সৌদামিনী মালো – শওকত ওসমান

একটু দাঁড়াও।আমার বন্ধু নাসির মােল্লা কোর্টের প্রাঙ্গণে হাঁটতে হাঁটতে হাতে হেঁচকা টান দিয়ে বললে।কী ব্যাপার? ব্যাপার আছে। কোর্টের পেছনে একটা শব্দ শােনা যাচ্ছে। দেখে আসা যাক।আমার তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কথা। খাজনাসংক্রান্ত একটা মামলা ছিল, তার পরের দিন। নচেৎ এখানে এই টন্নি-দালাল উকিল-মােক্তারের দঙ্গলে আর এক তিল দাঁড়াতে মন চায় না। কিন্তু আমার মামলায় তদবির, যুক্তি-পরামর্শ… Continue reading সৌদামিনী মালো – শওকত ওসমান

বেঁচে থাকো সর্দি কাশি – শেষ -পর্ব – সৈয়দ মুজতবা আলী

বেঁচে থাকো সর্দি কাশি – শেষ -পর্ব ফিরে এসে কোনো ভূমিকা না দিয়েই বললেন, ‘ম্যুনিকে নাবলুম এক বস্ত্রে। এমন ভান করে কেটে পড়লুম যাতে মেয়েটি মনে করে আমি ভ্যান থেকে মাল নামাতে গেলুম। যখন ‘গুড বাই’ বলে হাত বাড়ালুম তখন সে একবার আমার দিকে তাকিয়েছিল। প্রেমে পড়লে নাকি মানুষের পাখা গজায়–হবেও বা, কিন্তু একথা নিশ্চয়… Continue reading বেঁচে থাকো সর্দি কাশি – শেষ -পর্ব – সৈয়দ মুজতবা আলী

বেঁচে থাকো সর্দি কাশি – সৈয়দ মুজতবা আলী

ভয়ঙ্কর সর্দি হয়েছে। নাক দিয়ে যা জল বেরচ্ছে তা সামলানো রুমালের কর্ম নয়। ডবল সাইজের বিছানার চাদর নিয়ে আগুনের কাছে বসেছি। হাঁচছি আর নাক ঝাড়ছি, নাক ঝাড়ছি, আর হাঁচছি। বিছানার চাদরের অর্ধেকখানা হয়ে এসেছে, এখন বেছে বেছে শুকনো জায়গা বের করতে হচ্ছে। শীতের দেশ, দোর জানালা বন্ধ, কিচ্ছু খোলার উপায় নেই। জানালা খুললে মনে হয়… Continue reading বেঁচে থাকো সর্দি কাশি – সৈয়দ মুজতবা আলী

মার্চেন্ট অব ভেনিস – উইলিয়াম শেক্সপিয়ার

ইতালির ভেনিস শহরে ছিল এক সওদাগর। নাম তার অ্যান্টনিও। সদা হাসিখুশি, বন্ধুবৎসল। বিপদ-আপদে অভাবগ্রস্তরা ছুটে আসে তার কাছে। মুক্তহস্ত অ্যান্টনিও কাকেও শূন্যহাতে ফেরায় না চারদিকে তার নামের প্রশংসা।কিন্তু অ্যান্টনিওর এই যশ-প্রতিপত্তির ধাক্কা গিয়ে লাগে আর একটি অন্তরে। সেও একজন ব্যবসায়ী। তবে সুদের ব্যবসা করে। কাউকে বেকায়দায় পেলে চড়া সুদে টাকা ধার দেয়। ধার পরিশোধের সময়… Continue reading মার্চেন্ট অব ভেনিস – উইলিয়াম শেক্সপিয়ার

