অভিনন্দনসভা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

এবার দেশে গিয়ে দেখি, গৌর পিয়োন পেনশন নিয়েছে। কতকাল পরে? বহুদিন…বহুদিন।….বায়ুমণ্ডলে যখন প্রজ্বলন্ত উল্কা ছুটে চলে, তখন গোটা ফোটোগ্রাফ প্লেটটা সে এক সেকেন্ডে পার হয়ে যায়। কিন্তু ছ-ঘণ্টা কী সাত ঘণ্টা ঠায় আকাশের দিকে ক্যামেরার মুখ ফিরিয়ে রাখলেও নীহারিকা একচুল নড়ে না। গৌর পিয়োন (গৌরচন্দ্র হালদার, জেলে) আমাদের জীবনে সেই বহুদূরবর্তী নীহারিকার মতো অনড় ও… Continue reading অভিনন্দনসভা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আঙুল – হুমায়ূন আহমেদ

আগুনের পরশমণি ছবি করার সময়কার কথা–একটা দৃশ্য আছে মিলিটারী একজন মুক্তিযোদ্ধার আঙুল কেটে ফেলে। আমি ভাবলাম–এমন একজন কাউকে যদি পাওয়া যেত যার হাতের দুটি আঙুল কাটা পড়েছে তাহলে খুব ভাল হত। সরাসরি তার হান্টা ক্যামেরায় দেখানো যেত। ফিল্ম লাইনের প্রডাকশানে সাইডে যারা কাজ করেন তারা পারেন না হেন ব্যাপার নেই। আমি আঙুল কাটা পড়েছে এমন… Continue reading আঙুল – হুমায়ূন আহমেদ

টিকটিকি – হুমায়ূন আহমেদ

আপনি কি ভয় পাচ্ছেন? …………জি-না স্যার। ………ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ। আপনাকে অ্যারেস্ট করা হয় নাই। বুঝতে পারছেন? ………..পারছি স্যার।. ……আপনার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার। উনি যদি একটা Death note রেখে যেতেন, তাহলে কোনো ঝামেলা হতো না। আপনাকে একটা কথাও জিজ্ঞেস করতাম না। স্যার, এক গ্লাস পানি খাব। ……..অবশ্যই। চা দিতে… Continue reading টিকটিকি – হুমায়ূন আহমেদ

ঠাকুরদা -উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

একগ্রামে এক বুড়ো ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাঁর নাম ছিল ভবানীচরণ ভট্রাচার্য। গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে তাঁর খুব ভাব ছিল। তাঁরা তাঁকে বলত ঠাকুরদাদা। তাদের কাছ থেকে শিখে দেশসুদ্ধ লোকেও তাঁকে ঐ নামেই ডাকত।..ছেলেরা ঠাকুরদার কাছে খুবই আদর পেত, আর তাঁকে জ্বালাতন করত তার চেয়েও বেশি। ঠাকুরদা ভারি পণ্ডি আর বুদ্ধিমান ছিলেন। খালি এক বিষয়ে তাঁর একটা পাগলামি… Continue reading ঠাকুরদা -উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

কুদ্দুসের এক দিন – হুমায়ূন আহমেদ

মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস পত্রিকা অফিসে কাজ করে।…..বড় কাজ না, ছোট কাজ–চা বানানো, সম্পাদক সাহেবের জন্যে সিগারেট এনে দেয়া। ড্রাইভার গাড়িতে তেল নেবে সঙ্গে যাওয়া, যাতে তেল চুরি করতে না পারে। এই ধরনের টালটু-ফালটু কাজ। কুদ্দুসের বয়স বাহান্ন। বাহান্ন থেকে ষোল বাদ দিলে থাকে ছয়ত্রিশ। সোল। বছরে মেট্রিক পরীক্ষা দেবার পর (পুরো পরীক্ষা দিতে পারেনি, ইংরেজি… Continue reading কুদ্দুসের এক দিন – হুমায়ূন আহমেদ

