হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৬)

আমার ছেলের নাম টুকটুকি। বারসাত আমার ছেলের প্রাইভেট টিউটর। তুমি নিশ্চয়ই বারসাতকে চেন? চেন না?জি চিনি।  আমি যতদূর জানি বারসাতের সঙ্গে তােমার বিয়ের কথা হয়েছিল। আমি ছিলাম একজন সাক্ষী। তুমি আসনি… আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলাম ….  আপনার সঙ্গে আরেকদিন কথা বলি। আজ আমাদের বাসায় বিরাট ঝামেলা।  আমার কথা শেষ হয়ে গেছে। ঐদিন তুমি আসনি। কেন… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৬)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৫)

দুষ্টু লােকে বলে বাবা মারা গেছেন তােমার ক্যাটক্যাটানি শুনে । বাবা যখন মৃত্যুশয্যায় তখনাে তুমি তার কানের কাছে দিনরাত ক্যাটক্যাট করেছ। তাের বাপের সঙ্গে কী করেছি সেটা তাের বাপের আর আমার ব্যাপার। রােজ হাশরে আমার মধ্যে আর তাের বাপের মধ্যে ফয়সালা হবে ।  ফয়সালা হলে তাে ভালােই। লােকমুখে শুনলাম তুই গােপনে বিয়ে করেছিস।  বিয়ে করার… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৫)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৪)

এখন থেকে আমি বায়ু-ভুক।  আজকেও কিছু খাবেন না?   কিছু না খাওয়াও এক ধরনের চিকিৎসা। এই চিকিৎসার নাম উপবাস চিকিৎসা। অন্য কিছু খাইতে ইচ্ছা করে?  এই মুহূর্তে একটা জিনিস খেতে ইচ্ছা করছে। জিনিসটার নাম মার্বেল সিঙাড়া। মার্বেলের সাইজ। একসঙ্গে দুটা–তিনটা মুখে দেয়া যায়। মগবাজার কাজি অফিসের কাছে এই সিঙাড়া বানানাে হয়। মীরুর খুবই পছন্দের খাদ্য। একবার সে… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৪)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৩)

বারসাতের আসতে দেরি দেখে তিন বেহালাবাদকের মধ্যে দু‘জন বারান্দার সােফায় লম্বা হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। একজন জেগে রইল। সেই একজন বারসাতকে একা ঢুকতে দেখে খানিকটা বেদিশা হয়ে গেল। তারপরেও সে বেহালা হাতে নিল। বাজাব না–কি বাজাব না ভঙ্গিতে তাকাল। বারসাত বলল, লাগবে না। বেহালা বাজানাের দরকার নেই। বেহালাবাদক বলল, আপনার কী হয়েছে? চোখ টকটকা লাল।।  বারসাত… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৩)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১২)

আপনার এরকম ধারণা?  জি। গাড়ি যখন খাদে পড়ল তখন যদি হৈচৈ করে আপনার ঘুম ভাঙাতাম, খুব অস্থির হয়ে যেতাম সেটা আপনার অনেক বেশি পছন্দ হত।  মীরু বলল, ঝুম বৃষ্টিতে গাড়িতে বসে গরম চা খাচ্ছি, সিঙাড়া খাচ্ছি। এটা আমার বেশ পছন্দ হচ্ছে। চা খাবার পর আমরা কি গাড়িতে বসে থাকব নাকি গাড়ি খাদ থেকে উঠানাের ব্যবস্থাও… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১২)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১১)

হা হচ্ছে। আপনি আপনার বাবার চিকিৎসার যে ব্যবস্থা করেছেন সেটা চিন্তাই করা যায় না। রাত সাড়ে তিনটার সময় একা ওষুধ কিনতে সােহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে শাহবাগে গিয়েছেন।  আপনি ভুল করেছেন। আমি একা যাইনি আমার সঙ্গে বলশালী একজন পুরুষ মানুষ ছিল। সে আমাকে ভরসা দিয়েছিল যে কোনাে ভয় নেই।  নাসের অবাক হয়ে বলল, পুরুষ মানুষের কথা জানতাম… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১১)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১০)

 আজফল সাহেব বললেন, তুই নিজেও রেস্ট নে। তাের ওপর দিয়ে বিরাট ধকল গিয়েছে।  বুকে ব্যথাট্যথা এসব তাে এখন আর নেই?  মীরু শােন, তুই না থাকলে তাে আজ আমি মরেই যেতাম রে মা! আফজল সাহেবের চোখে পানি এসে গেল। তার ইচ্ছা করল কিছুক্ষণ মেয়ের হাত ধরে থাকতে। তিনি আবারাে তার ডান হাতটা মেয়ের দিকে বাড়ালেন। মীরু… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১০)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৯)

বাগানবাড়িতে আটচল্লিশ ঘণ্টা কাটানাের অনুমতি নিয়েছিলাম। ঐখানে যাব ।বাগানবাড়িটা কোথায়? কালিয়াকৈর-এর কাছে। আমি একটা সাজেশান দেই? দিন।  একা একা কালিয়াকৈর যাবার কোনাে মানে হয় না। আজ কোথাও যাবার দরকার নেই। ঢাকাতেই থাক। মীরু মেয়েটার বাসায় যাও, খোঁজ নাও তার কী হয়েছে।  তার কিছু হয়নি, সে ভালাে আছে। সে আমাকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছে। এখন বাসায়… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৯)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৮)

বারসাত হাসল । কিছু বলল না।  নীলুফার বলল, বাসায় যেতে না চাও থাক এখানে। অপেক্ষা কর । একটা টাওয়েল জোগাড় করে মাথাটা মােছার ব্যবস্থা কর। বারসাত আবারাে হাসল ।।  তার মাথায় অন্য পরিকল্পনা খেলা করছে। তার ইচ্ছা করছে ঝুম বৃষ্টিতে ভালােমতাে ভিজে সত্যি সত্যি একটু অসুখ বাধাতে। বেশ কিছুদিন ধরে তার শরীর অতিরিক্ত রকমের ভালাে… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৮)

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৭)

  বারসাত বলল, বৃষ্টির ফোটার রেকর্ডেড বড় সাইজ হল— পিং পং বলের সাইজ। ভেনিজুয়েলায় ১৮৭০ সনে এই সাইজের বৃষ্টি হয়েছিল। সেখানকার চার্চের রেকর্ড বইয়ে রেকর্ড করা আছে। নীলুফার কিছু বলল না। সে এসেছে বারসাতের বিয়েতে একজন সাক্ষী হিসেবে। সে ভেবেছিল দুপুর বারােটার মধ্যে সব শেষ হয়ে যাবে। সে চলে যেতে পারবে। তার ছেলে টুকটুকির স্কুল… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৭)