন মেঘ! মেঘের ভিতর আপনি। বেশ মজা না! দেখবেন- মেঘের অনেক রং! নীলগীরি-এর বিকাল আর সন্ধেটা খুব উপভোগ্য!

এখানেও একমাত্র থাকার ব্যবস্থা আর্মিদের চারটি কটেজ। প্রতিটি কটেজে আটজনের থাকার ব্যবস্থা আছে, ভাড়া ৫০০০/- থেকে ৭৫০০/- টাকা। তাঁবুতিও থাকতে পারবেন, ভাড়া ১৫০০/- থেকে ২৫০০/- টাকা। তবে অবশ্যই আপনাকে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে যেতে হবে। আর্মি রেফারেন্স থাকলে বুকিং পেতে সুবিধে হবে।

সাঙ্গু নদীতে নৌবিহার

স্বর্ণজাদি বৌদ্ধ মন্দির থেকে ফেরার সময় আপনাকে সাঙ্গু নদীর উপর দিয়ে ব্রিজ পেরিয়ে আসতে হবে। এই সময় আপনি বেবীট্যাক্সি বা জীপ দাড় করিয়ে নেমে পড়তে পারেন সাঙ্গু ( বা শঙ্খ) নদীর তীরে। নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত দেশী বোটে ঘন্টা প্রতি ভাড়া নিয়ে যতদূর খুশী চলে যান, আপনার পাশে পাহাড় আর নীচে নদীও চলতে থাকবে।

বগা লেক

বান্দরবান শহর থেকে ৩৪ কিঃমিঃ দূরে কঙ্কনছাড়া ঘাট। চিম্বুক থেকে ৮ কিঃমিঃ আগেই ওয়াই জাংশন থেকে বাম দিকে টার্ন নিতে হবে। কঙ্কনছাড়া ঘাট হতে ইঞ্জিন বোটে সাঙ্গু নদী দিয়ে দেড় ঘন্টার পথ স্রোতের বিপরীতে রুমা বাজার। আপনি চাইলে অতিরিক্ত আধা ঘন্টা (যাওয়া-আসা অতিরিক্ত এক ঘন্টা) ভ্রমণ করে অনেক ঊঁচু থেকে পড়া রিঝুক ঝর্ণাটাও এই ফাঁকে দেখে আসতে পারেন। রুমা থেকে ১৬ কিঃমিঃ দূরে পাহাড়ের উপরে আশ্চর্য এক জলাধার- বগা লেক।

রুমা বাজার থেকে বগা লেক পর্যন্ত দুভাবে যাওয়া যায়। ঝর্ণর পথ অনুসরণ করে হেঁটে পাড়ী দিতে পারেন এই পথ, যাকে বলে ঝিরি পথ। অথবা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ১১ কিঃমিঃ চাঁদের গাড়ীতে গিয়ে তারপর আরও ৭ কিঃমিঃ পাহাড়ী পথে হেঁটে যেতে পারেন বগা লেক (এই পথের দূরত্ব ১৮ কিঃমিঃ) আপনি যেই পথেই যান না কেন… শারীরিক ফিটনেস খুবই জরুরী এখানে।

বগা লেকে আসা আদৌ উচিত ছিল, কি ছিল না- মাঝপথে গিয়ে এমন চিন্তা করার সুযোগ নেই। রুমা বাজার থেকে গাইড পাবেন। আর্মিদের ক্যাম্পে গাইডের নামসহ আপনাদের নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। রেজিস্টার্ড গাইড ছাড়া সামনে এগুনো নিষিদ্ধ। গাইড-কে প্রতিদিনের জন্য দিতে হবে ৩০০/- থেকে ৬০০/- টাকা!

বগা লেক

ভূ-তাত্ত্বিকগণের মতে প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে মৃত আগ্নেয়গিরি-এর জ্বালামূখে সৃষ্টি হয়েছে এই বগা লেক। বগা লেকের উচ্চতা ১৭২০ ফিট ! এই স্থানটি মূলতঃ কেউক্রাডাং পাহাড়ে ওঠার বেজক্যাম্প। কেউক্রাডাং জয়ের অভিযাত্রীরা এখানেই অবস্থান করে থাকেন। স্থানীয় মারমাদের পরিচালনায় কাঠ-বাঁশের তৈরী রেস্ট হাউজ পেয়ে যাবেন সহজেই। ভাত (অথনা খিচুরী), চাল কুমড়ার বা শিম এর তরকারী আর ডিম- এই হচ্ছে মোটামুটি প্রতি বেলার ম্যেনু! ধান, সবজী সবকিছুই জুম চাষ থেকে পাওয়া !

