বনবিবির বনে – বুদ্ধদেব গুহ

বনবিবির বনে – ১ সুন্দরবনের ছোট বালির পাশে মোটর-বোটটা নোঙর করা আছে। সুন্দরবনের মানুষখেকো বাঘের জন্যেই এবার আসা। মায়ের প্রচুর আপত্তি ছিল আমাকে আসতে দিতে, কিন্তু বাবার পারমিশানে মায়ের অনিচ্ছা ওভার রুলড হয়ে গেছিল। অবশ্য ঋজুদার সঙ্গে না এলে বাবাও সুন্দরবনে আসতে দিতেন কিনা সন্দেহ। ক্যানিং থেকে রাতে বোটে রওনা হওয়া হয়েছিল। সারারাত বোট চালিয়ে… Continue reading বনবিবির বনে – বুদ্ধদেব গুহ

এক অপরূপ মূর্তি – সৈয়দ মুজতবা আলী

একদিন সকালবেলা ঘুম ভাঙতে দেখি চোখের সামনে। দাঁড়িয়ে এক অপরূপ মূর্তি। চেনা চেনা মনে হল অথচ যেন অচেনা। তার হাতের ট্রের দিকে নজর যেতে দেখি সেটা সম্পূর্ণ চেনা। তার উপরকার রুটি, মাখন, মামলেটু, বাসি কাবাবও নিত্যিকার চেহারা নিয়ে উপস্থিত। ধূম দেখলে বহ্নির উপস্থিতি স্বীকার করতেই হয়; সকালবেলা আমার ঘরে এ রকমের ট্রে হাওয়ায় দুলতে পারে… Continue reading এক অপরূপ মূর্তি – সৈয়দ মুজতবা আলী

এই দিন তো দিন নয় – হুমায়ূন আহমেদ

প্রাথমিক শিক্ষার উপর আমি কয়েকটা টিভি স্পট তৈরি করে দিয়েছি। ইদানীং এগুলি দেখানো হচ্ছে। আপনাদের চোখে পড়েছে কি? ঐ যে একটিতে লম্বা চুলওয়ালা এক বয়াতীকে দেখা যায়, সে এক দল বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে গান গাইতে গাইতে এগুতে থাকে— এই দিন তো দিন নয় আরো দিন আছে এই দিনেরে নিবে তোমরা সেই দিনেরো কাছে… এক পর্যায়ে… Continue reading এই দিন তো দিন নয় – হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

আমাদের দখিন হাওয়ার ছাদে অনুষ্ঠান হচ্ছে৷ আমার সর্বকনিষ্ঠ পুত্র নিষাদ হুমায়ূনের নামকরণ অনুষ্ঠান৷ হৈচৈ হচ্ছে, গান-বাজনা হচ্ছে৷ হঠাৎ আমাদের সবাইকে চমকে দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার৷ তিনি ঢাকায় এসেছেন এটা জানি৷ কোথায় উঠেছেন জানতাম না বলেই নিমন্ত্রণ করা হয়নি৷ অনেকদিন পর তাকে দেখে ভালো লাগল৷ আমি তার হাত ধরতেই তিনি ধমকের… Continue reading হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

কবর – হুমায়ূন আহমেদ

ফুলির মা ক্ষীণ গলায় বলল, আফা চাচাজান কি ফিরিজের ভিতরে থাকব? মনিকা দু’টা রিলাক্সিন খেয়ে শুয়েছিল। ফুলির মা’র কথা শুনে উঠে বসলো। চট করে তার মাথায় রক্ত উঠে গেল। রিলাক্সিন মানুষের নার্ভ ঠাণ্ডা করে, তারটাও করেছিল, ঝিমুনির মত এসে গিয়েছিল-ফুলির মা’র কথায় ঝিমুনি কেটে গেল। এই বোকা কাজের মহিলাটা তাকে বিরক্ত করে মা’রছে। অসহ্য। অসহ্য।… Continue reading কবর – হুমায়ূন আহমেদ

