অরূপবাবু–অরূপরতন সরকার–পুরী এসেছেন এগারো বছর পরে। শহরে কিছু কিছু পরিবর্তন চোখে পড়েছে–কিছু নতুন বাড়ি, নতুন করে বাঁধানো কয়েকটা রাস্তা, দু-চারটে ছোট-বড় নতুন হোটেল–কিন্তু সমুদ্রের ধারটায় এসে বুঝতে পারলেন এ জিনিস বদলাবার নয়। তিনি যেখানে এসে উঠেছেন, সেই সাগরিকা হোটেল থেকে সমুদ্র দেখা না গেলেও, রাত্তিরে বাসিন্দাদের কলরব বন্ধ হয়ে গেলে দিব্যি ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়।… Continue reading ভক্ত – সত্যজিৎ রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
লখনৌর ডুয়েল – সত্যজিৎ রায়
ডুয়েল মানে জানিস? জিজ্ঞেস করলেন তারিণীখুড়ো। বাঃ, ডুয়েল মানে জানব না? বলল ন্যাপলা। ডুয়েল রোল, মানে দ্বৈত ভূমিকা। সন্তোষ দত্ত গুপী গাইনে ডুয়েল রোল করেছিলেন–হাল্লার রাজা, শুণ্ডীর রাজা। সে ডুয়েলের কথা বলছি না, হেসে বললেন তারিণীখুড়ো। ডি-ইউ-এ-এল নয়, ডি-ইউ-ই-এল। ডুয়েল। অর্থাৎ দুজনের মধ্যে লড়াই। হ্যাঁ হ্যাঁ, জানি জানি! আমরা সকলে একসঙ্গে বলে উঠলাম। এই ডুয়েল… Continue reading লখনৌর ডুয়েল – সত্যজিৎ রায়
ছাত্র বনাম পুলিশ – সৈয়দ মুজতবা আলী
‘দেখি! বের কর অভিজ্ঞান-পত্র- আইডেনটিফিকেশন কার্ড!’ কী আর করে বেচারি– দেখাতে হল কার্ডখানা। নামধাম ঠিকানা তো রয়েইছে, তদুপরি রয়েছে বেচারির ফোটোগ্রাফ, তার নিচে ছোকরার দস্তখত, এবং দুটোর দু কোণ জুড়ে য়ুনিভার্সিটির ট্যাম্প। হোমিওপ্যাথিক পাসপোর্ট আর কী! হায় বেচারা! যখন য়ুনিভার্সিটিতে প্রবেশ করার ওক্তে সগর্বে কর্তৃপক্ষের সম্মুখে ফোটোগ্রাফের নিচে দস্তখত করেছিলে তখন কি জানত এটা ‘দস্তখত’… Continue reading ছাত্র বনাম পুলিশ – সৈয়দ মুজতবা আলী
ভৌতিক পালঙ্ক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
অনেকদিন পর সতীশের সঙ্গে দেখা। বেচারা হন্তদন্ত হয়ে ভিড় ঠেলে বিকাল বেলা বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের বাঁ-দিকের ফুটপাথ দিয়ে উত্তর মুখে চলেছিল। সমস্ত আপিসের সবেমাত্র ছুটি হয়েছে। শীতকাল। আধো-অন্ধকার আধো-আলোয় পথ ছেয়ে ছিল। ক্লান্ত দেহে ছ্যাকরা গাড়ির মতো ধীরে ধীরে পথ ভেদ করে চলেছিলাম। সহসা সতীশকে দেখে ওর জামাটা চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলাম— আরে সতীশ যে!… Continue reading ভৌতিক পালঙ্ক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
হলুদ পোড়া – মানিক বন্দোপাধ্যায়
সে বছর কার্তিক মাসের মাঝামাঝি তিন দিন আগে-পরে গাঁয়ে দু-দুটো খুন হয়ে গেল। একজন মাঝবয়সী জোয়ান মদ্দ পুরুষ এবং ষোল-সতের বছরের একটি রোগা ভীরু মেয়ে। গাঁয়ের দক্ষিণে ঘোষেদের মজা-পুকুরের ধারে একটা মরা গজারি গাছ বহুকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানটি ফাঁকা, বনজঙ্গলের আবরু নেই। কাছাকাছি শুধু কয়েকটা কলাগাছ। ওই গজারি গাছটার নিচে একদিন বলাই চক্রবর্তীকে মরে… Continue reading হলুদ পোড়া – মানিক বন্দোপাধ্যায়
আগে পাঁচ ডলারে, এখন? – তারাপদ রায়
