চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক – হুমায়ূন আহমেদ

ভূমিকা When I am dead, dearest, Sing no sad songs for me; Plant thou no roses at my head, Nor shady cypress tree. আসুন, আপনাদের কয়েকজন যুবকের একটি গল্প বলি। গল্পটি মিথ্যা, তবে যে শহর নিয়ে এই গল্প সেই শহরটি সত্যি। যে চাঁদের আলোয় গল্প সাজানো হয়েছে, সেই চাঁদের আলোও সত্যি। যাদের নিয়ে এই গল্প… Continue reading চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক – হুমায়ূন আহমেদ

জেলখানাতে লাইব্রেরী – হুমায়ূন আহমেদ

আপনারা জানেন কি না জানি না, সব জেলখানাতেই একটা করে লাইব্রেরী থাকে। লাইব্রেরীতে প্রচুর বই পত্রও থাকে তবে কোন কয়েদী সে সব বই পড়ে না। বই পড়ার জন্য কেউ জেলে আসে না। একবার একটু অন্য রকম হলো–একজন কয়েদীকে দেখা গেল বই পড়ার দারুণ নেশা। রোজ বই নিয়ে যায়। লাইব্রেরীয়ান বিস্মিত হলেন–ব্যাপারটা কি? একদিন জিজ্ঞেসও করে… Continue reading জেলখানাতে লাইব্রেরী – হুমায়ূন আহমেদ

রূপা – হুমায়ূন আহমেদ

আপনার নাম রূপা? রূপা জবাব দিল না। একটু আগে সে একবার বলেছে তার নাম রূপা। দ্বিতীয়বার আবার নাম জানতে চাওয়া কেন? কিছু কিছু মানুষ আছে, একই প্রশ্ন কয়েকবার করতে ভালোবাসে। তার বাবার বন্ধু সুলতান চাচা এরকম একজন। একই কথা দুবার করে বলবেন, কেমন আছিস মা? কেমন আছিস মা? মুখটা শুকনা কেন? মুখটা শুকনা কেন? অত্যন্ত… Continue reading রূপা – হুমায়ূন আহমেদ

রুমালী – হুমায়ূন আহমেদ

০১. বকু তুই রোদে দাঁড়িয়ে আছিস কেন বকু তুই রোদে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমি পাশ ফিরে মাকে দেখলাম। মা কোন ফাঁকে আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিড়ালের চেয়েও নিঃশব্দে হাঁটতে পারেন। আশে পাশে কেউ নেই, আমি হয়ত নিজের মনে গল্পের বই পড়ছি। এক সময় হঠাৎ দেখব মায়ের মাথাটা আমার ঘাড়ের পাশে। তিনি আমাকে চমকে দিয়ে… Continue reading রুমালী – হুমায়ূন আহমেদ

শেষ-বিকেলের প্যাসেঞ্জার – বুদ্ধদেব গুহ

চৌপান প্যাসেঞ্জারের গতি কমে এল। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখলাম দূরে ছবির মতো একটা স্টেশন দেখা যাচ্ছে। এইখানেই তাহলে থাক তুমি, এইখানেই এই জঙ্গল-পাহাড়-ঘেরা অখ্যাত জায়গায় তুমি নিজেকে নির্বাসিত করেছো, হারিয়ে গেছ ইচ্ছা করে। একটু আগেই কী একটা স্টেশন পেরিয়ে এলাম, (এই স্টেশনের উল্লেখ ছিল তোমার চিঠিতে) মনে পড়ল। আসলে কাল রাত থেকে আমার কিছুই… Continue reading শেষ-বিকেলের প্যাসেঞ্জার – বুদ্ধদেব গুহ

দারুচিনি দ্বীপ – হুমায়ূন আহমেদ

০১. আমার চশমা কোথায় মা, আমার চশমা? আমার চশমা কোথায় মা? শুভ্ৰ হাহাকার করে উঠল। শুভ্রর মা, গাঢ় মমতা নিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন। কি অদ্ভুত ভঙ্গিতেই না শুভ্ৰ হাঁটছে। দুই হাত বাড়িয়ে অন্ধের মতো হেলতে দুলতে এগুচ্ছে। তার সামনে চেয়ার। এক্ষুণি চেয়ারের সঙ্গে ধাক্কা খাবে। মা, আমার চশমা কোথায়? বলতে বলতে সে সত্যিই চেয়ারের ধাক্কা… Continue reading দারুচিনি দ্বীপ – হুমায়ূন আহমেদ

অপ্রেম পত্র – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পার্টি জমে উঠেছে দুপুরবেলাতেই। ছোট অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় বারো চোদ্দোজন মানুষ, রান্নাঘরের ভার নিয়েছে পুরুষরাই। বিদেশে এসে সব পুরুষই বেশ রান্না শিখে যায়। মন্টু দারুণ বিরিয়ানি রান্না করে। বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যে-কোনও বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপার হলেই মন্টুর ডাক পড়ে। এমনই রান্নার নেশা মন্টুর যে সে সময় সে তার স্ত্রী নীলাকে রান্নাঘরে ঢুকতেই দেয় না। আজিজ, নিপুরা… Continue reading অপ্রেম পত্র – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মেঘ বলেছে যাব যাব – হুমায়ূন আহমেদ

০১. মেঘ বলেছে যাব যাব একদল হাঁসের সঙ্গে সে হাঁটছে। তার মানেটা কী? সে হাঁসদের সঙ্গে হাঁটবে কেন? সে তো হাঁস না। সে মানুষ। তার নাম হাসানুর রহমান। বয়স আটাশ। মোটামুটি সুদৰ্শন। লাল রঙের শার্ট পরলে তাকে খুব মানায়। সে কেন হাঁসদের সঙ্গে ঘুরছে? হাঁসের দল জলা জায়গায় নেমে পড়ল। সেও তাদের সঙ্গে নামল। হাঁসিরা… Continue reading মেঘ বলেছে যাব যাব – হুমায়ূন আহমেদ

নিশীথিনী (মিসির আলি) – হুমায়ূন আহমেদ

মিসির আলির ধারণা মিসির আলির ধারণা ছিল, তিনি সহজে বিরক্ত হন না। এই ধারণাটা আজ ভেঙে যেতে শুরু করেছে। ঠিক এই মুহূর্তে তিনি অসম্ভব বিরক্ত। যে-রিকশায় তিনি উঠেছেন, তার সীটটা ঢালু। বসে থাকা কষ্ট্রের ব্যাপার। তার চেয়েও বড় কথা, দু মিনিট পরপর রিকশার চেইন পড়ে যাচ্ছে। এখন বাজছে দশটা তেইশ। সাড়ে দশটায় থার্ড ইয়ার অনার্সের… Continue reading নিশীথিনী (মিসির আলি) – হুমায়ূন আহমেদ

দুই বাড়ি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১. রামতারণ চৌধুরী রামতারণ চৌধুরী সকালে উঠিয়া বড় ছেলে নিধুকে বলিলেন—নিধে, একবার হরি বাগদীর কাছে গিয়ে তাগাদা করে দ্যাখ দিকি৷ আজ কিছু না আনলে একেবারেই গোলমাল৷ নিধুর বয়েস পঁচিশ, এবার সে মোক্তারী পরীক্ষা দিয়া আসিয়াছে, সম্ভবত পাশও করিবে৷ বেশ লম্বা দোহারা গড়ন, রঙ খুব ফরসা না হইলেও তাহাকে এ পর্যন্ত কেউ কালো বলে নাই৷ নিধু… Continue reading দুই বাড়ি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়