লুলু – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লুলুই হচ্ছে সবকিছুর মূলে। লুলু আসলে কে বা তার গুরুত্বই বা কী তা আমার কাছে অস্পষ্ট। তবে যতবারই দেশে কোনও-না-কোনও ঘটনা ঘটে তখনই আমাকে লুলুর কাছে আসতে হয়, তার সাক্ষাৎকার নিতে। এ যাবৎ তার কত যে সাক্ষাৎকার নিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু তবু লুলু আমাকে আদপেই মনে রাখেনি। দেখা হলে সম্পূর্ণ নতুন করে পরিচয় দিতে… Continue reading লুলু – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কোগ্রামের মধু পন্ডিত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বিপদে পড়লে লোকে বলে, ত্রাহি মধুসূদন। তা কোগ্রামের লোকেরাও তাই বলত। কিন্তু তারা কথাটা বলত মধুসূদন পন্ডিতকে। বাস্তবিক মধুসূদন ছিল কোগ্রামের মানুষের কাছে সাক্ষাৎ দেবতা। যেমন বামনাই তেজ, তেমনই সর্ববিদ্যাবিশারদ। চিকিৎসা জানতেন, বিজ্ঞান জানতেন, চাষবাস জানতেন, মারণ-উচাটন জানতেন, তাঁর আমলে গাঁয়ের লোক মরত না। সাঁঝের বেলা একদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের রুগি বগলাবাবু মধুসূদনের বাড়িতে পাঁচন আনতে গেছেন।… Continue reading কোগ্রামের মধু পন্ডিত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বাড়িওয়ালা – তারাপদ রায়

গল্পটা অনেক দিনের পুরনো। তখনও পেপসি-কোকাকোলার যুগ আসেনি। সেটা ছিল লেমোনেড, সোডা ওয়াটারের যুগ। সেই সময় ঘোরতর বৃষ্টির দিনে ফুটো ছাদ দিয়ে প্রচুর জল পড়ায় বিপন্ন ভাড়াটে বাড়িওয়ালাকে অভিযোগ করেছিলেন, ‘আপনার ছাদ দিয়ে বৃষ্টির জল পড়ছে।’ এই অভিযোগ শুনে বাড়িওয়ালা রেগে গিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে বলেছিলেন বৃষ্টি হলে জল পড়বে না তো লেমোনেড পড়বে নাকি? গল্পটা… Continue reading বাড়িওয়ালা – তারাপদ রায়

স্ত্রী রত্ন – তারাপদ রায়

মহাকবি গ্যেটে বলেছিলেন, মানুষ যে স্বর্গলোক থেকে নির্বাসিত হয়েছে সেই নির্বাসনে ক্ষতিপূরণ হল তার সহধর্মিণী। মহাকবি কালিদাস গৃহিণী, সখী ও সচিবের কথা বলেছিলেন, আদর্শ সহধর্মিণী হল একাধারে এই তিনটি। সংস্কৃত শাস্ত্রে ও সাহিত্যে স্ত্রী রত্ন বিষয়ে ভূরিভূরি কথা বলা আছে। সেখানে বলা আছে স্ত্রী রত্ন খারাপ বংশ থেকেও সংগ্রহ করা চলে। এবং এও বলা আছে… Continue reading স্ত্রী রত্ন – তারাপদ রায়

কঙ্কগড়ের কঙ্কাল – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কর্নেল নীলাদ্রি সরকার খুব মন দিয়ে কী একটা বই পড়ছিলেন। ছেঁড়াখোঁড়া মলাট। পোকায় কাটা হলদে পাতা। নিশ্চয় কোনও পুরোনো দুষ্প্রাপ্য বই। কিন্তু শেষ মার্চের এই সুন্দর সকালবেলাটা গম্ভীর মুখে বই পড়ে নষ্ট করার মানে হয়? দাঁতে কামড়ানো চুরুট কখন নিভে গেছে এবং সাদা দাড়িতে ছাইয়ের টুকরো আটকে আছে। একটু কেশে ওঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলাম।… Continue reading কঙ্কগড়ের কঙ্কাল – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

