দৈত্যের বাগানে শিশু-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

যৌবনকালটা লালুর কেটেছে মামদোবাজিতে। মামদোভূতের ধড় আছে, মুড়ো নেই। লালুরও ছিল না। ধড় ছিল। সেটা দশাসই। ছেলেবেলা থেকেই তার চেহারাখানা বিশাল, দু-খানা বিপুল কাঁধের মধ্যে তার মুণ্ডুটা নিতান্তই ছোট দেখতে। মুখখানা ভালো নয়, কিন্তু সেই মুখে খুব সরলতা ছিল। ছিল নিষ্ঠুরতাও। মাথায় বুদ্ধি ছিল না। পনেরো–ষোলো বছর বয়সেও ক্লাস এইট-এর ছাত্র সে, তখন মদ খেতে… Continue reading দৈত্যের বাগানে শিশু-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তিন নম্বর বেঞ্চ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আচ্ছা, এটাই তো পূর্ব দিক থেকে তিন নম্বর বেঞ্চ? তাই-না? হ্যাঁ। এটাই তিন নম্বর বেঞ্চ। আর আপনিই কি মধু রায়? হ্যাঁ। তাহলে আমি ঠিক জায়গাতেই এসেছি। আমার নাম নব চৌধুরী। আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। তবে আসাটা উচিত হয়নি। কেন বলুন তো? আমি আজ সকালেই আপনার এস এম এস পেয়েছি। আপনি আমাকে এই জায়গায় দেখা করতে… Continue reading তিন নম্বর বেঞ্চ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হালদারগোষ্ঠী -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না । অবস্থাও সচ্ছল , মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে কিন্তু তবুও গোল বাধিল । কেননা , সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত , একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না ; যদি বা ঘটিত সেটাকে… Continue reading হালদারগোষ্ঠী -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অচ্ছুৎ – জসীম উদ্দীন

কাককে কেউই ভালবাসে না। তার গায়ের রং কালো। কথার সুরও কর্কশ। তাই বলেই কি কাককে অবহেলা করতে হবে? সকলেই কি সুন্দর? সকলের স্বরই কি মিষ্টি? যেখানে আবর্জনার মধ্যে দু’একটি খাবার জিনিস পড়ে থাকে, কাক তা খুঁটে খায়; ইঁদুর, আরশোলা, ব্যাঙ মরে গেলে কাক তা কুঁড়িয়ে খায়। মাটির উপর যে কত রকমের পোকা জন্মে। কাক সেগুলিও… Continue reading অচ্ছুৎ – জসীম উদ্দীন

জারিনা বিবি -তারাপদ রায়

পাঠিকা ঠাকুরানি নিজগুণে ক্ষমা করবেন। আপনি ঠিকই ধরেছেন, মাতালের গল্প ছাড়া আমার গতি নেই। মাতাল যেমন বারবার তার ঠেকে ফিরে যায়, তেমনি আমি ঠেকে গেলেই মাতালের গল্পে ফিরে আসি। এক মদ্যপ মধ্যরাতে রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিল, তার কপাল কেটে যায়। বাড়িতে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কপালের কাটা জায়গায় স্টিকিং প্লাস্টার লাগিয়ে সে শুতে যায়।… Continue reading জারিনা বিবি -তারাপদ রায়

শিকার কাহিনি -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মেয়েটিকে দেখলেই বোঝা যায়, সে আগে কখনও কলকাতায় আসেনি। হাওড়া স্টেশনে সকাল পৌনে দশটায় ভিড়ের মধ্যে সে স্পষ্টতই একা। একটা হলদে ডুরে তাঁতের শাড়ি পরা। কপালে লাল টিপ। সিঁথিতে অনেকখানি সিঁদুর। তার বয়েসে তেইশ চব্বিশের বেশি না। পাতলা দোহারা। একটু বেশি লম্বা বলে হিলহিলে ভাব আছে। তার চোখে প্রতিফলিত হচ্ছে প্রথম দেখা শহরের ছবি! অফিস… Continue reading শিকার কাহিনি -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মহামায়া-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ মহামায়া এবং রাজীবলোচন উভয়ে নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দিরে সাক্ষাৎ করিল। মহামায়া কোনো কথা না বলিয়া তাহার স্বাভাবিক গম্ভীর দৃষ্টি ঈষৎ ভর্ৎসনার ভাবে রাজীবের প্রতি নিক্ষেপ করিল। তাহার মর্ম এই, ‘তুমি কী সাহসে আজ অসময়ে আমাকে এখানে আহ্বান করিয়া আনিয়াছ। আমি এ পর্যন্ত তোমার সকল কথা শুনিয়া আসিতেছি বলিয়াই তোমার এতদূর স্পর্ধা বাড়িয়া… Continue reading মহামায়া-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানভঞ্জন-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ রমানাথ শীলের ত্রিতল অট্টালিকায় সর্বোচ্চ তলের ঘরে গোপীনাথ শীলের স্ত্রী গিরিবালা বাস করে। শয়নকক্ষের দক্ষিণদ্বারের সম্মুখে ফুলের টবে গুটিকতক বেলফুল এবং গোলাপফুলের গাছ – ছাতটি উচ্চ প্রাচীর দিয়া ঘেরা-বহির্দৃশ্য দেখিবার জন্য প্রাচীরের মাঝে মাঝে একটি করিয়া ইঁট ফাঁক দেওয়া আছে। শোবার ঘরে নানা বেশ এবং বিবেশ-বিশিষ্ট বিলাতি নারীমূর্তির বাঁধানো এন্গ্রেভিং টাঙানো রহিয়াছে ;… Continue reading মানভঞ্জন-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জোড়া পা-সমরেশ মজুমদার

কেউ একজন সাইকেলে এসে গাছতলায় বলে গেল, লাইনের পাশে বসে জগাদা বমি করছে, হেভি রক্ত! যে বলল সে আর দাঁড়াল না। গাছতলার আড্ডাটা থতমত খেয়ে গেল। পাঁচজন এ ওর মুখের দিকে তাকাল। কোনও কথা না। বলেই পাঁচজন একসঙ্গে দৌড়ল লাইনের দিকে। যারা দূর থেকে দেখল তারা ভাবল আজ আবার হুজ্জতি হবে। এ পাড়ার লোক এমন… Continue reading জোড়া পা-সমরেশ মজুমদার

নদীর দু-ধারে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কীসের আওয়াজ? বোমা, না গুলি? কত রাত কে জানে। সূর্য টুপ করে ডুবে যাওয়ার পরই আলোর সঙ্গে আর সম্পর্ক থাকে না। আকাশ দেখেও তো প্রহর বোঝার উপায় নেই, পূর্ণিমা আর অমাবস্যার সীমারেখা ঘুচে গেছে যে! আকাশেস্তরে-স্তরে কাজল মেঘ। মানুষ কত দিন, কত মাস মেঘের জন্য হা-পিত্যেশ করে তাকিয়ে থাকে। মেঘের জন্য কত প্রেম। কত গান।… Continue reading নদীর দু-ধারে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়