পরেশ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

এক মজুমদার-বংশ বড় বংশ, গ্রামের মধ্যে তাঁহাদের ভারী সম্মান। বড়ভাই গুরুচরণ এই বাড়ির কর্তা; শুধু বাড়ির কেন, সমস্ত গ্রামের কর্তা বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। বড়লোক আরও ছিল, কিন্তু এতখানি শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাত্র শ্রীকুঞ্জপুরে আর কেহ ছিল না। জীবনে বড় চাকরি কখনো করেন নাই,—গ্রাম ছাড়িয়া অন্যত্র যাইতে সম্মত হইলে হয়ত তাহা দুষ্প্রাপ্য হইত না, কিন্তু… Continue reading পরেশ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

চণ্ডী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিদি, তুমি বোধ হয় ও পাড়ার চণ্ডীবাবুকে জান? জানি নে! তিনি যে ডাকসাইটে নিন্দুক। বিধাতার কারখানায় খাঁটি জিনিস তৈরি হয় না, মিশল থাকেই। দৈবাৎ এক-একজন উতরে যায়। চণ্ডী তারই সেরা নমুনা। ওর নিন্দুকতায় ভেজাল নেই। জান তো, আমি আর্টিস্ট-মানুষ। সেইজন্যে এরকম খাঁটি জিনিস আমার দরবারে জুটিয়ে আনি। একেবারে লোকটা জীনিয়স বললেই হয়। একটা এড়িয়ে গেলে… Continue reading চণ্ডী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শীতের আমেজ – রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

আমাদের নিজেদের জীবনকালে দুটো জিনিসের যথার্থ অর্থে সঞ্চয় হয়ে থাকে – বয়স আর অভিজ্ঞতা। দুটোরই ব‍্যবহার আছে কিন্তু খরচ নেই। প্রথমটি যেমন যেমন বাড়ে দ্বিতীয়টিও সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। প্রথমটি যখন থেমে যায় অন‍্যটিকেও থেমে যেতে হয়। এই যে এত বিশাল সংখ্যক জমা অভিজ্ঞতা জমে যায়, তার  মধ‍্যে কিছু কিছু অভিজ্ঞতা থাকে যেগুলো নানারকম কারণে… Continue reading শীতের আমেজ – রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

তাজমহলে এক কাপ চা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রাম রাম ওস্তাদজি! কুছ খুস খবর শুনাইয়ে! ওস্তাদজির পরনে একটা আলখাল্লার মতন পোশাক, নানান জায়গায় তাপ্পি মারা, মাথায় একটা ফেট্টি বাঁধা। গালে পাঁচ-সাতদিনের রুখু দাড়ি। বয়েস হবে পঞ্চাশের ধারে কাছে। কোথায় তার বাড়ি ঘর কিংবা তার নিজের বউ-বাচ্চা আছে কি না তা কেউ জানে না। জিগ্যেস করলে মৃদুমৃদু হাসে। মাঝে-মাঝে সে এসে উদয় হয়। খাঁটিয়ায়… Continue reading তাজমহলে এক কাপ চা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

চেয়ার-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আগাগোড়া শ্বেতপাথরে বাঁধানো বিশাল চওড়া সিঁড়ি। দুধের মতন সাদা, কোথাও এক ছিটে ধুলো নেই। এক পাশের রেলিংটা মনে হয় যেন সোনা দিতে তৈরি। এককালে যেসব ছিল রাজা রানিদের বাড়ি, এখন সেগুলিই মিউজিয়াম! সিঁড়ির মুখে এসে অমিত জিগ্যেস করল, মা, তুমি এতখানি সিঁড়ি উঠতে পারবে? হৈমন্তী মাথা নেড়ে বললেন, হ্যাঁ, পারব। অমিত আবার বলল, তোমার পায়ে… Continue reading চেয়ার-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

উন্মোচনের মুহূর্তে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কাল ইন্দ্রজিৎ নতুন কলেজে ভরতি হবে, থাকতে হবে কলকাতার বাইরে। আজ থেকেই তার শরীরে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা। সে সর্বক্ষণ ছটফট করছে, খালি মনে হচ্ছে, কিছু যেন ভুল হয়ে গেছে। তার বাক্স গুছোনো হয়ে গেছে এরই মধ্যে। দু-জোড়া নতুন শার্ট-প্যান্ট তৈরি করতে দেওয়া হয়েছিল, দর্জির কাছ থেকে ঠিক সময়ে পাওয়া গেছে। পোস্ট অফিস থেকে নিজের জমানো… Continue reading উন্মোচনের মুহূর্তে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

একাদশী বৈরাগী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কালীদহ গ্রামটা ব্রাহ্মণ-প্রধান স্থান। ইহার গোপাল মুখুয্যের ছেলে অপূর্ব ছেলেবেলা হইতেই ছেলেদের মোড়ল ছিল। এবার সে যখন বছর পাঁচ-ছয় কলিকাতার মেসে থাকিয়া অনার্স-সমেত বি.এ. পাশ করিয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিল, তখন গ্রামের মধ্যে তাহার প্রসার-প্রতিপত্তির আর অবধি রহিল না। গ্রামের মধ্যে জীর্ণশীর্ণ একটা হাইস্কুল ছিল—তাহার সমবয়সীরা ইতিমধ্যেই ইহাতেই পাঠ সাঙ্গ করিয়া, সন্ধ্যাহ্নিক ছাড়িয়া দিয়া দশ-আনা ছ-আনা… Continue reading একাদশী বৈরাগী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ভাসানের সুরে বোধনের গান -সমরেশ মজুমদার

এই বাড়িটা তার পিতামহের তৈরি। সেকেলে বাড়ি, কিন্তু ভারি মজবুত। বাড়ির গায়ে যে মেহগিনি গাছদুটো তিনি লাগিয়েছিলেন সত্তর বছর আগে, তাদের স্বাস্থ্য এখন উপচে পড়ছে। ওই গাছের কাঠ খুব মূল্যবান। দুটো গাছ বিক্রি করলে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে বলে বড়ছেলে তাঁকে জানিয়ে দিয়ে গেছে। তবে এখন ওইসব গাছ ইচ্ছেমতো লাগানো যায়, কিন্তু কাটা… Continue reading ভাসানের সুরে বোধনের গান -সমরেশ মজুমদার

মাসি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

দু-হাতের দুটো বুড়ো আঙুল নেই বলে ফটকের আটকায় কীসে? কিছুতেই না। কেবল মাঝে মাঝে মাসি দুঃখ করে বলে–আহা, আমার ফটকের যদি দুটো বুড়ো আঙুল থাকত। মাসি হচ্ছে কড়ে রাঁড়ি। ফটকেই তার ধ্যান জ্ঞান। বর্ধমানে ফটকের অপদার্থ বাপ এক ভুসিওলার আড়তে দাঁড়িপাল্লা সামলায়, বাদবাকি সময়টা হয় দিশি মাল গেলে, নয়তো বোকা মুখে সুখসুখ ভাব ফুটিয়ে পায়ের… Continue reading মাসি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মেঘচোর-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পুরন্দর চৌধুরী চোখ থেকে কালো চশমাটা খুলে ফেলে বললেন, অসীমা এবার আমি তোমাকে এমন একটা দৃশ্য দেখাব, যা তোমার আগে পৃথিবীতে কেউ কখনও দেখেনি। এরকম দৃশ্য কেউ কল্পনাও করেনি। ছোট একটা রকেট আকাশের এক জায়গায় গোল হয়ে পাক খাচ্ছে। কমপিউটারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কমপিউটারই রকেটটাকে ঘোরাচ্ছে। দুটি মাত্র আসন। পাশাপাশি বসে আছেন, পুরন্দর ও অসীমা।… Continue reading মেঘচোর-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়