রূপকথা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চায়ের দোকানের অভ্যন্তর। ঘরটি বেশ বড়। কয়েকটি মার্বেল্টপ টেবিল ও তদুপযোগী চেয়ার ঘরের মধ্যে ইতস্তত সাজানো। ঘরের অপর প্রান্তে একটি রান্নাঘর—খোলা দ্বারপথে কিয়দংশ দেখা যাইতেছে। রান্নাঘরের দেওয়ালে টাঙানো সারি সারি সন্ধ্যান ও কাঠের টেবিলের উপর কেলি পিরিচ পেয়ালা ইত্যাদি আংশিকভাবে দৃষ্টিগোচর হইতেছে। দোকানের নাম ত্রিবেণী-সঙ্গম। কলিকাতার শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের চা ও অনুরূপ খাদ্যপানীয় সরবরাহ করিয়া ইহার… Continue reading রূপকথা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

এপিঠ ওপিঠ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

তরুণ আই-সি-এস্ সুখেন্দু গুপ্ত প্রেমে পড়িয়াছে; তাহার ইস্পাতের ফ্রেমে-আঁটা মজবুত হৃদয় নড়বড়ে হইয়া গিয়াছে। শুধু প্রেমে পড়িলে দুঃখ ছিল না; কিন্তু এই চিত্তবিকারের সঙ্গে সঙ্গে আর এক উপসর্গ জুটিয়াছে। বিলাতে থাকাকালীন সে ড়ুবিয়া ড়ুবিয়া কয়েক ঢোক জল খাইয়াছিল, সেই অনুতাপের জ্বালা আজ তাহার হৃদয় দগ্ধ করিতেছে। সুখেন্দু ছেলে খারাপ নয়। তবে, মুনীনাঞ্চ মতিভ্রমঃ, অতিবড় সাধু… Continue reading এপিঠ ওপিঠ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

উপেক্ষিতা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

পথে যেতে যেতেই তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। সে বোধ হয় বাংলা দুই কী তিন সালের কথা। নতুন কলেজ থেকে বার হয়েছি, এমন সময় বাবা মারা গেলেন। সংসারের অবস্থা ভালো ছিল না, স্কুলমাস্টারি নিয়ে গেলুম হুগলি জেলার একটা পাড়াগাঁয়ে। …গ্রামটির অবস্থা একসময়ে খুব ভালো থাকলেও আমি যখন গেলুম তখন তার অবস্থা খুব শোচনীয়। খুব বড়ো গ্রাম,… Continue reading উপেক্ষিতা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

চিরামবুরুর গুপ্তধন – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফাঁপরে পড়েছি। হঠাৎ দেখি, ইয়া এক বড় কেঁদো বাঘ হালুম করে সামনে দাঁড়াল। পা দুটো মাটিতে সেঁটে গেছে ভয়ের চোটে। তারপর দেখি, বাঘটা আদতে বাঘই নয়, কর্নেল নীলাদ্রি সরকার। তিনি কেন বাঘ হয়ে গেছেন বুঝলুম না। খুশি হয়ে বললুম, বললুম, মাই ডিয়ার ওল্ড ম্যান! হাউ ড়ু ইউ ড়ু? কর্নেল হাউমাউ করে কেঁদে… Continue reading চিরামবুরুর গুপ্তধন – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বুধোর মায়ের মৃত্যু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বুধো মণ্ডলের মায়ের হাতে টাকা আছে সবাই বলে। বুধো মণ্ডলের অবস্থা ভালো, ধানের গোলা দু-তিনটে। এত বড়ো যে দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ গেল গত বছর, কত লোক না-খেয়ে মারা গেল, বুধো মণ্ডলের গায়ে এতটুকু আঁচ লাগেনি। বরং ধানের গোলা থেকে অনেককে ধান কর্জ দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল। সবাই বলে, বুধোর টাকা বা ধান সবই ওই মায়ের। বুধোর নিজের… Continue reading বুধোর মায়ের মৃত্যু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়