হিপিরা এসেছিল-সমরেশ মজুমদার

কাল রাতের বুলেটিনে বি বি সি বলেছিল আজ আকাশ মেঘলা থাকবে। চাই কি, কয়েক পশলা বৃষ্টিও নামবে। অথচ সামার এসে গেছে ক্যালেন্ডারে। বছরের এই কটা মাস একটু হালকা হয়ে রোদ পোয়ানো, লিজা ঠিক থাকলে গাড়ি নিয়ে ব্ল্যাকপুলে চলে যাওয়ার মজা পাওয়া ববের অনেকদিনের অভ্যেস। কনকনে বাতাসটা নেই, টিপটিপ বৃষ্টি বন্ধ, বরফ পড়ছে না, তার বদলে… Continue reading হিপিরা এসেছিল-সমরেশ মজুমদার

মানুষের মেটে-সমরেশ মজুমদার

এতকাল বাবুর যত রোগ ছিল মনে, এবার শরীরেও। রাত তিনটে পর্যন্ত মাল খেলে সারাটা সকাল পেট চেপে পড়ে থাকে বাবু। তখন ওই বিশাল শরীর থেকে কুঁই-কুঁই শব্দ বের হয়। ঘনঘন ওষুধ ঢালে মুখের গর্তে। ইদানীং এই অবস্থা চলে দু-তিনদিন ধরে। হরিমাধব ডাক্তার এসে গম্ভীর মুখে বলে, এবার ওসব ছাড়ুন। লিভারের আর দোষ কি! পচে গেল… Continue reading মানুষের মেটে-সমরেশ মজুমদার

একটি গ্রাম্য পটচিত্র-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

একদিন সকাল দশটা-এগারোটায় দিলারাবিবিকে তালাক দিয়ে বসল ইরফান আলি। তিন-চারজন সাক্ষীর সামনে। হ্যাঁ, রাগের মাথায় কাজটা করে ফেলেছে বটে, কিন্তু তুমি হাসতে-হাসতে বললে না চোখ পাকিয়ে চিৎকার করে বললে, শরিয়ত তো তা দেখতে যাবে না। ধর্মের বিধান মানতেই হবে। হয়েছে কী, দু-দিন আগেই বাড়ির পুকুরধারের বেলগাছ থেকে পাঁচটা পাকা বেল পাড়া হয়েছে। অত বেল কে… Continue reading একটি গ্রাম্য পটচিত্র-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

উকিলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ও মিছরি, তোর নামে একটা উকিলের চিঠি এসেছে দেখগে যা। এই বলে মিছরির দাদা ঋতীশ টিয়ার ঝাঁক তাড়াতে খেতের মধ্যে নেমে গেল। গোসাবা থেকে দুই নৌকো বোঝাই লোক এসেছে অসময়ে। লাট এলাকার ভিতর বাগে কোনও বিষয়কর্মে যাবে সব। এই অবেলায় তাদের জন্য খিচুড়ি চাপাতে বড় কাঠের উনুনটা ধরাতে বসেছিল মিছরি। কেঁপে উঠল। তার ভরন্ত যৌবন… Continue reading উকিলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পাত্রী-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কে ও? শিবাই নাকি রে? যে আজ্ঞে। শিবাই-ই বটি। তা পাত্রী পছন্দ হল? না জামাইদা, এটাও লাগসই নয়। দাঁত উঁচু। দাঁত উঁচু? তা কত উঁচু? মুখ বন্ধ হয় না? তা হয়। আজকাল তো শুনি উঁচু দাঁতের বেশ কদর হয়েছে নাকি? ফিলম আর সিরিয়ালে নাকি উঁচু দাঁতের বেশ কদর। আপনি তো ওসব দেখেন টেখেন না, তবে… Continue reading পাত্রী-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভাল খবর, খারাপ খবর -তারাপদ রায়

কাছাকাছি চেনা-পরিচিত লোকজন একেবারেই কেউ নেই, তা নয়। কিন্তু তেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব, এদিকে কেউ নেই। যাদের সঙ্গে বসে গল্পগুজব, পরনিন্দা, পরচর্চা করতে পারি, হো হো করে হাসতে পারি–সাদা কথায় প্রাণ খুলে আড্ডা দিতে পারি আমার সেরকম আপনজনেরা এই প্রান্তে কেউ নেই। বেশি বয়েসে পুরনো এলাকা ছেড়ে চলে এসেছি, এরকম যে হবে সেটা জানতাম। কিন্তু কেমন… Continue reading ভাল খবর, খারাপ খবর -তারাপদ রায়

রণজয় আর অলৌকিক শিশুরা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রণজয়ের জীবনে কোনও দিনের বেলা নেই। শুধু রাত্তির। কেননা, সারাদিন তাকে একটা অন্ধকার ঘরে লুকিয়ে থাকতে হয়। কোনও মানুষের সঙ্গে দেখা হয় না। দিনের বেলা তার ওই ঘর থেকে বেরুবার উপায় নেই। বেরুবে কী করে? তাকে দেখলেই যে সবাই ভয় পায়। সেই যে একবার অন্য গ্রহের প্রাণীরা তাকে ছুঁয়ে দিয়ে গিয়েছিল, তারপর থেকে সে ক্রমাগত… Continue reading রণজয় আর অলৌকিক শিশুরা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নিরুদ্দেশ-প্রাপ্তি-হারানো-সমরেশ মজুমদার

চারদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেন বাড়ির আবহাওয়ায় টান লাগল। মাধুরী নীচু গলায় শাশুড়িকে জানাল, মা, বাবাকে ওঁর খবর নিতে বলবেন? কেন, কদিন হল? ফুল তুলতে-তুলতে শোভনা প্রশ্ন করলেন। চারদিন। সেকি! ও তো দু-দিনেই ফিরে আসে। তোমাকে কিছু বলে যায়নি? নীরবে মাথা নাড়ল মাধুরী। শোভনা আড়চোখে পুত্রবধূর দিকে তাকালেন। অনেক খুঁজে খতিয়ে এই মেয়েকে এনেছিলেন তিনি… Continue reading নিরুদ্দেশ-প্রাপ্তি-হারানো-সমরেশ মজুমদার

নিষ্ফলা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

—আ মর! এগিয়ে আসছে দেখো না। দূর হ, দূর হ। ওমা আমি কোথায় যাব? এ যে ঘরে আসতে চায়। ছিঃ ছিঃ! ধম্ম-কম্ম সব গেল। বলি ও ভালোমানুষের মেয়ে, এমনি করে কী লোককে পাগল করতে হয়? বেলা বেশি নয়, আটটা হইবে প্রায়। বৈশাখ মাস—বেশ রৌদ্র উঠিয়াছে। পাশের বাড়ির গৃহিণী আহ্নিক করিতে বসিয়াছেন তাঁহার পূজার ঘরে। পূজার… Continue reading নিষ্ফলা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

শিহরণ-সমরেশ মজুমদার

শক্তিব্রতবাবু মুখ তুলে কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখলেন। এই ভয়ংকর গরমেও গাছটা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। চোখ জুড়িয়ে যায়। তাঁর শ্বাস পড়ল। উদাস গলায় বললেন, আজকাল আর যুবতী বিধবা বড় একটা দেখা যায় না! সুধাকরবাবু অবাক হয়ে মুখ ফেরালেন, হঠাৎ এই ভাবনা? কৃষ্ণচূড়া দেখে মনে এল। শক্তিরতবাবু উত্তর দিলেন। বিমলেন্দু একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। ওপাশ থেকে একটি… Continue reading শিহরণ-সমরেশ মজুমদার