এই গরমে কেউ কাশী যায়? যায়। অবশ্যই যায়। কাশী অর্থাৎ বেনারস যাওয়ার রেলের কামরাগুলো কি ফাঁকা থাকে? থাকে না। ভিড়ে গিজ গিজ করে। যেকোনও রেলের অফিসে সিট রিজার্ভ করতে গেলেই ব্যাপারটা টের পাওয়া যাবে। প্রমথেশও টের পেয়েছিল। এবং টের পেয়ে খুশি হয়েছিল এই কারণে যে সে ছাড়াও এই ভরা গরমে আরও ঢের ঢের লোক আছে… Continue reading ব্লটিং পেপার-তারাপদ রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
সমান্তরাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পান্নালাল যখন ব্যাপারীগঞ্জে নামল তখনও ভোর হয়নি। ছোট স্টিমার স্টেশন। নির্জন অন্ধকার। স্টিমার যতক্ষণ রইল, সামান্য কোলাহল, তারপর স্টিমার ছেড়ে দিতেই শীতের রাতের ভারী স্তব্ধতা। সবুজ র্যাপারটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে বিছানার বাণ্ডিল আর রংচটা টিনের সুটকেসটা তুলে নিয়ে এগুলো পান্নালাল। একটু দূরেই তারাপদদা-র হাতে গরম কেবিন। দিবারাত্র খোলা থাকে। সে ঢুকল সেখানে। ছোকরা… Continue reading সমান্তরাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শ্মশানবন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নাইট ডিউটির সময়টাতেই সবচেয়ে অসুবিধে হয়। দিনেরবেলা এখন পর্যন্ত তেমন কিছু গণ্ডগোল হয়নি। একটু-আধটু অপমান সহ্য করতে হয়, তা এমন কিছু নয়। অপমান গায়ে না মেখে বালির মতন ঝেড়ে ফেললেই হল। সকালের ডিউটি নটা থেকে তিনটে পর্যন্ত। ঠিক তিনটের সময় বাড়ি ফেরার ট্রাম ধরে অমল। রাস্তায় ট্রাফিকের গোলযোগ না থাকলে পৌনে চারটের মধ্যে বাড়ি পৌঁছে… Continue reading শ্মশানবন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দুই বন্ধু -সত্যজিৎ রায়
মহিম বাঁ হাতের কবজি ঘুরিয়ে হাতের ঘড়িটার দিকে এক ঝলক দৃষ্টি দিল। বারোটা বাজতে সাত। কোয়ার্টজ ঘড়ি–সময় ভুল হবে না। সে কিছুক্ষণ থেকেই তার বুকের মধ্যে একটা স্পন্দন অনুভব করছে, যেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। বিশ বছর! আজ হল ১৯৮৯-এর সাতই অক্টোবর। আর সেটা ছিল ১৯৬৯-এর সাতই অক্টোবর। পঁচিশ বছরে এক পুরুষ হয়। তার থেকে মাত্র পাঁচ… Continue reading দুই বন্ধু -সত্যজিৎ রায়
সার্জন সাহেবের বাড়িতে-তারাপদ রায়
বছর কুড়ি আগে একটা সরকারি চাকরি নিয়ে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন দিগন্ত রায়চৌধুরী। কলকাতার আচ্ছা ছেড়ে, সংসার গুটিয়ে প্রথম যখন দিগন্তবাবুকে দিল্লি যেতে হল নিতান্তই জীবিকার প্রয়োজনে, তাঁর মনে হয়েছিল খুব বেশিদিন হয়তো কলকাতা ছেড়ে টিকতে পারবেন না। কিন্তু তারপরে যেরকম হয় যথাসময়ে দিল্লির সঙ্গে দিগন্তবাবু নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এখন সেখানেই পাকাপাকি বসবাস। এমনকী অবসর গ্রহণের… Continue reading সার্জন সাহেবের বাড়িতে-তারাপদ রায়