ক্ষীরের পুতুল – শেষ -পর্ব – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এমনি করে নিত্য নতুন আমোদে, দেবতার মন্দিরে পূজা দিয়ে, মা কালীর পায়ে বলি দিয়ে দেখতে দেখতে দশ বৎসর কেটে গেল।রাজা বানরকে ডেকে বললেন– দশ বৎসর তো পূর্ণ হল এখন ছেলে দেখাও! বানর বললে— মহারাজ, আগে ছেলের বৌ ঠিক কর, তারপর তার বিয়ে দাও, তারপর মুখ দেখো! এখন ছেলে দেখলে অন্ধ হবে।রাজা বানরের কথায় দেশ-বিদেশে ভাট… Continue reading ক্ষীরের পুতুল – শেষ -পর্ব – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ক্ষীরের পুতুল – পর্ব -২ – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এমনি করে রাত কাটল। ছোটোরানীর সোনার পালঙ্কে, ফুলের বিছানায়, রাজার পাশে রাত কাটল; আর বড়োরানীর জলে ঝড়ে, ভাঙা ঘরে, ছেঁড়া কাঁথায় রাত কাটল।সকাল হল। রাজবাড়িতে প্রহরীখানায় প্রহর বাজল, নাকরাখানায় নবৎ বাজল, রাজারানীর ঘুম ভাঙল।রাজা সোনার ভৃঙ্গারে স্ফটিকজলে মুখ ধুয়ে, রাজবেশ অঙ্গে পরে, রাজ-দরবারে নেবে গেলেন। আর ছোটোরানী সোনার পালঙ্কে, ফুলের বিছানায়, ফুলের পাখায় হাওয়া খেতে… Continue reading ক্ষীরের পুতুল – পর্ব -২ – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ক্ষীরের পুতুল – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক রাজার দুই রানী, দুও আর সুও। রাজবাড়িতে সুওরানীর বড়ো আদর, বড়ো যত্ন। সুওরানী সাতমহল বাড়িতে থাকেন। সাতশো দাসী তাঁর সেবা করে, পা ধোয়ায়, আলতা পরায়, চুল বাঁধে। সাত মালঞ্চের সাত সাজি ফুল, সেই ফুলে সুওরানী মালা গাঁথেন। সাত সিন্দুক-ভরা সাত-রাজার-ধন মানিকের গহনা, সেই গহনা অঙ্গে পরেন। সুওরানী রাজার প্রাণ। আর দুওরানী— বড়োরানী, তাঁর বড়ো… Continue reading ক্ষীরের পুতুল – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শিশুর সরলতা – লিও টলস্টয়

সেবার বড়দিন পর্ব বেশ আগে শুরু হয়েছে। বাগানে তখনও তুষার জমে, গ্রামের রাস্তায় তুষার গলে পানির স্রোত বয়ে যায়। দুটি বাড়ির মধ্যে সরু একটি গলি। সেখানে দেখা হল দুবাড়ির দুটি মেয়ের। বাড়ির ময়লা পানি জমে ছোট একটা ডোবার মতো হয়েছে গলিটায়। একটা মেয়ে খুবই ছোট, আর আরেকটি একটু বড়। দুজনার মা-ই বেশ নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দিয়েছে… Continue reading শিশুর সরলতা – লিও টলস্টয়

বর্ণান্ধ – সত্যজিৎ রায়

দুষ্প্রাপ্য বইখানাকে বগলে গুঁজে পুরনো বইয়ের দোকানের ভ্যাপসা মলিন পরিবেশ থেকে আমি বাইরের রাস্তায় বেরিয়ে এলাম। অগস্ট মাস। বিষণ্ণ গুমোট সন্ধেগুলি যেন এই সময়ে একটা ভারী বোঝার মতো মানুষের বুকের উপরে চেপে বসে। কিন্তু বাড়ির পথে বেশ ফুর্তি নিয়েই হাঁটছিলাম আমি। আগের দিন আমার মনটা বিশেষ ভাল ছিল না। বুঝতে পারছিলাম যে, ইতিমধ্যে সেই মনমরা… Continue reading বর্ণান্ধ – সত্যজিৎ রায়

সেপ্টোপাসের খিদে – সত্যজিৎ রায়

কড়া নাড়ার আওয়াজ পেয়ে আপনা থেকেই মুখ থেকে একটা বিরক্তিসূচক শব্দ বেরিয়ে পড়ল।বিকেল থেকে এই নিয়ে চারবার হল; মানুষে কাজ করে কী করে? কার্তিকটাও সেই যে বাজারে গেছে আর ফেরার নামটি নেই। লেখাটা বন্ধ করে নিজেকেই উঠে যেতে হল।দরজা খুলে আমি তো অবাক! আরে, এ যে কান্তিবাবু! বললাম, কী আশ্চর্য! আসুন, আসুন…চিনতে পেরেছ?প্রায় চেনা যায়… Continue reading সেপ্টোপাসের খিদে – সত্যজিৎ রায়