আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন? না তো! আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। একদম না? আমার কি আপনাকে চেনার কথা?হ্যাঁ। তাহলে চিনতে পারছি না কেন? মানুষ যদি কিছু ভুলে যেতে চায়, তাহলে সে নিজের মস্তিষ্ক থেকে ওই অনভিপ্রেত স্মৃতি মুছে ফেলতে পারে।তাই যদি হয়, তাহলে কি এটাও সম্ভব যে, মানুষ তার কিছু প্রিয় ভুলে-যাওয়া স্মৃতিকে ফের… Continue reading সুভাষিণী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
তারিণীখুড়ো ও ঐন্দ্রজালিক – সত্যজিৎ রায়
কই, আর সব কই? বললেন তারিণীখুড়ো। সব্বাইকে খবর দে, নইলে গল্প জমবে কী করে?………..আমি বললাম, খবর পাঠানো হয়ে গেছে খুড়ো। এই এসে পড়ল বলে!……….তা হলে এই ফাঁকে চা-টা বলে দে।………………………………..বললাম, তাও বলা হয়ে গেছে–দুধ চিনি ছাড়া চা। ভেরি গুড।………………মিনিট তিনেকের মধ্যেই ন্যাপলারা এসে পড়ল। বলল, ম্যাজিক দেখতে গিয়েছিল। অর্ণব দি গ্রেট। খুব ভাল লেগেছে।………..খুড়ো বলল,… Continue reading তারিণীখুড়ো ও ঐন্দ্রজালিক – সত্যজিৎ রায়
ধুমলগড়ের হাণ্টিং লজ – সত্যজিৎ রায়
মাথায় অনেকরকম উদ্ভট শখ চাপে মানুষের, বললেন তারিণীখুড়ো, কিন্তু আমার যেমন চেপেছে, তেমন কজনের চাপে জানি না।……..আমরা পাঁচজন ঘিরে বসেছি খুড়োকে। বাইরে এক পশলা বেশ ভাল বৃষ্টি হয়ে গিয়ে এখন সেটা অবিরাম ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়েছে। আষাঢ় মাস, তার উপর লোডশেডিং, টিম টিম করে দুটো মোমবাতি জ্বলছে, দেয়ালে আমাদের সকলের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড ছায়া পড়েছে–সব মিলিয়ে তারিণীখুড়োর… Continue reading ধুমলগড়ের হাণ্টিং লজ – সত্যজিৎ রায়
অশ্বডিম্ব রহস্য (শেষ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সক্কালে আমাকে ওঁর ড্রয়িংরুমে দেখে গোয়েন্দাপ্রবর মুচকি হেসে বললেন, কী জয়ন্ত? তোমাদের দৈনিক সত্যসেবক তো এইমাত্র পড়লুম, এক জব্বর অন্তর্তদন্তের সূত্রপাত করেছ। কিন্তু তুমিও যে পুলিশের থিয়োরি মেনে জগনকে হত্যাকারী শাব্যস্ত করবে, ভাবতেও পারিনি।ষষ্ঠীচরণ কফি দিয়ে গেল। কফিতে চুমুক দিয়ে বললুম, ঘটনাস্থলে আমিও ছিলুম। প্রাণগোপালবাবুকে যখন জীবিত দেখেছি তখন জগন সেখানে ছিল। ডিমচোরের ব্যাপারটা নিয়ে… Continue reading অশ্বডিম্ব রহস্য (শেষ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
অশ্বডিম্ব রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
ঘোড়া ডিম পেড়েছে–মানে ঘোড়ার ডিম? খি খি করে হাসতে লাগলেন কৃতান্তবাবু। প্রাইভেট গোয়েন্দা কে, কে, হালদার। গণেশ অ্যাভিনিউতে যাঁর রীতিমতো হালদার ডিটেকটিভ এজেন্সি আছে।ভদ্রলোক বিরক্ত হয়ে বললেন, এতে হাসির কী আছে? যা সত্যি তা সত্যি। গিয়ে দেখে আসুন আমার গ্যারাজে! কৃতান্তবাবু আরও খি খি করে বললেন, আপনার গ্যারাজে মোটর গাড়ির বদলে ঘোড়া থাকে বুঝি? থাকে।… Continue reading অশ্বডিম্ব রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