এক খদ্দের রেস্তোরাঁয় এসেছেন, এসে এক কাপ চায়ের অর্ডার দিয়েছেন। একটু পরে চা এল। কিন্তু এ কী? চায়ের মধ্যে কী একটা পোকা ভাসছে। খদ্দের বেয়ারাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এটা কী?”। বেয়ারা ভাল করে পেয়ালার মধ্যে দেখে নিয়ে বললেন, “ঠিক বলতে পারছি না। আমি আবার পোকামাকড় ভাল চিনি না। দেখি, ম্যানেজারবাবুকে ডেকে দিচ্ছি, তিনি হয়তো বলতে… Continue reading আগে পাঁচ ডলারে, এখন? – তারাপদ রায়
ছিনিয়ে খায়নি কেন – মানিক বন্দোপাধ্যায়
দলে দলে মরছে তবু ছিনিয়ে খায়নি। কেন জানেন বাবু? এক জন নয়, দশজন, শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে, লাখে লাখে বরবাদ হয়ে গেছে। ভিক্ষের জন্য হাত বাড়িয়েছে, ফেন চেয়ে কাতরেছে, কিন্তু ছিনিয়ে নেবার জন্য, কেড়ে নেবার জন্য হাত বাড়ায়নি। অথচ হাত বাড়ালেই পায়। দোকানে থরে থরে সাজানো রয়েছে খাবার, সামনে রাস্তায় ধন্না দিয়েছে ফেলে-দেওয়া ঠোঙার রসটুকু,… Continue reading ছিনিয়ে খায়নি কেন – মানিক বন্দোপাধ্যায়
টেকো বললে আর রাগি না-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
‘টেকো, এই টেকো..’ আর এই কথাগুলো শুনলে রাগ হয় না। আর কেনই বা রাগবো, সত্যিই তো আমার মাথায় এখন সর্ব সাকুল্যে সাতাশটি চুল।সবগুলোই পিছনের কার্নিশে ঝুলে কোন রকমে বেঁচে থাকবার চেষ্টা করছে। কতদিন বেঁচে থাকতে পারবে এই ব্যাপারে আমার নিজেরই বিস্তর সন্দেহ আছে। কলেজ পাশ করে একবার পাড়ার সেলুনের কাকু চুল কাটার সময় আমার মুখের দিকে তাকিয়ে অম্লান বদনে বলে উঠেছিলেন, ‘খুব বেশি দিন তোমার এই চুল কাটতে হবে না, যা অবস্থা এরা বছর দুই বেঁচে থাকলে হয়।’ চুলের ভেতর একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করেছিলাম। বাড়ি ফিরে দাদু,… Continue reading টেকো বললে আর রাগি না-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
নারিকেল-মামা – হুমায়ূন আহমেদ
তার আসল নাম আমার মনে নেই। আমরা ডাকতাম ‘নারকেল-মামা। কারণ নারকেল গাছে উঠে নারকেল পেড়ে আনার ব্যাপারে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। পায়ে দড়ি-টরি কিছু বাঁধতে হত না। নিমিষের মধ্যে তিনি উঠে যেতেন। নারকেল ছিঁড়তেন শুধু হাতে। তাঁর গাছে ওঠা, গাছ থেকে নামা, পুরো ব্যাপারটা ছিল দেখার মত। তাঁর নৈপুণ্য যে কোন পর্যায়ের তা দেখাবার জন্যেই… Continue reading নারিকেল-মামা – হুমায়ূন আহমেদ
অতিথি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাঁঠালিয়ার জমিদার মতিলালবাবু নৌকা করিয়া সপরিবারে স্বদেশে যাইতেছিলেন। পথের মধ্যে মধ্যাহ্নে নদীতীরের এক গঞ্জের নিকট নৌকা বাঁধিয়া পাকের আয়োজন করিতেছেন এমন সময় এক ব্রাহ্মণবালক আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “বাবু, তোমরা যাচ্ছ কোথায়।” প্রশ্নকর্তার বয়স পনেরো-ষোলোর অধিক হইবে না। মতিবাবু উত্তর করিলেন, “কাঁঠালে।” ব্রাহ্মণবালক কহিল, “আমাকে পথের মধ্যে নন্দীগাঁয়ে নাবিয়ে দিতে পার ?” বাবু সম্মতি প্রকাশ করিয়া… Continue reading অতিথি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর