প্রফেসর শঙ্কু ও রক্ত মৎস রহস্য (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

আমাদের হোটেলের ম্যানেজার একজন সুইস মহিলা। তাকে বলে দিলাম আমাদের ঘরগুলো যেন অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া না হয়। এই ভদ্রমহিলাটির মতো এমন কৌতুহলমুক্ত মানুষ আমি আর দেখিনি। আমাদের এত উত্তেজনা, এত জল্পনাকল্পনা, এমনকী রক্তমৎস্যের গতরাত্রের আবিভাবের বর্ণনাও যেন তাঁকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করল না, বা তাঁর কৌতুহল উদ্রেক করল না। তিনি কেবল বললেন—যে কদিন থেকেছ তার… Continue reading প্রফেসর শঙ্কু ও রক্ত মৎস রহস্য (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কু ও রক্ত মৎস রহস্য – সত্যজিৎ রায়

গত ক’দিনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি, তাই আর ডায়রি লিখিনি। আজ একটা স্মরণীয় দিন, কারণ আজ আমার লিঙ্গুয়াগ্রাফ যন্ত্রটা তৈরি করা শেষ হয়েছে। এ যন্ত্রে যে কোনও ভাষার কথা রেকর্ড হয়ে গিয়ে তিন মিনিটের মধ্যে তার বাংলা অনুবাদ ছাপা হয়ে বেরিয়ে আসে। জানোয়ারের ভাষার কোনও মানে আছে কি না সেটা জানার একটা বিশেষ আগ্রহ ছিল। আজ… Continue reading প্রফেসর শঙ্কু ও রক্ত মৎস রহস্য – সত্যজিৎ রায়

কানাইয়ের কথা (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

আচ্ছা, এবার আরেকটা কথা বলি–সেটাও হঠাৎ মনে পড়ল। রূপসার রাজা তার ছেলেকে বন্দি করে রেখেছে প্রাসাদের ছাতের কোণে একটা ঘরে। বাবাকে হটিয়ে ছেলে সিংহাসনে না বসা অবধি রূপসার কোনও গতি নেই; শুখনাই অসুখে সারা দেশ ছারখার হয়ে যাবে। রাজাকে এক সদাগর এক লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে একটা পান্না বিক্রি করে আজ থেকে সাত বছর আগে। এই… Continue reading কানাইয়ের কথা (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

কানাইয়ের কথা – সত্যজিৎ রায়

নসু কবরেজ প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে বলরামের নাড়ি ধরে বসে রইলেন। শিয়রের কাছে দাঁড়িয়ে বলরামের সতেরো বছরের ছেলে কানাই কবরেজের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে। আজ দশদিন হল তার বাপের অসুখ। কোনও কিছু খাবারে তার রুচি নেই; একটানা দশদিন না খেয়ে সে শুকিয়ে গেছে, তার চোখ কোটরে বসে গেছে, তার সর্বাঙ্গ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তিন ক্রোশ… Continue reading কানাইয়ের কথা – সত্যজিৎ রায়

চালতা গাছের মাঁচা – সত্যেন সেন

মানুষ থাকে মাটির উপর ঘরে কি দালানে। আর পাখিরা থাকে গাছের উপর। এইটাই নিয়ম। শুধু এখন বলে নয়, চিরকালই এই নিয়ম চলে আসছে। তবু মানুষের বাচ্চা হয়েও ওরা দু’ভাই গাছের আগায় বাসা বাধল। যে দেখে সে-ই হাসে। এমন কাণ্ড কেউ কোন দিন দেখেছে। দু’টি ভাই- বল্টু আর পল্টু। ওদের নিত্য নতুন খেলা। এসব খেলার নামও… Continue reading চালতা গাছের মাঁচা – সত্যেন সেন