ডনের ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সেদিন সকালে চোখ বুজে একটা রোমাঞ্চকর গল্পের প্লট ভাবছি এবং টেবিলে কাগজ-কলমও তৈরি, হঠাৎ পিঠে চিমটি কাটল কেউ। উঃ বলে আর্তনাদ করে পিছনে ঘুরে দেখি, ডন দাঁড়িয়ে আছে। মুখে ধূর্ত এবং ক্রুর হাসির ছাপ। খাপ্পা হয়ে বললুম, হতভাগা ছেলে! দিলি তো মুডটা নষ্ট করে?…ডন আমার ভাগনে। মহা ধড়িবাজ বিচ্ছু ছেলে! তার মাথায় একটা কিছু খেয়াল… Continue reading ডনের ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
উলুখড়ের বিপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাবুদের নায়েব গিরিশ বসুর অন্তঃপুরে প্যারী বলিয়া একটি নূতন দাসী নিযুক্ত হইয়াছিল। তাহার বয়স অল্প; চরিত্র ভালো। দূর বিদেশ হইতে আসিয়া কিছুদিন কাজ করার পরেই একদিন সে বৃদ্ধ নায়েবের অনুরাগদৃষ্টি হইতে আত্মরক্ষার জন্য গৃহিণীর নিকট কাঁদিয়া গিয়া পড়িল। গৃহিণী কহিলেন, “বাছা, তুমি অন্য কোথাও যাও; তুমি ভালোমানুষের মেয়ে, এখানে থাকিলে তোমার সুবিধা হইবে না।” বলিয়া… Continue reading উলুখড়ের বিপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পূর্ণিমা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
আকাশে চাঁদ উঠিয়াছিল—ফাগুন মাসের পূর্ণিমার চাঁদ; কলিকাতা শহরের অসমতল মস্তকের উপর অজস্র কিরণজাল ঢালিয়া দিতেছিল। এই ফাগুন পূর্ণিমার চাঁদ সামান্য নয়; যুগে যুগে কত কবি ইহার মহিমা কীর্তন করিয়া গিয়াছেন। সুতরাং এই মহিমা সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। সদর রাস্তা ও গলির মোড়ের উপর একটি বাড়ি। তাহার ত্রিতলের একটি ঘরে বাড়ির কর্তা মুরারি চাটুয্যে খাটের উপর… Continue reading পূর্ণিমা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
দেখা হবে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
নকশি কাঁথার মতো বিচিত্র এক পৃথিবী ছিল আমাদের শৈশবে। এখনও পায়ের তলায় পৃথিবীর মাটি, চারিদিকে গাছপালা, মাথার ওপর আকাশ। বুক ভরে শ্বাস টেনে দেখি। না, শীতের সকালে কুয়াশায় ভেজা বাগান থেকে যে রহস্যময় বন্য গন্ধটি পাওয়া যেত তা আর পাওয়া যায় না। আমাদের সাঁওতাল মালি বিকেলের দিকে পাতা পুড়িয়ে আগুন জ্বালত। সেই গন্ধ কতবার আমাকে… Continue reading দেখা হবে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ঠাকুরদার সিন্দুক রহস্য (শেষ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
কর্নেল বললেন,–ইঞ্জিনিয়ার মিঃ সেনের জিপগাড়ি। চণ্ডী গাড়িটা নিয়ে যাচ্ছিল। যাই হোক, বোঝা যাচ্ছে, আমাকে তো বটেই, আপনাকেও শত্রুপক্ষ চেনে। এটা একটা ভাববার কথা। তো ওসব পরে ভাবা যাবে। আপনি বাথরুমে ঢুকে অন্তত মুখহাত ধুয়ে ফেলুন। গরমজলের ব্যবস্থা আছে। আপনার মুখে এখনও ছাইয়ের ময়লা লেগে আছে। রুমালে চিতার ছাই মোছা যায় না। আর কপালের লাল রংগুলোও… Continue reading ঠাকুরদার সিন্দুক রহস্য (শেষ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