দুঃস্বপ্ন নিয়ে লেখা সাইকোলজির একটা বই পড়ছিলাম, Nightmare You Hate. মানুষ কী কী দুঃস্বপ্ন দেখে, কেন দেখে–তা-ই ব্যাখ্যা করে লেখা। আমি আমার দুঃস্বপ্নগুলি বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চাচ্ছিলাম। বই পড়ে জানলাম, মানুষ সবচেয়ে বেশি যে দুঃস্বপ্ন দেখে তা হচ্ছে উঁচু জায়গা থেকে পতন। এই পতনের শেষ নেই। একসময় সে আতঙ্কে জেগে ওঠে। এই বিশেষ দুঃস্বপ্ন… Continue reading স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন – হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
আমিই মিসির আলি – হুমায়ূন আহমেদ
০১. আপনিই মিসির আলি আপনিই মিসির আলি? হ্যাঁ। মেয়েটা এমনভাবে তাকাল যেন সে নিজের চোখকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না, আবার অবিশ্বাসও করতে পারছে না। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলা থেকে নিজেকে সামলে নিয়ে নরম গলায় বলল, আমি ভীষণ জরুরি একটা চিঠি নিয়ে এসেছি। চিঠিটা এই মুহূর্তে আপনাকে না দিয়ে একটু পরে দেই? নিজেকে সামলে নেই। আমি মনে… Continue reading আমিই মিসির আলি – হুমায়ূন আহমেদ
অরণ্যের দিনরাত্রি – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
০১. সকালবেলা ধলভূমগড় স্টেশনে সকালবেলা ধলভূমগড় স্টেশনে চারজন যুবক ট্রেন থেকে নামলো। ছোট্ট স্টেশন, সারা দিন-রাতে দু’তিনবার মাত্র সরব হয়ে ওঠে, বাকি সময়টা অলস ভাবে নিঝুম। আলাদা টিকিট কালেক্টার নেই, স্টেশনমাস্টার নিজেই ট্রেন থেকে নামা ছোট্ট যাত্রীদলের দিকে এগিয়ে আসেন টিকিটের জন্য—যাত্রীরা অধিকাংশ স্থানীয় লোক, নেংটি পরা সাঁওতাল আর ওরাওঁ—তাদের প্রত্যেকেরই কাঁধে একখানা করে লাঠি,… Continue reading অরণ্যের দিনরাত্রি – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
যমজ কাহিনি – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মাসতিনেক আগে কেনা হয়েছিল হাঁসগুলো। মোট আটটা। বোলপুর বাজারে শুধু রবিবার হাঁস বিক্রি হয়। আশে পাশের গ্রাম থেকে নিয়ে আসে চাষিরা। বেশ ছোট ছিল তখন। বাচ্চা হাঁস দেখতে তেমন ভালো হয় না, কেমন যেন দুর্বল প্রাণী মনে হয়। বাচ্চা কুকুর দেখলেই যেমন আদর করতে ইচ্ছে করে, হাঁসেরা তেমন নয়। এই তিনমাসেই বেশ বড় হয়ে গেছে।… Continue reading যমজ কাহিনি – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ফোর্টি নাইন – হুমায়ূন আহমেদ
অর্থপেডিক সার্জন মাসুম রহমান অবাক হয়ে রোগীর দিকে তাকিয়ে আছেন। রোগীর বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। চুলে পাক ধরেছে। ছোটখাটো মানুষ। চাপা নাক। বালক বালক চেহারা। রোগীর অস্থির আচরণ, ক্রমাগত এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। কপালে ঘাম নেই, কিন্তু একটু পরপরই কপালের ঘাম মোছার ভঙ্গি করছে। গলা খাঁকারি দিচ্ছে। মাসুম রহমান বললেন, আপনার সমস্যাটা আরেকবার বলুন তো। রোগী টেবিলের দিকে… Continue reading ফোর্টি নাইন – হুমায়ূন আহমেদ