বগা লেক থেকে ৪০ মিনিটের হাঁটা পথ পেড়িয়ে সুন্দর একটা ঝর্ণা (চিংড়ি ঝর্ণা) দেখে আসতে পারেন। আর কেউক্রাডাং চুড়ায় উঠতে হলে বগা লেক হতে আরও ৪-৫ ঘন্টার পাহাড়ী হাঁটা পথ। সে পথও মাড়িয়ে আসতে পারেন। শরীর পারমিট করলে ও মনের জোড় থাকলে বগা লেক থেকে পুরো এক দিনের হাঁটা পথ মাড়িয়ে দেখে আসতে পারেন কাইখ্যাং ঝর্ণা ও পুকুর।

 গিরি-সৈকতের সীতাকুন্ড

বান্দরনগরী চট্টগ্রামের শিলাঞ্চল খ্যাত উপজেলা সীতাকুন্ড। দেশের একমত্র শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও ছোট বড় অসেকগুলো শিল্পকারখানা নিয়ে সারাক্ষণই জমজমাট। এতকিছুর মাঝেও প্রকৃতি এখানে উদার। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়, অন্যদিকে সুবিশাল সমুদ্র, গিরি-সৈকতের এমন নিবিড় ঘনিষ্টতা সাধারণত দেশের অন্য কোথাও দেখা যায় না। দেশের অন্যতম বোটানিক্যাল গার্ডেন সীতাকুন্ড ইকো-পার্কের কথা না হয় বাদই দিলাম। এরপরেও এখানকার বেশ কিছু পর্যটন এলাকা দেশের বিভিন্ন স্থানের দর্শণার্থীদের কাছে উঠেছে যথেষ্ঠ জনপ্রিয়।

এখানে প্রতিনিয়ত দেশের নানা স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা ছুটে আসছে প্রকৃতির স্বাদ পেতে। কিন্তু সারকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তেমন আন্তরিক নয়। সরকারের আন্তরিকতা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে শুধু দেশেই নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবেও বিখ্যাত হয়ে উঠতে পারে এমন কিছু সম্ভাবনাময়ী পর্যটন এলাকা নিয়ে পরবর্তীতে আলোকপাত করা হলো।

 চন্দ্রনাথ পাহাড়

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত চন্দ্রনাথ পাহাড়। সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচু এ পাহাড়টিকে অনেকে আখ্যায়িত করেন বাংলাদেশের হিমালয় হিসেবে। এ পাহাড় এবং পাহাড়কে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকা দেশবাসীর কাছে পর্যটন কেন্দ্রের মর্যাদা পাচ্ছে। এর আরেক পরিচয় ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের তীর্থস্থান হিসাবে।

প্রতি বছর চৈত্র মাসে শিব চতুর্দশী মেলা উপলক্ষে এখানে ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাসহ সারাদেশ থেকে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন কলেজ, ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং ভ্রমণ পিপাসু সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে সবসময়। চলচিত্র নির্মাতারা আসেন ছবি নির্মাণের জন্য। এর পাহাড়, ঝরণা ও আশেপাশের দৃশ্যের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় সাধারণ মানুষ। পাহাড়ে আরোহন করে পশ্চিমে তাকালে দেখা যায় বিশাল সমুদ্র আর পূর্বে পাহাড়ের পর পাহাড়। আশেপাশের জনপদগুলোকে মনে হয় পটে আঁকা ছবি।

বাশঁবাড়ীয়া সমুদ্র-সৈকত

চট্টগ্রাম শহর থেকে ত্রিশ কিলোমিটার উত্তরে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত। দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ সমুদ্রর সীমাহীন জলরাশি আর সবুজ মাঠ, এমন দৃশ্যে হঠাৎ করেই মন কেমন হয়ে উঠে। অনেকের মাঝে থেকেও নিজেকে তখন একা মনে হয়। মনে হয় তার মত সুখী পৃথিবীতে আর কেউ নেই। এক অফুরন্ত ভাল লাগার স্থান বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকতের প্রতি স্থানীয় ও আশেপাশের মানুষের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এখানে সপরিবারে বেড়াতে এসে আলাড় হলো বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ বণিকের সাথে। আলোচনা প্রসঙ্গে জানান, এটি তার প্রিয় জায়গা। তিনি আরো মনে করেন বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র-সৈকতকে সরকার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে রাজস্ব আয় বাড়বে তেমনি মানুষের বিনোদনের সুবিধাও বাড়বে।