বামুন ঠাকুর কিছুই আয় করিতে পারে না। পূজা আর্চা করিয়া কিইবা সে পায়। বউ দিনরাত খিটখিট করে, এটা আন নাই—ওটা আন নাই । শুধু কি এমনি খিটিখিটি ? মাঝে মাঝে ঝাঁটা উঁচাইয়া ঠাকুর মশায়কে মারিয়া নাস্তানাবুদ করে। কাঁহাতক আর এত সওয়া যায়! সব সময় বউ বলে, “তুমি বাড়ি হইতে বাহির হইয়া যাও ।” সেদিন ঠাকুরমশায়… Continue reading ঠাকুর মশায়ের লাঠি – জসীম উদ্দীন
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
বোকার বাণিজ্য – জসীম উদ্দীন
এক ছিল তাঁতি। ঘরে বসিয়া কাপড় বোনে। ব্যাপারীরা আসিয়া তাহাকে ঠকাইয়া কম দামে কাপড় কিনিয়া লইয়া যায়। তাহার বউ তাহাকে পরামর্শ দিল, ‘তুমি হাটে যাইয়া কেন কাপড় বেচো না?’ পরামর্শটি তাঁতির খুব পছন্দ হইল। সে নৌকাখানা ভালোমতো সেঁচিয়া বড় একটা লম্বা দড়ি দিয়া ঘাটে বাঁধিয়া রাখিল। রাত্র হইলে কাপড়ের বোঝা নৌকায় রাখিয়া তাঁতি নৌকার দড়ি… Continue reading বোকার বাণিজ্য – জসীম উদ্দীন
সমানে সমান – জসীম উদ্দীন
ছোট্ট একটা নদী, হাঁটিয়াই পার হওয়া যায়। তার পশ্চিম পারে থাকে এক ট্যাটন, নাম ধূলি । পুব পারে থাকে আর এক ট্যাটন । তার নাম বালি । ট্যাটন মানে অতি চালাক। লোক ঠকাইয়া বেড়ানোই তাহার পেশা । বালি এক ছালা বিচেকলার বীজ মাথায় লইয়া নদীর ওপার দিয়া যাইতেছে। পশ্চিম পারের ট্যাটন ধূলি তেমনি আর এক… Continue reading সমানে সমান – জসীম উদ্দীন
অতসী মামী – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
যে শোনে সেই বলে, হ্যাঁ, শোনবার মতো বটে! বিশেষ করে আমার মেজমামা। তার মুখে কোনো কিছুর এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা খুব কম শুনেছি। শুনে শুনে ভারী কৌতুহল হল। কী এমন বাঁশি বাজায় লোকটা যে সবাই এমনভাবে প্রশংসা করে? একদিন শুনতে গেলাম। মামার কাছ থেকে একটা পরিচয়পত্র সঙ্গে নিলাম। আমি থাকি বালিগঞ্জে, আর যাঁর বাঁশি বাজানোর ওস্তাদির… Continue reading অতসী মামী – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ছোট্ট বেলা- মনিকা শকুন্তলা
ছোট্ট বেলা (মনিকা শকুন্তলা) আমার ছোটোবেলা হারিয়ে গেলো কই ইচ্ছে শুধু আমার মাঝে আবার ছোটো হই। আমায় নিয়ে হয়তো সবাই করবে মাতামাতি জুটবে তখন ছোট ছোট কত্তো খেলার সাথী। কেউ বা আমায় খাইয়ে দিতে রাধবে মজার রান্না তবু আমি করবো শুধু নতুন নতুন বায়না। কেউ বা চুলে আলতো হাতে করে দিবে বেণী আমি বলবো খেলতে… Continue reading ছোট্ট বেলা- মনিকা শকুন্তলা
সাড়েপাঁচ ঘণ্টার গল্প-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়
সাড়েপাঁচ ঘণ্টার গল্প রজত বন্দ্যোপাধ্যায় ১০/০৮/২৪ স্কুলজীবনের শেষ সাড়েতিনবছর আমার কেটেছিল পুরুলিয়ার এক হোষ্টেলে। আর পাঁচটা স্কুলের মতো সেখানেও ছুটি হতো বছরে তিনবার; গরমের ছুটি, পূজোর ছুটি আর শীতের ছুটি। প্রত্যেক ছুটির শেষে বাড়ি থেকে হোষ্টেল ফিরে যাবার ব্যাপারটা ছিল মোটামুটি এক মহোৎসব। কাকভোরের ট্রেণে রওনা হয়ে সন্ধ্যের মুখে ধানবাদ পৌঁছে সেখানে রাত্রিবাস।… Continue reading সাড়েপাঁচ ঘণ্টার গল্প-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়
বৃহন্নলা (মিসির আলি) – হুমায়ূন আহমেদ
০১. সুধাকান্তবাবু গল্প শুরু করলেন অতিপ্রাকৃত গল্পে গল্পের চেয়ে ভূমিকা বড় হয়ে থাকে। গাছ যত-না বড়, তার ডালপালা তার চেয়েও বড়। এই গল্পেও তাই হবে। একটা দীর্ঘ ভূমিকা দিয়ে শুরু করব। পাঠকদের অনুরোধ করছি তাঁরা যেন ভূমিকাটা পড়েন। এর প্রয়োজন আছে। . আমার মামাতো ভাইয়ের বিয়ে। বাবা-মা’র একমাত্র ছেলে, দেখতে রাজপুত্র না হলেও বেশ সুপুরুষ।… Continue reading বৃহন্নলা (মিসির আলি) – হুমায়ূন আহমেদ
নোনামিঠা – সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যারোমিটার দেখে, কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায়, লাল-দরিয়া এমন কিছু গরম জায়গা নয়। জেক্কাবাদ পেশওয়ার দূরে থাক, যাঁরা পাটনা-গয়ার গরমটা ভোগ করেছেন তারা আবহাওয়া-দপ্তরে তৈরি লাল-দরিয়ার জন্ম-কুণ্ডলী দেখে বিচলিত তো হবেনই না, বরঞ্চ ঈষৎ মৃদু হাস্যও করবেন। আর উন্নাসিক পর্যটক হলে হয়তো প্রশ্ন করেই বসবেন, হালকা আলসটারটার দরকার হবে না তো!’ অথচ প্রতিবারেই আমার মনে হয়েছে,… Continue reading নোনামিঠা – সৈয়দ মুজতবা আলী
মুনিয়ার চারদিক – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
লেবুগাছের গোড়া থেকে মুখ তুলল কালো একটা সাপ। মুখ তুলে সে একটা অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখল। শীতের কুয়াশায় আবছা সকাল, রোদ এখনো নিস্তেজ সোনালি। সেই সুন্দর আলোয় ডালিম গাছের ডগায় একটি ছোট্ট ফলের দিকে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুনিয়া। দু পায়ের আঙুলের ওপর ভর, দেহটি টান, উৎকণ্ঠ মুখটি ওপরে তোলা, দু কাঁধে এলো চুল ভেঙে… Continue reading মুনিয়ার চারদিক – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বৃষ্টি ও মেঘমালা – হুমায়ূন আহমেদ
০১. গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছে না গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছে না। চাবি ঘুরালে ভররর জাতীয় ক্ষীণ শব্দ হচ্ছে। শব্দে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। হাসান লীনার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত মুখে বলল, কী করা যায় বল তো? লীনা ঢোঁক গিলল। হাসানকে সে অসম্ভব ভয় পায়। অফিস বসকে ভয় পাওয়া দোষের কিছু না। ভয় লাগামছাড়া হওয়াটা দোষের। হাসান জিজ্ঞেস করেছে— কী… Continue reading বৃষ্টি ও মেঘমালা – হুমায়ূন আহমেদ