দিঘির জলে কার ছায়া গো শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

মুহিব এখন আছে তার অতি পছন্দের একজন মানুষের সঙ্গে। তার নাম নিলি। এর মধ্যে আমি উপস্থিত হব না।নিলি বলল, আমি একটা ভুল করেছি। এত সুন্দর নাটক হয়েছে। আপনার উচিত ছিল লীলাকে পাশে নিয়ে দেখা। আমি একটা তুচ্ছ অজুহাতে আপনাকে আটকে রেখেছি। সরি। আমি ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বলছি। আপনি লীলার কাছে যান। বিশাল একটা ফুলের… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

আহসান বলল, আমার ধারণা আমি কারণটা জানি। নিম্নবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত যুবকদের নিজেকে বিশেষভাবে প্রকাশ করার তেমন সুবিধা নেই। সে ব্র্যান্ডের শার্ট কিনতে পারবে না। নতুন মডেলের গাড়ি কিনতে পারবে না। ইচ্ছা করলেই বান্ধবীকে নিয়ে দামি কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যেতে পারবে না। তাকে খুঁজে বের করতে হয় তার আয়ত্ত আছে এমন কিছু। যেমন— মিথ্যাদিবস, কথা বন্ধ… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

মুহিব বলল, লীলা ভালো আছে। ওর দুই ময়ূর চিত্রা এবং মিত্রা ভালো আছে। শুধু তার বাঁদরটার শরীর খারাপ করেছে। কাশি হয়েছে। মানুষের মতো খক খক করে কাশছে। লীলার বাবা শওকত সাহেব কলার ভেতর হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দানা ভরে তাকে খেতে দিচ্ছেন। তার চিকিৎসা চলছে। নিলি বলল, মুহিব, আপনি বসুন তো। কথা না বলে চুপ করে বসুন।… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

অশ্রুকে সাথে নিয়ে আসিস। সেও যেন ওসি সাহেবের পায়ে ধরে। এক লাখ বিশ থেকে দশ চলে গেল। বাকি থাকল এক লাখ দশ। দশ দিবি উকিলকে। হমিদুজ্জামান নামে আমার পরিচিত এক ক্রিমিনাল লইয়ার আছে। ঘাগু লোক। ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি, তার সঙ্গে দেখা করবি।আচ্ছা। এক লাখ টাকা নিয়ে ঐ মেয়েটার সঙ্গে দেখা করবি। তোর মাকে সাথে নিয়ে… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ

নিলি বলল, মানুষের চোখের দৃষ্টি হচ্ছে Convergent, দুই চোখের দৃষ্টি একবিন্দুতে মিলে। যদি ইচ্ছা করে মিলতে না দেয়া হয়, তাহলেই চোখে মায়া চলে আসে। আপনি এখন পেইন্টিং-এর দিকে তাকিয়ে থাকুন, তবে ছবি দেখবেন না। ডান চোখে দেখার চেষ্টা করেন পেইন্টিং-এর ডান ফ্রেম। বাঁ চোখে বা ফ্রেম। একটু চেষ্টা করলেই হয়ে যাবে। এই তো হয়েছে। এবং… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ

টেনশনের ব্যাপার হচ্ছে, দৃশ্যটা আমার পছন্দ হচ্ছিল না। কাশি বান্ধবীর দৃষ্টি আকর্ষণ কেন করব? আমি তখন ডিরেক্টর সাহেবকে বললাম, কাশি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ না করে আমি যদি নিচু গলায় এক লাইন গান করি–আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে– তাহলে কেমন হয় স্যার? আমি গান গাইতে পারি। ডিরেক্টর স্যার বললেন, খুবই ভালো হয়। ম্যাডাম নিলি… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ

নিলি বলল, আমি বিরক্ত হতে পছন্দ করি। আপনি আরেকটা সিগারেট ধরাবেন, তার ধোয়া আমার দিকে আসবে, আমি বিরক্ত হব। মজা না? নিলি আবারো খিলখিল করে হাসছে। হাসতে হাসতেই সে উঠে গেল। ডিরেক্টর সাহেব হাতের ইশারায় ডাকছেন। শট বুঝিয়ে দেবেন।ডাক্তার খালেকের চেম্বারে মুহিব বোনকে নিয়ে বসে আছে। বেচারি ভয়ে অস্থির। সে দুবার ফিসফিস করে বলল, ভাইয়া,… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ

বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মুহিব একটা চায়ের দোকানে অশ্রিয় নিয়েছে। পকেটে। টাকা থাকলে এককাপ চা খাওয়া যেত। হিমরা এমন অবস্থায় চা খেতে ইচ্ছা হলে। বলত—আছেন কোনো সহৃদয়ভাই যে একজন তৃষ্ণার্তকে চা খাওয়াবেন? এধরনের কথা বলা সম্ভব হচ্ছেনা। মুহিববৃষ্টি থামার জন্যে অপেক্ষা করছে।মুহিবের মোবাইল আবার বেজে উঠেছে লীলার টেলিফোন মুহিব সেট বন্ধ করল চারপাশে একগাদা লোক নিয়ে… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ

দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ১ হুমায়ূন  আহমেদ

উৎসর্গ কন্যা লীলাবতীকে এই উপন্যাসের নায়িকা লীলা। আমার মেয়ে লীলাবতীর নামে নাম। লীলাবতী কোনোদিন বড় হবে না। আমি কল্পনায় তাকে বড় করেছি। চেষ্টা করেছি ভালোবাসায় মাখামাখি একটি জীবন তাকে দিতে। মা লীলাবতী! নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে। ভালোবাসা কী? Theory of relativity has nothing to do with it.–আইনস্টাইন Soft version of sexual… Continue reading দিঘির জলে কার ছায়া গো পর্ব – ১ হুমায়ূন  আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে শেষ-খন্ড

কথা জড়ালে কিছু যায় আসে না। কি বলছি তা বুঝতে পারছ তো? বুঝতে পারলেই হল। একটু সরে বস। হঠাৎ করে বমি-টমি হয়ে যেতে পারে। কি যেন তোমাকে বলছিলাম—কি পরিমাণ ঘৃণা তোমার ফুপুকে করি সেটা ব্যাখ্যা করছিলাম। উদাহরণ দিলে তুমি বুঝবে। উদাহরণ না দিলে বুঝবে না। চার বছর আগের কথা। অফিসে গেছি, রিনকি কাঁদতে কাঁদতে টেলিফোন… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে শেষ-খন্ড