শেষ বিকেলের মেয়ে – জহির রায়হান
০১. শেষ বিকেলের মেয়ে আকাশের রঙ বুঝি বারবার বদলায়। কখনো নীল। কখনো হলুদ। কখনো আবার টকটকে লাল। মাঝে মাঝে যখন সাদা কালো মেঘগুলো ইতি-উতি ছড়িয়ে থাকে আর সোনালি সুর্যের আভা ঈষৎ বাঁকা হয়ে সহস্ৰ মেঘের গায়ে লুটিয়ে পড়ে তখন মনে হয়, এর রঙ একটি নয়, অনেক। এখন আকাশের কোন রঙ নেই। আছে বৃষ্টি। একটানা বর্ষণ।… Continue reading শেষ বিকেলের মেয়ে – জহির রায়হান
তাহারা – হুমায়ূন আহমেদ
০১. নিউরোলজির অধ্যাপক আনিসুর রহমান খান নিউরোলজির অধ্যাপক আনিসুর রহমান খান খুবই বিরক্ত হচ্ছেন। তাঁর ইচ্ছা করছে সামনে বসে থাকা বেকুবটার গালে শক্ত করে থাপ্পর দিতে। বেকুবটা বসেছে তাঁর সামনে টেবিলের অন্য প্রান্তে। এত দূর পর্যন্ত হাত যাবে না। অবশ্যি তাঁর হাতে প্লাস্টিকের লম্বা স্কেল আছে। তিনি স্কেল দিয়ে বেকুবটার মাথায় ঠাস করে বাড়ি দিয়ে… Continue reading তাহারা – হুমায়ূন আহমেদ
ধুলোটে কাগজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
নিরাপদর মা মারা যাওয়ার পর তার আর কেউ রইল না। বড় একা পড়ে গেল সে। মাকে ভালোবাসতও খুব। মা ছাড়া কেউ ছিল না কিনা! কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে সারাদিন। বাড়িতে মন টিকতে চায় না মোটে। তার ঠাকুরদার আমলের এই বাড়িখানায় পাঁচ-ছ-টা ঘর। সব পুরোনো জিনিসে ঠাসা। পুরোনো আমলের বাক্সপ্যাঁটরা, তোরঙ্গ, কৌটোবাউটো, রাজ্যের ন্যাকড়া-ট্যাকড়া, ভাঙা লণ্ঠন… Continue reading ধুলোটে কাগজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
অষ্টপুরের বৃত্তান্ত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
১. নগেন পাকড়াশি নগেন পাকড়াশি তাকে একখানা নতুন সাইকেল, একজোড়া নতুন বাহারি জুতো, একখানা ঝকমকে হাতঘড়ি আর নগদ দশ হাজার টাকা আগাম দিয়েছিল, আর কাজ হয়ে গেলে আরও পাঁচ লাখ টাকার কড়ার। এ ছাড়াও, পাকড়াশির কাছে তার জমি বাড়ি বাঁধা দেওয়ার যেসব কাগজপত্র ছিল, তাও ফেরত দিয়েছিল। বলেছিল, “এই কাজটুকু করে দে বাবা, তোকে রাজা… Continue reading অষ্টপুরের বৃত্তান্ত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
অভিশাপ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
—’এই সেই প্রতাপনারায়ণ চৌধুরির বাড়ি।’ আমি সবিস্ময়ে সেই ভগ্নস্তূপের পানে চাহিয়া দেখিলাম। এই সেই প্রতাপনারায়ণ চৌধুরির বাড়ি? সহজে বিশ্বাস করিয়া উঠিতে পারিলাম না। দিনান্তের অস্পষ্ট আলোক যাই যাই করিয়াও আকাশের পশ্চিমপ্রান্তে তখনও অপেক্ষা করিতেছিল। পরিশ্রান্ত বিহগকুলের অবিশ্রাম কূজনধ্বনি রহিয়া রহিয়া তখনও আকাশ-বাতাস মথিত করিয়া দিতেছিল। গঙ্গার অপূর্ব তরঙ্গভঙ্গ চিত্তলোকে এক অজ্ঞাতচেতনার সঞ্চার করিতেছিল। সেই প্রদোষের… Continue reading অভিশাপ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়