কাফে-দে-জেনি – সৈয়দ মুজতবা আলী

রাত বারোটায় প্যারিসে থিয়েটার থেকে বেরিয়ে ভাবলুম যাই কোথায়? হোটেলে? তাও কি হয়! খাস প্যারিসের বাসিন্দা ছাড়া আর তো কেউ কখনো তিনটের আগে শুতে যায় না। আমার এক রুশ বন্ধুকে প্যারিসে সকাল হওয়ার আগে কখনও বাড়ি ফিরতে দেখিনি। রাত তিনটে-চারটের সময় যদি বলতুম, “রবের, চল, বাড়ি যাই” সে বেড়ালছানার মত আমার কোটের আস্তিন আঁকড়ে ধরে… Continue reading কাফে-দে-জেনি – সৈয়দ মুজতবা আলী

প্রবাস বন্ধু – সৈয়দ মুজতবা আলী

বাসা পেলুম কাবুল থেকে আড়াই মাইল দূরে খাজামােল্লা গ্রামে। বাসার সঙ্গে সঙ্গে চাকরও পেলুম। অধ্যক্ষ জিরার জাতে ফরাসি। কাজেই কায়দামাফিক আলাপ করিয়ে দিয়ে বললেন, এর নাম আবদুর রহমান। আপনার সব কাজ করে দেবে- জুতাে বুরুশ থেকে খুনখারাবি।’ অর্থাৎ ইনি ‘হরফন-মৌলা’ বা ‘সকল কাজের কাজি। জিরার সায়েব কাজের লােক, অর্থাৎ সমস্ত দিন কোনাে-না-কোনাে মন্ত্রীর দপ্তরে ঝগড়া-বচসা… Continue reading প্রবাস বন্ধু – সৈয়দ মুজতবা আলী

জরিমানা – সৈয়দ মুজতবা আলী

তখন ইংরেজ আমল। ঢাকা এক ছোট মফস্বল শহর। কাজ-কর্ম-চাকরি বাকরি সব কিছুই কলকাতায়। বিয়ের বাজার, রোগীর চিকিৎসা, ছেলের মুসলমানীর দাওয়াতিদের খাওয়ানোর বাজার-সদাইয়ের জন্য এমনকি ধনী লোকের মেয়ের নাক-ফোড়ানির উৎসব বা পুতুলের বিয়ের ‘লওয়াজিমা’র ফর্দ নিয়েও ছুটতে হতো কলকাতায়। তো, এক কৃপণ গেরস্ত মেয়ের বিয়ের বাজার করতে কলকাতায় যাচ্ছে। তখন কলকাতায় যেতে হতো নারায়ণগঞ্জ বা কার্তিকপুর… Continue reading জরিমানা – সৈয়দ মুজতবা আলী

বিধবা-বিবাহ – সৈয়দ মুজতবা আলী

আমাদের পুজোসংখ্যা ইংরেজদের ক্রিসমাস স্পেশালের অনুকরণে জন্মলাভ করেছিল কি না সে-কথা পণ্ডিতেরা বলতে পারবেন, কিন্তু একথা ঠিক যে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ইংরিজি স্পেশালের চেয়ে অনেক বেশি তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যাচ্ছে। ক্রিসমাস সংখ্যাগুলোতে থাকে অসংখ্য ছেলেমানুষি গল্প আর এন্তার গাঁজা-বছরের আর এগারো মাস ইংরেজ হাঁড়িপানা মুখ করে থাকে বলে ঐ একটা মাস সে মুখের সব… Continue reading বিধবা-বিবাহ – সৈয়দ মুজতবা আলী

ভুল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আগস্ট মাসের এক সকালবেলায় বিধুভূষণ নামক চল্লিশ–পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সের এক ভ ভদ্রলোক অফিসে যাওয়ার জন্য কলেজ স্ট্রিটের এক বাসস্টপে দাঁড়িয়েছিলেন। রাস্তা গিলতে গিলতে দোতলা বাসগুলো একটার–পর–একটা আসছিল। বিধুভূষণ সকলের মতো হাত তুলছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত বোঝাই ছিল বলে বাসগুলো থামল না। ড্রাইভার হাত নেড়ে পরের বাস–এ ইঙ্গিত করে গেল। এইভাবে পরপর তিনবার। বিধুভূষণ একবার আড়চোখে দেখে… Continue reading ভুল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়