ভয়ভুতুড়ে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

খবরের কাগজে একটা বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। বড় অদ্ভুত বিজ্ঞাপন। সস্তায় ভূত কিনুন! বাচ্চা ভূত মাত্র পঞ্চাশ পয়সা ধেড়ে ভূত মাত্র এক টাকা জাল ভূত নয়। একেবারে আসল ভূত!! ভূতনাথ অ্যান্ড কোং ১/১ কালোবাজার স্ট্রিট (লালবাজারের উল্টোদিকে) কলকাতা ভাগ্নে নেপাল তার মামা নকুলেশ্বরকে বলল,–ও মামা, ভূত কিনবেন? এই দেখুন, কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। নকুলেশ্বর বললেন, তাই নাকি? দেখি,… Continue reading ভয়ভুতুড়ে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বাড়ি ভাড়া – তারাপদ রায়

আজকাল আর কেউ হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবে না কিন্তু এই কলকাতা শহরেই একদা প্রায় বিনা আয়াসে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত। তখনকার শহরতলি ঢাকুরিয়া বা দমদমেই শুধু নয়। শ্যামবাজার এবং ভবানীপুরে, এমনকী নতুন গড়ে ওঠা বালিগঞ্জে বা নিউ আলিপুরে বাড়ি খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল না। সুন্দর, খোলামেলা, দক্ষিণমুখী বাড়ির দোতলার রেলিংয়ে অথবা একতলার বারান্দায় নোটিশ বা… Continue reading বাড়ি ভাড়া – তারাপদ রায়

হাট্টিম রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কর্নেল নীলাদ্রি সরকার খুব মন দিয়ে একটা চিঠি পড়ছিলেন। পড়া শেষ হলে আমার দিকে ঘুরে মৃদু হেসে এই ছড়াটা খুব ধীরে আওড়ালেন? হাট্টিমাটিম টিম তারা মাঠে পাড়ে ডিম তাদের খাড়া দুটো শিং তারা হাট্টিমাটিম টিম। অবাক হয়ে বললুম, হঠাৎ ছড়া আওড়াতে শুরু করলেন যে?….কর্নেল তাঁর সাদা দাড়ি থেকে কী একটা বের করে ফেলে দিলেন। পোকা… Continue reading হাট্টিম রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কুয়াশার রঙ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ভয়ানক বর্ষা। ক-দিন সমানভাবে চলিয়াছে, বিরাম বিশ্রাম নাই। প্রতুল মেসের বাসায় নিজের সিটটিতে বসিয়া বসিয়া বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছে। কোথায় বা বাহির হইবে? যাইবার উপায় নাই কোনোদিকে, ছাদ চুইয়া ঘরে জল পড়িতেছে—সকাল হইতে বিছানাটা একবার এদিকে, একবার ওদিকে সরাইয়াই বা কতক্ষণ পারা যায়? সন্ধ্যার সময় আরও জোর বর্ষা নামিল। চারিদিক ধোঁয়াকার হইয়া উঠিল, বৃষ্টির জলের কুয়াশার… Continue reading কুয়াশার রঙ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিপদ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাড়ি বসিয়া লিখিতেছিলাম। সকালবেলাটায় কে আসিয়া ডাকিল— জ্যাঠামশাই?.একমনে লিখিতেছিলাম, একটু বিরক্ত হইয়া বলিলাম—কে?………..বালিকা-কণ্ঠে কে বলিল—এই আমি, হাজু।………….—হাজু? কে হাজু?……..বাহিরে আসিলাম। একটি ষোলো-সতরো বছরের মলিন বস্ত্র পরনে মেয়ে একটি ছোটো ছেলে কোলে দাঁড়াইয়া আছে। চিনিলাম না। গ্রামে অনেকদিন পরে নতুন আসিয়াছি, কত লোককে চিনি না। বলিলাম—কে তুমি? ………..মেয়েটি লাজুক সুরে বলিল—আমার বাবার নাম রামচরণ বোষ্টম। এইবার… Continue reading বিপদ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়