মধুমতী নদীর ওপরেই দোকানের প্রকাণ্ড কোঠাবাড়িটা।রাধামোহন নদীর দিকে বারান্দাতে বসে একটা বই হাতে নিয়ে পড়বার চেষ্টা করল বটে, কিন্তু বইয়ে মন বসাতে পারলে না।কেমন সুন্দর ছোট্ট গ্রাম্য নদীটি, ওপারে বাঁশবন, আমবন বহুকালের। ফলের বাগান যেন প্রাচীন অরণ্যে পরিণত হয়েছে। একা এত বড়ো বাড়িতে থাকতে বেশ লাগে। খুব নির্জন, পড়াশুনো করবার পক্ষে কিংবা লেখা-টেখার পক্ষে বেশ… Continue reading পৈতৃক ভিটা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
অভিশপ্ত – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
আমার জীবনে সেই একটা অদ্ভুত ব্যাপার সেবার ঘটেছিল।…….বছর তিনেক আগেকার কথা। আমাকে বরিশালের ওধারে যেতে হয়েছিল একটা কাজে। ও অঞ্চলের একটা গঞ্জ থেকে বেলা প্রায় বারোটার সময় নৌকোয় উঠলুম। আমার সঙ্গে এক নৌকোয় বরিশালের এক ভদ্রলোক ছিলেন। গল্পে-গুজবে সময় কাটতে লাগল। সময়টা পুজোর পরেই। দিনমানটা মেঘলা মেঘলা কেটে গেল। মাঝে মাঝে টিপ টিপ করে বৃষ্টিও… Continue reading অভিশপ্ত – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সদানন্দের খুদে জগৎ – সত্যজিৎ রায়
আজ আমার মনটা বেশ খুশি-খুশি, তাই ভাবছি এইবেলা তোমাদের সব ব্যাপারটা বলে ফেলি। আমি জানি তোমরা বিশ্বাস করবে। তোমরা তো আর এদের মতো নও। এরা বিশ্বাস করে না। এরা। ভাবে আমার সব কথাই বুঝি মিথ্যে আর বানানো। আমি তাই আর এদের সঙ্গে কথাই বলি না। এখন দুপুর, তাই এরা কেউ আমার ঘরে নেই। বিকেল হলেই… Continue reading সদানন্দের খুদে জগৎ – সত্যজিৎ রায়
তালনবমী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঝমঝম বর্ষা।……ভাদ্র মাসের দিন। আজ দিন পনরো ধরে বর্ষা নেমেছে, তার আর বিরামও নেই, বিশ্রামও নেই। ক্ষুদিরাম ভট্চাজের বাড়ী দু’দিন হাঁড়ি চড়ে নি। ক্ষুদিরাম সামান্য আয়ের গৃহস্থ। জমিজমার সামান্য কিছু আয় এবং দু-চার ঘর শিষ্য-যজমানের বাড়ী ঘুরে-ঘুরে কায়ক্লেশে সংসার চলে। এই ভীষণ বর্ষায় গ্রামের কত গৃহস্থের বাড়ীতেই পুত্র-কন্যা অনাহারে আছে,–ক্ষুদিরাম তো সামান্য গৃহস্থ মাত্র !… Continue reading তালনবমী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সবুজ মানুষ – সত্যজিৎ রায়
আমি যার কথা লিখতে যাচ্ছি তার সঙ্গে সবুজ মানুষের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, তা আমার সঠিক জানা নেই।সে নিজে পৃথিবীরই মানুষ, এবং আমারই একজন বিশিষ্ট বন্ধু–স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক–প্রফেসর নারায়ণ ভাণ্ডারকার। ভাণ্ডারকারের সঙ্গে আমার পরিচয় দশ বছরের–এবং এই দশ বছরে আমি বুঝেছি যে, তার মতো শান্ত অথচ সজীব, অমায়িক অথচ বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ খুব কমই আছে।… Continue reading সবুজ মানুষ – সত্যজিৎ রায়
গুপী গাইন ও বাঘা বাইন – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
তোমরা গান গাইতে পার? আমি একজন লোকের কথা বলব, সে একটা গান গাইতে পারত। তার নাম ছিল গুপি কাইন, তার বাবার নাম ছিল কানু কাইন। তার একটা মুদীর দোকান ছিল। গুপি কিনা একটা গান গাইতে পারত, আর সে গ্রামের আর কেউ কিছু গাইতে পারত না, তাই তারা তাকে খাতির ক’রে বলত, গুপি ‘গাইন’। গুপি যদিও… Continue reading গুপী গাইন ও বাঘা বাইন – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
নীলকমল আর লালকমল – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
এক রাজার দুই রাণী; তাহার এক রাণী রাক্ষসী! কিন্তু, এ কথা কেহই জানে না।দুই রাণীর দুই ছেলে;-লক্ষ্মী মানুষ-রাণীর ছেলে কুসুম, আর রাক্ষসী-রাণীর ছেলে অজিত। অজিত কুসুম দুই ভাই গলাগলি। রাক্ষসী-রাণীর মনে কাল, রাক্ষসী-রাণীর জিভে লাল। রাক্ষসী কি তাহা দেখিতে পারে?-কবে সতীনের ছেলের কচি কচি হাড়-মাংসে ঝোল অম্বল বাঁধিয়া খাইবে;-তা পেটের দুষ্ট ছেলে সতীন-পুতের সাথ ছাড়ে… Continue reading নীলকমল আর লালকমল – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
আশ্চর্য প্রদীপ – সমরেশ মজুমদার
ঠা-ঠা রোদ্দুরে ছেলেটা হাঁটছিল। শামবাটির খাল পেরিয়ে রাস্তাটা দু-দিকে চিরে গেছে। লাল ধুলো এখন উড়ছে না, এইসময় বাতাস বড় দুর্বল থাকে। তেলে গন্ধ-ওঠা গামছাটা মাথা থেকে খুলে ও শরীরের ঘাম মুছল। এটা ও কখনই করতে চায় না, কারণ শরীরের ঘাম কাপড়ে মুছলে সেটা কালো হবেই আর ঘামে শরীরের রং থাকে। বাবুদের বেলায় ঠিক উলটোটা হয়।… Continue reading আশ্চর্য প্রদীপ – সমরেশ মজুমদার
খুকীর কাণ্ড – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
হরি মুখুয্যের মেয়ে উমা কিছু খায় না। না-খাইয়া রোগা হইয়া পড়িয়াছে বড়।….উমার বয়স এই মোটে চার। কিন্তু অমন দুষ্টু মেয়ে পাড়া খুঁজিয়া আর একটি বাহির করো তো দেখি!… তাহার মা সকালে দুধ খাওয়াতে বসিয়া কত ভুলায়, কত গল্প করে, সব মিথ্যা হয়। দুধের বাটিকে সে বাঘের মতো ভয় করে—মায়ের হাতে দুধের বাটি দেখিলেই সোজা একদিকে… Continue reading খুকীর কাণ্ড – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কঙ্কাল – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমরা তিন বাল্যসঙ্গী যে ঘরে শয়ন করিতাম তাহার পাশের ঘরের দেয়ালে একটি আস্ত নরকঙ্কাল ঝুলানো থাকিত। রাত্রে বাতাসে তাহার হাড়গুলা খট্খট্ শব্দ করিয়া নড়িত। দিনের বেলায় আমাদিগকে সেই হাড় নাড়িতে হইত। আমরা তখন পণ্ডিত-মহাশয়ের নিকট মেঘনাদবধ এবং ক্যাম্বেল স্কুলের এক ছাত্রের কাছে অস্থিবিদ্যা পড়িতাম। আমাদের অভিভাবকের ইচ্ছা ছিল, আমাদিগকে সহসা সর্ববিদ্যায় পারদর্শী করিয়া তুলিবেন। তাঁহার… Continue reading কঙ্কাল – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর