শকুন্তলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক নিবিড় অরণ্য ছিল। তাতে ছিল বড়ো বড়ো বট, সারিসারি তাল তমাল, পাহাড় পর্বত, আর ছিল –ছোটো নদী মালিনী। মালিনীর জল বড়ো স্থির-আয়নার মতো। তাতে গাছের ছায়া, নীল আকাশের ছায়া, রাঙা মেঘের ছায়া –সকলি দেখা যেত। আর দেখা যেত গাছের তলায় কতগুলি কুটিরের ছায়া। নদীতীরে যে নিবিড় বন ছিল তাতে অনেক জীবজন্তু ছিল। কত হাঁস,… Continue reading শকুন্তলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সমুদ্র বিলাস – হুমায়ূন আহমেদ

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আমি ছোট্ট একটা ঘর বানাচ্ছি। পৃথিবী নামক এই গ্রহে নিজের জায়গা বলতে এইটুকু। কেন এই কাজটা করলাম? ব্যাপারটা কি তাৎক্ষণিক? হুট করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বসা? আমরা সব সময় বলি–হুট করে কিছু না ভেবে কাজটা করেছি। ব্যাপারটা মনে হয় সে রকম নয়। মানুষ কখনোই তাৎক্ষণিকভাবে কিছু করে না। তার প্রতিটি তাৎক্ষণিক কাজের… Continue reading সমুদ্র বিলাস – হুমায়ূন আহমেদ

মহেশের মহাযাত্রা – হুমায়ূন আহমেদ

পরশুরামের লেখা একটি ভৌতিক গল্পের নাম ‘মহেশের মহাযাত্রা’। পরশুরাম অতিপণ্ডিত এবং অতিরসিক একজন মানুষ। তাঁর রসবোধের নমুনা দিই- রেস্টুরেন্টে এক ছেলে তার বন্ধুদের নিয়ে চা খেতে গিয়েছে। ছেলেটির বাবাও হঠাৎ করে সেখানে গেলেন। ছেলেকে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতে দেখে রেগে অগি্নশর্মা হয়ে প্রচুর গালাগাল করে বের হয়ে এলেন। ছেলের বন্ধুরা বলল, তোর বাবা তোকে এত গালমন্দ… Continue reading মহেশের মহাযাত্রা – হুমায়ূন আহমেদ

সমুদ্র দর্শন – হুমায়ূন আহমেদ

তেত্রিশ বছর আগের কথা। ক্লাস সিক্সে পড়ি। স্কুলের নাম চিটাগাং কলেজিয়েট স্কুল। ক্লাস টিচারের নাম মুখলেসুর রহমান, যদিও সবাই তাকে চেনে দেড় ব্যাটারী নামে। দেড় ব্যাটারী নামকরণের উৎস জানি না। সম্ভবত শারীরিক উচ্চতার সঙ্গে এই নাম সম্পর্কিত। স্যার হলেন বেঁটেখাট মানুষ, ভারিক্কি গড়ন, মিলিটারীর প্যারেডের ভঙ্গিতে হাঁটেন। তাঁর শারীরিক কোন সমস্যা আছে, খানিকক্ষণ পরপর মাথা… Continue reading সমুদ্র দর্শন – হুমায়ূন আহমেদ

আমার বন্ধু সফিক – হুমায়ূন আহমেদ

ইদানীং পুরানো বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা হলে বড় ধরনের ধাক্কা খাই–কি চেহারা একেকজনের–দাঁত পড়ে গেছে, গালের চামড়া গেছে কুঁচকে, মাথায় অল্প কিছু ফিনফিনে চুল। কলপ দিয়ে সেই চুলের বয়স কমানো হয়েছে কিন্তু সাদা সাদা গোড়া উঁকি দিচ্ছে। ওদের দিকে তাকালে মনে হয়–হায় হায়, আমার এত বয়স হয়ে গেছে? এখন কি তাহলে যাবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করব?… Continue reading আমার বন্ধু সফিক – হুমায়ূন আহমেদ

পাগলা সাহেবের কবর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

১. গগন-ডাক্তারের বড় ছেলে গগন-ডাক্তারের বড় ছেলে হরিবন্ধু যে একটি গবেট তাতে কোনও সন্দেহ নেই। প্রত্যেক ক্লাসেই এক-আধবার করে ঠেকে ঠেকে ক্লাস সেভেনে উঠে সেই যে সে অ্যালজেবরা, জিওমেট্রি, গ্রামার আর সংস্কৃতের বেড়াজালে পড়ে গেল, আর সেই জাল কেটে বেরোতেই পারে না। সেভেনেই তার বয়স তিন বছর আরও বেড়ে গেল। ছোট ভাই-বোনেরা পটাপট তাকে ডিঙিয়ে… Continue reading পাগলা সাহেবের কবর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ব্রেন-ড্রেন – সৈয়দ মুজতবা আলী

যারা এদেশে গবেষণা করার সুযোগ পান না, তাদের অনেকেই ইংলন্ডে চলে যান। আবার বিলিতি খবরের কাগজে প্রায়ই দেখতে পাবেন, সেখানেও ওই একই ব্যাপার; মেধাবী বৈজ্ঞানিক তার জুতো থেকে ইংলন্ডের ধুলো ঝেড়ে ফেলে মার্কিন মুলুকে চলে যায়। সেখানে বেশি মাইনে তো পাবেই, এবং তার চেয়েও বড় কথা, সেখানে গবেষণা করার জন্য পাবে আশাতিরিক্ত অর্থানুকুল্য। অধুনা গৌরীসেন… Continue reading ব্রেন-ড্রেন – সৈয়দ মুজতবা আলী

শীলার জন্ম – হুমায়ূন আহমেদ

আমার দ্বিতীয় মেয়ে শীলার জন্ম আমেরিকায়। জন্ম এবং মৃত্যুর সব গল্পই নাটকীয়, তবে শীলার জন্ম মুহূর্তে যে নাটক হয়, তাতে আমার ভূমিকা আছে বলে গল্পটি বলতে ইচ্ছা করছে। তারিখ টা হচ্ছে ১৫ই জানুয়ারি। প্রচণ্ড শীত পড়েছে। রফে বরফে সমস্ত ফার্গো শহর ঢাকা পড়ে গেছে। শেষরাত থেকে নতুন করে তুষারপাত শুরু হল। আবহাওয়া দপ্তর জানাল ‘নিতান্ত… Continue reading শীলার জন্ম – হুমায়ূন আহমেদ

যুগলাঙ্গুরীয়-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

প্রথম পরিচ্ছেদ দুইজনে উদ্যানমধ্যে লতামণ্ডপতলে দাঁড়াইয়াছিলেন। তখন প্রাচীন নগর তাম্রলিপ্তের চরণ ধৌত করিয়া অনন্ত নীল সমুদ্র মৃদু মৃদু নিনাদ করিতেছিল। তাম্রলিপ্ত নগরের প্রান্তভাগে, সমুদ্রতীরে এক বিচিত্র অট্টালিকা ছিল। তাহার নিকট একটি সুনির্ম্মিত বৃক্ষবাটিকা। বৃক্ষবাটিকার অধিকারী ধনদাস নামক একজন শ্রেষ্ঠী। শ্রেষ্ঠীর কন্যা হিরণ্ময়ী লতামণ্ডপে দাঁড়াইয়া এক যুবা পুরুষের সঙ্গে কথা কহিতেছিলেন। হিরণ্ময়ী বিবাহের বয়স অতিক্রম করিয়াছিলেন।… Continue reading যুগলাঙ্গুরীয়-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

প্রসন্ন স্যার – সত্যজিৎ রায়

অর্ধেন্দু সেনগুপ্ত সাতদিনের ছুটি নিয়ে শিমুলতলায় এসেছে। সে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে ভাল চাকরি করে, যদিও মাত্র পঁচিশ বছর বয়স। চেহারা সুশ্রী, চলনে বলনে রীতিমতো স্মার্ট। ব্যাচেলার হিসেবে তার এই শেষ ছুটি ভোগ, কারণ ফিরে গিয়ে দুমাসের মধ্যেই তার বিয়ে, পাত্রী ঠিক করেছেন তার মা নিজে। অর্ধেন্দুর একটু কাব্যচর্চার বাতিক আছে, সে শিমুলতলায় সেটার পিছনে কিছুটা… Continue reading প্রসন্ন স্যার – সত্যজিৎ রায়