সাহিত্য বাসর – হুমায়ূন আহমেদ

বাবার অসংখ্য বাতিকের একটি হল-সাহিত্য-বাতিক। মাসে অন্তত দুবার বাসায় সাহিত্য বাসর নামে কী যেন হত। কী যেন হত বলছি এই কারণে যে, আমরা ছোটরা জানতাম না কী হত। আমাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সাহিত্য চলাকালীন আমরা হৈচৈ করতে পারতাম না, উঁচু গলায় কথা বলতে পারতাম না, শব্দ করে হাসতেও পারতাম না। এর থেকে ধারণা হত, বসার… Continue reading সাহিত্য বাসর – হুমায়ূন আহমেদ

পারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ

টক-টক করে ঘড়ির শব্দ কিছুক্ষণ আগেও টক-টক করে ঘড়ির শব্দ হচ্ছিল। এখন সেই শব্দও শোনা যাচ্ছে না। পুরো বাড়িটা হঠাৎ করেই যেন শব্দহীন হয়ে গেল। এত বড় একটা বাড়িতে কত রকমের শব্দ হবার কথা–বাতাসের শব্দ, পর্দা নড়ার শব্দ, টিকটিকি ডেকে ওঠার শব্দ। এখন কিছু নেই। এই যে পারুল নিঃশ্বাস ফেলছে সেই নিঃশ্বাসের শব্দও সে নিজে… Continue reading পারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ

একটি মেয়ের আখ‍্যান -রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

একটি মেয়ের আখ‍্যান   রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় ০২/০৫/২০২৪   প্রথম অঙ্ক   বহু বছরের পুরনো এক শীতের সকালে অরুণ একেবারে হতবম্ভ হয়ে গেছিল জীবনে প্রথমবার একজন মানুষের শবদেহ দেখে। দেহটি ছিল তার বাবার। সেদিন থেকে ঠিক ন’দিন পরে ক্লাস সেভেনের ফাইনাল পরীক্ষা। সমীরের সঙ্গে প্রতিবার ফার্স্ট হওয়ার দড়ি টানাটানিটা সেবার অরুণের আর করা হয়ে ওঠেনি। পরীক্ষাটাই… Continue reading একটি মেয়ের আখ‍্যান -রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

জননী – হাসান আজিজুল হক

কয়েক বছর আগে আমাদের ফ্ল্যাটবাড়িতে মেয়েটি কাজ খুঁজতে আসে, তার রূপ দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। চৌদ্দ পনেরো বছর বয়স হবে তার, গায়ের রং ধপধপে ফর্সা, টানা টানা টলটলে বিশাল দুটি চোখ, ঈষৎ লম্বাটে মুখে টিকলো ছোটো নাক, তাতে সাদা পাথর বসানো এতটুকু একটা নাকফুল। আমার স্ত্রী তাকে জিগগেস করলে, নাম কি তোর? আয়েশা। কাজ… Continue reading জননী – হাসান আজিজুল হক

নিয়তি – হুমায়ূন আহমেদ

আমরা থাকি এক মহারাজার বসতবাড়িতে, যে-বাড়ির মালিক অল্প কিছুদিন আগেই দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়াতে চলে গেছেন। বাড়ি চলে এসেছে পাকিস্তান সরকারের হাতে। মহারাজার বিশাল এবং প্রাচীন বাড়ির একতলায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা। দুতলাটা তালাবদ্ধ। শুধু দুতলা নয়, কয়েকটা ঘর ছাড়া বাকি সবটা তালাবদ্ধ কারণ মহারাজা জিনিসপত্র কিছুই নিয়ে যাননি। ঐসব ঘরে তাঁর জিনিসপত্র রাখা। ঐ মহারাজার নাম… Continue reading নিয়তি – হুমায়ূন আহমেদ