সোমবার ভোর নটায় ডক্টর ওয়ারডিংটন, ফুড টেকনলজির শর্ট কোর্স উদ্বোধন করলেন। সব মিলিয়ে পঁয়ত্রিশ জন ছাত্র। অর্ধেকের বেশি হচ্ছে বিদেশী। মেয়েদের সংখ্যা সাত। তাদের মধ্যে তিন জন বিদেশী। রেবেকা, শ্রীলঙ্কার আরিয়ে রত্ন এবং রেড চায়নার মি ইন। মি ইন খুব সিরিয়াস। ড. ওয়ারডিংটনের উদ্বোধনী বক্তৃতাও সে নোট করতে লাগল। ড. ওয়ারডিংটন প্রথমে কী-একটা রসিকতা করলেন।… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৫
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৪
চোখ মেলে রেবেকা বুঝতেই পারল না সে কোথায়। তার চারদিকে অপরিচিত গন্ধ। অপরিচিত অদ্ভুত শব্দ। সে কি তার নানার বাড়িতে? যে-কোন অচেনা জায়গায় ঘুম ভাঙলেই প্রথম যে-জিনিসটি তার মনে আসে, সেটা হচ্ছে–এটা কি নানার বাড়ি? ব্রহ্মপুত্রের উড়ে-আসা হওয়ায়-ভর্তি একটি প্রাচীন কোঠায় তার ঘুম ভাঙলঃ বিছানার চাদরটি কপূরের গন্ধমাখা, পায়ের কাছে বিশাল কোলবালিশ। রেলিং দেওয়া ঘন… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৪
নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৩
পাশা লাউঞ্জের এক প্রান্তে ঘুমিয়ে-থাকা মেয়েটির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। অবাক হবার মূল কারণ মেয়েটির সৌন্দর্য নয়। চেহারা সাধারণ বাঙালী মেয়েদের মত। শ্যামলা রঙ, বৃত্তাকার মুখ। চাপা নাক। এশীয় মেয়েদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত কারণে যে-কোমল ভাব থাকে, তা অবশ্যি আছে। পাশা অবাক হয়েছে, কারণ মেয়েটির গায়ে আসমানী রঙের শাড়ি আর সোয়েটারটির রঙ লাল। মাথায় জড়ান… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৩
নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-২
হেক্টর এয়ারপোর্টের ওয়েটিং লাউঞ্জটি ছোট। কিন্তু এমন নিখুঁত ভাবে সাজান যে, ছবি মনে হয়। এখানে থাকা মানেই ছবির মধ্যে নিজেকে ঢুকিয়ে দেওয়া। রেবেকা তা করতে পারছে না। তার বারবার মনে হচ্ছে, তাকে এই জায়গায় মোটেই মানাচ্ছে না। সে জড়োসড়ো হয়ে কোণের দিকের একটি চেয়ারে বসে আছে। এবং প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর দরজার দিকে তাকাচ্ছে আর… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-২
নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-১
দেয়ালে অদ্ভুত আকৃতির একটি জার্মান ঘড়ি। অন্ধকারে এর ডায়াল থেকে সবুজ আলো বের হয়। হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেয়ালের দিকে তাকালে মনে হয় ট্রাফিক সিগন্যাল। খাটটাকে মনে হয় একটা গাড়ি। সবুজ আলো পেয়ে চলতে শুরু করবে। আজও সে রকম হল। পাশার কয়েক সেকেণ্ড সময় লাগল নিজেকে ধাতস্থ করতে। ভূতুড়ে ঘড়িটা সরিয়ে ফেলা দরকার–এই রকম ভাবতে ভাবতে… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-১
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(শেষ-পর্ব)
হুঁ। | মাঝখানে রেলের একটা হাঙ্গামা হয়ে গেল। এই নিয়ে তােলপাড় হয়ে গেছে—আমি স্ট্রংলি কয়েকজনকে ধরেছি। হেলাল রাখি? আমার শরীরটা ভাল লাগছে না। সে কি! কি হয়েছে? আপনি এত কাজ করেন শরীর খারাপ হবারই কথা। ভাবী আছে ভাবীকে দিন। ভাবীর সঙ্গে কথা বলি। ‘তােমার ভাবী একটু ব্যস্ত আছেন।’ বলেই খায়ের সাহেব টেলিফোনের লাইন কেটে দিলেন। তিনি… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(শেষ-পর্ব)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৫)
ট্রেন চলতে শুরু করেছে। সেলুন কারে বাতি এসেছে। আবুল খায়ের সাহেব একা বসে আছেন। তাকে ফেলে সবাই নেমে গেছে এই ধাক্কা থেকে তিনি এখনাে মুক্ত হতে পারছেন না। তিনি সিগারেট ধরিয়েছেন। গলার টক ভাবটা চলে গেছে। সিগারেট টানতে তার খারাপ লাগছে না। ব্লাডি মেরি একটা খেলে মন্দ হত না। স্যার! আবুল খায়ের চমকে তাকালেন।… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৫)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৪)
তুমি রেলের কাউকে কিছু বলতে পার না? আচ্ছা দেখি। কি করতে পারি আপনাকে জানাব। দশ মিনিট পর আমি টেলিফোন করি? হেলাল উদ্দিন বললেন, আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আমি জানাব। আবুল খায়ের সাহেব চাপা নিঃশ্বাস ফেললেন । তিনি নিশ্চিত হেলাল উদ্দিন আর টেলিফোন করবে না। নিজের মােবাইলও অফ করে রেখে দেবে। হেলালকে দোষ দিয়ে লাভ… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৪)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৩)
মাওলানা বললেন, ঐ ডাক্তার ছেলে গলাপর্যন্ত মদ খেয়েছে। তার মুখ দিয়ে ভক ভক করে মদের গন্ধ, আসছে। ঐ গন্ধ আমি চিনি। কিছু মনে করবেন না জনাব আপনিও মদ খেয়েছেন। রশীদ উদ্দিন হতাশ গলায় বললেন, কথা সত্য। মদ খাওয়ায় ডাক্তারের শরীর এবং মন হয়ত অশুচি হয়েছে। তার বিদ্যা কিন্তু হয় নি। রশীদ উদ্দিনের কথা শেষ হবার… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৩)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২২)
মাওলানা সাহেবের স্ত্রী আফিয়ার ৩৫ সপ্তাহ মাত্র চলছে। শিশু চল্লিশ সপ্তাহ মায়ের পেটে থেকে বড় হবে। এই চল্লিশ সপ্তাহ সে তার জগতে নিজের মত বড় হবে। সব শেষে তৈরী হবে তার ফুসফুস। ফুসফুস তৈরী হয়ে যাবার পর শিশু সিগন্যাল পাঠাবে মায়ের শরীরে—আমি এখন তৈরি। পৃথিবী দেখব। আমাকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দাও। মায়ের শরীর ব্যবস্থা নেবেন।… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২২)