সান্যাল স্লিমিং-তারাপদ রায়
চোরবাজার থানার বড় দারোগা শ্ৰীযুক্ত দিগম্বর সান্যালমশায় একজন অতি সজ্জন ব্যক্তি। ছাত্রজীবনে তার ইচ্ছা ছিল ভাল করে লেখাপড়া শিখে অধ্যাপক হবেন। কিন্তু কলেজে পড়তে পড়তেই তার বাবা নটবর সান্যালমশায়, যিনি রাণাঘাট আদালতে পেশকার ছিলেন, তিনি হঠাৎ সেই রমরমা চাকরি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরে খবর পাওয়া যায় তিনি সন্ন্যাসী হয়ে গেছেন। প্রথমে জানা যায় যে… Continue reading সান্যাল স্লিমিং-তারাপদ রায়
রণজয়ের শহর-অভিযান-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ঘুম থেকে উঠে একটা মস্ত হাই তুলে রণজয় বলল, ধুৎ আর এই জঙ্গলে থাকতে ভালো লাগে না। দিনের পর দিন একই রকমের সবকিছু একঘেয়ে হয়ে গেছে। গুটুলি একটু দূরে বসে একটা ছুরি নিয়ে পেয়ারা গাছের ডাল কেটে-কেটে একটা গুলতি বানাচ্ছিল। সে মুখ তুলে জিগ্যেস করল, জঙ্গল ছেড়ে কোথায় যাবে? রণজয় বলল, শহরে গিয়ে সিনেমা দেখব,… Continue reading রণজয়ের শহর-অভিযান-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভূতের দেশে নীল মানুষ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সেই রণজয়ের কথা মনে আছে? অন্য গ্রহের মানুষের ছোঁয়ায় যার গায়ের রং একেবারে নীল হয়ে যায় আর সে লম্বাও হয়ে যায় অনেকখানি। তখন তার বাবা-মা আর বন্ধুরা কেউ তাকে দেখে চিনতে পারত না, সবাই তাকে মনে করত একটা নীল রঙের দৈত্য। তারপর রণজয় বনে-জঙ্গলে লুকিয়ে থাকত, তবু একদিন অন্য গ্রহের নীল মানুষরা জোর করে ধরে… Continue reading ভূতের দেশে নীল মানুষ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
লড়াই- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পালান আমাদের খেতে কাজ করে। সে ভালো লোক কি মন্দ লোক তা বোঝা খুব মুশকিল। তবে সে জানে খুব ভালো মাঞ্জা দিতে, মাছের এক নম্বর চার তৈরি করতে, কাঠমিস্ত্রির কাজও তার বেশ জানা, আর পারে গভীর ভাঙা গলায় গেঁয়ো গান গাইতে। পালান গাছের নারকেল চুরি করে বেচে দিয়ে আসে। নিশুতরাতে পুকুরে জাল ফেলে মাছ তুলে… Continue reading লড়াই- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
নেভা’র রাধা – সৈয়দ মুজতবা আলী
অনেক প্রেমের কাহিনী পড়েছি, এমন সব দেশে বহু বৎসর কাটিয়েছি যেখানে প্রেমে না। পড়াতেই ব্যত্যয়—তাই চোখের সামনে দেখেছি প্রেমের নিত্য নব প্যাটার্ন-কিন্তু একটা গল্প আমি কিছুতেই ভুলতে পারি নে। তার প্রধান কারণ বোধ হয়। এই যে গল্পটি বলেছেন ওস্তাদ তুৰ্গেনিয়েফ। এবং শুধু তাই নয়-ঘটনাটি তার নিজের জীবনে সত্য সত্যই ঘটেছিল। দস্তয়েফস্কি, তলস্তয়ের সৃজনীশক্তি তুৰ্গেনিয়েফের চেয়ে… Continue reading নেভা’র রাধা – সৈয়দ মুজতবা আলী